মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৪ পিএম

টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক সন্তোষে অবস্থিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) যন্ত্রকৌশল শিক্ষায় সূচিত হয়েছে নতুন অধ্যায়।


ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে ৪র্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম বিভাগ হিসেবে চালু হওয়া মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় আধুনিক ল্যাব সুবিধা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের কারণে অল্প সময়েই বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে।


মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশলকে প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম বৃহৎ ও বিস্তৃত শাখা এবং ‘Mother of Engineering’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ গুরুত্ব বিবেচনায় ইউজিসি ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিভাগটি অনুমোদন করে এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে বিভাগটির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।


বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, ডুয়েট, শাবিপ্রবি ও হাবিপ্রবিসহ মোট ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে।


এছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইইউটি এবং কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় অত্যাধুনিক ল্যাব ইকুইপমেন্ট, আধুনিক ইঞ্জিন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা বিভাগটির শিক্ষা ও গবেষণার মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পরবর্তীতে ২২ জুলাই ২০২৬ ইউজিসির অনুমোদনের মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়।


এর মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অটোমোটিভ প্রযুক্তিতেও শিক্ষার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। আধুনিক ল্যাব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের সমন্বয়ে বিভাগটি ভবিষ্যতে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সকলেই প্রত্যাশা করছেন।


দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বিভাগের যাত্রা



মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালুর পেছনে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা।


দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এনআরএফ)’-এর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে সাত বছর মেয়াদি ‘অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ)’ প্রকল্পের আওতায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কাজ চলছে।


এই প্রকল্পের অধীনে বিভাগ চালুর জন্য প্রাথমিক সহযোগিতা, ল্যাব সম্প্রসারণ, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরির উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য টেক্সট বই প্রদান, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।


২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে উল্লিখিত প্রকল্প বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, যা ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ পর্যন্ত ৩০টিরও অধিক আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব গবেষণা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যা বর্তমানে বিভাগের ল্যাবগুলোতে শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছে।


যেভাবে যাত্রা শুরু



মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির যাত্রা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো মাভাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ ও তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিনের কাছে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এরপর ২০২০ সালে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন বিভাগ খোলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডের সুপারিশসহ ইউজিসিতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ইউজিসি ১২/০৯/২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পে কাজ করার অনুমোদন প্রদান করে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি এবং সবশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই যৌথ প্রকল্পের কার্যক্রম অনুমোদিত হয়।


নেতৃত্বে অধ্যাপক ইকবাল মাহমুদ


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ। মূলত তাঁর উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বাস্তব রূপায়ণ সম্ভব হয়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রকল্প বিষয়ে যোগাযোগ, বিভাগ প্রতিষ্ঠা, প্রকল্প অনুমোদন, বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু এবং প্রকল্প পরিচালনা থেকে সকল কাজেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠা করা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমার একার পক্ষে সেই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সফলভাবে তার একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে – এতেই আমি আনন্দিত।


চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সঠিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যেটা আমরা করতে পেরেছি। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের ফলে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভবিষ্যতে গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একটি দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি হবে।”


একাডেমিক কার্যক্রম ও ল্যাব সুবিধা


২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ (ত্রিশ) জন শিক্ষার্থীর ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যমে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে বিভাগটিতে তিনটি ব্যাচে ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিভাগের ১ম ব্যাচে নেপাল থেকে আগত একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। নতুন এ বিভাগে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ল্যাব রয়েছে, যেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি বিদ্যমান। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহায়তায় সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড অটোমোটিভ রিসার্চ (CAAR), ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রথম গবেষণা ইঞ্জিন (ইঞ্জিন সিমুলেটর) বিভাগে সংযোজিত হয়। এরপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ৩০টিরও বেশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। প্রকল্প মেয়াদ পর্যন্ত আরও অনেক গবেষণা সরঞ্জামাদি বিভাগে যুক্ত হবে।


বর্তমানে যেসব ল্যাব ও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনটি ক্লাসরুম, ১০০ আসন বিশিষ্ট সেমিনার হল, ১০০০-এর অধিক বই সম্বলিত সেমিনার লাইব্রেরি, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ (মেশিন শপ, ফেব্রিকেশন ও শিট মেটাল শপ, ওয়েল্ডিং শপ), অ্যাডভান্সড মেকানিক্স ল্যাব, মেট্রোলজি ল্যাব, ফ্লুইড মেকানিক্স ল্যাব, থার্মোডাইনামিক্স ল্যাব, হিট ট্রান্সফার ল্যাব, ইঞ্জিন ল্যাব, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং ল্যাব এবং CAAR (Center for Advanced Automotive Research)। এছাড়াও ভবিষ্যতে CAD মডেলিং ও সিমুলেশন কাম কম্পিউটার ল্যাব, ফ্লুইড মেশিনারিজ ল্যাব, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ল্যাব, ম্যাটেরিয়ালস টেস্টিং ল্যাব, প্রোডাকশন ল্যাব, রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ল্যাবসহ বেশ কিছু আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।




কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও সহযোগিতা কার্যক্রম এবং উচ্চ শিক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া গমন


উল্লিখিত প্রকল্পের আওতায় এবং শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে শিক্ষা সফরে ১০ জন করে শিক্ষার্থী মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিদর্শন করেন।


মূলত কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও শিক্ষার আধুনিকায়নে তারা এ সফরে এসেছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ জুলাই ১০ জন শিক্ষার্থী দশ দিনের শিক্ষাসফরে ২য় বারের মতো মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় তারা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস করা, ফুটবল ম্যাচ খেলা, বিভাগ ও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ ছাড়া তারা যৌথভাবে আইইউটি (Islamic University of Technology)-তে একটি এডুকেশন ভিজিটে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতায় আইইউটি ও বুয়েট-এর চারজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কোরিয়ার সরকার প্রদত্ত GKS স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন।



বিভাগের বর্তমান অবস্থা



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বর্তমানে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন শিক্ষার্থীসহ সর্বমোট ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিভাগে একমাত্র শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাব পরিচালিত হচ্ছে। ইউজিসি কিছু শিক্ষক ও টেকনিক্যাল পদের অনুমোদন দিয়েছে। সেসব পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


বিভাগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ বলেন, “মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক ও ল্যাবের টেকনিক্যাল জনবলের প্রচণ্ড ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষে ক্যাপস্টোন প্রজেক্ট, চূড়ান্ত বর্ষে রিসার্চ ও থিসিস এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ট্রেনিং রয়েছে। এ সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক অপরিহার্য।


এছাড়াও বিভিন্ন ল্যাবের যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিষয়ভিত্তিক কারিগরি জনবল অত্যাবশ্যকীয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার কর্তৃক প্রদেয় আধুনিক ল্যাব যন্ত্রপাতিসমূহের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিভাগটি দক্ষ প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।”



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিভিন্নজনের মতামত


                                                                                                                                                             মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন,  “প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”                             


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।


নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, “মাভাবিপ্রবিতে নবপ্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটির অগ্রযাত্রা আমাকে সত্যিই আশাবাদী ও মুগ্ধ করেছে। বর্তমানে বিভাগটিতে প্রয়োজনীয় আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জামাদির যথেষ্ট সমৃদ্ধি রয়েছে। তবে শিক্ষক সংকট একটি সাময়িক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিভাগটি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এই বিভাগ দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত করবে। এ বিষয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি। নবীন এই বিভাগের সকল শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করছি।” 


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, “মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি মাত্র তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করলেও ইতোমধ্যে শিক্ষা, পাঠদান ও একাডেমিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিভাগটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ও সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি সুবিধা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরন্তর নিষ্ঠা, প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে বিভাগটি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং প্রকৌশল শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।”


প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো বলেন, “I am truly delighted to have contributed to the establishment of the Department of Mechanical and Automotive Engineering at Mawlana Bhashani Science and Technology University. I have been providing my full support in developing the necessary laboratories and equipment and will continue to do my best to meet the department’s future needs. I also believe that the growing collaboration between the students and the Government of South Korea will open new opportunities for their future, particularly in higher education.”


নেপাল থেকে আগত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহীদ আনসারি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “Bangladesh was a completely new place for me, and since this department was also new, I felt a little nervous in the beginning. However, after coming here, all my perceptions changed. The people of Bangladesh are so friendly and welcoming that I never feel like I am living outside my own country. Moreover, this department has given me much more than I ever expected. Everyone here is very dear to me, especially our respected Chairman Prof. Dr. Md. Iqbal Mahmud Sir. I feel truly grateful and proud to be a part of the MBSTU Mechanical and Automotive Engineering family.”


বিভাগের প্রথম ব্যাচ (২০২৩-২৪)-এর শিক্ষার্থী মশিউর রহমান মারুফ বলেন, “গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন এই বিভাগের ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আমার নাম ছিল প্রথম। সত্যি কথা বলতে, শুরুতে আমার মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পড়ার কোনো বিশেষ ইচ্ছা ছিল না। মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিভাগের সহযোগিতার কথা শুনেই আমি এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তবে ভর্তি হওয়ার পর বিভাগের ল্যাবগুলো দেখে আমার ভেতরে যে আনন্দ ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আজ মনে হয়, যদি আমি এই বিভাগে না পড়তাম, তাহলে হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও সুন্দর একটি অংশই মিস করতাম।


বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচ (২০২৪-২৫)-এর শিক্ষার্থী সাব্বির হাওলাদার বলেন, “শৈশব থেকেই গাড়ি ও এর প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালীর প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহই আমাকে মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথে নিয়ে আসে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পর মাভাবিপ্রবির নবীন বিভাগ হওয়ায় শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আধুনিক ল্যাব ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ আমাকে এই বিভাগে আসতে অনুপ্রাণিত করে। দ্বিতীয় ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এখন মনে হয়, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। একটি নবীন বিভাগকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখা এবং সেই অগ্রযাত্রার অংশ হওয়া সত্যিই গর্বের। আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থী-বান্ধব নেতৃত্ব বিভাগের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আমাদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে। চেয়ারম্যান স্যারের নেতৃত্বে এই বিভাগ থেকেই দেশের অটোমোটিভ শিল্প ও বিশ্বমঞ্চে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখি। এমন একটি উদীয়মান বিভাগের শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।”


বিভাগের তৃতীয় ব্যাচ (২০২৫-২৬)-এর শিক্ষার্থী উম্মে সালমা বলেন, “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই ক্রমবর্ধমান পরিবারের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী ও উন্নত ল্যাবরেটরি সুবিধার মাধ্যমে আমাদের বিভাগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্যিই প্রশংসনীয়। এই অগ্রগতির পেছনে আমাদের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় আমাদের বিভাগ ভবিষ্যতে প্রকৌশল ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।



সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। ছবি : পিএমও

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।


বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।


সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।


লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারিত হবে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।


তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া এখন তাঁদের দায়িত্ব। 


তিনি আশা করেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এ ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে।


তারেক রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এ কর্মসূচি কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে। সেই সাথে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে৷


চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।


লিউ হাইশিং বলেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী। এ সময় তিনি বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।


বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনোমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য চীনের সমর্থনের কথা জানান লিউ হাইশিং।


বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন বলে জানান।


বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


অন্যদিকে, লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সর্বশেষ সব খবর

ইকবাল সোবহান চৌধুরী

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

আন্দোলনে ইন্ধনের অভিযোগে শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দৈনিক অবজারভার পত্রিকার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।


বুধবার (০৪ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়। 


বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করা হয়। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিবিতে নিয়ে আসা হয়েছে।


তবে কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বা কোনো নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি এই কর্মকর্তা।


এর আগে গত ১৫ এপ্রিল পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেদিন সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার জেদ্দা যাওয়ার কথা ছিল।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২১ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৩ পিএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২১ পিএম

প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। সিস্টেমের আধুনিকায়ন ও আপগ্রেডেশনের কাজের কারণে টানা ২৪ ঘণ্টা বন্ধ বা বিঘ্নিত হতে পারে প্রি-পেইড মিটারের রিচার্জ সেবা।


এ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগেভাগেই মিটারে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স জমা রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার (৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডেসকোটি নিশ্চিত করেছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রি-পেইড সিস্টেমের আধুনিকায়ন ও আপগ্রেডেশনের কাজের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টা থেকে ৬ নভেম্বর (শুক্রবার) রাত ১০টা পর্যন্ত রিচার্জ সেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এ সময় বিশেষ করে যেসব প্রি-পেইড মিটারের নম্বর ৩ দিয়ে শুরু, সেসব মিটারে রিচার্জ করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন গ্রাহকরা।এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে নির্ধারিত সময় শুরুর আগেই প্রয়োজন অনুযায়ী মিটারে টাকা রিচার্জ করে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে ডেসকো। পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলে রিচার্জ সেবা বিঘ্নিত হওয়ার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ ছাড়া রিচার্জসংক্রান্ত যে কোনো তথ্য বা প্রয়োজনে ডেসকোর হটলাইন ১৬১২০ অথবা ১৬৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা।


উল্লেখ্য, সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে ডেসকো কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৬ পিএম

৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আগামী ১১ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শুধু ঢাকায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) পিএসসির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫১তম বিসিএসের (বিশেষ) লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার হল, আসনবিন্যাস ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাসময়ে পিএসসির ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd) প্রকাশ করা হবে।


এদিকে চিকিৎসকদের জন্য আয়োজিত ৫১তম বিশেষ বিসিএসে চূড়ান্তভাবে আবেদন করেছেন ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন প্রার্থী।


এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-সংকট মোকাবিলায় এ বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করা হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ বিসিএসের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সহকারী সার্জন পদে ৪ হাজার ৭০০ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ‘হাদিস’ এর সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্যের ঘটনায় দায়িত্ব হারালেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।


মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হলো। 


তবে প্রজ্ঞাপনে তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।


১ নভেম্বর ঢাকায় ‘এক রুট, এক কম্পানি’ উদ্যোগের আওতায় ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ মসিউর রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩০ পিএম

পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে ঢাকার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


আজ বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ (বিচার শাখা-৩) থেকে এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এ পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়।


এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।


এদিকে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঢাকার পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অবিলম্বে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে তাঁকে বদলি করা কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এদিকে আগামী ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর করতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন মালিক পক্ষ। বুধবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য গঠিত হওয়া নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিক পক্ষ এ দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন বলে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠক শেষে জানিয়েছেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের অফিসে বুধবার সকাল ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে।  জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন মজুরি হাতে পাবেন বলে একমত হয়েছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি। 


পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন এ সিদ্ধান্তে একমত প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাবুল আক্তার। এ সময় শ্রমিকদের কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এ শ্রমিক নেতা। 


ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। ঢাকার আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ করে আসছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হলেও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।


এর আগে রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।


ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ)  করা হয় শেখ আশফাকুর রহমানকে। বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। 


আজ মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হয়েছে। পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে ঢাকার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার। 


সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা। 

সর্বশেষ সব খবর