শিক্ষা মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:১৯ এএম

বহু বছর পর বিভিন্ন সরকারি কলেজের ২০৬ শিক্ষককে একযোগে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। 


গতকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতির বিষয়টি জানানো হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ দুটি, আবার কেউ তিনটি পদোন্নতি পেয়ে প্রভাষক থেকে অধ্যাপক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৯৯৫ সালে পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকও রয়েছেন।


আত্তীকরণ বিধিমালা ২০০০ অনুযায়ী এই শিক্ষকেরা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার। এই শিক্ষকেরা সবাই ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাবেন। 


তবে তাঁদের ভূতাপেক্ষিক পদোন্নতি শুধু বেতন নির্ধারণের জন্য গণনা করা হবে। কেউ কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না। 


পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা ও বিধিসংক্রান্ত একাধিক মামলার রায় বাস্তবায়ন না করাসহ বিভিন্ন কারণে তাঁদের পদোন্নতি আটকে ছিল। এই শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন বলে জানা গেছে।


পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১ ঢাকার গত বছরের ২৭ নভেম্বরের রায়, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১ আগস্টের রায় ও রায় বাস্তবায়ন মামলার আদেশ প্রতিপালনক্রমে মামলার পিটিশনার শিক্ষকদের নির্দিষ্ট তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিক পদোন্নতি দেওয়া হলো। 


বর্তমানে কর্মরত পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ইনসিটু হিসেবে যোগদান করবেন। অন্য শিক্ষকেরা প্রযোজ্যতা অনুযায়ী ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে ভূতাপেক্ষিক যোগদান করবেন।




উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ পিএম

পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বিবেচনা না করে ব্যক্তির উপযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, জীবনে সফলতা অর্জনে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত পেশায় দক্ষতা অর্জন জরুরি।


মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘হুইচ ক্যারিয়ার ইজ রাইট ফর ইউ? আ রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


উপাচার্য বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আমরা জীবনের লক্ষ্য নিয়ে রচনা পড়লেও, বাস্তবে লক্ষ্যহীন জীবন হলো হাল ছাড়া নৌকার মতো। এখন তোমাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের সবচেয়ে উত্তম সময়। জীবনে কোনটা ছোট বা বড় পেশা, তা না ভেবে কার জন্য কোন পেশা উপযুক্ত, সেটির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’


কাঙ্ক্ষিত পেশায় সফলতা অর্জনে কঠোর অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘একাডেমিক পড়া শেষ করে অলস সময় না কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত পেশার জন্য বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে। তবেই তোমরা জীবনে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ সাব-প্রজেক্টের উদ্যোগে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হিট প্রজেক্টের এএসপিএম ও হিসাববিজ্ঞান এবং তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার।


কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাজু আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন হিট প্রজেক্টের এসপিএম ড. মো. শফিকুল ইসলাম।


এ ছাড়া কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনমিকস অ্যান্ড রুরাল সোশিওলজির অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন।


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৩১ পিএম

টানা ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে রোববার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। 


বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় শিক্ষাজীবনের ক্ষতি ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তবে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাওয়াকে আন্দোলনের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।


বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অধ্যাপক শরিফুল আলম পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে কিংবা উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নিলে তারা আবারও শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করবেন।


শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।


তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


নোবিপ্রবিতে তিন দিনের মডেল ইউনাইটেড নেশনস সম্মেলন, অংশ নেবেন ৪০০ শিক্ষার্থী

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘এনএসটিইউ মডেল ইউনাইটেড নেশনস (এনএসটিইউএমইউএন) ২০২৬’ সম্মেলন। ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণ বিষয়ে আগ্রহী তরুণদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।


‘Recasting the Global Order Amid Rising Power Asymmetries’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতি, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ক্ষমতার অসম বণ্টন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে।

সম্মেলনে সাতটি কমিটি ও ফোরামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময় করবেন। কমিটিগুলো হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি), জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি), উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন (ইউএনসিএসটিডি), জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ), জাতীয় সংসদ (জেএএসএ) এবং আন্তর্জাতিক প্রেস (আইপি)।


এসব কমিটিতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির ভূমিকায় অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা। আলোচ্য বিষয় নিয়ে গবেষণা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে তাঁরা বৈশ্বিক সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজবেন। পাশাপাশি আলোচনা ও দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন তাঁরা।

সম্মেলনে জাতিসংঘের কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, তাঁদের অংশগ্রহণ সম্মেলনের আলোচনা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পেতে সহায়তা করবে।


এ বিষয়ে এনএসটিইউ মডেল ইউনাইটেড নেশনসের সেক্রেটারি জেনারেল তারেক মুকতার বলেন, ‘এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, কূটনৈতিক দক্ষতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে তারা শুধু বিতর্ক বা মডেল ইউনাইটেড নেশনসের কৌশলই নয়, বরং বাস্তব জীবনে কীভাবে যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে হয়, মতপার্থক্য সামলাতে হয় এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে হয়, তা শিখবে।’

তিনি আরও বলেন, এমন একটি উদ্যোগের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও আশাবাদী। সম্মেলনে অর্জিত অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।


সম্মেলনের ডিরেক্টর জেনারেল তাসনুভা জামিল চৌধুরী বলেন, ‘কূটনীতি মানুষকে শুধু নিজের মত প্রকাশ করতে শেখায় না, বরং ভিন্নমতকে বুঝতে, যুক্তির মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে এবং সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে শেখায়। এই মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করেই আসছে এনএসটিইউএমইউএন।’

তিনি বলেন, একটি সফল সম্মেলনের সার্থকতা শুধু সুশৃঙ্খল আয়োজনে সীমাবদ্ধ নয়; অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েও এর সাফল্য প্রকাশ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুলপর্যায়ের প্রতিনিধিদের জন্যও অতিথিপরায়ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আয়োজকেরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।


আয়োজকদের মতে, এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণী চিন্তা, গবেষণা, জনসমক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন, নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মতবিনিময় ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

আয়োজকেরা আশা করছেন, এনএসটিইউএমইউএন ২০২৬ তরুণদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তিবাদী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।


ফারজানা ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ এএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ড এলাকার স্বামীর বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বামী নাজমুল ইসলাম একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তার স্বামী। গত বছরের ডিসেম্বরে মারধরের শিকার হয়ে তিনি স্বামীর বাসা ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এ ঘটনায় নারী নির্যাতনের মামলা করেন তিনি। পরে নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে নির্যাতন না করার আশ্বাস দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। দুই পক্ষের পারিবারিক সমঝোতার পর মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফারজানাকে নির্যাতন করা হতো।

এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে ফারজানার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘নাজমুল প্রথমে বেকার ছিল। পরে চাকরি পাওয়ার পর তার অর্থের চাহিদা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে অর্থের জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ফারজানার ওপর নির্যাতনও চলতে থাকে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফারজানার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন তার কথাবার্তায় অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। রাতে খাওয়ার জন্য সে চিপস ও কোমল পানীয়ও কিনেছিলেন। তবে, রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে তাকে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।’

আরিফুল আরও বলেন, ঘটনার আগের দিন বিকেলে নাজমুলের দুলাভাই তাকে ফোন করে মামলা প্রত্যাহার হয়েছে কি না, তা জানতে চান। জবাবে তিনি জানান, মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পেয়েছি। এ ঘটনায় তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম


২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে বইগুলোর অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে কমিটির পৃথক দুটি সভায় এসব বই অনুমোদন দেওয়া হয়। চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য অনুমোদন পেয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন, প্রধান তথ্য কমিশনার ড. নাহরিন ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহসহ কমিটির অন্য সদস্যরা।

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২০ পিএম
  • আপডেট : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩১ এএম


  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২০ পিএম


দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে এনে আরও বেশি আনন্দময়, জীবনমুখী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুই শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি ভিন্নমাত্রার পাঠ্যবই। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি) সভায় বইগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বইগুলো প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বইগুলো হলো— চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।


এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সংস্কারে মনোনিবেশ করেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে তুলতে দীর্ঘ বছর উনি (প্রধানমন্ত্রী) কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে চিন্তাধারা, অভিজ্ঞতা ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন- তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন এই বইগুলো।’


তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গত ১৫ বছর এ বিষয়ে আমি নিজে কাজ করে যেটা বুঝেছি— উনি চান শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি তৈরি হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। যার কারণে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য এনসিটিবিকে সম্পৃক্ত করা হয়। এর অধীনে এনসিটিবি একটি টিম গঠন করে, যেখানে এসব পলিসি প্রণয়নে যারা প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি আরও অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদ আছেন, যারা বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত; তারা প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পটাকে বাস্তবায়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে কনসালটেশন এবং মিটিং করেন।’এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান,সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আনন্দ, খেলাধুলা, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতানির্ভর পাঠ্যপুস্তক প্রণীত হয়েছে। এই নতুন পাঠ্যপুস্তক বদলে দেবে নতুন প্রজন্মের শিখন পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি) সভায় বইগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। এনসিটিবি জানিয়েছে, চারটি বইয়ের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কপি বই মুদ্রণ করা হবে।


এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘নতুন চারটি পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও ভ্যালিডেশন কাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ অক্টোবর এনসিসির সভায় অনুমোদনের পরই কনটেন্টগুলো মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠানো হবে।’


এনসিটিবি জানায়, গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় বইগুলোর রূপরেখা উপস্থাপনের পর বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়।


এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মাদ আবু নাসের টুকু জানান, নতুন চার বই মুদ্রণের জন্য সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এনসিসি কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই মুদ্রণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।


খেলাধুলা: সুস্থ জীবনধারা ও আত্মরক্ষার কৌশল

এনসিটিবি জানায়, শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশ বিবেচনায় চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৪টি গতিশীল অধ্যায়ে সাজানো এই বইটির মূল উদ্দেশ্য শিশুদের শৈশব থেকেই সুস্থ জীবনধারা ও ক্রীড়াচর্চায় আগ্রহী করে তোলা।


বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবাসহ বিভিন্ন খেলার মৌলিক নিয়মকানুন সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষামূলক কৌশল স্থান পেয়েছে।


এ ছাড়া খেলার মাঠে বা দৌড়ানোর সময় কেটে যাওয়া, মচকানো, নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে করণীয় বাস্তবসম্মত ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


শিক্ষার্থীরা জরুরি প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যবহার ও ইনজুরি প্রতিরোধের কৌশল এতে হাতে-কলমে শিখবে। শুধু খেলাই নয়; এতে পুষ্টি, সামাজিক দক্ষতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


প্রস্তাবিত বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘স্বপ্ন যখন আকাশ ছোঁয়া’ শীর্ষক একটি বাস্তবমুখী অনুপ্রেরণামূলক গল্প যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়মান স্যার ও তার সহকর্মী সাদিয়া আপার হাত ধরে মেয়েদের ফুটবল দল গঠনের প্রেরণার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সামাজিক বাধা ও কুসংস্কার পেরিয়ে মেহজাবিনসহ একাধিক শিক্ষার্থী ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়ার গল্প দিয়ে এতে দেখানো হয়েছে কীভাবে খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি পেশা হিসেবে আর্থসামাজিক পরিবর্তন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটাতে পারে।


এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে একমুখী ও ক্লান্তিকর না হয়ে ওঠে, সেদিকে বিশেষ নজর রেখে ‘খেলাধুলা’ বইটি প্রথমবারের মতো প্রণয়ন করা হয়েছে।’


বাংলাদেশের সংস্কৃতি: ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও নতুন কুঁড়ি

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিবিড় পরিচয় ঘটাতে ১১টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটি। এতে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্য সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা বর্ণিল চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


বইটিতে বাংলা বর্ণমালা চর্চা, বিদ্যালয় উৎসব, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পিঠা-পুলির মেলবন্ধনের পাশাপাশি বাবা-মায়ের যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও গৃহস্থালির পারস্পরিক সহযোগিতার আধুনিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


এ ছাড়া একটি বিশেষ অধ্যায়ে শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ির’ ইতিহাস, ১৯৭৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ এবং বিজয়ীদের দুর্লভ ছবি যুক্ত করা হয়েছে।


লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস: ভীতিহীন ও আনন্দময় শিখনদর্শন

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, পড়াশোনাকে ভীতিমুক্ত ও অত্যন্ত আনন্দদায়ক করার দর্শন নিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৬টি অধ্যায়ে প্রণীত হয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাওয়া একটি নতুন ধারণা ও পাঠ্যক্রম।


প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আনন্দময় অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও সহপাঠক্রমিক নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কীভাবে জ্ঞান অর্জন করা যায়—তা এতে তুলে ধরা হয়েছে। বইটি পাঠ্যভার অনেকাংশে হালকা করবে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ স্বাস্থ্য, চারপাশের পরিবেশ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার আলোকেই আনন্দঘন উপায়ে শিখন ফল অর্জনে সক্ষম হবে।


এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে— শেখা শুধু মুখস্থ করা বা পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয় নয়; বরং নিজের জীবন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও শেখা সম্ভব।


আমার কারিগরি শিক্ষা: ছোট উদ্যোগ, বড় সম্ভাবনা

এনসিটিবি জানিয়েছে, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতে-কলমে শেখার অভ্যাস ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরিতে ৮টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বই। শিক্ষার্থীকে শুধু ‘আমি কী জানি’ তত্ত্বের মাঝে আটকে না রেখে ‘আমি কী করতে পারি’ সে বিষয়ে স্বাবলম্বী করে তোলাই এর মূল শিক্ষাদর্শন।


কারিগরি শিক্ষা পরিচিতি, চারপাশের প্রযুক্তি ও নতুন বিশ্ব, ছোট উদ্যোগ বড় সম্ভাবনা, যারা গড়ে, তারাই বদলায়, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনসহ বাস্তব জীবনের নানা কারিগরি সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তির সহায়ক ব্যবহারের মাধ্যমে মৌলিক সমাধান খোঁজার একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করবে বইটি। এ ছাড়া নতুন চারটি বইয়ে শব্দকোষের মতো বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে।


উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, আমাদের লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু হওয়া ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দুটি আগামী শিক্ষাবর্ষে শুরু হয়ে পরবর্তী সময়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। অন্যদিকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষা বিষয় দুটি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হবে।


এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. এ. কে. এম শওকত আলী খান বলেন, ‘নতুন এই চারটি পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা পুথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।’