শিক্ষা মন্ত্রণালয়
বহু বছর পর বিভিন্ন সরকারি কলেজের ২০৬ শিক্ষককে একযোগে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতির বিষয়টি জানানো হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ দুটি, আবার কেউ তিনটি পদোন্নতি পেয়ে প্রভাষক থেকে অধ্যাপক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৯৯৫ সালে পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকও রয়েছেন।
আত্তীকরণ বিধিমালা ২০০০ অনুযায়ী এই শিক্ষকেরা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার। এই শিক্ষকেরা সবাই ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাবেন।
তবে তাঁদের ভূতাপেক্ষিক পদোন্নতি শুধু বেতন নির্ধারণের জন্য গণনা করা হবে। কেউ কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না।
পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা ও বিধিসংক্রান্ত একাধিক মামলার রায় বাস্তবায়ন না করাসহ বিভিন্ন কারণে তাঁদের পদোন্নতি আটকে ছিল। এই শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন বলে জানা গেছে।
পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১ ঢাকার গত বছরের ২৭ নভেম্বরের রায়, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১ আগস্টের রায় ও রায় বাস্তবায়ন মামলার আদেশ প্রতিপালনক্রমে মামলার পিটিশনার শিক্ষকদের নির্দিষ্ট তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিক পদোন্নতি দেওয়া হলো।
বর্তমানে কর্মরত পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ইনসিটু হিসেবে যোগদান করবেন। অন্য শিক্ষকেরা প্রযোজ্যতা অনুযায়ী ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে ভূতাপেক্ষিক যোগদান করবেন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে দিন দিন বেড়েই চলেছে পথকুকুরের উৎপাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট থেকে শুরু করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক উকিল হল, আবদুস সালাম হল, নবাব ফয়জুন্নেছা হলসহ প্রায় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে কুকুরের অবাধ বিচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কুকুরগুলো প্রায়ই নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় পথচারীদের ধাওয়া করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণও করে। বিশেষ করে মালেক উকিল হল ও আবদুস সালাম হলসংলগ্ন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে দুই শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কুকুরের কারণে হল এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের ভাষ্য, "হলের সামনে ও আশপাশে প্রায় সব সময়ই কুকুরের অবস্থান থাকে। কিছু কুকুরকে অসুস্থ বলেও মনে হয়। এতে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি নিয়েও আমরা শঙ্কিত।"
এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, "কুকুরের ভয়ে ক্যাম্পাসে নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারি না। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অনেক সময় কুকুর তেড়ে আসে এবং ধাওয়া করে। শান্তি নিকেতন এলাকা দিয়ে একা চলাচল করতেও ভয় লাগে। একাধিকবার অল্পের জন্য কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছি।"
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের মন্তব্যে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, "নবাব ফয়জুন্নেছা হলের রুমের সামনেও কুকুরের অবস্থান থাকে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানোর পরও হল প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।"
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পথকুকুর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও মানবিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কুকুরগুলোর টিকাদান, চিকিৎসা, নির্বীজন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ছবি : সংগৃহীত
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। ওইদিন সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। সোমবার (২৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে ঘোষিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ না হওয়ায় নানা রকম গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বেগ জানান পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও। এরপর শিক্ষামন্ত্রী চলতি মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান।
সেসময় বোর্ডকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছিল ৩০ জুলাই ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। তা না হলে আগস্টে গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকায় ফল প্রকাশ আরও পিছিয়ে যেতে পারে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ২০ মে। নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবার ফল প্রকাশ করতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড।
গত ২১ এপ্রিল এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার এসএসসিতে বহিষ্কার ছিল খুবই কম।
ছবিঃ সংগৃহিত
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের মঞ্চে আসন ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উক্ত ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য পর্বে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠান বর্জন করেন। এ সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নাকি কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেন, “নবীনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান; এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ জুলাইয়ের পূর্বের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সব ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “জুলাই এসেছিল বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু এখানে আমরা দেখছি প্রশাসন আবারও বৈষম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অতীতের মতো আজও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বক্তব্যের সুযোগ না থাকলে কারওই থাকা উচিত নয়। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা সব সংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি দলকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্য। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা আজকের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেন, “সময় স্বল্পতার কারণে আমরা অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে পারিনি। বিষয়টি তাদের আগের রাতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এত বড় একটি আয়োজনে ছাত্রদের এ ধরনের আচরণ কাম্য ছিল না।”
ছবি : সংগৃহীত
বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষা আবার শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অন্য সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বোর্ডের রুটিন অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্র।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় ইসলামের ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং তাজভিদ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি বিএমটিতে অনুষ্ঠিত হবে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-১ বিষয়ের পরীক্ষা।
বন্যা–পরবর্তী পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং সড়ক যোগাযোগের দুর্ভোগ বিবেচনায় গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। একই সিদ্ধান্তের আওতায় আলিম, এইচএসসি বিএমটি, এইচএসসি ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের অবশিষ্ট পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।
পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত ২৩ জুলাই ঘোষণা দেন, ২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষা পুনরায় শুরু হবে। তবে স্থগিতাদেশের আগে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলো নতুন সময়সূচি প্রকাশ করে পরে নেওয়া হবে।
চলতি বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, যারা ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির একটি অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ছিল। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবেই সরকার গঠনের পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখা হয় এবং বর্তমানে তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তার অভিযোগ, সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও তুলে তিনি বলেন, লন্ডনে অবস্থানকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও তারা জেনেছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দায়মুক্তি ভোগ করেন। তবে পদত্যাগ বা দায়িত্ব ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের উদাহরণ টেনে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় এতদিন সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিষয়ে তদন্ত হয়নি। এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শুধু রাজনৈতিকভাবেই বিতর্কিত নন, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার দাবি, ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঘটনায় সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। এছাড়া বিদেশে সম্পদ গড়া এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সরকারি চাকরিগুলোর নিয়োগ যেন দলীয়করণ থেকে মুক্ত থাকে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারীর নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ড. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।
শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, জুলাই আন্দোলন কারো একার ছিল না। ছাত্র, জনতা, কৃষক, শ্রমিক সবাই মিলে আন্দোলন করেছিল। তাই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে সকল রাজনৈতিক দল মিলে ভূমিকা রাখতে হবে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “নতুন ছাত্র রাজনীতি তৈরির জন্যই আমরা জাতীয় ছাত্রশক্তি নিয়ে এগোচ্ছি। তবে পুরো রাজনৈতিক কালচারের অনেক কিছুই ছাত্রশক্তিতে রয়েছে। আমরা এক রাতে সেটা চেঞ্জ করতে পারছি না। তবে ধীরে ধীরে চেঞ্জ করছি।”
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “আমাদের সমাজে এখনো ভয়ের রাজনীতি বিদ্যমান। আখতার, নাহিদসহ জুলাইয়ের পরিচিত মুখগুলোকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের লোকেরাও ইতিবাচকভাবে দেখেন। কিন্তু আমরা যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কথা বললেই রাজনৈতিক ট্যাগ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আমরা এই ভয়ের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ে গুম, খুন এবং লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা আমরা সবাই দেখেছি। এসব ঘটনার পর রাজনীতি করার ইচ্ছা ছিল না। তবে নিজের ক্যারিয়ার ঠিক রেখেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। তাই আমি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের বলব—গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে শুধু চাকরির কথা নয়, চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা এমপি হওয়ার লক্ষ্যও রাখুন। এখানে উপস্থিত অনেকেরই সেই যোগ্যতা রয়েছে।”
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন দেশে ভয়ের রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদী পরিবেশ ছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর কখনো হল দখল, নির্যাতন, বাক্স্বাধীনতা হরণ বা ভয়ের সংস্কৃতি ফিরে না আসুক।”
তিনি বলেন, “যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, কোনো ছাত্রসংগঠনই যেন ছাত্রলীগের মতো ক্যাম্পাস দখলের সংস্কৃতি তৈরি না করে। জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ সব ছাত্রসংগঠনকে এ বিষয়ে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’-এর মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়; এখান থেকেই সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্বের শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেশের অসংগতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে হবে।”
সাজিদ আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।”
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের বাইরে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গবেষণা, সংস্কৃতি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে।”