রাকিবুল হাসান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৫ পিএম

সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার প্রত্যারকৃত ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে তাঁকে নেওয়া হয়।


ডিবির একজন যুগ্ম কমিশনার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রাকিবুল হাসানকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে এ ধরনের অনুসন্ধান করতে হয়।


বিষয়টি জানতে ডিবিপ্রধান শফিকুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


রাকিবুল হাসানের নামে প্রচারিত ওই অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।’


অডিওতে ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না। এ ছাড়া পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও তাঁকে কথা বলতে শোনা যায়।


অডিওটির কথোপকথনের বিষয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ডিএমপি। এরই মধ্যে কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। কমিটি প্রত্যাহার হওয়া ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এ জন্য তাঁকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


এদিকে ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আইনি নোটিশ দিয়েছেন এক আইনজীবী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর এ নোটিশ পাঠান।


নোটিশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির সত্যতা, উৎস, সম্পাদনা বা বিকৃতির সম্ভাবনা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। তদন্তে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের আইনগত উপাদান ও প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।


জানা গেছে, রাকিবুল হাসান রাকিব একসময় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা ও কুমারখালী থানায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপিসহ বিরোধী দল দমনে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে সক্রিয় দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে আতশবাজি ফোটানো ও কেক কাটতেও দেখা যায়।


৫ আগস্টের পর রাকিবুল হাসানকে প্রথমে ডিএমপির ভাটারা থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরে তিনি গুলশান থানার ওসি হন। সর্বশেষ গুলশান থানা থেকে তাঁকে সরিয়ে গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। সম্প্রতি তাঁকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়।



বিএনপি নেতার হুমকি

শখ জাগছে আপনারে জ্যাতা পুড়ম


বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন গাজী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৭ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দেওয়ার ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি কথোপকথন রেকর্ডের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ওই নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নে হলেও ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন।


আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইউপি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বিএনপি নেতা তাঁকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন।

গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল

অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম ফরিদ উদ্দিন গাজী (৫০)। তিনি বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য। তাঁর বাড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি ইউপি নির্বাচন করার ঘোষণা না দিলেও তাঁর পছন্দের প্রার্থী আছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গতকাল সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ছড়িয়ে পড়া কথোপকথন রেকর্ডে ব্যবসায়ীকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে প্রথমে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর ব্যবসায়ীর উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি, এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে? যদিও আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’ জবাবে ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’ এরপর ফরিদকে আবার বলতে শোনা যায়, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’


একপর্যায়ে ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’ এরপর ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’


জানতে চাইলে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, তিনি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আগেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছিলেন ফরিদ গাজী। তখন ৫০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবিও করেছিলেন। তখনকার কথা তিনি রেকর্ড করতে পারেননি। তিনি বলেন, ফরিদ একজন সন্ত্রাসী। এ জন্য তিনি শঙ্কিত। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন।


ফরিদ গাজী ঘটনার পরপরই অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) বলেন, ফরিদ গাজীর বিষয়ে তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না। জেলা বিএনপির নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।


জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের তদন্ত করে তাঁর (ফরিদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জেলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে জেলা বিএনপি।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪০ এএম

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তর কাজের জন্য রাজধানীর আশপাশের অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা আশুলিয়া বাজার থেকে বাইপাইল পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। একই সময়ে আশপাশের এলাকাগুলোতে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।


যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে


তিতাস গ্যাস জানিয়েছে- ঢাকা ইপিজেড, মালঞ্চ পাওয়ার প্লান্ট, বেক্সিমকো ডিআরএস (বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স), কাশিমপুর, সারদাগঞ্জ, হাজী মার্কেট, শ্রীপুর, চন্দ্রা, চন্দ্রা মোড়, নবীনগর, সাভার টাউন, সাভার ক্যান্টনমেন্ট, উলাইল, ব্যাংক টাউন, সাভার রেডিও কলোনি, কলমা, দোসাইদ, কুমকুমারী, আক্রান, চারাবাগ, বড় আশুলিয়া, টঙ্গাবাড়ী, কাঠগড়া, জিরাবো, গাজীরচট, নয়াপাড়া ও দেওয়ান ইদ্রিস সড়কের উভয় পাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ছাড়া নয়ারহাট, বলিভদ্রপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, ডেন্ডারবর, ভাদাইল, লতিফপুর, মানিকগঞ্জ ও তৎসংলগ্ন এলাকাতেও গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।


তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, পাইপলাইন স্থানান্তর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

শিবগঞ্জের সীমান্তে ৩ কোটি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ

ট্রাকে পাথরের নিচে ট্রাকের যন্ত্রাংশ, উদ্ধার ১৩৫ ভারতীয় মোবাইল


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৭ এএম

শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্তে পৃথক অভিযানে তিন  কোটি ছয় লাখ ৯৪ হাজার টাকা সিজার মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। এর মধ্যে পাথরবোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাক থেকে ৭০৮ পিস ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও পাঁচটি বেনারসি শাড়ি এবং ভোলাহাট থেকে ১৩৫টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।


বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি  সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর এলাকায় অভিযান চালায় ৫৯ বিজিবি। এ সময় পাথরবোঝাই একটি ভারতীয় মালিকবিহীন ট্রাক জব্দ করা হয়। পরে ট্রাকটি তল্লাশি করে  বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ৭০৮ পিস ভারতীয় ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও পাঁচটি বেনারসি শাড়ি উদ্ধার করা হয় যার  মূল্য দুই  কোটি ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।



অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলাহাট উপজেলার আলীমোড় এলাকায় খড়কপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা  অভিযান চালিয়ে ১৩৫টি ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করে । এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে ইজিবাইকের চালক পালিয়ে যায়। এ অভিযানে জব্দ করা পণ্যের  মূল্য ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা।




দুটি অভিযানে সব মিলিয়ে জব্দ করা চোরাচালানী পণ্যের মূল্য প্রায়  তিন কোটি সাত লাখ টাকা।


৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জব্দকৃত চোরাচালানী পণ্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

দিনাজপুর

বাড়ীর ছাদেই চলছিলো গাঁজার চাষ!

পৃথক অভিযানে ৩ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৯ এএম

মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও আনুমানিক ১০ কেজি ওজনের কাঁচা গাঁজার গাছ উদ্ধারের দাবী করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর জেলা পুলিশের দেওয়া প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।




পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরামপুর থানার একটি দল রাত্রিকালীন হাইওয়ে ডিউটি ও গ্রেপ্তারী পরোয়ানা তামিলের সময় উপজেলার ৪ নম্বর দিওড় ইউনিয়নের ধানঘরা পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মোঃ মোরছালিন (২৬) ও মোঃ ময়নুল ইসলাম (২৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের দাবী করেছে পুলিশ।


গ্রেপ্তার মোরছালিন ধানঘরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত সকিনুরের ছেলে এবং ময়নুল ইসলাম একই এলাকার ধানঘরা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোঃ মোক্তার হোসেনের ছেলে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।


অন্যদিকে, নবাবগঞ্জ থানার দাউদপুর ইউনিয়নের হালুয়াঘাট গ্রামে মাদকবিরোধী আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই গ্রামের মোঃ রাজু মিয়ার (২৫) বসতবাড়ীতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবী, বাড়ীর ছাদে লোকচক্ষুর আড়ালে চাষ করা আনুমানিক ১০ কেজি ওজনের কাঁচা গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।


এ ঘটনায় রাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, রাজু মিয়া হালুয়াঘাট গ্রামের মোঃ মজমুলের ছেলে।


দিনাজপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী পৃথক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সিলেটের পুরোনো কারাগার।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০০ এএম

সিলেট নগরীর পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক ও রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য কারাগারের জমি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


সভায় শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান এবং কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সভা সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো কারাগারের জমি পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরে পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিটি সিসিকের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,পুরোনো কারাগারের জায়গায় কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে না সিটি করপোরেশন। জায়গাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রেখে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যবহার করা হবে।


এদিকে,পুরোনো কারাগারে থাকা বন্দীদের বাদাঘাটে অবস্থিত কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’ নামে আরেকটি কারাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।পুরোনো কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর প্রচেষ্টার কথা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রও দেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পার্কের পাশাপাশি একই জায়গায় রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জায়গাটি বিনোদনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের একটি স্থান হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।


সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, “নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পুরোনো কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক হবে। এক পাশে হবে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।”


তিনি বলেন, অচিরেই পার্ক ও জাদুঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। কারাগারের বন্দীদের বিদ্যমান কারাগারে স্থানান্তরের পর জায়গাটি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ পার্কে রূপ দেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ এএম

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনেকদিন ধরেই অর্ন্তদ্বন্দ্ব চলে আসছে। তবে রাষ্ট্রপতির সফরে এসে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। গত মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওইদিন সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এই নাগরিক সংবর্ধনা ঘোষণা দিয়ে বর্জন করে সিলেট মহানগর বিএনপি। 


এছাড়া বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা এই অনুষ্ঠানে যাননি।সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, একক সিদ্ধান্তে সংবর্ধনা আয়োজন ও অন্য নেতাদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ এনেছেন বর্জনকারী নেতারা। তবে বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই বর্জনের নেপথ্যেও রয়েছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন।


সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, ২২ ফেব্রুয়ারি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সিসিকের প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি সিলেট বিএনপির অনেক নেতা। বিশেষত মহানগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করা বিএনপি নেতারা এতে মনক্ষুন্ন হন। জেলা বিএনপির সভাপতিকে সিসিকের দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি তারা ইতিবাচক ভাবে নেননি। এরমধ্যে কাইয়ুম চৌধুরী আগামী সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর বিএনপি নেতাদের সাথে আরও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। যা রাষ্ট্রপতির সফরে প্রকাশ্যে রূপ নেয়।


মঙ্গলবারের সফরে সিলেটের দুই ওলির মাজার জিয়ারত ছাড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দেওয়ার সংবর্ধনা সভায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক হচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী। আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তিনি। এতো দিন বিএনপির হয়ে এই পদে লড়েছেন বর্তমান শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগ আমলেও তিনি দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচন হন। এবার তিনি মেয়র পদে মাঠে থাকার সম্ভাবনা না থাকায় স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। তবে রাষ্ট্রপতির সফরে সেই স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে অপ্রীতিকর পরিবেশ। বিএনপি মহাসচিব থেকে সদ্য রাষ্ট্রপতি হওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখালেও মঙ্গলবার তার সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেয় সিলেট মহানগর বিএনপি।


এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিলেট সিটি করপোরেশন। নগরভবনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোন নেতা অংশ নেননি। সংবর্ধনা বর্জকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। এদের মধ্যে অন্তত ৪ জন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।


এ প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়া নিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। এ কারণেও সিটি করপোরেশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির কয়েকজন নেতা যাননি।


যা বলছেন বর্জনকারী নেতারা


রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না যাওয়া প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সিসিক প্রশাসক যেভাবে নাগরিক কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন, তা না করে খামখেয়ালিভাবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে আমাদের অপদস্থ করা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সিলেটে এলে আমাদের গাড়ি শাহজালাল (রহ.) মাজার ও শাহী ঈদগাহ এলাকায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিল। এবার সেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এমনকি শাহজালাল মাজারেও আমাদের গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এসব সার্বিক কারণেই আমরা নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছি।


সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, গত দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা নির্যাতিত, নিপীড়িত, কারাবরণ ও অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের বড় একটি অংশ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি। দুঃসময়ে এসব নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়ানো একজন রাজপথের কর্মী হিসেবে আমি এটিকে আমার মানবিক দায়িত্ব মনে করেছি। সে কারণেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার বিবেক আমাকে বাধা দিয়েছে। 


এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনার জন্য বিভিন্ন সমন্বয় সভায় নাগরিক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সিলেট সিটি করপোরেশনর প্রশাসক (আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী) নাগরিক কমিটি গঠন না করে তিনি একক সিদ্ধান্তে সিসিক প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা প্রদান করেন। তিনি (সিসিক প্রশাসক) পরিকল্পিতভাবে আমাদের সকল কর্মসূচীর বাইরে রাখতে চেষ্টা করেছেন।তিনি বলেন, সিসিক প্রশাসক কোনদিন মহানগরে রাজনীতি করেননি। মহানগরের নেতাকর্মীদেরও তিনি চিনেন না। তাই আমরা তাকে সহযোগীতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উল্টো পরিকল্পিতভাবে আমাদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন।


সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক


আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কেউ বর্জন করেছেন বলে আমার জানা নেই। আমরা ১২শ’ লোককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমন্ত্রিতদের প্রায় সকলেই এসেছেন। এর মধ্যে ২/৪ জন নানা কারণেই বাদ পড়তে পারেন।


তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কোন রাজনৈতিক দলের নয়, তিনি কোন রাজনৈতিক ব্যত্ত্বিত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি সবার, তিনি রাষ্ট্রের প্রধান। উনার সংবর্ধনায় কেউ না এলে এটা তার ব্যাপার।


সিসিক প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাকে ডেকে নিয়ে অরাজনৈতিকভাবে সংবর্ধনা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি তার নির্দেশ অনুসারে কাজ করেছি। অরাজনৈতিকভাবে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেছি। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দাওয়াত করেছি। আর এই আয়োজনে আমি সভাপতিত্ব করেছি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে, বিএনপির সভাপতি হিসেবে নয়। এতে কে কোন কারণে আসেননি তা আমার জানা নেই।


কাইয়ূম চৌধুরী আরও বলেন, তবে আমাদের আয়োজনে রাষ্ট্রপতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি আমিসহ সিসিকের সবাইকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।


সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলীয় বিরোধের কারণে এমনটি ঘটেছে কী না- এই প্রশ্নের জবাবে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমার জানা নেই। তবে এরকম হওয়ার কথা নয়। কারণ রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা দলীয় কোন অনুষ্ঠান নয়। এখানে রাজনীতির সম্পৃক্ততা নেই।তবে প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রধান করেন তখনই মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। আমি তার নির্দেশ অনুসারে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যুক্ত করেন সিলেট জেলা বিএনপির এই সভাপতি।