চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। ছবিঃ সংগৃহীত
ঈদুল আজহার আবহে সিনেমাপাড়া এখন উৎসবমুখর। ছবি মুক্তির পর দর্শক সাড়া এবং প্রেক্ষাগৃহে তারকাদের উপস্থিতি এই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তেমনই এক মুহূর্তে সিনেমা হলে এসে দর্শকের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ এবং তাঁর সহশিল্পী বিদ্যা সিনহা মিম।
প্রচারণার ফাঁকে ক্যারিয়ার, সিনেমার জয়-পরাজয় ও বক্স অফিস সমীকরণ নিয়ে নিজের গভীর উপলব্ধি প্রকাশ করেন আরিফিন শুভ। তিনি জানান, ‘অনেক জায়গায় কাজ করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, আর প্রমাণ দেওয়ার মতো কিছু আছে বলে মনে করেন না তিনি।
শুভ বলেন, “২০০৪ সালে প্রথম ফ্যাশন শো। উচ্চতা ভালো ছিল বলে ছোটবেলা থেকে ফ্যাশন শোতে কাজ করতে পারতাম। এরপর মডেলিং, রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা, ওটিটি— আমি সবখানে কাজ করেছি। ফলটাও ভালো পেয়েছি। আমার মনে হয় নিজেকে প্রমাণ দেওয়ার মত কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর মত রোমান্টিক সিনেমা করতে পেরেছি, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এর মত অ্যাকশন আবার ‘মিশন এক্সট্রিম’ এর মত সিক্সপ্যাক’ সিনেমার সফলভাবে কাজ করেছি। অন্যদিকে ‘জ্যাজসিটি সিরিজ এর মত ভিন্ন ভাষার কনটেন্টেও কাজ করতে পেরেছি। আমি কি পারি সেটা ইন্ডাস্ট্রি জানে। এখন ইন্ডাস্ট্রি যদি আমার কাছে না আসে, আমি ইন্ডাস্ট্রির কাছে যেতে পারবো না।”
সিনেমার এই অনিশ্চয়তা ও চমককে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভ ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাস সৃষ্টিকারী ছবি ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র একটি উদাহরণ টানেন। শুভ বলেন, “কাঞ্চন সাহেবের মুখ থেকেই শোনা, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র শুটিংয়ের সময় অনেকেই নাকি তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন—গাজীপুরে গিয়ে সাপের খেলা দেখাচ্ছেন, পাগল হয়ে গেছেন নাকি? কিন্তু মুক্তির পর সেই ছবি যা ইতিহাস তৈরি করল, তা তো সবারই জানা।”
নিজের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শুভ জানান, সিনেমা নিয়ে আগে থেকে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “অনেক আশা নিয়ে কাজ করেছি, এমন ছবি হয়তো অতটা দর্শকনন্দিত হয়নি। আবার অনেক টেনশন করেছি যে ছবি নিয়ে, সেটাই দেখা গেছে দর্শকনন্দিত হয়ে গেছে। আপনি যতই বিপণন বা প্রচারণা করুন না কেন, সিনেমা আসলে অনিশ্চিত। সিনেমা দেখার পর ভালো লাগা বা না লাগার শেষ সিদ্ধান্তটা কেবল দর্শকই ঠিক করতে পারেন।”
ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশকে একপাশে রেখে দর্শকদের শতভাগ বিনোদন দেওয়াই ছিল তাঁদের টিমের মূল উদ্দেশ্য। ঈদের সিনেমার চিরচেনা আমেজের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভ বলেন, “ঈদের মৌসুমে সবাই একটু মারামারি, একটু প্রেম, একটু দুঃখ, একটু টেনশন, একটু বড় বড় সংলাপ আর গান দেখে খুশি মনে বাড়ি ফিরতে চায়। আমাদের উদ্দেশ্যও ছিল ঈদের অন্যান্য ছবির সঙ্গে আরেকটু বাড়তি আনন্দ যোগ করা।”
ভারতের নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ইন্টারনেটে আলোড়ন সৃষ্টিকারী চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির নেতৃত্বে চলা জেন জি প্রজন্মের আন্দোলন এবং এর রিলগুলোকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত।
সোমবার (২৭ জুলাই) নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই প্রজন্মের প্রতিবাদের ধরন ও ভাষা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি একে ‘বমি উদ্রেককারী’ বলে মন্তব্য করেন।
একটি পোস্টে কঙ্গনা প্রতিবাদকারীদের অভিব্যক্তি ও আচরণ নিয়ে উপহাস করে লেখেন, তাদের কথা বলার ধরণ এবং ব্যবহৃত ভাষা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং প্রতিটি ফ্রেমেই সবকিছু এত বেশি বেসুরো ও স্থূল যে তিনি জীবনে কখনো এমন কিছু দেখেননি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ইউউউ, কারা এদের জন্ম দিচ্ছে আর মানুষ করছে?
আন্দোলনকারীদের প্রধান প্রতীক ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ রূপকটিরও তীব্র সমালোচনা করেন কঙ্গনা। তিনি লেখেন, প্রতিবাদকারীরা নিজেদের তেলাপোকা বলে ডাকছেন এবং তাদের আচরণও ঠিক তাদের মতোই। এখানে কোনো প্যারাডক্স বা বৈপরীত্য নেই, বরং এটি কেবল পৃথিবীকে তাদের নোংরা ও কদর্যতায় ডুবিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়। ইনস্টাগ্রাম স্টোরির শেষাংশে তিনি যোগ করেন যে এই রিলগুলো দেখে তিনি মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে একাধিক দফার বৈঠকের পর গত সপ্তাহে সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। কেন্দ্রীয় সরকার তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রস্থানের পর নরেন্দ্র মোদি সরকার প্রবীণ বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশীকে নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। দীর্ঘ ১৬ বছরের নীরবতা ভেঙে নিজের অতীত জীবন, সম্পর্ক এবং সাইবার বুলিং নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে হাজির হয়ে নিজের অতীত জীবনের এক ঝড়ো অধ্যায় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রভা।
দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে প্রভা জানিয়েছেন, তিনি কারও সাথে কোনো ধরনের প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গ করেননি। ঘটনার অন্তরালে যে অনেক ঘটনা থাকে, সেটাই তিনি দর্শকদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন।
পডকাস্টে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার ছোট্ট করে শুধু একটু বলার আছে, এটা যদিও খুব একটা প্রয়োজনীয় না। আমাকে মানুষজন বলে যে আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি। শুধু আমার এতটুকুই বলার আছে যে, আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি। ঘটনার পেছনে তো আসলে অনেক ঘটনা থাকে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আমি আমার ফ্যামিলিকে এবং যার সাথে আমার এনগেজমেন্ট হয়েছিল তাকে—যেহেতু আমার একটা ভয়ও ছিল, প্রতিটা জায়গা থেকে আমি চেষ্টা করেছিলাম যে এটা বিয়ে পর্যন্ত না গড়ায়।’
‘মুরুব্বিরা মিলেই যেহেতু কথাবার্তা বলছিলেন। একটা পুরো সময় ছিল যখন আমার ফ্যামিলি এগেইন্সটে ছিল। কারণ ওই সময়ে ব্রোকেন ফ্যামিলি থেকে আসা একটা ছেলে, স্বভাবতই আসলে কেউ চায় না। এখন আমরা দেখি আমাদের অনেক ফ্রেন্ডরা ব্রোকেন ফ্যামিলি থেকে আসছে, কিন্তু বাচ্চাগুলো অনেক মানুষের মতো মানুষ হয়েছে।’
এনগেজমেন্টের পর সম্পর্ক ভাঙার কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এনগেজমেন্ট হয়ে যাওয়া একটা জিনিসকে ভাঙা, সেটা সহজ ছিল না। আমাদের তো অনেকদিনের একটা গ্যাপ ছিল, প্রায় ৯-১০ মাসের। ব্রেকআপ-প্যাচআপ যেই সেগমেন্টটাকে বলে ছিল।’
তার কথায়, ‘বাট ওই সময় একদম লম্বা গ্যাপ ছিল এবং ওই সময় আমার সাথে যা হয়েছে, আমি আমার লয়ালিটির জায়গা থেকে জানিয়েছি কার সাথে আমার সম্পর্ক হয়েছিল। সবকিছুই আসলে অনেক ক্লিয়ার ছিল। একদম হুট করে ওয়ান ফাইন মর্নিং আমি জাস্ট বললাম আমি এটা করে ফেলেছি, এরকম কোনো কিছু না।’
সমালোচকদের উদ্দেশে নিজের মানসিক অবস্থা তুলে ধরে প্রভা বলেন, ‘এক্সপ্লেনেশন করার কিছুই নাই। কারণ আমি জানি যারা আমাকে ভালোবাসে, হয় না যে ওরা আমাকে আমার জায়গাতে, ওরা ওদেরকে রেখে ফিল করতে পারে। ওরা অলরেডি জানে, আই হ্যাভ বিন থ্রু আ লট। এতটুকুই জাস্ট, আমি আসলে প্রতারণা করিনি। ওয়ান ফাইন মর্নিং আমি জাস্ট ফোন দিয়ে বলি নাই, বা সে উঠে পত্রিকা খুলে দেখেনি যে আই গট ম্যারিড।’
অভিনেত্রী কেলি হটল। ছবি: সংগৃহীত
‘গডজিলা’ সিরিজে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া কোরিয়ান-আমেরিকান অভিনেত্রী কেলি হটল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
সিএনএন- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফ্রেডেরিক কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার বয়স হয়েছিল ১৮ বছর।
ফ্রেডেরিক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর তিনটার দিকে একটি হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি দুই লেনের একটি সড়ক থেকে ছিটকে কালভার্টে আছড়ে পড়ে। গাড়িটির দুই যাত্রীর একজন ছিলেন কেলি হটল।
দুর্ঘটনার পর কেলি হটলকে দ্রুত একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িচালক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তার আঘাত প্রাণঘাতী নয়।
শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য, অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র গডজিলা ভার্সেস কং–এ অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় কেলি হটলের। সেখানে তিনি ‘জিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করেন। জিয়া ছিল স্কাল আইল্যান্ডের ইওই জনগোষ্ঠীর এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী এতিম শিশু, যে সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে কিং কংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারত।
২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গডজিলা ভার্সেস কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’ চলচ্চিত্রেও একই চরিত্রে অভিনয় করেন কেলি হটল। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০২৪ সালের স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডসে তরুণ অভিনয়শিল্পীর সেরা পারফরম্যান্স বিভাগে মনোনয়ন পান।
জর্জিয়ার আটলান্টায় জন্ম নেওয়া কেলি হটলের বাবা ছিলেন আমেরিকান, মা কোরিয়ান। তিনিও জন্মগতভাবে শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি টেক্সাসের অস্টিনের টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
মৃত্যু,সড়ক,অভিনেত্রী,দুর্ঘটনা
পরিমনি
দেশের জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় নতুন মাইলফলক গড়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। দীর্ঘদিন ধরে এ তালিকায় শীর্ষে থাকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে এখন সবচেয়ে বেশি ফেসবুক অনুসারীর মালিক তিনি।
বর্তমানে পরীমনির ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি। অন্যদিকে সাকিব আল হাসানের অনুসারী ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। ফলে বাংলাদেশের তারকাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকে এখন শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন এই অভিনেত্রী।
যদিও অভিনয়জীবনের পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরে।
প্রায় ১২ বছরের ক্যারিয়ারে পরীমনির অভিনীত দুই ডজনের মতো সিনেমা মুক্তি পেলেও সেগুলোর কোনোটিই বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্যের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে ব্যক্তিজীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি এবং বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার কারণে তিনি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, পরীমনির জনপ্রিয়তার বড় একটি কারণ তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি। ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত, ভ্রমণ, সন্তানের বেড়ে ওঠা, ফটোশুট, নতুন কাজের খবর কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা—সবই অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি।
ফলে ভক্তদের সঙ্গে তাঁর এক ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
এরই প্রতিফলন দেখা গেছে তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে। গত রবিবার কন্যাসন্তানের খুনসুটির একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘সাজুনি বুড়ি দেখেন’। সঙ্গে ছিল ভালোবাসার একটি ইমোজি। মাত্র ২২ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটিতে ৭৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, প্রায় ২ হাজার মন্তব্য এবং প্রায় ১৫ লাখ ভিউ হয়।
এর আগের দিন রোদ পোহানোর একটি সাধারণ ছবি পোস্ট করে ‘সানসাইশন’ লিখলেও সেটিতে ৪৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া আসে।
ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় শীর্ষে ওঠার বিষয়ে পরীমনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমার জীবনের ছোট ছোট বিষয়গুলো আমি সবার সঙ্গে খোলা মনে ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। আমার জীবনে কোনো ধরনের লুকোচুরি নেই। বাস্তবে আমি যা, ফেসবুকেও তার রিফ্লেকশন সব সময় থাকে। হয়তো সে কারণেই মানুষ আমাকে এতটা আপন মনে করেন। তাঁদের সবার এই ভালোবাসার মূল্য আমি সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো অর্জন নেই। যাঁরা এত দিন ধরে আমার পাশে আছেন, তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সবার ভালোবাসায় এগিয়ে যেতে চাই।’
ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় পরীমনি ও সাকিব আল হাসানের মধ্যে শীর্ষস্থান নিয়ে পালাবদল অবশ্য নতুন নয়। প্রায় তিন বছর আগে প্রথমবার তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় সমান হয়ে আসে। পরে ২০২৩ সালের আগস্টে আবারও এগিয়ে যান সাকিব। কয়েক মাসের ব্যবধানে দুজনই ১ কোটি ৬০ লাখ অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবধান বাড়িয়ে এবার শীর্ষস্থান এককভাবে দখল করেছেন পরীমনি।
মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
এ প্রজন্মের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। গেল কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে তার।
এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে। বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিজ্ঞাপনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলে তাকে একটি হাসপাতালে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেননি। পরে ন্যায়বিচারের আশায় থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান তাকে ‘জেবা তাকিয়া’ নামের অন্য এক নারী মনে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সেই সময় ইমন পরিস্থিতি শান্ত না করে উল্টো স্নিগ্ধাকে ওই পরিচয় মেনে নেওয়ার জন্য ইশারা করেন। অভিনেত্রী দাবি করেন, জেবা তাকিয়া চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। তিনি স্নিগ্ধাকে তাকিয়া ভেবে মারধর করেছেন।
স্নিগ্ধা বলেন, ‘তিনি রশি দিয়ে আমার দুই পা বাঁধল। এবং সেই রশি সম্পর্কে আমাকে বলে, এই রশি দিয়ে হাসিনা-রাজাকারদেরকে ফাঁসি দিয়েছে! তারেক রহমান আইসা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। হাসিনা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। সালাউদ্দিন আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে! তোর মতো মেয়ে মরলে আমার কিছু যায় না। আমি প্রতিদিন মাটি চাপা দিয়ে রাখি।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমি ওই রুমের মধ্যে একা। তার যত লোকজন আছে সবাইকে বের করে দিয়েছে। আমার হাত বাঁধছে, আমার পা বাঁধছে, আমার ফোনটা ছুঁড়ে মারছে, মেরে আমার গলা চিপে ধরছে!’
অভিনেত্রী জানান, মারধরের সময় চেয়ারম্যানকে তিনি বলেন, আপনার নিজের সন্তান আছে, আল্লাহ রহম করেন। তখন অভিযুক্ত অভিনেত্রীর চুল টেনে ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাথি মারেন, যার ফলে তার শরীর ফুলে গেছে।
শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি বলেন, আমার বাবা-মা আমাকে জীবনে টোকা দেয় নাই! আমার বাবা-মা জীবনে আমাকে একটু টোকা দেয় নাই। সে আমার চুল টেনে ধরে লাথি মেরেছে। এগুলা ফুলে ফুলে আছে।
অভিনেত্রীর দাবি, ব্যক্তিজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নেননি। পরে তিনি খিলক্ষেত থানায় গিয়ে মামলা করার উদ্যোগ নেন।
স্নিগ্ধা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। গত ঈদে সিনেমাহলে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’।
অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
এ প্রজন্মের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। গত কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে তার।
এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালে ডেকে নিয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। এই অভিযোগ এনে মামলাও করেছেন স্নিগ্ধা।
সেই মামলায় এরইমধ্যে জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। সেখানে তিনি জানান, তাকে বারবার হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি এই ঘটনায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাকার কত ক্ষমতা? একটা মেয়েকে ডেকে নিয়ে এভাবে নির্যাতন করার পরও তাকে গ্রেফতার করা হলো না। বরং একজন প্রতিমন্ত্রীর আন্ডারে তার জামিন হয়ে গেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই। তিনি একজন বড় মনের মানুষ। তার ঘরেও আমার মতো একজন মেয়ে আছেন। আমার বিশ্বাস তিনি এই ঘটনাটা দেখবেন। আমি যেন ন্যায়বিচার পাই সেটা নিশ্চিত করবেন।’
বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবেন জানিয়ে স্নিগ্ধা আরও বলেন, ‘আমাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যেখানে আমার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা জরুরি সেখানে উল্টো অপরাধী অগ্রিম জামিন পেয়ে যায়। কোন দেশে আছি আমরা? যদি আমার কিছু হয় বা অপমৃত্যু হয় তবে ওরা সবাই দায়ী থাকবে।’
চুক্তি সইয়ের নামে হাসপাতালে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ, অভিনেত্রীর মামলা