আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম
লন্ডনের রাস্তায় এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম। সুদানে চলমান যুদ্ধে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে তাকে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, লন্ডনের নাইটসব্রিজ এলাকায় মাকতুম ও তার সঙ্গীদের পথ আটকে এক সুদানি নাগরিক চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
রাস্তার অন্য পাশ থেকে ওই সুদানি নাগরিক চিৎকার করে বলেন, আমিরাত সুদানের সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। তার দেশে রক্তপাত বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
এ সময় মাকতুমের সফরসঙ্গী এক ব্যক্তি ওই সুদানি নাগরিকের দিকে তেড়ে যান এবং বর্ণবাদী গালিগালাজ করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই ব্যক্তি রাস্তা পার হয়ে সরাসরি প্রতিবাদকারীর মুখোমুখি হন।
এ সময় সুদান সংকটের জন্য আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করা হয়।
সুদান সংঘাতে আমিরাতের ভূমিকা
সংযুক্ত আরব আমিরাত বরাবরই সুদান সংঘাতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানায়, আমিরাত সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সহায়তা করছে।
লিবিয়া, চাদ এবং সোমালিল্যান্ডের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহের বড় প্রমাণও রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে সুদানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।
লন্ডনে আমিরাতের শীর্ষ নেতারা
এর আগে আমিরাতি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, লন্ডনের জুমেহিরা কার্লটন টাওয়ার হোটেলে মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও মাকতুমের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। দুই নেতার এই সাক্ষাৎকে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। তবে ঠিক সেই সময়ই লন্ডনের রাজপথে এই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন দুবাইয়ের শাসক।
দুবাইয়ের এই শাসকের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা বিতর্ক রয়েছে। ব্রিটিশ আদালত অতীতে তার দুই কন্যাকে বন্দি রাখা এবং সাবেক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়ার ফোন হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তাকে দায়ী করেছিল।
কলম্বিয়াতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
কলম্বিয়াতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে মৃতের সংখ্যা সংখ্যা বেড়ে ১৬৪-এ দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ৫৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। কলম্বিয়ার সরকার তাদের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গতকাল সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে এ দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনবিরল প্রদেশ চোকোর সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থল থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে হলেও রাজধানী বোগোটা পর্যন্ত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
ভূমিকম্পের মাত্র কয়েকদিন আগেই গত শুক্রবার দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার সরকারের প্রথম বড় ধরনের সংকট। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রাজধানী বোগোটায় জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার সমন্বিত কমান্ড পোস্ট থেকে তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রও কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বোগোটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কালি শহরে অন্তত ২৫টি ভবন ধসে পড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিসারালদা প্রদেশে ৬০ জন, ভায়েই দেল কাওকা প্রদেশে ২৭ থেকে ৩৫ জন, চোকো প্রদেশে ৯ জন, মানিসালেস শহরে ৩ জন, কালদাস অঞ্চলে ২ এবং অ্যানতিওকিয়া প্রদেশে ১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য স্থানের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার তাচিরা রাজ্য ও বারকিসিমেতো শহরের বাসিন্দারা কম্পন অনুভব করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে।
মোহসেন রেজাইকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা এসএনএসসির নতুন সচিব করা হয়েছে
ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে দেশটির শীর্ষ সামরিক পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) নতুন সচিব করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কার্যালয় নতুন নিয়োগের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে আলী আবদোল্লাহিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ করা হয়েছে। আলী ওজমাইকে আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রধান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিকে আইআরজিসির নতুন প্রধান করা হয়েছে। ওয়াহিদি মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় আইআরজিসির নেতৃত্ব দেবেন।
আহমাদ ওয়াহিদি নিহত মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শুরুর দিকে পাকপুর নিহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই তিন পদের কর্মকর্তাদের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এই রদবদলের পাশাপাশি মোহসেন রেজাইকে এসএনএসসির সচিব এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি করা হয়েছে। ৭১ বছর বয়সী রেজাই প্রায় ১৬ বছর আইআরজিসির প্রধান ছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও তিনি বাহিনীটির নেতৃত্ব দেন। পরে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। চলমান সংঘাতের সময় তিনি আবার সামরিক ভূমিকায় ফিরে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হন।
ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতিতে এসএনএসসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই পরিষদে প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা থাকেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তে এই পরিষদ সমন্বয় করে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেন, "রেজাইয়ের দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা এবং আইআরজিসির ভেতরে তার প্রভাব রয়েছে। তার নিয়োগের মাধ্যমে সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদার এবং সংগঠনের ওপর নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। হরমুজ প্রণালি নিয়েও তিনি ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সম্প্রতি তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তার আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন কোনো করিডর চালুর বিরোধিতা করেন তিনি।
রেজাইয়ের আগে এসএনএসসির সচিব ছিলেন মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর। তিনি পদ ছাড়ার পর তাকে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত নূরনিউজ বলেছে, রেজাইয়ের নিয়োগ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোয় বৃহত্তর কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। এ অভিযানের ফলে আরও হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনের বিশেষ সুবিধাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত একটি তথ্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের বড় কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংস উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকি।
গত বছর ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নজিরবিহীনসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাঁদের অনেকের কাছে বৈধ ভিসাও ছিল। এখন ব্যাপক হারে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে ওই অভিযানের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দপ্তরের ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ভিসাগুলো বাতিল করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে ভিসাধারীরা তাঁদের ভিসার শর্ত মেনে চলছেন এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে উঠছেন না।
হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ছিল ভিসা বাতিল হওয়ার প্রধান কারণগুলোর কয়েকটি।
পররাষ্ট্র দপ্তর যেসব নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে, এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য একজনের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার এক ডজনের বেশি অভিযোগ রয়েছে।
দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিস্ট’ হিসেবে আসা বাবা-মায়েদের। অভিযোগ, এসব মা-বাবা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য দেশটিতে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চার্লি কার্ককে হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কিছু বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের একজন বলেছিলেন, ‘ফ্যাসিস্টরা মারা গেলে গণতন্ত্রপন্থীরা অভিযোগ করে না।’
আরেকজন বলেছিলেন, ‘তিনি দেরিতে মারা গেছেন।’ জনপ্রিয় রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ককে গত বছর হত্যা করা হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করা বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তাঁদের ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রাখবে।
দপ্তর আরও বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ ভিসার এই সুযোগের অপব্যবহারকারীদের ভিসা বাতিল করতে বিদ্যমান সব ধরনের ক্ষমতার ব্যবহার অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দপ্তর।
গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, তারা এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। সে সময় এটিই ছিল রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা।
এদিকে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনকারীদের যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
অধিকারকর্মী ও মানবাধিকারবিশেষজ্ঞরা ট্রাম্প প্রশাসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের এ উদ্যোগের নিন্দা করেছেন। তাঁদের মতে, এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। একই সঙ্গে এটি নজরদারি ও অভিবাসীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার মতো ঘটনা।
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: সংগৃহীত
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন অনেকে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আতঙ্কে বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সংস্থ্যাটি জানিয়েছে, সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন বড় শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে। কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এ অঞ্চলের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
কলম্বিয়ার অন্যতম বড় শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের মধ্যে ১০টিতে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ক্যালিতে এখনো প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেওয়া ক্যালির স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও বলেন, ‘ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। শব্দটি বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা প্রতিবেশীরা সবাই মিলে কাজ করছি। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছি। আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।’
এদিকে রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি ভবনের ফাটল ধরা সম্মুখভাগ ধসে পড়তে দেখা গেছে। এতে চারপাশে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের মেঘ তৈরি হয়। রাস্তায় থাকা মানুষ আতঙ্কে ছুটে পালান।
ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের টাওয়ারগুলোর একটিও ভূমিকম্পের আঘাতে ধসে পড়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের প্রদেশ চোকোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি, বহু মানুষ আহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের পরাঘাত বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পরই এ শক্তিশালী ভূমিকম্পে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে তার প্রশাসন। এর আগে গত জুনে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিল।
সূত্র: এপি, রয়টার্স
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে আরও ৫০ হাজার সেনা দিতে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এরই মধ্যে দেশটি রাশিয়াকে হাজার হাজার সেনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
জেলেনস্কি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সেনারা রাশিয়ার সঙ্গে থেকে আধুনিক যুদ্ধে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। গত জুলাইয়ে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়ায় প্রায় ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট ইতোমধ্যে পশ্চিম রাশিয়ায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো শুরু করেছে। ইউনিটটিতে ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রায় ১৪ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানো হয়েছিল। উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ কামানের গোলা, মর্টারের গোলা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবস্থাও দিয়েছে বলে ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন সূত্রের দাবি।
এদিকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে এ ক্ষেত্রে সহায়তা চেয়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ‘হেরে গেছে’ যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সিনেটর
অন্যদিকে তুরস্কের কাছ থেকে ইউক্রেন ৭০টি মার্কিন তৈরি এটিএসিএমএস স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে বলে মার্কিন কংগ্রেসের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তুরস্ক ইউক্রেনকে ৪৭ হাজার কামানের গোলা, ১২টি এম২৭০ রকেট লঞ্চার এবং ২ হাজারের বেশি ক্লাস্টার বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের খারকিভে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে দুইজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওদেসায় রুশ হামলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বন্দর ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাভলোহরাদেও হামলায় চার শিশুসহ নয়জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বেলগোরোদ অঞ্চলে পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্টেশনে ইউক্রেনের হামলাকে রুশ হামলার জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে ডব্লিউএইচওর চিকিৎসা সরঞ্জামের একটি গুদাম রুশ হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তিনি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় কয়েকটি বাণিজ্যিক স্থাপনা ও একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি টার্মিনাল রয়েছে, যেখান থেকে কাজাখস্তানের তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।
আরেক ঘটনায় ইউক্রেনের একটি ড্রোন ভুল করে বুলগেরিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সীমান্ত পার হওয়ার পর ড্রোনটি একটি আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপলাইনের কাছে বিস্ফোরিত হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি। বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে সম্ভবত দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে। ইউক্রেনও বলেছে, বুলগেরিয়াকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়নি।
এদিকে ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে মলদোভাতেও পৌঁছেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি যুদ্ধ ড্রোনের অংশ পাওয়া গেছে এবং বিস্ফোরণে আগুন লাগলেও কেউ আহত হয়নি।
শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তার মতে, রাশিয়া শীতকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তাই মিত্র দেশগুলোকে ইউক্রেনকে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে পোপ লিও ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে নিরপরাধ মানুষ, এমনকি শিশুরাও নিহত ও আহত হচ্ছে। দুই পক্ষকেই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। জাতিসংঘের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনে ১৬ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হেরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ততই দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাচ্ছে।
রোববার (৯ আগস্ট) এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারফি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে, ইরান শক্তিশালী হচ্ছে।’ যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দেন তিনি। এমনকি চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব ভালো না হলেও যুদ্ধ শেষ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার স্বার্থে সেটি মেনে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
মারফির মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও দুর্বল হবে, ইরান আরও শক্তিশালী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকে এর মূল্য দিতে হবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় চালু করতে ইরান ক্ষতিপূরণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন টাইমস।
মারফি জানান, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দের পক্ষে তিনি ভোট দেবেন না। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত আবার পূরণ করার জন্য অর্থ দেওয়ার পক্ষে তিনি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি