রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
সামনের দিনগুলো ভালো নয়, অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে এমন মন্তব্য করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শোনা যায়, ক্ষমতায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলকে দেখা হয়েছে- এবার অমুককে (জামায়াতে ইসলামী) দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন- তাদের তো দেশের মানুষ একাত্তর সালেই দেখেছে।
রোববার (০৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।
এতে ছাত্রদলের সারা দেশের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন। সকালে দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তারেক রহমান বলেন, আমি গত ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছি, আমাদের সামনের সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়, সামনে অনেক কঠিন সময়ে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এই দেশের জনগণ এবং এই ষড়যন্ত্র জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দিতে পারে বিএনপি। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে- গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র। আমরা যদি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, যে কোনো মূল্যে জনগণের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তাহলে অবশ্যই অনেক ষড়যন্ত্রকে আমরা রুখে দিতে পারব। কিন্তু ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে পারলেও তারপরেও কিন্তু সামনে অনেক কঠিন সময় বলে শঙ্কার কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা- এই দুটি বিষয় আমাদের এড্রেস করতে হবে। যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। সেজন্য সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে সর্বপ্রথমে আমাদেরকে নজর দিতে হবে, সর্বপ্রথমে আমাদের ব্যবস্থা করতে হবে- দুর্নীতির লাগাম কীভাবে আমরা টেনে ধরব? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম কীভাবে আমরা টেনে ধরব?
তিনি বলেন, আমরা যদি দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছি মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে, নারী সমাজকে ক্ষমতায়ন করা নিয়ে, দেশের কৃষি ব্যবস্থা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা আমাদের বাধাগ্রস্ত হবে, স্লো হয়ে যাবে। যদি আমরা এই দুটি বিষয়ে এড্রেস করতে না পারি, পুরো জাতি এবং দেশ সংকটের মধ্যে পড়বে। আমরা মনে করি, একমাত্র বিএনপিই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে। কারণ- আমরা অতীতে করেছি, ভবিষ্যতে আমরা সুযোগ পেলে এই কাজটি করে দেখাতে পারব ইনশাআল্লাহ। এ সময় বেকার সমস্যা, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনাসমূহে তুলে ধরেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, পলাতক স্বৈরাচার যেভাবে বিএনপি সম্পর্কে যেসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি- কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কতগুলো কথা বলার চেষ্টা করছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদেরও তো দুইজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে সেই সময় সরকারে ছিলেন। এই দুজন ব্যক্তি পৃথিবীতে আর নেই, দুজনই সিনিয়র মানুষ, দুজনই সিনিয়র রাজনীতিবিদ ছিলেন, তারা গত হয়েছেন। কাজেই যে মানুষ নেই, তাদের সম্পর্কে অবশ্যই খারাপ কথা বলা উচিত নয়। তাদের প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান রেখেই বলতে চাই- সেই দুইজন ব্যক্তির বিএনপি সরকারে শেষদিন পর্যন্ত থাকা যৌক্তিকভাবে দুইটি জিনিস প্রমাণ করে দেয়- এক. তাদের অবশ্যই পূর্ণ কনফিডেন্স ছিল খালেদা জিয়ার উপরে যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে- সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন। এখন তাদের দলের অন্য যে যত বড় বড় কথা বলুক না কেন, খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং দুর্নীতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে-এই আত্মবিশ্বাস তাদের মধ্যে ছিল। সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সাথে ছিলেন। আমরা অন্য কিছু বলতে চাই না।
তিনি বলেন, তাদের দলের (জামায়াত) কেউ কেউ বলে থাকে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু অভিযোগ পাওয়া যায় না। স্বৈরাচারের সময় আমরা দেখেছি- কীভাবে আদালতকে ইনফ্লুয়েন্স করা হতো। কিন্তু স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পরে মোটামুটি আমরা বলতে পারি যে, আদালত এখন নিরপেক্ষ- নিরপেক্ষতা আমরা আশা করি। এই সেই নিরপেক্ষ আদালত থেকে আমরা দেখেছি, কারো বিরুদ্ধেই কোনো জিনিস প্রমাণিত হয়নি। এটি ছিল প্রোভাগান্ডা। আমাদেরকে আজকে এই উপসংহারে আসতে হবে যে, একমাত্র বিএনপি পেরেছিল দেশকে দুর্নীতি থেকে বের করে নিয়ে আসতে। ইনশাল্লাহ আগামী দিনেও বিএনপি পারবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শুনি বা বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে- অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, এবার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদেরকে তো দেশের মানুষ একাত্তর সালে দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লাখো মানুষকে হত্যা করেছে, ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজারো হাজারো মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি, তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল- এই কথাটি আমাদেরক মনে রাখতে হবে।
ধর্মভিত্তিক একটি দলের জান্নাতের গ্যারেন্টি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন জিনিসের কনফার্মেশন দিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন আমি যতটুকু বুঝি, অনেক মুরুব্বি ব্যক্তি আছেন, বুজুর্গ ব্যক্তি আছেন ধর্মীয় বিষয়ে- আমি একজন সাধারণ নরমাল মুসলমান হিসেবে যতটুকু বুঝি- যা আমার না, আমি যদি তা দেবার কথা বলি অর্থাৎ যেটি আমার না, সেটির কমিটমেন্ট যদি করি- তাহলে আমি তার সাথে পাল্লা দিচ্ছি। দোজক-বেহেশত দুনিয়ার সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তালাই বলতে পারে, সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই- আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি, সেটি হচ্ছে শিরিক। এটি হচ্ছে শিরিকের পর্যায়ে পড়ে।
ছাত্রদলের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তোমাদের ঘরে ঘরে যেতে হবে এবং বলতে হবে- যারা এসব কথা বলে, তারা শিরিক করছে। আপনি যদি তাদের কথা শুনেন, আপনিও শিরিকের পর্যায়ে পড়ে যাবেন। যার অধিকার একমাত্র আল্লাহতালার, সেটি একমাত্র আল্লাহর অধিকার। কে কোথায় যাবে? কার ইহকালে কী হবে, পরকালে কী হবে- সেটির ডিসাইড করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কাজেই যারা এসব কথা বলে, তারা ইনেমে শিরিক করছে। একজন মুসলমান হিসেবে আমি সেটাই বুঝি। এই কথাগুলো তোমাদের পৌঁছে দিতে হবে।
দেশকে গড়তে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একটাই, কীভাবে দেশকে আমাদের গড়তে হবে। এই দেশকে শহীদ জিয়া গড়েছেন, ঠিক একইভাবে পরবর্তীতে নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতনের পরে এই দেশকে আবারো বেগম খালেদা জিয়া গড়েছিলেন। ২০০১ সালের পরে আবারও ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে, দুর্নীতি নিমজ্জিত একটি দেশকে খালেদা জিয়া আবার উপরে উঠিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আজ সারা দিন আমরা যেগুলো আলোচনা করেছি, সেগুলো যদি আমরা করতে পারি, তাহলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব। আগামীতে দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা দেশ গড়ব।
তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-কানাডা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র বানাতে চায় না; আমরা চাই একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশের মানুষের দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। যেখানে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, দুর্নীতির লাগাম ধরতে আমরা সক্ষম হবো- সে রকম একটি বাংলাদেশ চাই।
এ সময় দেশ গড়ার এই পরিকল্পনা সফল করতে ছাত্রদলকে মানুষের ঘরে ঘরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, অনেক সময় লাগবে, কষ্ট হবে; অনেক কঠিন, অনেক শত্রু আছে- যারা আমাদের বাধা দিবে, কিন্তু এই দেশের মানুষকে কেউ বাধা দিয়ে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ইনশআল্লাহ দেশ গড়ার পরিকল্পনার কাজ যখন আমরা শুরু করব বাংলাদেশের মানুষের রায় নিয়ে, তখনও ইনশআল্লাহ কেউ আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তোমাদের সকলকে যেতে হবে মানুষের দৌড়গোড়ায়, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির জিয়া উদ্দিন হায়দার, আবদুল মজিদ, আমিনুল হক, মীর শাহে আলম, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দীন নাছির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন আলোচকরা।
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির তরফে এই নিয়োগ ‘বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে দাবি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের এ অবস্থান তুলে ধরেন।
২৩ জুলাই সামসুল আলমকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন-ইসি সচিবালয়ে এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়ার খবর এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। তিনি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব হিসেবে ২০১৮ অবসরে যান। সংসদের বিরোধী দল জামায়াত তার চুক্তিভিক্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করছে।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
“এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা। এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
অবিলম্বে সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক সংস্থায় সর্বজনগ্রাহ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
তিনি বলেন, “দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’। বর্তমানে এই নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতির সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।”
গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নেতাদের নিয়োগের সমালোচনা করেন।
জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
বিএনপির দলীয় মনোগ্রাম
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের উপসচিব মো. সামসুল আলম ২০১৮ সালের মার্চে চাকরি থেকে অবসরে যান। পরে তিনি বিএনপির কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। গত বছর গঠিত বিএনপির আসন পুনবির্ন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৩ জুলাই তাঁকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসি সচিবালয়ে এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
একই দিন ১১টি কোম্পানি, করপোরেশন এবং সরকারি সংস্থায় বিএনপির পদধারী নেতাদের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে আমলাদের নিয়োগ করা হতো। সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়োগের নজির রয়েছে। বিএনপির আগের আমলগুলোতে অবশ্য দু-একজন নেতাকে নিয়োগ দেওয়ার নজির রয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী এসব কোম্পানি, করপোরেশন এবং সংস্থায় সরকার যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে বাধা নেই।
তবে সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসিতে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার নজির নেই। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি এই নিয়োগকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। দলীয় রাজনীতি করা একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা যায় না। অন্য যেসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হয়েছে, সেগুলো নির্বাহী বিভাগের অংশ, মানে সরকারের অধীন। সরকার চাইলে যে কাউকে নিয়োগ করতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সরকারের অধীন নয়; অংশও নয়। এর মূল চরিত্রই নিরপেক্ষতা।
তিনি বলেন, ইসিতে দলীয় কাউকে নিয়োগ দেওয়া মানে, এই চরিত্র শেষ হওয়া। তখন আবার ইসির প্রতি অনাস্থা তৈরি হবে। ৫ আগস্টের আগের মতো নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না। সরকারের এই নিয়োগ বাতিল করা উচিত।
বিএনপি করা কর্মকর্তা
বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজ সমালোচনা করলেও নিজের নিয়োগে সমস্যা দেখছেন না মো. সামসুল আলম। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ‘রাতের ভোট’খ্যাত নির্বাচনের ফলাফলের তথ্য চাওয়ায় তাঁকে তৎকালীন ইসি সচিব হেলালুদ্দীনের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই মাস তিন দিন কারাগারে ছিলেন তিনি।
সামসুল আলমের ভাষ্য, তিনি কখনোই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। নির্বাচন ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে কথা বলায় তাঁকে আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। পরে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে বিএনপির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
জামায়াত-এনসিপির সমালোচনা বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি তো বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ দেবে। যুক্তরাষ্ট্রে সব পদেই সরকারি দলের কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়। আমি অবসরের পর বিএনপির আসন পুনর্বিন্যাস কমিটিতে ছিলাম মাত্র। এটা কোনো দলীয় পদ নয়। যে কোনো ব্যক্তি তা থাকতে পারেন। তবে আমি এখন নিরপেক্ষ। বিএনপি করি না।
নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ পাওয়া নৈতিক কিনা– এমন প্রশ্নে এই অতিরিক্ত সচিব বলেন, কাজের মাধ্যমেই আগামী দিনে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করব।
গত বছরের ৩ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে গঠিত আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য ছিলেন সামসুল আলম। একই কমিটিতে সদস্য ছিলেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা অনুযায়ী, নাকি সরকার থেকে সামসুল আলমকে নিয়োগ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সমকালকে বলেন, ‘এটা আমি পরিষ্কার নই। আমার ধারণায় নেই।’
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যায় কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমিও তো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, অতিরিক্ত সচিব সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পদ। তাই সরকারের নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সামসুল আলম বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আন্দোলনও করেছেন। নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হয়েও নিয়মিত অফিসার্স ক্লাবের বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনে দলের নেতাকে নিয়োগ দিয়ে দলীয়করণের সব সীমা পার করেছে বিএনপি। অতীতে কেউ এতটা নির্লজ্জতা করেনি। সামসুল আলম যদি চাকরিজীবনে বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে সরকার তাঁকে ভূতপূর্ব পদোন্নতি দিয়ে সম্মান এবং বকেয়া বেতন-ভাতা দিতে পারত। যেমন দেওয়া হয়েছে শত শত বঞ্চিত কর্মকর্তাকে। কিন্তু ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি, যিনি সরাসরি দল করেছেন, তাঁকে কীভাবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে পারে?
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, স্থানীয় নির্বাচন এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করতেই সরকার বিএনপি নেতাকে ইসিতে নিয়োগ দিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও আবদুল বারীর বক্তব্য জানতে পারেনি।
জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেন, সরকারি চাকরিগুলোর নিয়োগ যেন দলীয়করণ থেকে মুক্ত থাকে। সরকারি কর্ম কমিশন যেন কোনো ভাবেই দলীয়করণের আওতায় না পড়ে।
রবিবার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তি কতৃক আয়োজিত ''বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ'' শীষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, "যদি পিএসসিতে শুধু সরকারদলীয় লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে একটা আশঙ্কা থেকেই যায় যে সেখানে এক ধরনের আনফেয়ার পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হতে পারে। সে কারণেই কিন্তু আমরা সকল রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আলোচনা করেছিলাম যে পিএসসিতে নিয়োগ হতে হবে এমনভাবে যেখানে সরকারি দল কথা বলবে বিরোধী দল যারা আছে তারাও কথা বলবে।"
তিনি আরও বলেন, "যদি সরকারি দল-বিরোধীদল সকলের মতামতের ভিত্তিতে একজনকে পিএসসি'র দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়, তাহলে সেই মানুষটা অন্তত পক্ষে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা রাখতে পারি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গণভোটে অংশ নেওয়ার পরেও, সেই গণভোটের রায় এখনো কার্যকর হয় নি। আমরা প্রত্যাশা করবো বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যেন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়।"
এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ড. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ছবিঃ ফেসবুক
কক্সবাজার ও গাজীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিটিং ও ঝটিকা মিছিল নিয়ে বিএনপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের আমলের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন নিয়েও বিএনপির প্রতি প্রশ্ন তোলেন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
পোস্টে সারজিস বলেন, ‘বিএনপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের গ্ৰিন সিগনালে এবং পুলিশের সহযোগিতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ জেলা কক্সবাজার ও গাজীপুরে ছাত্রলীগের মিটিং ও ঝটিকা মিছিল হয়েছে।’
প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় বিএনপি, এত তাড়াতাড়ি আপনাদের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের উপর স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের করা ১৭ বছরের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন সব ভুলে গেলেন? এত তাড়াতাড়ি শহিদ ওয়াসিমসহ জুলাই অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া, রক্ত দেওয়া আপনাদের শত শত নেতাকর্মীদের সব ত্যাগ ভুলে গেলেন?’
‘নাকি আপনাদের নেতাকর্মীদের উপরে এতো জুলুম, নির্যাতন কিংবা তাদের রক্ত, জীবনের কোনো মূল্য আপনাদের কাছে নেই? নাকি যা বলেন কিংবা যা করেন সবই লোক দেখানো?’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ‘নেতাকর্মীদের কথা বাদই দিলাম, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে যেই নির্মমতা হলো, সেসব কীভাবে ৬ মাস যেতে না যেতেই ভুলে গেলেন? মনে রাখবেন, পাপ কিন্তু বাপকেও ছাড়ে না।’
<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fsarjis.nirob%2Fposts%2Fpfbid025iBFTsKReLQBtSZy9H2sUwBneMnCereThZ1MZUsrMuBtB7LMss9gXfpoSUB8ihb4l&show_text=true&width=500" width="500" height="252" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share"></iframe>
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সাধারণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ নিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন শেষ হওয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। ফলে এখন থেকে জোটের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনও ঐক্যের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনও কর্মসূচির ব্যানার বা প্রচারণায় তাদের দল বা নেতাদের নাম ব্যবহার না করতে। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি
সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার পর তার কোনো আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করা হলেও পুরো বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে তার জন্য একটি ‘সেফ এক্সিট’ তৈরি হতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচারের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি যত অপরাধ করেছেন, সেগুলোর জন্য তাকে অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।’
আখতার হোসেন আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকার বিচার হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষ্য, ‘তিনি যদি বিচারের আওতায় না আসেন, তাহলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচারও অপূর্ণ থেকে যাবে।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতদিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। তবে পদত্যাগের পর তার আর কোনো আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমীন, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।