এআই ছবিতে আশির দশকের লুকে তাসনিয়া ফারিণ ও তমা মির্জা
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডের নতুন এক হাওয়া বইছে। নেটিজেনরা যেন হুট করেই ফিরে গেছেন আশির দশকে। ফেসবুক খুললেই টাইমলাইনে ভেসে উঠছে আশির দশকের হলিউড-বলিউডের ক্লাসিক পোস্টার বা ভিন্টেজ ফটোশুটের ছবি। ওভারসাইজড ব্লেজার, পোলকা ডট পোশাক, চওড়া কলারের শার্ট, রট্রো হেয়ার স্টাইলে ধরা দিচ্ছেন তারকারা।
নিজের বর্তমান ছবিকে এআই-এর মাধ্যমে বদলে নিয়ে নেটিজেনরা দেখে নিচ্ছেন, চার দশক আগের সেই স্নিগ্ধ ফ্রেমে নিজেকে কেমন দেখাত। এই রেট্রো রূপান্তরের ছোঁয়া বাদ পড়েনি বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন থেকেও।
নতুন ট্রেন্ডে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী পূর্ণিমা, সাফা কবির, তমা মির্জা, তাসনিয়া ফারিণ, বিদ্যা সিনহা মিম তৌসিম মাহাবুব, আরশ খান, জিয়াউল ফারুক অপূর্বসহ অনেকে।
নজর কাড়া একটি ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, নতুন ট্রেন্ড
চিত্রনায়িকা তমা মির্জা নিজের এমন একটি রেট্রো মেকওভারের ছবি অনুরাগী ও অনুসারীদের সাথে ভাগ করে নিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ট্রেন্ড অনুসরণ করছি।’
অভিনেত্রী তানজিকা আমিন ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছেন, গা ভাসাইলাম
অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা লিখেছেন, কালজয়ী গান আর পুরোনো দিনের স্টাইলের সেই সোনালী যুগে ফিরে যাওয়া!
অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম লিখেছেন, আশির দশকের লুক।
সাফা কবির লিখেছেন, আশির দশকের এই উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর চরকি এতে দারুণ এক চমৎকার ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে! আশির দশকের এই লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?
অন্যদিকে, ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব আশির ধাঁচের একটি ফ্রেমে বন্দী হয়ে লিখে জানিয়েছেন, ‘আশির দশকের কোনো এক বিকেল থেকে।’
অভিনেত্রী সাফা কবীর ও তাসনিয়া ফারিণও পিছিয়ে নেই এই ডিজিটাল নস্টালজিয়া থেকে। নিজের আশির দশকের রূপ প্রকাশ করে সাফা কবীর লিখেছেন, ‘আশির দশকের উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেটজুড়ে, আর চরকি বিষয়টিকে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে! আশির দশকের লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?’ একই ধারায় তাসনিয়া ফারিণ কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়েই যেন মন্তব্য করেছেন, ‘ভালোই হতো।’
সংগীতশিল্পী পড়শীও নিজের একটি সত্তাকে ৪০ বছর আগের সেই পুরোনো ক্যানভাসে আবিষ্কার করে বেশ রোমাঞ্চিত। ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘১৯৮০ সালে যদি থাকতাম, তাহলে মনে হয় এমন থাকতাম।’
‘অ্যানিমেল ফার্ম’ নাটকের একটি দৃশ্য
জর্জ অরওয়েলের বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ অবলম্বনে নাটক মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ। আজ ও আগামীকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির প্রদর্শনী হবে। নজরুল সৈয়দের নাট্যরূপে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রধান সাইদুর রহমান লিপন।
রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে রচিত ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম আলোচিত উপন্যাস। পশুদের প্রতীকী চরিত্রের মধ্য দিয়ে জর্জ অরওয়েল এতে শাসন ব্যবস্থার শোষণ, নিপীড়ন এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রাক্তন সোভিয়েত রাশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ব্যর্থতা উপন্যাসটির অন্যতম প্রেক্ষাপট। নির্দেশক সাইদুর রহমান লিপনের ভাষ্য, শোষণ-নিপীড়নের চূড়ান্ত পরিণতি বিপ্লব।
ফরাসি বিপ্লব থেকে রুশ বিপ্লব-ইতিহাসের বিভিন্ন বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার হাতবদল ঘটলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি। নাটকটির মধ্য দিয়ে সেই বাস্তবতাই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। নিজের এই বই সম্পর্কে জর্জ অরওয়েল বলেছিলেন, ‘এটা হচ্ছে আমার প্রথম বই, যেখানে আমি সম্পূর্ণ সচেতন থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং শৈল্পিক উদ্দেশ্য এক করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নির্মিত নাটকটিতে ক্ষমতাহীন ও ক্ষমতাধরদের মধ্যকার চিরন্তন দ্বন্দ্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষমতার কাঠামো, শোষণ এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে দর্শকদের ভাবনার খোরাক জোগাতে চান নির্মাতারা।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মো. হাবিবুল্লাহ, ফাহাদ খান, সাইফুল ইসলাম, মো. সজীব হোসেন, সানজিত সুপ্ত, নাজিমউদ্দৌলা জুয়েল, আবির খান অন্তু, পলক চক্রবর্তী, রিফাত আরা জুঁই, মেহেদী হাসানসহ নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নাটকটির সহযোগী নির্দেশনায় রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক ও মো. শামীম আহমেদ। আলোক পরিকল্পনায় ধীমান চন্দ্র বর্মন, পোশাক পরিকল্পনায় মহসিনা আক্তার এবং সংগীত পরিকল্পনায় অসীম কুমার নট্ট।
সুনেরাহ বিনতে কামাল
অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনোযোগ কেড়েছেন বহু আগে। একইভাবে নাটকপ্রেমীদের মনে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন ভিন্ন রকম গল্প ও চরিত্র পর্দায় তুলে ধরে। সে কারণে সুনেরাহ বিনতে কামালের কাছে প্রত্যাশাও বেড়ে গেছে দর্শকের। আর সে প্রত্যাশা পূরণে নন্দিত এ অভিনেত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন অভিনয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নতুন রূপে উপস্থাপন করতে।
সেই ভাবনা থেকে অভিনয়ের জন্য এবার বেছে নিয়েছেন ‘অজানা অধ্যায়’ নামে একক নাটকটি। যেখানে তাঁর দেখা মিলেছে ইতি নামে এক সংগ্রামী তরুণীর চরিত্রে। যে অসুস্থ বাবা ও অসহায় বড় বোনের সমস্ত দায়দায়িত্ব একা বহন করে। চাকরির নাম করে সে প্রতিদিন বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু চাকরি সে আদৌ করে না। কারণ পরিবারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ইতি অর্থ উপার্জনের জন্য বেছে নিয়েছে এক অন্ধকার জগতের পথ। টাকার জন্য সে সময় কাটায় সমাজের বিত্তবানদের সঙ্গে। একসময় এই সত্যটি আবিষ্কার করে ইতির প্রেমিক। ভয়ংকর এই সত্য জানার পর সে দিশেহারা হয়ে পড়ে। বুঝে পায় না, ইতিকে কীভাবে সঠিক পথে নিয়ে আসা যায়। এভাবেই একের পর এক জন্ম নিতে থাকে নতুন সব ঘটনার।
এ রকম কাহিনি নিয়ে ‘অজানা অধ্যায়’ নাটকটি নির্মাণ করেছেন জহিরুল ইসলাম নীরব। নাটকের কাহিনি ও চিত্রনাট্যও লিখেছেন এই পরিচালক। নাটকে সুনেরাহর বিপরীতে আবারও দেখা মিলেছে অভিনেতা আরশ খানের। আরও অভিনয় করেছেন দিলরুবা হোসেন দোয়েল, সাহেদ আলী, মঞ্জু রহমান, রিপন, শফিক, ইমন প্রমুখ। সম্প্রতি জি-সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালের কথায়, ক্যারিয়ারে নানা ধরনের গল্প ও চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হয়েছে। ‘অজানা অধ্যায়’ নাটকের কাহিনি ও ইতি চরিত্রটি আগের সব নাটক থেকে অনেকটা আলাদা। চেষ্টা করেছেন সাবলীল অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চরিত্রটি দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার। গল্প, চরিত্র, নির্মাণ, সহশিল্পীদের অভিনয় মিলিয়ে নাটকটি অনেকের মনে ছাপ ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেন এ অভিনেত্রী।
আরশ খানের বিপরীতে অভিনয় প্রসঙ্গে সুনেরাহ জানান, নির্মাতারা মূলত দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সব জুটি গড়েন। আরশের সঙ্গে অভিনয়ের শুরু থেকে জুটি হিসেবে তাদের পছন্দ করেছেন সবাই। যে জন্য নির্মাতারা চাইছেন তাদের নিয়ে নতুন সব গল্প তুলে ধরার।
কিছুদিন আগে ‘মায়ারে’ নামে একক নাটকে জুটি বেঁধে দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন তারা। এরও আগে ‘কপাল’, ‘ভুল নাকি প্রেম’, ‘না বলা কথা’, ‘তুমি দূরত্ব চেয়ো না’, ‘সিগনেচার’, ‘পরমা সুন্দরী’, ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’, ‘পাষাণ হৃদয়’, ‘কখনও কি তোমার হবো’, ‘আমি তুমি, তুমি আমি’, ‘হৃদয়ে ফাগুন’, ‘পূর্ণতা’, ‘ফিরে আসা ভালোবাসা’, ‘শ্যাওলা ফুল’সহ বেশ কিছু নাটকে জুটি বেঁধে অভিনয় করে মনোযোগ কাড়তে পেরেছেন অসংখ্য দর্শকের। সেই সুবাদে ‘অজানা অধ্যায়’ নাটকে আরও একবার জুটি বাঁধা।
পরিমনি
জন্মদিনে চট্টগ্রাম থেকে উড়োজাহাজে করে চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্য শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন কেউ একজন। শনিবার রাতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী নিজেই এমন উপহার পাওয়ার কথা জানান। তবে ফুল পাঠানো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। রোববার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আলোচনা।
কে সেই ব্যক্তি, যিনি পরীমনির জন্য এত দূর থেকে উড়োজাহাজে শিউলি ফুল পাঠালেন? এই আলোচনায় যোগ দেন অভিনেতা ও পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়ও। রসিকতা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেই পোস্টের মন্তব্যে পরীমনি তার জবাবও দিয়েছেন।
কয়েক দিন আগে ফেসবুকে পরীমনি লিখেছিলেন, ‘২ মণ শিউলি ফুল দরকার। ২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টায়!’ তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের এক নারী।উড়োজাহাজে করে ঢাকায় পাঠান শিউলি ফুল। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এমন ভালোবাসার কথা জানিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন পরীমনি। তবে তখনো জানাননি, কে পাঠিয়েছেন এত ফুল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ছিল পরীমনির ৩৪তম জন্মদিন। এদিন সন্ধ্যায় ঢাকার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কাছের বন্ধু, সহকর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়ে জন্মদিন উদ্যাপন করেন তিনি। পুরো আয়োজনেই ছিল শিউলি ফুলের ছোঁয়া। রেস্তোরাঁর সিঁড়ি সাজানো হয় শিউলি ফুল দিয়ে। পরীমনি নিজেও পরেছিলেন শিউলি ফুলের নকশা করা শাড়ি। সাজসজ্জা থেকে পোশাক—সবকিছুতেই ছিল একই ভাবনা।
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরীমনি বলেন, ‘শিউলি ফুলের কথা মাথায় রেখেই সব করেছি। ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম, কেউ আমাকে অনেকগুলো শিউলি ফুল এনে দাও। কিন্তু এটা আসলে সম্ভবও না। এই ফুল চার-পাঁচ ঘণ্টাও ঠিক রাখা যায় না। কিন্তু একজন আমাকে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইটে করে শিউলি ফুল পাঠিয়েছে।’
পরীমনির ইচ্ছা ছিল, পুরো আয়োজনকে শিউলি ফুলের বাগানের মতো সাজাবেন। কিন্তু ফুলের স্বল্পস্থায়িত্বের কারণে সবটুকু কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই সাজসজ্জার পাশাপাশি নিজের পোশাকেও শিউলি ফুলের আবহ রেখেছিলেন তিনি।
জয়ের রসিকতায় রহস্য
পরীমনির জন্মদিনে চট্টগ্রাম থেকে ফুল আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে রসিকতা করেন শাহরিয়ার নাজিম জয়।
জয় তাঁর পোস্টে লেখেন, পরীমনির প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে চট্টগ্রামের ধনী পরিবারের স্ত্রীদের অনেকেই হয়তো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কোন স্বামী পরীমনির জন্য এত শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন?
রসিকতা সেখানেই থামাননি জয়। তাঁর কথায়, ফুল পাঠানো ব্যক্তিকে খুঁজে পেলে অনেকে হয়তো তাঁকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করবেন। তবে জয় চান, ওই ব্যক্তি যেন ধরা না পড়েন। নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মজার ছলে জানান, তিনিও অনেককে শিউলি ফুল দিয়েছেন, কিন্তু ধরা পড়েননি। তাঁর ভাষায়, ‘এক পাপী আরেক পাপীর পক্ষ নেবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’
একই পোস্টে পরীমনির প্রশংসাও করেন জয়। তাঁর মতে, পরীমনি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন। চলচ্চিত্র অঙ্গনকে তিনি নিজের আপন জায়গা মনে করেন। শুধু প্রচারণা কিংবা সংবাদ সম্মেলনের জন্য নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেও চলচ্চিত্রের মানুষদের ভালোবাসেন ও সম্মান করেন। পোস্টের শেষে পরীমনিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
তবে জয়ের পোস্টে মন্তব্য করে ফুল পাঠানোর রহস্যের একটি অংশ পরিষ্কার করেন পরীমনি। জানান, চট্টগ্রাম থেকে শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন কোনো পুরুষ নন, একজন নারী। ফলে জয়ের রসিকতারও জবাব মেলে। যদিও ওই নারীর নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেননি অভিনেত্রী।
জন্মদিনে নতুন সিনেমার চমক
শুধু শিউলি ফুল নয়, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নতুন সিনেমার খবর দিয়েও চমকে দেন পরীমনি। জানান, ‘ফারজানা’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। এরই মধ্যে সিনেমাটির শুটিংয়ের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
নতুন সিনেমা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘জন্মদিনে একটা সারপ্রাইজ আছে। আমার মনে হয়, আপনারা আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন। তাই উত্তর ঠিক করে এসেছি। আমার মনে হলো, এটা সুন্দর সময়। এখানে কাজ নিয়েও কথা বলা যায়।’
সিনেমাটির প্রস্তুতি ও শুটিংয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা ছয় মাস আগেই লুক ঠিক করেছি। কাজ করতে যাওয়ার সময় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। সিনেমাটির শুটিং চলছে। কিছু কাজ বাকি আছে। বাকি কাজ শেষ করে জানাব।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক তারেক রহমানও। তিনি জানান, ‘ফারজানা’ সিনেমায় পরীমনিকে সংগ্রামী এক নারীর চরিত্রে দেখা যাবে। পরিচালক বলেন, ‘আমরা সুন্দর একটা জার্নি শুরু করতে যাচ্ছি। পরীমনির চরিত্রটি স্ট্রাগলিং একজন নারীর। আশা করি, জার্নিটা সুন্দর হবে। আপনারা নতুন পরীমনিকে আবিষ্কার করবেন।’
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান পরীমনি। দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান ভালো কাজ দিয়েই দিতে চান তিনি।
পরীমনি বলেন, ‘শুরু থেকেই সবাই আমাকে যেভাবে ভালোবাসা দিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, আশীর্বাদ করেছেন; সবকিছু ছাপিয়ে আমাকে ভালোবেসেছেন, সেই ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এর বিপরীতে আমি সুন্দর সুন্দর কাজ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারব না। সেটাই যেন করতে পারি, দোয়া করবেন।’
নাজনীন নিহা। ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজার এলাকার বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আসিফ আকবরের ছবি ও গুলিবিদ্ধ গাড়ির ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করেন তিনি।
পোস্টে ওমর সানী লেখেন, ‘গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি করা একটা অশনি সংকেত। এটা হওয়া উচিত না, আসিফ তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আল্লাহ ভালো রাখুন তোমাকে।’
এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গুলি চালানোর সময় গাড়িতে ছিলেন না আসিফ আকবর। ফলে তিনি অক্ষত রয়েছেন।
তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো বিরোধের সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভক্তদের মধ্যেও এ ঘটনা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।