তারেক-রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৩৬ এএম

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তখন আলোচনায় ছিল ভারত দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর শুরু হবে কি না। 


এরপর এসেছে ভুটান, নেপাল, চীন, সৌদি আরব এবং সবশেষ মালয়েশিয়ার নাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে- গত কয়েক মাস ধরেই তা ছিল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায়। 


চলতি মাসের শেষ দিকে চীন সফর যখন মোটামুটি চূড়ান্ত বলে শোনা যাচ্ছিল তখন আবার সামনে এসেছে মালয়েশিয়া সফর চূড়ান্ত হওয়ার তথ্য। তাহলে কি সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য মালয়েশিয়া? একেক সময় একেক রকম আলোচনা ওঠায় বিষয়টি নিয়ে সব মহলই কিছুটা দ্বিধান্বিত। আবার দলের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতাও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না।


শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এসে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান। নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের প্রেক্ষাপটে ভারতকে প্রথম সফরের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল তখন। 


বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতকে ‘স্বাভাবিক কূটনৈতিক পছন্দ’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল, প্রথম সফরটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী কোনো ছোট রাষ্ট্র দিয়ে শুরু করা যায় কি না। সে ক্ষেত্রে ভুটানের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আসে। 


সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে ভুটানে প্রথম সফর বাংলাদেশের প্রতিবেশীকেন্দ্রিক কূটনীতির ইতিবাচক বার্তা দেবে- এমন যুক্তিও আলোচনায় ছিল। কিছু কূটনৈতিক মহলে নেপালের নামও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচিত হয়, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।


সরকার গঠনের সপ্তাহখানেকের মধ্যে আরেকটি সম্ভাব্য গন্তব্য সামনে আসে, সেটি সৌদি আরব। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল ওমরাহ পালন ও মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরব যেতে পারেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের কারণে সেই পরিকল্পনা আর এগোয়নি।


এপ্রিল মাস থেকে চীন সরকার তারেক রহমানকে বেইজিং সফরের জন্য আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। মে মাসে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফর আলোচনায় আসে। পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র ঢাকায় পৌঁছায়। 


জুনের শেষ সপ্তাহে সম্ভাব্য চীন সফর নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কূটনীতি সফরের মূল আলোচ্য হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যেই ভারত ও চীনের আমন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নটি সরকারের জন্য বড় কূটনৈতিক বিবেচনায় পরিণত হয়। 


নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা ছিল, প্রথম সফর যদি দিল্লি বা বেইজিংয়ে হয়, তাহলে সেটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। ফলে তৃতীয় কোনো বন্ধুরাষ্ট্রকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার চিন্তা গুরুত্ব পায়।


এই প্রেক্ষাপটে সামনে আসে মালয়েশিয়ার নাম। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নির্বাচনের পরপরই তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পরে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে ২১-২২ জুন কুয়ালালামপুর সফরের আমন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। সরকারও সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।


সূত্রমতে, মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া বাংলাদেশের ‘ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি’র প্রতিফলন। এর মাধ্যমে ঢাকা একদিকে ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতার মধ্যে নিরপেক্ষ অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের পথ খুলছে।


তবে মালয়েশিয়া সফর চূড়ান্ত হলেও ভারত ও চীন সফরের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, মালয়েশিয়া সফরের পর দিল্লি ও বেইজিং-দুই রাজধানীতেই প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ঘিরে আলোচনায় ভারত, ভুটান, নেপাল, সৌদি আরব, চীন ও মালয়েশিয়ার নাম উঠে এলেও শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়াই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে এগিয়ে আছে। এই পুরো প্রক্রিয়া নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রথম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষাও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


মালয়েশিয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পর্ক পুরোনো


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিএনপি সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবেও একাধিকবার মালয়েশিয়া সফর করেছেন। প্রথমবার তিনি ২০০৩ সালে মালয়েশিয়া সফর করেন। 


এরপর ২০০৫ সালে আবারও দেশটি সফর করেন। সে সময় তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর লন্ডনে অবস্থানকালে ২০১৪ সালের ২ জুন মালয়েশিয়া সফর করেন তারেক রহমান। ওই সময় তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।


সূত্রমতে, আগামী ২১ জুন তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। এটিই হবে তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফর, যা রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক- বিভিন্ন দিক বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা


বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জাগো নিউজকে জানান, বাংলাদেশের শ্রমশক্তির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের পর এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় নয় লাখ বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে কাজ করছেন। এখনো লাখ লাখ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নানা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ফলে এ খাতে অনেক ক্ষতি হয়েছে।’


প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে মনে করেন শায়রুল।


দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে মালয়েশিয়ার পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও আবহাওয়া পছন্দ করেন। ২১ জুনের এ সফরের মাধ্যমে শুধু নতুন সরকারের প্রথম বিদেশ সফরের অধ্যায়ই শুরু হচ্ছে না, একই সঙ্গে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসছে।


শেষ পর্যন্ত এ সূচি ঠিক থাকলে পরের গন্তব্য চীন না ভারত সেদিকেই থাকবে সবার নজর।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ এএম

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেবো না। এই দেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজ। ওইটা আর রিওপেন হবে না। আমাদেরকে সেই জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখন থেকেই শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে এবং সাহসের সঙ্গে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে হবে। এখানে আলোচনা হবে, লড়াইও হবে, তবে সমানে সমান।


তিনি আরও বলেন, ভারত আমাদের সঙ্গে সৎ সম্পর্ক চায়, আমরাও চাই। প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সৎ ও সুসম্পর্ক থাকুক, সেটিও আমরা চাই। তবে সত্যিই যদি আমরা সৎ প্রতিবেশী হতে চাই, তাহলে উভয় পক্ষকেই নিজেদের সদিচ্ছা প্রকাশ করতে হবে।


একাত্তর-পরবর্তী লুটপাট, দুঃশাসন, বাকশাল ও রক্ষীবাহিনী গঠনের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। জনগণের কণ্ঠস্বর দমনে গঠিত রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হলেও কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষ না খেয়ে ফুটপাতে মারা গেছে।


তিনি আরও বলেন, যে বছরে আওয়ামী লীগ দায়িত্ব নিল, সে বছরই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তারা। সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল, তা আজ পর্যন্ত অজানা। আজ পর্যন্ত যে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, তা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এর ফলে সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বিডিআর—দুই বাহিনী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দোষী, অপরাধী, চোর ও লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। অথচ পালিয়ে গিয়েও তারা বারবার এই জাতিকে বিরক্ত করছে—‘এই আসি, ওই আসি’ বলে। বলি, এত আসি আসি করেন, গেলেন কেন?


তিনি আরও বলেন, কেউ যদি দেশ ও জাতিকে ভালোবাসেন, তাহলে মাটি কামড়ে দেশে থাকতেন। অপরাধ করলে শাস্তি নিতেন, আর অপরাধ না করলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতেন। তিনি বলেন, সৎ মানুষ দেশ ছেড়ে পালায় না, ফাঁসি হলেও ফাঁসির মুখোমুখি হবে, জেলে নিলেও জেলে যাবে, কিন্তু দেশ ছেড়ে পালাবে না।


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যেভাবে এগিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেই বিচারকাজের গতি আর দেখা যাচ্ছে না।


তিনি আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে গার্মেন্টস খাতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে দেশে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে রক্ষায় সরকারকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


সংসদের তিনটি বিলে বিরোধীদল আপত্তি তুলেছেন উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। এসব আইন জনগণকে নয়, বরং সরকারকে সুবিধা দেবে।


সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করবেন না।


রাজধানীর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক ও দখলের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না। এসব লোকের সঙ্গে কোনো বিএনপির নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মঙ্গলবার রাজধানীর কোতোয়ালী থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।



দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থেকে নিয়মিত সব নেতাকর্মীকে নিয়ে এক টেবিলে বসব এবং দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করব।’




প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন, বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক এবং দখলের বিরুদ্ধে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সোচ্চার না হলে তা বাস্তবায়ন কঠিন। 



সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশকারী ও দলের নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি করা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে ধারণ করে সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হবে। 




ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণের যে চাওয়া-পাওয়া, সেই বিষয়গুলোকে কীভাবে ধারণ করে একটি সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হয়—সেই বিষয়গুলো আমরা ধারণ করব। ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এ এলাকার ১১টি ওয়ার্ডের সব দায়-দায়িত্ব আমার। এখানে ভালো কিছু হলে যেমন আমার সুনাম হয়, ঠিক তেমনি ব্যর্থতার গ্লানিও আমাকেই বহন করতে হয়।



তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করিনি। বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিগত ১৭ বছরে যে ভঙ্গুর পরিস্থিতি ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে স্বাধীন, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই।



তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সদরঘাটে হত্যাকাণ্ডের মতো গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে, এসব অপরাধীকে চিহ্নিত করে তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। যারা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে, যারা জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।



সভায় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ফরহাদ রানার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরাইয়া বেগমসহ কোতোয়ালী থানার ওসি এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


ইসলামপন্থি সাত দল ও হেফাজতে ইসলামের লোগো

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৭ পিএম

কওমি ধারার সাত ইসলামী দলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব সমন্বয়ের একটি ধাপ শেষ হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটি সাত দলের পৃথক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করেছে। এখন সেই ‘রূপরেখা’ সাত দলের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষা। 


তবে ঐক্যটি কী ধরনের হবে, কী কাঠামোয় এগোবে এবং রাজনৈতিকভাবে দলগুলো কতটা সমন্বিত থাকবে-এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।


সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, তা জানতে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহর সঙ্গে কথা বলা হয়। 


এ সময় তিনি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাত দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটি সমন্বিত ‘রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছে।


মুফতি বশিরুল্লাহ বলেন, ‘হেফাজতের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটি সাত দলের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে বৈঠক করেছে। হাটহাজারী মাদ্রাসায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাত দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটা সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।’


পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান চিকিৎসার জন্য বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলে সাত দলের নেতাদের ডাকা হবে। এরপর তাদের দেওয়া পৃথক প্রস্তাবনাগুলো থেকে তৈরি সমন্বিত রূপরেখাটি তাদের সামনে পেশ করা হবে। সব দল একসঙ্গে বসে নিজেদের ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’


দলগুলোর অবস্থান কী?


হেফাজতের পক্ষ থেকে সাত দলের প্রস্তাব সমন্বয় করে সমন্বিত রূপরেখা তৈরির কথা জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দলের নেতারা বলছেন, তারা উপকমিটির সর্বশেষ বৈঠক ও এর ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। 


তবে ঐক্যের বিষয়ে তাদের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। মূল পার্থক্য ঐক্যটি কী ধরনের হবে এবং দলগুলো কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখবে, তা নিয়ে।


খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ‘হেফাজতের সর্বশেষ যে উপকমিটির বৈঠকের কথা আপনি বলছেন, সেটার রেজাল্ট আমরা জানি না। আশা করি, ওনারা সুন্দরভাবে সমন্বয় করবেন। প্রয়োজন হলে আমাদের ডাকবেন। খেলাফত মজলিস একটি সুন্দর ঐক্য চায়। স্বতন্ত্র ঐক্যের প্রত্যাশা করে।’


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছি। যারা ঐক্য প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের প্রতি আমাদের ভরসা আছে। আশা করছি, তারা ইসলামী দলগুলোকে কাছাকাছি আনার ব্যাপারে এবং একটি কার্যকর ঐক্য গড়ার ব্যাপারে সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবেন।’


জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাবনাগুলো জমা দিয়েছি। এখন পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়। আহলু সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ ধারণ করে আমরা সবসময় ঐক্য পক্রিয়ার পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি। সবসময় থাকব। আশা করি আমাদের অন্য ভাইয়েরাও এই বিষয়ে দ্বিমত করবেন না।’


ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, ‘উপকমিটির বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা অবগত নই। তবে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়। সুন্দর ঐক্যের অপেক্ষায়। আমরা চাই, মৌলিক বিষয়গুলোতে সবাই ঐকমত্য পোষণ করে একসঙ্গে জোটবদ্ধ হবে।’


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ‘সাত দলের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে হেফাজতের সর্বশেষ উপকমিটির বৈঠকের বিষয়টি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। তবে আমরা তো এই ঐক্যের পক্ষে। আমরা প্রত্যাশা করি, আমাদের প্রস্তাবগুলো হেফাজত নেতৃবৃন্দ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রূপরেখা তৈরি করবেন।’


প্রস্তাবনায় পার্থক্য কোথায়?


সাত দলের প্রস্তাবগুলোতে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ না থাকলেও ঐক্যের ধরন, রাজনৈতিক কর্মকৌশল ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে।


হাতে আসা সাত দলের প্রস্তাবনাগুলোর কয়েকটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সাত দলের ঐক্য, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশ নেওয়া এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলাদা সমঝোতা না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।


জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও আদর্শের ওপর অবিচল থাকা, আদর্শিক মতপার্থক্য এড়িয়ে চলা এবং একটি বিশেষ ফোরামের মাধ্যমে ঐক্যের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সমমনা কওমিপন্থি দলগুলোর ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে প্রতিটি দলের নিজস্ব এখতিয়ার থাকার পক্ষে। দলটি বর্তমান ১১ দলীয় জোটে থাকার বিষয়টিকেও এই ঐক্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছে না। 


মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সমমনা ইসলামী দলগুলো অন্য জোটে থেকেও একসঙ্গে কাজ করতে পারে।


অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস চাইছে নতুন ঐক্যে যুক্ত দলগুলো অন্য কোনো জোটে একসঙ্গে না থাকুক। একই সঙ্গে দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল নিজেরাই নির্ধারণ করবে-এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি।


বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সমমনা দলগুলোর আদলে ঐক্যের কথা বলেছে। পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ দলগুলোকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে মাঠে সক্রিয় থাকার বিষয়টি প্রস্তাব করেছে।


বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন হেফাজতের তত্ত্বাবধানে কওমি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে নতুন ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্য বড় রাজনৈতিক দল বা জোটের সংস্রব ত্যাগ করে নতুন জোটে যুক্ত হওয়া, পর্যায়ক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সমন্বয় কমিটি বা মজলিসে শূরার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে।


ইসলামী ঐক্যজোট ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে কেউ এই আকিদা লঙ্ঘন করলে তাকে ঐক্যে রাখা যাবে না-এমন অবস্থানও জানিয়েছে দলটি।


যেভাবে শুরু ঐক্য প্রক্রিয়া


কওমি ধারার সাত ইসলামী দলকে একসঙ্গে পথ চলার উদ্যোগ নেয় হেফাজতে ইসলাম। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সাত দলকে নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাত দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয় দলগুলো।


মূলত সাধারণ জোটের বাইরে ইসলামপন্থিদের স্বতন্ত্র একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে দলগুলোকে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর কাছে ৩ আগস্টের মধ্যে জোট গঠনের রূপরেখা জমা দিতে বলা হয়। প্রায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাত দলই তাদের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে।


দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য হেফাজতের উদ্যোগে সাত সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।


সামনে কী?


উপকমিটির বৈঠকে সাত দলের প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছে। 


তবে সেটি এখনো সাত দলের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর সাত দলের নেতাদের ডাকার কথা জানিয়েছেন মুফতি বশিরুল্লাহ।


ওই বৈঠকে ‘সমন্বিত রূপরেখা’ দলগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর সাত দল নিজেদের প্রস্তাব ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা করে ঐক্য প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।


ফলে সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া এখন পৃথক প্রস্তাব দেওয়া ও সেগুলো সমন্বয়ের ধাপ পেরিয়ে যৌথ আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঐক্যের ধরন, সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে দলগুলোর প্রস্তাবে যে ভিন্নতা রয়েছে, তা পরবর্তী বৈঠকে কীভাবে সমাধান হয়- সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।


অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও এনসিপির লোগো।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৯ পিএম

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বর্বর হামলা, শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং তার সঙ্গে থাকা নিরপরাধ নারী ও শিশুকে আঘাত করার ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ, ধিক্কার ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।


বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুম চালিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী দেশ থেকে পালিয়ে এখন বিদেশের মাটিতে বসে দেশের জুলাই যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলা ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ভেনিসে একজন সুপরিচিত সাংস্কৃতিক কর্মী ও জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলার মতো জঘন্য অপরাধ প্রমাণ করে যে, তাদের হিংস্র খুনে মানসিকতা বিন্দুমাত্র বদলায়নি।


বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভেনিসে উপস্থিতিতে তার ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসীরাই এই হামলা চালিয়েছে। তার সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ক্যাডাররাই মূলত ভেনিসের মাটিতে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। তাকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিদেশে অবস্থানরত পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদদ ও উস্কানিতেই এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হামলা পরিচালিত হচ্ছে।


ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের এই অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আবার প্রমাণ করে দিল যে, এই রক্তচোষা ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয়। যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাই যোদ্ধাদের রক্তাক্ত করতে দ্বিধা করে না, তাদের স্থান কেবল আইনের কাঠগড়ায়। স্বৈরাচার পতন ঘটানো জুলাই যোদ্ধারা আমাদের জাতীয় সম্পদ; বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাসী এই সংগঠনের ক্যাডাররা তাদের ওপর হামলা চালানোর যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, তা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না।


বিবৃতিতে এনসিপি নেতারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে বলেন, ইতালিয়ান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই হামলায় জড়িত চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ডিপোর্ট (বহিষ্কার) করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থানরত সকল জুলাই যোদ্ধা, প্রবাসী বিপ্লবী কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের ট্যাক্সে পরিচালিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।


হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসের এই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের কূটনৈতিক ও আইনি মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে কঠিন জবাব দিতে হবে। এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব মঞ্চে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।


প্রসঙ্গত, ইতালির মেস্ত্রে শহরে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা লাইভে তিনি এ অভিযোগ করেন।


যেখানে তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রবাসী কর্মীদের জড়িয়ে এই হামলার অভিযোগ তোলেন।


ফেসবুক লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখানে আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ‘ফিজিক্যালি হ্যারাস’ করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই।’


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম- এর লোগো

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২১ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিটের ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মু. আবু বকর সিদ্দিকী শিপলুকে আহ্বায়ক ও মো. আল-আমীন মিয়াকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে সাতজনকে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছে।  


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম- এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. কে. এম. আই. মন্টি এই কমিটির অনুমোদন দেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাকিবুর রহমান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য: কমিটিতে উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন সাতজন। তারা হলেন-

মো. ওবায়দুল হক (নিবাহী পরিচালক অব.)

মো. মোকসুদুজ্জামান (নিবাহী পরিচালক)

মো. শহীদ রেজা (পরিচালক) 

স্বপন কুমার গোস্বামী (পরিচালক)

মো. সালাউদ্দিন তপাদার (অতিরিক্ত পরিচালক) 

মোহাম্মদ জাকির হোসেন (অতিরিক্ত পরিচালক)

মো. মনজুর মোর্শেদ (অতিরিক্ত পরিচালক অব.)



আহ্বায়ক কমিটি

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিটের ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে যারা রয়েছেন তারা হলেন-

মু. আবু বকর সিদ্দিকী (শিপলু) (আহ্বায়ক) 

এম. মাহবুবুর রহমান (সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক)

মো. মোশাররফ হোসেন (যুগ্ম আহ্বায়ক)

মো. শামস তিবরীজ ভুইয়া (যুগ্ম আহ্বায়ক)

শফিউল আযম ফাহিম (যুগ্ম আহ্বায়ক)

মো. হাবিবুর রহমান (যুগ্ম আহ্বায়ক)

মো. আশরাফুল ইসলাম (যুগ্ম আহ্বায়ক)

আসমা বেগম (যুগ্ম আহ্বায়ক)

মো. আলী হোসেন (যুগ্ম আহ্বায়ক)

মো. আল-আমীন মিয়া (সদস্য সচিব)



এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- 

মো. রাজু আহমেদ

নূরে আলম জিকু

মো. গোলাম রাব্বী তানভীর

আবদুল্লাহ আল মামুন

জি এম আপেল মাহমুদ

মাহবুব মোর্শেদ

ওয়াসি আহমেদ ইভান

ইসমাইল হাসান

শাহ মো. নেওয়াজ শরীফ

মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার

মো. আলী আসগর

মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মুন্না

মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন যান

মো. হানিফুল ইসলাম

মো. তানজীল হোসেন পলক

শাকিলা সুলতানা

শারমীন সুলতানা তুষা

সাহেলী নার্গিস

মো. শাহীন আলম

মো. এনামুল হক

ড. তানজিমা বেগম মণি

মো. আব্দুল হালিম

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান

মো. শাহজালাল খান

মো. রেজোয়ানুর রহমান

মো. ওমর ফারুক

শায়মা সিদ্দিকী শর্মী

কেশব চন্দ্র শীল

মো. মামুন-উর-রশিদ

আনাস আরাবী

মাহাতীর মো. আবু রায়হান

মো. মাসুম রানা

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ

মো. এনায়েতউল্লাহ

মো. আলাউদ্দিন

মো. আক্তার হোসেন খান

মো. বাকির ভূঁইয়া

মো. রাজীবুল হাসান

আলফাজ হোসেন

মো. আমীর হোসেন

কাজী নাসিফ মোহাম্মদ

মো. শিফাত-ই- মনজুর


আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও সারজিস আলম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়া, তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।


আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম নিজ নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান। আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টটি দিয়েছেন আজ মঙ্গলবার সকালে। আর গতকাল দিবাগত রাতে পোস্ট দেন সারজিস আলম।


৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। গতকাল রাতে ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি ইতালির একটি পার্কে গেলে হামলা-হেনস্তার শিকার হন। 


পরে বাঁধন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।


আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সহযোদ্ধা ও অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলা, তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি। একটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিকব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের পলাতক নেতা-কর্মীরা এখনো হামলা-সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা পরাজিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির পুরোনো সন্ত্রাসী চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।


জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে বাঁধন সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে বাঁধন তাঁর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তাঁর ওপর হামলা প্রমাণ করে, পরাজিত সন্ত্রাসীশক্তি এখনো প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি।


হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা সহিংসতা চালিয়ে অরাজকতা করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ইতালির মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।


বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র তাঁর পোস্টে লিখেছেন, জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট।


এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাঁর পোস্টে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাঁধনকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি এই দেশের জন্য লড়াই করেছেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন।’


যারা বাঁধনের ওপর হামলা করেছে, তাদের খুনিদের দালাল, বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া এক একটা নরপশু হিসেবে অভিহিত করেছেন সারজিস আলম। এদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু বাঁধনকে আশা না করতে বলেন তিনি।


বাঁধনের উদ্দেশে সারজিস আলম লিখেছেন, ‘আমরা সবাই আপনার সাথে আছি। পুরো বাংলাদেশ আপনার সাথে।’