ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০১ পিএম

মানুষের শারীরিক ও আসল বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একই বছরে জন্ম নিয়েও দুই ব্যক্তির শরীরে বয়সের ছাপ একই গতিতে নাও আসতে পারে। 


কারও কারও ক্ষেত্রে আবার আসল বয়সের চেয়ে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে, যা ইঙ্গিত দেয় অসুস্থতার ঝুঁকির। এই শারীরিক বয়সের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় রক্তচাপ, ফুসফুসের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে।


নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা জাদুঘরে ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো শারীরিক বয়স প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, এটি বয়স্কদের মধ্যে কমিয়ে দিতে পারে বয়সের ছাপ পড়ার গতি। যুক্তরাজ্যে হওয়া এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সেও যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে ও জাদুঘরে ঘুরতে যান, আর যারা যান না– এই দুইয়ের শারীরিক বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।  


‘মেজারিং কালচারাল হ্যাবিটস এগেইনস্ট বায়োলজিক্যাল এজ’ শীর্ষক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের শরীরের বয়স কম রাখতে সহায়তা করতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ পুরুষ। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার হাজার দুইশ সাতটি জরিপ করা হয় এ গবেষণার স্বার্থে। 


স্টাডি ফাইন্ডসের প্রতিবেদন বলছে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিমাপ করতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত দিন পরপর সিনেমা দেখতে যান, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারিতে যান, অথবা মঞ্চনাটক দেখেন। উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘কখনও না’, কেউ বলেছেন, ‘মাসে দুইবার’। কেউ আবার জানিয়েছেন, মাসে দুইবারের চেয়েও বেশি। 


সেসব উত্তরের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের শূন্য থেকে ১৫ পর্যন্ত নম্বর দেন। গড়ে অংশগ্রহণকারীরা ৪ দশমিক ৩ নম্বর করে পান। যারা কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের নম্বর আসে গড়ে ৭ দশমিক ৩। অন্যদিকে যারা বছরে একবার বা তার চেয়েও কম জাদুঘরে বা সিনেমা দেখতে গেছেন, তারা পান গড়ে ২ দশমিক ৩ নম্বর। সবাইকে শারীরিক বয়সের ভিত্তিতেও বিচার করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার আসল গড় বয়স ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, শারীরিক বয়সের গড় ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে বা জাদুঘরে ঘুরতে যান, তাদের গড় শারীরিক বয়স তিন বছর কম এসেছে অন্যদের তুলনায়। 


বিষয়টি কাকতালীয় কিনা, তা নির্ণয় করতে গবেষকরা পৃথক একটি বিশ্লেষণ করেন এক হাজার ৬৫২ জনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। তাদের ঘুরতে যাওয়া ও শারীরিক বয়সের তথ্য চার বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়। পরে দেখা যায়, যারা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছিলেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় ০ দশমিক ০৮৯ বছর কম এসেছে।


তবে এই গবেষণাটি শুধু যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকরা জানান, ভিন্ন দেশ বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে এর ফলাফলে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া গবেষণাটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, এতে শুধু সিনেমা, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারির মতো ভেন্যুতে যাওয়ার বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে, অন্য ধরনগুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। তবে খাওয়া ও ব্যায়ামের পাশপাশি ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টিও যে বয়স্কদের ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরেছে গবেষণাটি।




পাকিস্তান সীমান্তঘেঁষা খুনজেরাব পাসের কাছে তুষারের মধ্যে সামরিক মহড়া চালাচ্ছেন সৈন্যরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ এএম

হিমালয়ের একটি বিতর্কিত অংশে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যকার সীমানাকে বহু দশক ধরে স্বীকৃতি দেয়নি ভারত। নয়াদিল্লি হিমালয়ের এ দুর্গম অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। তবে গত সপ্তাহে একটি চুক্তির মাধ্যমে ওই দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের একটি অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে সীমানা চূড়ান্ত করেছে পাকিস্তান ও চীন। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।



পাকিস্তান ও চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন গঠনসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেছে। পাকিস্তান বলেছে, এটি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’। এর মাধ্যমে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুটির সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়বে। তবে ভারত এই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করা একটি অঞ্চলকে ভারত পাকিস্তান ও চীনের মধ্যকার সীমান্ত বলে স্বীকৃতি দেয়নি। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে এ ঘোষণা বিশেষভাবে সংবেদনশীল একটি সময়ে এসেছে।



বছরের পর বছর সামরিক উত্তেজনার পর এশিয়ার দুই প্রভাবশালী প্রতিবেশী ভারত ও চীন এখন নিজেদের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দুই দেশের হিমালয় সীমান্তের বড় একটি অংশে সেনাদের অবস্থান আলাদা করে রেখেছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি। বিতর্কিত সেই সীমান্ত নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে। একই সময়ে সীমান্তের আরেকটি অংশে চীন ও পাকিস্তান সহযোগিতা জোরদার করছে। ওই অংশের ভূখণ্ডও ভারত নিজেদের বলে দাবি করে।



ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা তথাকথিত যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান করছি। এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’ এই যৌথ কমিশন মূলত পাকিস্তান–চীন সীমান্ত নিয়ে কাজ করবে। এর আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত শাকসগাম উপত্যকা। ১৯৬৩ সালে প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপত্যকাটি চীনের কাছে হস্তান্তর করে পাকিস্তান। তবে ভারত এটিকে দেশটির লাদাখ অঞ্চলের অংশ বলে দাবি করে।



ভারত বলছে, শাকসগাম উপত্যকা ছিল তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অংশ। পাকিস্তান ওই ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করার পর একটি চুক্তির মাধ্যমে সেটি চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত কখনো ওই চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। এটিকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে নয়াদিল্লি। এ ইতিহাসই ১৬ সেপ্টেম্বরের ঘোষণাটিকে ঘিরে বিশেষ সংবেদনশীলতার কারণ ব্যাখ্যা করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘অবৈধভাবে ও জোর করে দখল করে রাখা’ ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে কোনো ধরনের চুক্তি সই করার আইনি এখতিয়ার পাকিস্তানের নেই।



অন্যদিকে পাকিস্তান বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড। তাই ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে করা সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার ভারতের নেই। পাকিস্তান ওই চুক্তিকে বৈধ বলে মনে করে।




কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা 

দিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকব বলেন, এ উদ্যোগ পুরোপুরি নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়; বরং পুরোনো একটি ব্যবস্থাকে আবার চালু করা হয়েছে। টি জ্যাকব বিবিসিকে বলেন, ১৯৬৩ সালের চীন–পাকিস্তান চুক্তিতেই যৌথ সীমান্ত কমিশনের কথা বলা হয়েছিল। এখানে প্রশ্ন হলো, এখন কেন এটি চালু করা হলো।



বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জ্যাকব নিজেই বলেন, এ সময়ে কমিশন চালুর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে চীনের সীমান্তগুলো চিহ্নিত করার বৃহত্তর উদ্যোগ এবং সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা। বিশেষ করে পাকিস্তানের অন্য সীমান্তগুলোয় যখন সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তখন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জ্যাকব আরও বলেন, এ ঘটনায় ভারতের ‘উদ্বিগ্ন’ হওয়াই উচিত। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ১৯৬৩ সালের মূল চুক্তির একটি নির্দিষ্ট বিধান বা শর্তকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।



তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছিল, কাশ্মীর বিরোধের সমাধান হলে যে দেশ ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবে, তার সঙ্গে চুক্তিটি নিয়ে আবারও আলোচনা করতে হবে। এই অধ্যাপকের মতে, আন্তর্জাতিক তথ্য ও সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও ভারতের সমস্যা রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে চীন অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, যা দিল্লির কূটনৈতিক লড়াইকে কঠিন করে তুলছে।



যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমি অ্যান্ড হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো হুসেইন হাক্কানি বলেন, নতুন এ কমিশন একই সঙ্গে বাস্তবসম্মত ও রাজনৈতিক। তিনি বলেন, ‘এটি সীমান্ত ও সীমানা–সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানো, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার ঠেকানো এবং সিপিইসি–সংশ্লিষ্ট কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষার একটি ব্যবস্থা।’ এর মাধ্যমে ভারতকেও একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেটি হলো, কাশ্মীর ইস্যুকে বেইজিং এখনো পাকিস্তানের চোখ দিয়েই দেখে।



হাক্কানি বলেন, ‘চীন কখনোই কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের অবস্থান মেনে নেয়নি। চীন গিলগিট–বালতিস্তানকে ভারতের নয়, পাকিস্তানের চোখ দিয়ে দেখে।’এখানে হাক্কানি পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ওই অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেছেন, যার সঙ্গে চীনের সীমান্ত রয়েছে এবং যেটিকে ভারত নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।



তিনি বলেন, ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের অবস্থানও বদলেছে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান এখনো মনে করে, জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত মর্যাদা নির্ধারিত হয়নি। তবে ভারত যেহেতু কাশ্মীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অংশে অভ্যন্তরীণ কিছু পরিবর্তন এনেছে, যেমন ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে। তাই ১৯৬৩ সাল থেকে চীনের সঙ্গে যে বিষয়টি কার্যত চালু আছে, সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাকিস্তানের কোনো আপত্তি নেই।’



বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে, এ ব্যবস্থা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ভারতকে ঘিরে নিজেদের অবস্থান সামলানো ও তা জানানোর বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। হাক্কানি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করার বিষয়টি বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ‘কৌশলগত দিক থেকে এটি পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও গভীর করে। আর ভূ–কৌশলগত দিক থেকে এটি ভারতের জন্য চীন ও পাকিস্তান—দুই দিক থেকে হুমকির আশঙ্কা আরও জোরালো করে। এতে পাকিস্তান সন্তুষ্ট হয় এবং চীনও লাভবান হয়।’



নতুন এই চুক্তির ঘোষণা যে সময়ে এলো, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হাক্কানি বলেন, ‘চীন সব সময়ই কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর আগেই কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, সেই পরিকল্পনা করে ফেলে। তাই যৌথ সীমান্ত কমিশনকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই বেশ কিছুদিন আগেই নেওয়া হয়েছিল।’



চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লি সফর করেছেন। এর পরপরই চুক্তির খবর প্রকাশ করার মাধ্যমে পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বহুপক্ষীয় যোগাযোগ বাড়লেও দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।



জ্যাকব সতর্ক করে বলেন, এ ঘটনাকে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) এর কোনো তাৎক্ষণিক বা স্পষ্ট প্রভাব নেই।’ এ থেকে বোঝা যায়, গত সপ্তাহের ঘোষণার গুরুত্ব হিমালয়ের বিতর্কিত সীমান্তে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের চেয়ে বরং ভারত যেসব ব্যবস্থাকে বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্যেই বেশি নিহিত।



জয়সোয়াল বলেন, এ নিয়ে ভারতের অবস্থান ‘স্পষ্ট ও অভিন্ন’। দিল্লি যেটিকে ভারতীয় ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ দখল বলে মনে করে, তাকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। এর ফলে ওই ভূখণ্ডের ওপর ভারতের সার্বভৌমত্বের দাবির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে হাক্কানি মনে করেন, এ বিরোধ শুধু সীমান্তের আইনি বিষয় নিয়ে নয়। কারণ, সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে ভারত ও চীনের মূল বিরোধটি শুধু মানচিত্রগত নয়; বরং ভূ–কৌশলগত। তাই সীমান্ত নিয়ে আলোচনা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।



তিনি বলেন, পাকিস্তান এখনো ‘ভারতের বিরুদ্ধে চীনের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিরোধব্যবস্থা’ হিসেবে কাজ করছে। আর ইসলামাবাদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক দিল্লির কাছে সেই বার্তা দিয়ে যাবে।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আজ বুধবার ভাষণ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম

‘ইরান কূটনীতির দরজা খোলা রাখতে প্রস্তুত। তবে কোনো চাপের মুখে মাথা নত করবে। ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়।’ বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া ভাষণে দৃঢ়কণ্ঠে এ ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়।


বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে পেজেশকিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ আরও বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকি বাড়ানো হলেও ইরানের জনগণ কখনো মাথা নত করবে না। আমরা কখনো মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না।


ইরান সংলাপ ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, তবে কোনো ধরনের ‘শক্তির ভাষা’ মেনে নেবে না তার দেশ। তিনি বলেন, ‘তারা বুঝেছে যে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যায় না।’ তিনি মন্তব্য করেন—ইরান কখনো আগ্রাসী দেশ ছিল না, কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং সবসময় আলোচনার টেবিলে বসার ব্যাপারে নিজেদের প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে।


ব্ক্তব্যের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের আগের দিনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ট্রাম্প ইরানকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছি।’


ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকিও দেন তিনি।


ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ছবি তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর প্রথম দিন তেহরানে তাঁর কম্পাউন্ডে বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। এরপর তিনি হামলায় নিহত শিশুদের ছবিও দেখান।


ইরান নিয়ে জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী মিশন চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় সামরিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার ‘যুক্তিসংগত ভিত্তি’ রয়েছে এবং এসব হামলা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।


পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের প্রয়োজন পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, পারমাণবিক বোমা নয়। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ইরানের অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহ করে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে।





ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বা সিক্রেট সার্ভিস। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।


ইরানের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি দেশটির প্রতিনিধি দলের অন্য কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা শাখার গোয়েন্দারা। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।


পেজেশকিয়ান ও ইরানের প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তায় নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের অন্যান্য সদস্য এবং মহাসড়ক পুলিশের গাড়িবহরও থাকবে।


জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ইরান কয়েক দশক ধরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও তার পূর্বসূরি ইব্রাহিম রাইসি।


তবে এবারের অধিবেশনে ইরানের উপস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কারণ ইরানের প্রতিনিধি দল এমন একটি দেশের মাটিতে অবস্থান করছে, যার সঙ্গে দেশটির যুদ্ধ এখনো চলছে।


এ অবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই করা হচ্ছে।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা অংশ নিচ্ছেন। অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তর। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বসেছে। প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৭ মিনিটের ভাষণে ইরান যুদ্ধ, গ্রিনল্যান্ড, জলবায়ু পরিবর্তন, ওয়াশিংটনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশ্বশান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেন।


বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণটি গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম বিস্ফোরক ছিল। তবে এবারও তিনি নানা বিষয়ে ‘মিথ্যা’ বলেছেন। আসুন, সেসব বিষয়ে জেনে নিই—


যুদ্ধ বন্ধের দাবি


ট্রাম্প অনেক আগে থেকেই আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি করে আসছেন। দাবিটি পুনর্ব্যক্ত করে ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি যুদ্ধ বন্ধ করতে পেরেছি। এটা আমার জন্য বড় সম্মানের।’


এ আটটি যুদ্ধ ও সংঘাত হলো কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান, ফিলিস্তিনের গাজা, ইসরায়েল ও ইরান এবং মিসর ও ইথিওপিয়া।


তবে ট্রাম্পের বলা এ ‘আটটি যুদ্ধের’ সংখ্যা স্পষ্টতই অতিরঞ্জিত। কেননা, ট্রাম্পের তালিকায় এমন দুটি ঘটনা আছে, যেগুলো তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার সময় আদৌ ‘যুদ্ধ’ ছিল না। মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে বিরোধটি ছিল একটি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ।


সার্বিয়া ও কসোভোর পরিস্থিতিও যুদ্ধ ছিল না। সেখানে কী ধরনের যুদ্ধ ট্রাম্প বন্ধ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মধ্যে যুদ্ধ শেষ হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সেখানে একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে। সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।


গাজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে প্রশ্ন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সেখানে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েল এখনো উপত্যকাটিতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।


গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের সঙ্গে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়েছে।


বৈশ্বিক উষ্ণায়ন


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এক সময় মানুষকে আক্রমণ করতে পারে বা হত্যা করতে পারে—এ সতর্কবার্তা নিয়ে ভাষণে ঠাট্টা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, এসব সতর্কতা দিচ্ছেন ‘সেই একই লোকেরা’, যাঁরা বলেছিলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১২ বছরের মধ্যে সবাই মারা যাবে।


ট্রাম্প দাবি করেন, পরে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন শব্দটি বদলে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ বা জলবায়ু পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণ, পৃথিবী নাকি উষ্ণ হওয়ার বদলে ঠান্ডা হচ্ছিল। আর এ কারণে কেউ মারাও যায়নি।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে অন্তত চারটি ‘ভুল’ আছে। প্রথমত, ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ শব্দটি এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শব্দটিও প্রচলিত। দুটি শব্দের অর্থ এক নয়। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা দুটি শব্দই ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বোঝাতে তাঁরা ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বলেন। আর এর ফলে পৃথিবীতে যে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলো বোঝাতে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শব্দটি ব্যবহার করেন।


দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প কোন সময়ের কথা বলেছেন, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে পৃথিবী ঠান্ডা হচ্ছে, এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই; বরং পৃথিবী আরও উষ্ণ হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) গত জানুয়ারিতে জানায়, রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে উষ্ণ ১১ বছর হলো সর্বশেষ ১১ বছর। এর মধ্যে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ ছিল সবচেয়ে উষ্ণ তিনটি বছর।


তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘কেউ মারা যায়নি’—এমন দাবির সঙ্গেও বিশেষজ্ঞরা একমত নন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঠিক কত মানুষ মারা গেছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন হিসাবে এ সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।


চতুর্থত, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১২ বছরের মধ্যে আমরা সবাই মারা যাব’-জলবায়ু বিজ্ঞানীদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়নি। ২০১৮ সালে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পৃথিবীর উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে হলে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে। এ সীমা অতিক্রম করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন।


বিনিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি


ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ‘পুরো বিশ্ব থেকে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আমরা নিশ্চিত করেছি।’ এ দাবির স্পষ্ট কোনো ভিত্তি নেই। এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব দিতে পারেনি হোয়াইট হাউস।


ট্রাম্পের ভাষণের সময় হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে ১১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের। ট্রাম্পের বলা ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির তুলনায় এ অঙ্ক বেশ কম।


২০২৫ সালে সিএনএনের এক বিশদ পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউসের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকায় কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের অস্পষ্ট বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ধরা হয়েছে।


মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে ঘাটতি


ইরানের সঙ্গে টানা যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে টান পড়েছে, এমন দাবির কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই।


ট্রাম্প বলেন, ‘কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতকেরা বলতে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে গেছে, তা সত্য নয়। আমাদের কাছে এত বেশি অস্ত্র আছে, তা কখনো ব্যবহার করার কথাও ভাবতে পারি না। আমরা এমন মাত্রায় অস্ত্র তৈরি করছি, যা আগে কখনো করিনি।’


মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে ঠিক কত অস্ত্র আছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, হয়ও না। তাই ট্রাম্পের দাবি পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব নয়। ‘কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতক’ বলতে ট্রাম্প কাদের বোঝাচ্ছেন, সেটিও স্পষ্ট নয়।


তবে শুধু সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) ওপর নজরদারি করা সরকারি পরিদর্শক সংস্থা এবং নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অস্ত্রের মজুত কমে গেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তবে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের ‘উল্লেখযোগ্য সময়’ লাগবে।


পেন্টাগন বরাবর বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো ঘাটতি নেই। গত সপ্তাহেও একই দাবি করা হয়েছে।


ওয়াশিংটনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি


যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধ কমার হার নিয়েও বাড়িয়ে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, গত বছরের ২০ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাজধানী ওয়াশিংটন অপরাধে জর্জরিত ছিল। এখন সেখানে অপরাধ ৮৭ শতাংশ কমেছে। তাঁরা শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।


ট্রাম্পের বলা ‘৮৭ শতাংশ’ অপরাধ কমার হার সঠিক নয়।


ওয়াশিংটনের পুলিশ গত সোমবার পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। ট্রাম্প যে ৮০ শতাংশের বেশি কমার দাবি বারবার করছেন, তার সঙ্গে এ হিসাবের মিল নেই।


ওয়াশিংটন পোস্টে গত আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে অপরাধ ‘৮১, ৮৮ বা ৯২ শতাংশ’ কমেছে, ট্রাম্পের এমন দাবির পক্ষে কোনো তথ্য দিতে পারেনি হোয়াইট হাউস।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৮ পিএম

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। 


গত জানুয়ারিতে এক অভিযানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বৈঠক।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্পের আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রদ্রিগেজের সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম সফর। আজ বুধবার বিকেলে সাধারণ পরিষদে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।


ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দেশটির অর্থনীতি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট, তেলমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলাকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় বা উপযুক্ত হিসেবে তুলে ধরা। প্রতিনিধি দলটি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও ঋণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।


হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রদ্রিগেজের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং প্রেসিডেন্টের সহকারী ও নীতি-বিষয়ক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার।


মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রদ্রিগেজের সঙ্গে ট্রাম্প একটি কর্ম-সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, ওয়াশিংটন মারিয়া করিনা মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী পক্ষকে পাশ কাটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে তেল ও বিনিয়োগ চুক্তিকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং অবাধ নির্বাচনের দাবি থেকে সরে এসেছে। নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে ভেনেজুয়েলার একদল মানুষ বিক্ষোভ করেন।


গতকাল মঙ্গলবার সকালে সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প মাদুরোকে একজন ‘আইন-বহির্ভূত স্বৈরশাসক’ হিসেবে অভিহিত করেন। 


তিনি বলেন, মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর থেকে শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এই অভিযানকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র তার ‘অতুলনীয় সামরিক শক্তি’ প্রয়োগ করবে।


‘বিজয়ীই সব সম্পদের মালিক হয়’- মন্তব্য করে ট্রাম্প গত মাসে কারাকাসের সঙ্গে তার প্রশাসনের স্বাক্ষরিত একটি তেল চুক্তিকে ‘সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে বড় চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। 


তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসুক- এমনটাই তিনি চান।


সূত্রমতে, গত সোমবার একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে নিউইয়র্কে পৌঁছান রদ্রিগেজ। প্রতিনিধি দলটি মার্কিন কর্মকর্তা, বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থা এবং বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রধান ভেনেজুয়েলার জন্য ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদনের চেষ্টা করছেন। তবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্যের কাছ থেকে তিনি বাধার মুখে পড়েছেন।


রদ্রিগেজের উপস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে জাতিসংঘের বাইরে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তারা ভেনেজুয়েলার পতাকা ওড়ান এবং ‘ভোট নেই তো তেলও নেই’ ও ‘নতুন মুখ, একই শাসনব্যবস্থা’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অনেকেই জানান, তারা চান ট্রাম্প যেন দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে অবাধ নির্বাচনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।


বিক্ষোভকারীরা ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংগীত গাওয়ার পাশাপাশি স্লোগান দেন- ‘ডেলসি, আমি শপথ করে বলছি, মাদুরোর সঙ্গে তোমাকেও ব্রুকলিনে যেতে হবে।’ এই স্লোগানের মাধ্যমে নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিন বরোতে অবস্থিত ফেডারেল কারাগারের কথা বোঝানো হয়েছে, যা জাতিসংঘের ঠিক বিপরীতে ইস্ট নদীর ওপারে অবস্থিত। মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার-প্রক্রিয়া চলাকালে তার পূর্বসূরি মাদুরোকে সেখানেই আটক রাখা হয়েছে।


২০১৭ সালে কারাকাস থেকে চলে আসা ৩৪ বছর বয়সী সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার মিগুয়েল এদুয়ার্দো মার্টিনেজ বলেন, ‘একদিকে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সেই শাসনব্যবস্থার কোনো অংশের বৈঠক দেখাটা যেমন ক্ষোভের বিষয়, তেমনি এতে কোনো সন্দেহ নেই যে- এই সরকারের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনতার আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছেছি।’


বিক্ষোভকারী সিজার কোয়েলো বলেন, ডেলসি রদ্রিগেজ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাভিস্টা একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত এবং এর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি কমলা রঙের কারাগারের পোশাক পরা রদ্রিগেজের ছবিযুক্ত একটি প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন।


‘চাভিসমো’ হলো ভেনেজুয়েলার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক আন্দোলন।


কোয়েলো বলেন, আশা করছি ট্রাম্প ও রদ্রিগেজ শিগগিরই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করবেন।


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৪ এএম

গাজায় কোনো মানবিক করিডর এখনো চালু হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার সমালোচনা করে তিনি এ আক্ষেপ করেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন তিনি। আগামী মে মাসে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার আগে এটিই জাতিসংঘে তার শেষ ভাষণ।


মাখোঁ বলেন, এক বছর আগে একই মঞ্চে প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলেছিলেন, স্বীকৃতি শুধু একটি কাগজ এবং বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।


গাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শান্তির দাবি করা হলেও এক মুহূর্তের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা উচিত কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।


মাখোঁর বক্তব্যের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করেছেন এবং জীবিত সব জিম্মিকে মুক্ত করেছেন। নিহত জিম্মিদের মরদেহও তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়ে। গাজার জন্য ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে।


ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরও যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ায় ফ্রান্সে মাখোঁ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। 


তবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটি কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।


জাতিসংঘে ভাষণে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান মাখোঁ। তিনি বলেন, সেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। অথচ পশ্চিম তীরে হামাস কখনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি।


মাখোঁ বলেন, পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তা প্রতিদিন ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্বের বৈধ অধিকারকে সম্মান করে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে।


গত এক বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বেড়েছে। মাখোঁ বলেন, ইসরায়েলের সব প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে-এমন ধারণা ভুল। 


তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেই দুর্বল করছে।


২০১৭ সালে প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন মাখোঁ। আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এবারের ভাষণটি ছিল জাতিসংঘে তার শেষ উপস্থিতি।


সূত্র: রয়টার্স