আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও সারজিস আলম
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়া, তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম নিজ নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান। আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টটি দিয়েছেন আজ মঙ্গলবার সকালে। আর গতকাল দিবাগত রাতে পোস্ট দেন সারজিস আলম।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। গতকাল রাতে ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি ইতালির একটি পার্কে গেলে হামলা-হেনস্তার শিকার হন।
পরে বাঁধন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সহযোদ্ধা ও অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলা, তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি। একটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিকব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের পলাতক নেতা-কর্মীরা এখনো হামলা-সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা পরাজিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির পুরোনো সন্ত্রাসী চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।
জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে বাঁধন সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে বাঁধন তাঁর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তাঁর ওপর হামলা প্রমাণ করে, পরাজিত সন্ত্রাসীশক্তি এখনো প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি।
হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা সহিংসতা চালিয়ে অরাজকতা করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ইতালির মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র তাঁর পোস্টে লিখেছেন, জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাঁর পোস্টে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাঁধনকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি এই দেশের জন্য লড়াই করেছেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন।’
যারা বাঁধনের ওপর হামলা করেছে, তাদের খুনিদের দালাল, বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া এক একটা নরপশু হিসেবে অভিহিত করেছেন সারজিস আলম। এদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু বাঁধনকে আশা না করতে বলেন তিনি।
বাঁধনের উদ্দেশে সারজিস আলম লিখেছেন, ‘আমরা সবাই আপনার সাথে আছি। পুরো বাংলাদেশ আপনার সাথে।’
রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ হবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ, শনিবার। সাত দফা দাবিতে ওইদিন সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েত ও সমাবেশ হবে। রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে হবে জনসভা।
পথিমধ্যে গাজীপুরের ভোগরা, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হবে পথসভা হবে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভার পর ব্রিফিংয়ে তা সাংবাদিকদের জানান জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
গণভোটের রায় কার্যকর, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সারের সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণসহ ছয় দফা দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করে ১১ দল।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের ছয় দফা এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। আগের ছয় দফার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি। এসব ক্ষেত্রে বিএনপি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকে ছাড়িয়ে গেছে।
চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, বিরোধী সংকট নিরসনে যথাযথ উদ্যোগ নিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার সমাধান দিতে পারেনি। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতার টাস্কফোর্স বা কমিটি গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে বলা হয়েছিল। বিরোধী দল ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল। সরকার এগুলো আমলে নেয়নি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় এলে দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু সরকার তাতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস-সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গার্মেন্টসের অর্ডার বাতিল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। সার সংকট নিরসনেও সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।
বিগত সরকারের ওপর দায় দিলেও বর্তমান সরকারের ছয় মাসে সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ ছিল, এই প্রশ্ন রাখেন হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। গ্যাসের পাশাপাশি এখন সারের সংকট দেখা দিচ্ছে। এ সংকট থাকলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে অভিযোগ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, একটার পর একটা রোমহর্ষক গুম-খুন হচ্ছে। খুলনার মিরাজ শেখের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলের পাঁচজন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লংমার্চ সফলে সভা
ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফলে রোববার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভা হয়েছে।
এতে জামায়াতের বিভিন্ন শাখা, অঙ্গ সংগঠন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা ছিলেন। মানিক মিয়ায় লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
আসিফ ও পাটওয়ারী
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) প্রার্থী ঘোষণা করেছে গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে।
আজ রোববার বিকেলে বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এনসিপি জানিয়েছে, দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের নিয়ে আজ সমন্বয় সভা হয়েছে। সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত থাকা এবং আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছেন দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম।
সভায় ঘোষিত দুই মেয়র পদপ্রার্থী এনসিপির মুখপাত্র আসিফ ও মুখ্য সমন্বয়ক পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কয়েক দিন আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামনে রেখে তাঁরা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেন তারা।
এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নয়, এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। ঢাকা উত্তরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হবেন। ছয় মাস পর দলটির এই অবস্থান বদলে যায়। দক্ষিণে নাসীর এবং উত্তরে আসিফকে প্রার্থী করা হলো।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন হারলেও, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছেন। মির্জা আব্বাসের ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ভোট পান নাসীর। ওই নির্বাচনে তিনি ভোটার ছিলেন উত্তরের ঢাকা-১৮ আসনে। তাই নিজেকে নিজে ভোট দিতে পারেননি।
সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচন করা হয়নি, জামায়াত জোট প্রার্থী না করায়।
এরপর দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। কয়েক দিন আগে দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা যে কোনো আসেন প্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরে আমার অবস্থান ভালো। দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। তাই এ চিন্তা থেকেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে।
জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা যে যার মতো অংশ নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।
উত্তরের অন্তর্ভূক্ত আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে। দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটি জিতেছে।
জোট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ শরিকদের ছাড়া হবে না। এই সমীকরণ মাথায় রাখছে এনসিপি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন হবে। আসিফ মাহমুদ বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনে এখনও আট দশ মাস সময় বাকি। তপশিল ঘোষণার পর বলা যাবে কী হবে।
জোট সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বোঝা যাবে সরকার এবং সরকারি দলের কী আচরণ হবে স্থানীয় নির্বাচনে। যদিও অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি দেখায়, তা দেখে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি নির্বাচনে জোট করা না করার সিদ্ধান্ত হবে।
বিএনপি সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ
গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে বিএনপি সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এ অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পটপরিবর্তন হলেও এর আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে।
বিএনপি সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের নানা নিদর্শন ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘দখলদারত্ব ও গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি। ছাত্রলীগকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে আমরা ভেবেছিলাম-এই লড়াই হয়তো সমাপ্ত হয়েছে, কিন্তু সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’
সম্প্রতি গাজীপুরে সিফাত নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার ও তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বৈধ আইন বা বিধি ছাড়া এভাবে গ্রেপ্তার এবং কলেজ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগকে দলীয় নেতা-কর্মীদের চাকরি দেওয়ার ‘কূটকৌশল’ বলে অভিযোগ করেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময় ছিল কোটাপ্রথা, আর এখন তারেক রহমানের হাতে এসে তৈরি হয়েছে ‘ভাইভা প্রথা’।
আখতার হোসেন বলেন, বিসিএসসহ সরকারি চাকরি ও পিএসসি সংস্কারের প্রশ্নে সরকার পশ্চাৎপদ ভূমিকা পালন করছে। পিএসসিতে তিনটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব এড়িয়ে এখন মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হচ্ছে, যাতে নিজেদের লোকজনকে চাকরি দেওয়া যায়।
আখতার হোসেন বলেন, ‘কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা নতুন সরকারকে বলব, ভাইভা বিষয়ে পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে নম্বর কমিয়ে আনুন এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করুন।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও কেন্দ্রীয় সংগঠক সারজিস আলম। জাতীয় ছাত্রশক্তির বর্তমান সভাপতি আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখা এবং জেলা শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি দেশ পরিচালনায় অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, অসহনীয় লোডশেডিং, গ্যাস সংকট ও দুর্নীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষ আজ চরম ভোগান্তির শিকার। জ্বালানি সংকটে কলকারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছেন, কৃষকদের উচ্চ মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতা প্রমাণিত হচ্ছে।
আজ শনিবার বিকেল ৩টায় সিলেটে জাপার কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই প্রথম সিলেটে প্রকাশ্যে সভা করলো সিলেট জাপা। জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলার আহবায়ক ছাব্বির আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলতাফুর রহমান আলতা, যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির।
এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্যফখরুল ইসলাম, এ টিইউ তাজ রহমান,অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর শিকদার লোটন,আরিফুর রহমান খান,ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, নুরুন নাহার বেগম, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, খলিলুর রহমান,আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, কেন্দ্রীয় নেতা জাতীয় কৃষক পার্টির সদস্য সচিব আব্দুল কুদ্দুস, জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরিফ আলী।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুস শহীদ লস্কর বশির, সিলেট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমান ডালিম, জাপানেতা জয়নাল আবদীন ও মকবুল হোসেন সহ প্রত্যেক উপজেলা ও পৌর শাখার অর্ধ শতাধিক দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেবো না। এই দেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজ। ওইটা আর রিওপেন হবে না। আমাদেরকে সেই জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখন থেকেই শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে এবং সাহসের সঙ্গে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে হবে। এখানে আলোচনা হবে, লড়াইও হবে, তবে সমানে সমান।
তিনি আরও বলেন, ভারত আমাদের সঙ্গে সৎ সম্পর্ক চায়, আমরাও চাই। প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সৎ ও সুসম্পর্ক থাকুক, সেটিও আমরা চাই। তবে সত্যিই যদি আমরা সৎ প্রতিবেশী হতে চাই, তাহলে উভয় পক্ষকেই নিজেদের সদিচ্ছা প্রকাশ করতে হবে।
একাত্তর-পরবর্তী লুটপাট, দুঃশাসন, বাকশাল ও রক্ষীবাহিনী গঠনের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। জনগণের কণ্ঠস্বর দমনে গঠিত রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হলেও কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষ না খেয়ে ফুটপাতে মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, যে বছরে আওয়ামী লীগ দায়িত্ব নিল, সে বছরই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তারা। সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল, তা আজ পর্যন্ত অজানা। আজ পর্যন্ত যে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, তা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এর ফলে সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বিডিআর—দুই বাহিনী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দোষী, অপরাধী, চোর ও লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। অথচ পালিয়ে গিয়েও তারা বারবার এই জাতিকে বিরক্ত করছে—‘এই আসি, ওই আসি’ বলে। বলি, এত আসি আসি করেন, গেলেন কেন?
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি দেশ ও জাতিকে ভালোবাসেন, তাহলে মাটি কামড়ে দেশে থাকতেন। অপরাধ করলে শাস্তি নিতেন, আর অপরাধ না করলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতেন। তিনি বলেন, সৎ মানুষ দেশ ছেড়ে পালায় না, ফাঁসি হলেও ফাঁসির মুখোমুখি হবে, জেলে নিলেও জেলে যাবে, কিন্তু দেশ ছেড়ে পালাবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যেভাবে এগিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেই বিচারকাজের গতি আর দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে গার্মেন্টস খাতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে দেশে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে রক্ষায় সরকারকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদের তিনটি বিলে বিরোধীদল আপত্তি তুলেছেন উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। এসব আইন জনগণকে নয়, বরং সরকারকে সুবিধা দেবে।
সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করবেন না।
রাজধানীর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন
বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক ও দখলের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না। এসব লোকের সঙ্গে কোনো বিএনপির নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মঙ্গলবার রাজধানীর কোতোয়ালী থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থেকে নিয়মিত সব নেতাকর্মীকে নিয়ে এক টেবিলে বসব এবং দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করব।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন, বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক এবং দখলের বিরুদ্ধে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সোচ্চার না হলে তা বাস্তবায়ন কঠিন।
সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশকারী ও দলের নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি করা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে ধারণ করে সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণের যে চাওয়া-পাওয়া, সেই বিষয়গুলোকে কীভাবে ধারণ করে একটি সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হয়—সেই বিষয়গুলো আমরা ধারণ করব। ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এ এলাকার ১১টি ওয়ার্ডের সব দায়-দায়িত্ব আমার। এখানে ভালো কিছু হলে যেমন আমার সুনাম হয়, ঠিক তেমনি ব্যর্থতার গ্লানিও আমাকেই বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করিনি। বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিগত ১৭ বছরে যে ভঙ্গুর পরিস্থিতি ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে স্বাধীন, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সদরঘাটে হত্যাকাণ্ডের মতো গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে, এসব অপরাধীকে চিহ্নিত করে তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। যারা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে, যারা জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
সভায় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ফরহাদ রানার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরাইয়া বেগমসহ কোতোয়ালী থানার ওসি এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।