জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদে এই নির্বাচন গোপন ব্যালটে হওয়ার কথা ছিল। তবে বিদ্যমান আইনে নির্বাচন প্রকাশ্যে হওয়ার কথা বলা আছে।
প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মধ্যে যৌথ সভা হয়। বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি। সুতরাং কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল হবে। ভোট হবে প্রকাশ্য ব্যালটে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ২০ আগস্ট বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ ভোট হবে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে।
নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন এমপিরা
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ সচিবালয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। সভায় ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের স্থান, সময় ও ভোটের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। সহায়ক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।
আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে ভোটদাতার ক্রমিক নম্বর, নাম, বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। ব্যালটের নির্ধারিত অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য যাঁকে ভোট দিতে চান, তাঁর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ভোট দেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা তিনটি ব্যালট বাক্সের যে কোনো একটিতে ব্যালট পেপার জমা দিতে পারবেন। ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কোনো সংসদ সদস্য অনিবার্য কারণে দেরিতে উপস্থিত হলে তিনি যাতে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে।
অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট পেপার গণনা
ইসি সচিব বলেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট পেপার গণনা করা হবে। গণনার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। মোট ব্যালটের সংখ্যা ৩৪৯টি। গণনা শেষে কতটি ব্যালট বৈধ এবং প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, তা নির্ধারণ করা হবে। গণনা শেষে নির্বাচন কর্মকর্তা প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এসে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। তাদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সংসদ সচিবালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহায়ক কর্মকর্তা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের কমিশনাররা উপস্থিত থাকতে চাইলে তাদের নামও সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্য বিপক্ষ দলের প্রার্থীকে ভোট দিলে তা ফ্লোর ক্রসিং হবে কিনা– সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, এটা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটা রাজনৈতিক প্রশ্ন, আপনি রাজনৈতিক নেতাদের কাছে করবেন।
ভোট গণনা থেকে ফলাফল ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে।
তিনি বলেন, (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং (ভারপ্রাপ্ত) স্পিকারের ভোট দেওয়ার সময়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষের পর গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁকে দলের মহাসচিবের পদ এবং মন্ত্রিসভা; উভয় স্থান থেকেই পদত্যাগ করতে হবে। ফলে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পদে দেখা যেতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন।
এমন অবস্থায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে বিএনপি। ফলে কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রিজভী। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে ক্ষমতাসীন বিএনপিতে। শুরুতে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই সবাই এগিয়ে রাখছেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি নন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য সমকালকে বলেন, দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতা এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন এমন একজনকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করবে বিএনপি। সেই হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই যোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে সবাই মনে করছেন।
আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ
বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হচ্ছে ৭০ অনুচ্ছেদ। বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকেই এই অনুচ্ছেদ নিয়ে নানা ধরনের তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনা চলে আসছে।
সবশেষে জুলাই সনদে এই অনুচ্ছেদর সংস্কার নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনও নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি- উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।
অর্থাৎ সংসদ সদস্যরা যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলের প্রস্তাবিত যেকোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত অকপটে মেনে নিতে বাধ্য করে এই ৭০ অনুচ্ছেদ। কেউ যদি এর ব্যত্যয় ঘটান বা না মানেন, তাহলে এর পরিণাম খুবই কঠোর। তাদের আসনই শূন্য হয়ে যায়।
এদিকে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। ইতোমধ্যে জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা। জোটের নেতারা মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নির্বাচনে জামায়াত জোটের এই প্রার্থীর পরাজয় প্রায় নিশ্চিত।
তাহলে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা জেনেও কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে আলোচনা আনতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে জামায়াত জোট। কেউবা একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
জামায়াতসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দলমত নির্বিশেষে সর্বজনীন শ্রদ্ধেয়। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন ছিলেন, তিনবার মন্ত্রীও ছিলেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরাও তাকে সম্মান করেন। যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজের ইচ্ছে মতো ভোট দিতে পারতেন-তাহলে এই মুহূর্তেই তার পরাজয় নিশ্চিতভাবে বলা যেতো না।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট রাত। সরকারি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের আসন ও বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধন হয়নি, সুতরাং এটা কার্যকর থাকবে।
নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীর বাইরে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে।
ডেঙ্গু জ্বরে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড
এক দিনের ব্যবধানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ার নতুন রেকর্ড হয়েছে। সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এর আগে গতকালের প্রতিবেদনে ২৪ ঘণ্টায় ৭২৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮২৭ জনে।
চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ জন নারী ও ২২ জন পুরুষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৫৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছিল। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নিয়মিত যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।
ব্রিকসের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, আঞ্চলিক জোটগুলোর নেতৃত্বে থাকা দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সেই ধারাবাহিকতায় বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পুনঃনিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জের প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০ টায়। এবার পরীক্ষায় পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ। এতে পাশ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ শিক্ষার্থী। আর ফেল করেছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
ফলাফল যাদের আশানুরূপ হয়নি, তাদের জন্য পুনঃনিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জের প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু জানান, আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।
পুনঃনিরীক্ষণের পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট (rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) এর মাধ্যমে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের নিয়মাবলী
তথ্য প্রদান: পোর্টালে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ড্রপডাউন তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে 'সাবমিট' বাটনে ক্লিক করতে হবে।
মোবাইল নম্বর: এর পরবর্তী ধাপে একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল এই নম্বরেই এসএমএস এর মাধ্যমে জানানো হবে।
বিষয় নির্বাচন: স্ক্রিনে বিষয়ভিত্তিক নম্বর ও ফলাফল প্রদর্শিত হবে। শিক্ষার্থী যে বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে 'ফি প্রদান করুন' বাটনে ক্লিক করবেন। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে।
ফি পরিশোধ: প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি নির্ধারিত রয়েছে। বিকাশ, নগদ কিংবা সোনালী সেবার মতো ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ফি দেওয়া যাবে। ফি সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন পোর্টালের 'হেল্প' বাটনে পাওয়া যাবে।
আবেদন জমা: ফি পরিশোধ শেষে আবেদনে ফিরে এসে 'জমা দিন' বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।
ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনে আর কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না এবং ফি বাবদ কাটা টাকা অফেরতযোগ্য। তবে ফি পরিশোধের আগে নির্বাচিত বিষয়ে ভুল থাকলে 'মুছে ফেলুন' বাটনে ক্লিক করে তা সংশোধন করা যাবে।
এ ছাড়া ফি জমা দেওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থী নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে আগের প্রক্রিয়াতেই মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে তা করতে পারবেন। শিক্ষাবোর্ড থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ই-পোর্টাল ব্যতীত কোনো ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের (বাঁয়ে) সঙ্গে বৈঠকে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠকে বসছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ও প্রধান নির্বাচনী কর্তা (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
এদিন বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবালয় ও সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এরই মধ্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
শেষ পর্যন্ত দুজন প্রার্থী থাকলে ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর দ্বিতীয়বার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন।
তবে সেই নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকেন জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ কয়েকটি দলের সংসদ সদস্যরা।
বিগত সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারও তেমনটা হবে বলে মনে করেছিলেন অনেকে।
তবে গতকাল রোববার জামায়াত জোট প্রার্থী ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে ইসি। এ নিয়ে গতকাল অনির্ধারিত বৈঠকও করে নির্বাচন কমিশন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।