ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৭ পিএম

দেড় বছর ধরে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ দিনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবারও লন্ডনে ফিরেছেন তিনি। 


আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জামাতার সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এই অভিনেতা। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মিরাজুল মঈন জয়। ৩ আগস্ট চিকিৎসার এক পর্যায়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসার কারণে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে এই ১০ দিনে পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের একটি অনুষ্ঠানে। কাকরাইলে নিসচার কার্যালয়েও যান। বাসায় দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে দেখতে এলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডায়ও মেতে ওঠেন।


লন্ডনে ফেরার আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে গ্রামের মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন। বেলা দুইটার পর ঢাকায় ফেরেন তিনি।


আজ সকালে তাঁর ফ্লাইট ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর বিমানটি ঢাকা ছাড়ে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জয় বলেন, ‘এই কয়েকটা দিন আব্বার দারুণ সময় কেটেছে। তাঁর সহকর্মীরা এসেছেন। মন খুলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এই ব্যাপারগুলো আব্বুকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’


ইলিয়াস কাঞ্চনের বর্তমান চিকিৎসা প্রসঙ্গে জয় জানান, কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। এবার তাঁকে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সবার কাছে আমার আব্বুর জন্য দোয়া চাই।’


ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। 


গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, সেটি ব্রেন ক্যানসার।


অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘ চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি চলে ওরাল থেরাপি। 


পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে ৫ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে। এরপর প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপেও আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নেন তিনি। তিন ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কেমোথেরাপি নিয়েছেন এই অভিনেতা।


দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এদিকে দেড় বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকতে থাকতে দেশে ফেরার জন্য তাঁর মনও টানছিল। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান তিনি। তাঁর সেই ইচ্ছাতেই এবার তাঁকে দেশে আনা হয়।


ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও তা ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। এবার লন্ডনে ফিরে ইমিউনোথেরাপির পরবর্তী ধাপ শুরু হবে তাঁর।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪, সময় : ১২:০০ এএম
  • আপডেট : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম


খান আসিফুর রহমান আগুন। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ জানুয়ারী, ২০২৪, সময় : ১২:০০ এএম

‘নেটদুনিয়ায় সবার জন্য সব কিছু খোলা থাকায় দেশে ভয়ংকর পরিস্থিতি নেমে এসেছে। নীল ছবি বেশি দেখার তালিকায় পৃথিবীর ২০৬টি দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমার দেশ’। দেশের সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ কথা  বলেছেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী খান আসিফুর রহমান আগুন।


তিনি বলেন, ‘মাসে ৭৫ হাজার কোটি টাকার মদ, দেড় হাজার কোটি টাকার সিগারেটে ব্যয় করে এ দেশের মানুষ। এরপরও অনেকে বড় মুখ করে বলেন - আমার দেশ গরিব। এদেশে এমন লোকও আছে যারা ব্র্যান্ড ছাড়া পোশাক কিনেন না। ব্র্যান্ডের পোশাক কেনার পর আবার ঢাকঢোল পিটিয়ে সে কথা জানান সবাইকে। আমার এসব আচরণ একদমই অপছন্দ। আমি মনে করি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো না।’


আগুন আরও বলেন, কিছু মানুষের জন্য সমাজে আরও অনেক অসঙ্গতি দেখা যায়। এক স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশ্বের সবকিছু আজ হাতের মুঠোয়। এটা ভালো দিক। কিন্তু একজন রুচিশীল, শিক্ষিত ওই স্মার্টফোন দিয়ে যা দেখতে বা জানতে চাইবে একজন রুচিহীন বা অশিক্ষিত কেউ কিন্তু তা দেখতে বা জানতে চাইবে না। তারা অশৈল্পিক জিনিসের প্রতিই বেশি ঝুঁকবে। তাই সবার কাছে সব টেকনোলজি খুলে রাখা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।


অনেকটা আফসোস করে আগুন জানান, চলচ্চিত্রে এখন ১৮ প্লাস ক্যাটাগরির সিনেমা মানেও অসঙ্গতি। দেশে শিশুদের ‘আদর্শ লিপি’ বই আর পড়ার চল নেই। তাহলে আদর্শ মানুষ কীভাবে তৈরি হবে?


মিডিয়াতেও উদ্ধত মানুষের অভাব নেই বলে মনে করেন আগুন। তিনি বলেন, এক, দুইটা কাজ হিট হলেই সে ভাব নিয়ে চলতে শুরু করে। মোবাইলে ভারতের শাহরুখ খানের সিনেমা দেখে আর প্রেক্ষাগৃহে তার সিনেমা রিলিজ আটকায়। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সিনেমা আটকাতে চাওয়ার কারণই হলো দেশের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা যে কিছু পারে না, সে গোমর ফাঁস হওয়ার ভয়। এ দোষ তাদের দিয়েও লাভ নেই। সর্বক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় তাদের নামার একটাই কারণ আমি মনে করি। আর তাহলো মুক্ত আকাশ দেখার সৌভাগ্য কখনও হয়নি এদের; আর কখনো হবেও না।


প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমান ও সংগীতশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন দম্পতির একমাত্র ছেলে তিনি। কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন ভালো অভিনেতাও। নিজের পরিবার, ক্যারিয়ার ও অর্থ সম্পত্তি নিয়ে কখনও তাকে অহংকার করতে দেখা যায়নি।


সঙ্গীত শিল্পী খান আসিফুর রহমান আগুন।

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের পুত্র তিনি। খান আসিফুর রহমান। তবে শ্রোতাদের কাছে পরিচিত আগুন নামে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। সালমান শাহ অভিনীত বহু গানে তার কণ্ঠ ছড়িয়ে গিয়েছিল দেশের আনাচে-কানাচে।



তবে গত এক-দেড় দশকে গানে নিয়মিত নন আগুন। ২০২১ সালে ‘শত্রু’ সিনেমায় পাওয়া গিয়েছিল তার গান। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবার সিনেমার গানে ফিরলেন এই শিল্পী।



সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘স্বপ্নের নায়িকা’ সিনেমার টাইটেল গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আগুন। গানটির কথা লিখেছেন নিশাত তাসনিম ও সরয়ার হোসেন। সুর ও সংগীত করেছেন আনোয়ার শিকদার টিটন। গানটিতে আগুনের সঙ্গে দ্বৈত গেয়েছেন তানজিনা রুমা।



টিটন জানান, আগুন দেশের চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের গায়ক। গানটি করার সময়ই তার কথা মাথায় রেখেছিলেন তিনি। পরে সুর-সংগীত সাজানোর পর শিল্পীকে পাঠান, তিনিও পছন্দ করেন। আনন্দ নিয়েই সেরেছেন রেকর্ডিং।



উল্লেখ্য, সালমান শাহ ও মৌসুমীর প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর গান দিয়ে অভিষেক হয় আগুনের। প্রথম সিনেমার গানেই বাজিমাৎ। এরপর আগুন গেয়েছেন ‘দোলা’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দেনমোহর’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘বিচার হবে’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘আম্মাজান’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘হাছন রাজা’, ‘১ টাকার বউ’, ‘আমার আছে জল’সহ অনেক সিনেমায়।


  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ পিএম

রাজনীতি আর সংঘাতের জেরে প্রায় এক দশক ধরে ভারতে গান গাওয়া নিষিদ্ধ পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের। তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন। ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছেন। 


তাই যারা তাকে নিষিদ্ধ করেছিলেন, উল্টো তাদেরই ধন্যবাদ জানিয়েছেন আতিফ। ইউটিউবার ক্রিস ফেড-এর টকশোতে সম্প্রতি উপস্থিত হয়ে নিজের মিউজিক ক্যারিয়ারের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন ‘তেরে বিন’খ্যাত এই গায়ক।




আতিফ আসলাম বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর হতে চলল ভারতে আমার গান গাওয়া নিষিদ্ধ। এটি ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, তারা পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীরা নিষিদ্ধ। তবে এই এক দশকে আমার গান থেমে থাকেনি।’


তার কথায়, ‘ভারতীয় ভক্তরা এখনো ভিপিএন ব্যবহার করে আমার গান শোনেন। তারা সিডি বার্ন করে একে অপরের হাতে পৌঁছে দেন। যদিও আমি পাইরেসি সমর্থন করি না, তবে সত্য এটাই সংগীতের পৌঁছানোর জায়গায় ঠিকই পৌঁছে যায়।’


কাজের জায়গা নিয়ে কোনো আফসোস নেই জানিয়ে আতিফ আরও বলেন, ‘আমি একটা কথা সবসময় বলতে চেয়েছি আমি ভারতীয় ভক্তদের মিস করি, তবে সেখানে কাজ করাটা মিস করি না। প্লেব্যাক থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু যদি এই নিষেধাজ্ঞা না আসত, তবে হয়তো আমি নিজে স্বাধীনভাবে গান তৈরি করতে পারতাম না। নিজেকে নতুনভাবে চেনার এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে সেখানে নিষিদ্ধ করেছিলেন।’


 

বলিউডে ‘আদাত’, ‘ওহ লমহো’, ‘পেহলি নজর মে’, ‘তেরা হোনে লাগা হু’ ও ‘জিনা জিনা’র মতো একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিয়ে কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন আতিফ। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকলেও ডিজিটাল দুনিয়া ও কনসার্ট মঞ্চে তার জনপ্রিয়তা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন এই পাকিস্তানি সংগীত তারকা।


সংগীতশিল্পী হাসান। ছবিঃ ফেসবুক

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত কনসার্ট কিংবদন্তি শিল্পী হাসানের মাথায় বোতল ছুঁড়ে মারায় বিতর্ক বাড়াতে চাইলেন না হাসান। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখতে চান তিনি। তবে আহ্বান করলেন, শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার না করার। 


শুক্রবার দিবাগত রাতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া তার এক পোস্টে হাসান নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘ঘটনাটি আমার কাছে খুবই অপ্রত্যাশিত। দীর্ঘ সংগীতজীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি কখনো হইনি। বহু বছর ধরে বাংলা ব্যান্ড সংগীত করছি। এই সময়ে বিচিত্র অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু মঞ্চে একজন শিল্পীর দিকে বোতল ছুড়ে মারা হতে পারে, এমনটা কখনো দেখিনি বা ভাবিনি। তারপরও আমি বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে চাই। আমি বিশ্বাস করতে চাই, যে এমনটি করেছে, সে হয়তো না বুঝেই করেছে।’


দেশের শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়টি জোর দিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘আমার একটাই অনুরোধ, ভবিষ্যতে আমার দেশের কোনো শিল্পীই যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন। কনসার্টে আসা মানুষের মনে রাখা উচিত, শিল্পীরা এই দেশের, শিল্পীরা সবার। তারা এ দেশের মানুষের জন্যই গান করেন। বিনিময়ে তারা শুধু মানুষের ভালোবাসা চান। কোনো শিল্পীকে এভাবে অসম্মান করা বা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করা উচিত নয়।’


শিল্পীদের দলীয় পরিচয়ে বিচার না করার আকুল আবেদন জানিয়ে আর্ক ব্যান্ডের এই শিল্পী লেখেন, ‘আমাদের দেশে অনেক সময় শিল্পীদের রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হয়, এটা ঠিক নয়। একজন শিল্পী পাঁচ বা দশ বছরের জন্য শিল্পী নন, তিনি আজীবনের জন্যই শিল্পী। বিভিন্ন সময়ে সরকারি, বেসরকারি কিংবা রাজনৈতিক নানা আয়োজনে শিল্পীদের গান গাইতে হয়। তাই বলে তাকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে ফেলে বিচার করা উচিত নয়। শিল্পীরা মানুষকে ভালোবেসে গান শোনান। তাই তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সবার দায়িত্ব।’


হাসানের এই স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে সংগীতাঙ্গনের ছোট-বড় অনেক শিল্পী। তরুণ সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান আক্ষেপ করে মন্তব্যে লেখেন, ‘আমরা এরকমই অশিক্ষিত এবং গন্ড মূর্খ। আমরা গুণীর কদর করতে জানি না ভাইয়া। ক্ষমা করবেন!’ একইভাবে অসংখ্য ভক্ত ও নেটিজেন মন্তব্যে লজ্জিত প্রকাশ করে গুণী এই শিল্পীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।


এই কনসার্টে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর কে বা কারা এটি করেছে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ শ্রোতা থেকে শুরু করে সংগীত ও অভিনয় অঙ্গনের তারকারা এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ফ্রি কনসার্টের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রিন্স মাহমুদ, মীর মাসুম, মিশা সওদাগর, রবি চৌধুরী, লুৎফর হাসান ও তানভীর তারেকের মতো শিল্পীরা ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ পিএম

‘নতুন প্রেমে সোহানা, কে সেই প্রেমিক’-২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল এটি। তখন প্রেমের কথা স্বীকার করলেও প্রেমিকের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি অভিনয়শিল্পী সোহানা সাবা। সেই প্রেম যে শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়িয়েছে, এত দিন পর তা নিজেই জানালেন। সাবার বর্তমান স্বামীর নাম ফয়সাল। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। দেড় বছরের বেশি সময় আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছে।


নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মুরাদ পারভেজের সঙ্গে প্রায় ১০ বছরের সংসার ছিল সোহানা সাবার। সেই সংসারে তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে। 


বিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত জীবনে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়েছেন। এরই মধ্যে পরিচয় হয় ফয়সালের সঙ্গে।


সোহানা সাবা জানান, ফয়সালের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল সাড়ে পাঁচ বছরের। সেই সম্পর্কের পর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিয়ের দিন-তারিখ প্রকাশ করতে চাননি তিনি। শুধু জানিয়েছেন, দেড় বছরের বেশি সময় আগে নিজেদের বাসায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।



স্বামী ফয়সালের সঙ্গে সোহানা সাবা 


বিয়ের পর কেমন কাটছে জীবন, কথা প্রসঙ্গে সোহানা সাবা বলেন, ‘আমার স্বামী, আমরা ভালো আছি। সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক। বিয়ে অনেক আগে হয়েছে। দিন-তারিখ বলতে চাই না। আমার ছেলে অনেক খুশি।’


স্বামীর পরিচয় প্রসঙ্গে শুরুতে নাম প্রকাশ করতে চাননি সাবা। বলেছিলেন, ‘নাম না বলি, পেশায় সে ব্যবসায়ী। সে তাঁর অঙ্গনে বিখ্যাত।’ পরে কথার এক পর্যায়ে স্বামীর নাম ফয়সাল বলে জানান তিনি। তবে এর বেশি কিছু জানাতে চাননি।


ফয়সালের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু ও বিয়ের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সোহানা সাবা। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছে, এই মানুষটার জন্যই অপেক্ষা করেছি এত দিন, প্রথম দেখাতেই। কিন্তু তাকে বা কাউকে সেটা বুঝতে দিইনি। সে-ই আমাকে নক করে ভালোবাসার কথা যখন জানায়, তখন তাকে “হ্যাঁ” বলেছি।’ বিয়ের খবরটি সোহানা সাবার ছেলে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বলে জানান তিনি। মায়ের নতুন জীবনের সঙ্গীকে ছেলে পছন্দ করেছে এবং বিয়ের খবরে সে বেশ খুশিও।


টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সাবা একটা সময় বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়েখ্যাত কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ ছবির শুটিং দিয়ে তাঁর বড় পর্দার জীবন শুরু হয়। তবে মুক্তির দিক দিয়ে মোরশেদুল ইসলামের ‘খেলাঘর’ এগিয়ে ছিল। ‘খেলাঘর’ মুক্তির পরের মাসে মুক্তি পায় ‘আয়না’। 


এরপর একে একে অভিনয় করেছেন ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘বৃহন্নলা’ ও ‘অসম্ভব’ ছবিতে। ভারতে কাজ করেছেন ‘ষড়্‌রিপু’, ‘এপার-ওপার’ এবং আরেকটা নাম ঠিক না হওয়া সিনেমার। আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন সাবা।


সালমান ও শাবনূর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি সালমান শাহ ও শাবনূরকে ঘিরে তিন দশক ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। পর্দায় তাদের দারুণ রসায়নের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা গল্প। বিশেষ করে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না এ প্রশ্ন বারবার সামনে এসেছে। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।


সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী। তার দাবি, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই দেখতেন সালমান।


নীলা চৌধুরী জানান, শাবনূর সালমানের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং সালমানও তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। সালমানের কোনো বোন না থাকায় শাবনূরকে তিনি বোনের মতো স্নেহ করতেন। তবে শাবনূরকে নিয়ে কিছু অভিযোগও করেছেন সালমানের মা। তার দাবি, শাবনূর কখনো কখনো সালমানের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে এমন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করতেন। পরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গল্প ছড়িয়ে পড়ে।


অন্যদিকে শাবনূর বরাবরই এসব প্রেমের গুঞ্জন অস্বীকার করে এসেছেন। তার বক্তব্য, সালমানকে তিনি কখনো প্রেমিক হিসেবে দেখেননি, বরং ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন। তার মতে, কিছু মানুষ ও গণমাধ্যম তাদের বন্ধুত্বকে ঘিরে মুখরোচক গল্প তৈরি করেছে।


প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমায় শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সালমান শাহ। সেই সিনেমার পর বাংলা চলচ্চিত্রে তুমুল জনপ্রিয়তা পায় সালমান–শাবনূর জুটি। 


মাত্র চার বছরের অভিনয়জীবনে সালমান অভিনয় করেন ২৭টি সিনেমায়, এর মধ্যে ১৪টিতে তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর।


‘তুমি আমার’ দিয়ে সালমান-শাবনূর জুটির শুরু। পরে একে একে অভিনয় করেন ‘সুজন সখী’, ‘বিচার হবে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’সহ ১৪টি সিনেমায়। তাদের জুটির অধিকাংশ সিনেমাই পায় ব্যবসায়িক সাফল্য। পর্দার এই জুটির সম্পর্ক নিয়ে শাবনূর বলেন, কাজ করতে গিয়েই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল।


তার মতে, ‘সালমান অনেক বড় মনের মানুষ। বয়সে বড় সবাইকে সে যথেষ্ট সম্মান করত। কোনো অহংকার তার মধ্যে ছিল না। অনেক বেশি ভালো ছিল। সহশিল্পীদের সবার প্রতি খুব আন্তরিক আর কাজপাগল একটা ছেলে ছিল। আমাদের দুজনের বোঝাপড়াটা ছিল চমৎকার। বলতে পারেন, একে অন্যের চোখের ইশারা বুঝতে পারতাম।’


শুধু সালমানের সঙ্গে নয়, তার স্ত্রী সামিরার সঙ্গেও শাবনূরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল বলে জানিয়েছেন এই চিত্রনায়িকা। তার মতে, শুটিংয়ের সময় সামিরা প্রায়ই তাদের সঙ্গে থাকতেন। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া, আড্ডা-সব মিলিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও একটা সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে জানান শাবনূর।


সালমানের সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শাবনূর আরও বলেন, তারা শুটিংয়ের ফাঁকে আনন্দ-আড্ডায় মেতে থাকতেন। কক্সবাজারে শুটিংয়ের সময় রাতে সাগরপাড়ে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের আয়োজনও হতো। সেখানে দুই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সহশিল্পী ও পরিচালকও থাকতেন।


সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর তিন দশকে এসেও আলোচনা কমেনি। সালমানের মৃত্যু, ব্যক্তিজীবন এবং সহশিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা সময়ে নানা বক্তব্য সামনে এসেছে। 


এর মধ্যে সালমান-শাবনূরের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টিও বারবার আলোচনায় ছিল। শাবনূর যেখানে বরাবরই তাদের সম্পর্ককে ভাই-বোনের বলে দাবি করে এসেছেন, সেখানে এবার সালমানের মা নীলা চৌধুরীও জানান-ছেলের সঙ্গে শাবনূরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।