তথ্যের সত্যতা যাচাই থেকে শুরু করে সংবাদ লেখার কাঠামো, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা নিয়ে হাতে-কলমে ধারণা নিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন সাংবাদিকতা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায়। কর্মশালায় বক্তারা মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেকের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সেমিনার রুমে জবি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখার কৌশল, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, তথ্য যাচাই, পেশাগত নীতি-নৈতিকতা, সংবাদমূল্য এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন একাত্তর টেলিভিশনের সিওও ও হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ, ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শতাধিক শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিগত তিন মাসে প্রকাশিত সংবাদ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ত্রিমাসিক সেরা সাংবাদিক সম্মাননা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যনির্ভর ও অনুসন্ধানী সংবাদ পরিবেশনের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা পান দৈনিক ইনকিলাবের মোঃ রোকুনুজ্জামান গোলাম রাব্বী, বাংলাদেশ বুলেটিনের আকাশ আহমেদ রুপম, পাবলিক নিউজের হাসনাত হাবিব ও স্টুডেন্ট জার্নালের রাকিব খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনবির ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, "সাংবাদিকতায় আসার আগে প্রত্যেককে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে আমি কেন সাংবাদিক হতে চাই? সাংবাদিকরা ক্ষমতাবান হলেও এই ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্ব রয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে সাংবাদিকতার ক্ষমতা ব্যবহার করা হলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারে পরিণত হয়।"
তিনি বলেন, "ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের সেবা করা। জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা করতে হলে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো কোনো ঘটনা যেভাবে ঘটেছে, তা কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই যথাযথ ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। এ জন্য সাংবাদিকদের নিউজ লেখার মৌলিক বিষয়গুলো জানতে হবে।"
সংবাদ লেখার কৌশল তুলে ধরে আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, "একটি সংবাদে প্রথমেই ঘটনার মূল সারাংশ তুলে ধরতে হবে। সেই সারাংশ থেকেই ইন্ট্রো ও হেডলাইন তৈরি হয়। হার্ড নিউজ লেখার ক্ষেত্রে ইনভার্টেড পিরামিড কাঠামো অনুসরণ করে শুরুতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হয়।"
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান বলেন, "ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় প্রশাসন, শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে জটিলতা তৈরি হয়। পাশাপাশি একটি তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে প্রকাশ করলে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সাহসের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।"
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শফিক আহমেদ বলেন, "সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি শেখার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সাংবাদিকতায় এগিয়ে যেতে হলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ভুল করতে করতে, শিখতে শিখতেই একজন সাংবাদিক অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন।"
তিনি বলেন, "বর্তমানে মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক সাংবাদিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের জ্ঞান রাখতে হবে। যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করা জরুরি। সাংবাদিকদের শুধু ক্যাম্পাসের খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। অর্থনীতি, ব্যাংক, শেয়ারবাজার, রাজস্ব, যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা রাখতে হবে। একজন সাংবাদিক যত বেশি বিষয়ে জ্ঞান রাখবেন, তার সাংবাদিকতা তত সমৃদ্ধ হবে।"
সাংবাদিকতা ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ক্ষমতাবান কোনো ব্যক্তি অনাচার করলে সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করবেন। তবে মোবাইল হাতে নিয়ে কাউকে শুধু প্রশ্ন করলেই সাংবাদিকতা হয় না। সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো তথ্য, যুক্তি, অনুসন্ধান ও বস্তুনিষ্ঠতা।"
অনুষ্ঠানে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, জবি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও জবি'র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, জবি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মোঃ আরমান ইসলাম সহ সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সচেতনতামূলক র্যালি আয়োজন করেছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংগঠন "স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি"।
১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও প্লাকার্ড বহন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— "আমি আছি— কষ্টের কথা বলুন, সাহায্য নিন", "একটি সহানুভূতিশীল কথা কারও কঠিন দিনকে সহজ করে দিতে পারে", এবং "বন্ধুর কষ্ট ছোট করে দেখবেন না"-এর মতো জীবনমুখী আহ্বান।
উক্ত র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।
সংক্ষিপ্ত বক্তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "আত্মহত্যা একটি সামাজিক ব্যাধি। সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই হার আশঙ্কাজনক। আমাদের ক্যাম্পাসের মেন্টাল হেলথ ক্লাবগুলোকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও বাড়াতে অনুরোধ রইল।"
তিনি আরও বলেন, "ক্লাবের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও আশপাশের মানুষের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কারো মধ্যে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি দেখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিবেন তিনি উপযুক্ত পদক্ষেপ নিবেন। এছাড়া ক্যাম্পাসে একজন নারী মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলর নিয়োগের জন্য ইউজিসির (UGC) সঙ্গে কথা হয়েছে,আমি আবারও কথা বলবো যাতে দ্রুতই তা বাস্তবায়িত হয়।"
নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "মানুষের মানসিক অনুভূতির ভারসাম্যহীনতা এবং বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) থেকেই মূলত সুইসাইডাল থট তৈরি হয়। কিন্তু সমাজ বা বন্ধুদের অবহেলা, কটূক্তি বা কাউকেই 'পাগল' আখ্যা দিয়ে টিজ করার কারণে এই নেগেটিভ থিংকিং আরও বেড়ে যায়। এটি কোনো নিরাময়অযোগ্য ব্যাধি নয়; মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের সাময়িক ভারসাম্যহীনতার কারণে এমনটি ঘটে, যা সঠিক চিকিৎসা, একটু সুন্দর ব্যবহার ও সহানুভূতির মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের টিজ না করে বুঝিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পারলেই একটি জীবন বেঁচে যাবে।"
র্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, চীফ মেডিকেল অফিসার (প্রশাসনিক) ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। র্যালি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে নোবিপ্রবি শহিদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টার, ব্লাড ব্রিগেড ও স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ এবং এর সঙ্গে যুক্ত স্লোগান হলো ‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ভেঙে কথা বলা শুরু করুন’।
নোবিপ্রবিতে ‘ব্যানারকাণ্ড’: খুলে ফেলার পর ফের টাঙাল ছাত্রশক্তি, রাত পেরোতেই আবার উধাও
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙানো ও খুলে ফেলা নিয়ে ‘ব্যানারকাণ্ডের’ সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখার টাঙানো ব্যানার প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা খুলে ফেলার পর সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ফের নতুন ব্যানার টাঙান। তবে রাত পেরোতেই সেই ব্যানারও ক্যাম্পাস থেকে উধাও হয়ে যায়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙায় জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীরা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব ব্যানার দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কৃষি, ব্যাংক খাত, আইনশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগ বাণিজ্য এবং শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যানার দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে ১২টি, জ্বালানি খাতে পাঁচটি, বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতে তিনটি, ব্যাংক দখল ও লুটপাট নিয়ে তিনটি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজি নিয়ে পাঁচটি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে চারটি এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য নিয়ে তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, “নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তি শাখার পক্ষ থেকে বিএনপি সরকারের গত ১৮০ দিনের ব্যর্থতার জাতীয় নাগরিক পার্টি যে প্রতিবেদন পেশ করেছে, আমরা তারই ধারাবাহিকতায় নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তি শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করছি।”
তিনি বলেন, “দেশের জ্বালানি সংকট, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতে যে লুটপাট চলছে, সরকার বিভিন্ন দপ্তরে দলীয়করণ করার উদ্দেশ্যে ভাইভা বা কোটার বিভিন্ন ডেফিনিশনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা প্রতিবাদস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার ও গঠনমূলক আলোচনার সাপেক্ষে পোস্টারিং করেছিলাম। আশা করি, বর্তমান সরকার তাদের ভুলগুলো সংশোধন করে নেবে।”
খুলে ফেলার পর ফের ব্যানার
ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের টাঙানো ব্যানারগুলো খুলে ফেলেন। এ সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা চলে গেলে রাত ১টার দিকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা নতুন ব্যানার এনে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে টাঙান।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, রাতে নতুন করে টাঙানো ব্যানারটিও আর নেই। ব্যানারটি কে বা কারা সরিয়ে নিয়েছে বা ছিঁড়ে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রশাসনের অস্বীকার, ছাত্রশক্তির অভিযোগ
এ বিষয়ে ছাত্রশক্তি নোবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যানার খুলে দেওয়ার পর আমরা পুনরায় লাগাই। সকালে আমাদের ব্যানার না দেখতে পেয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, তারা খুলেন নাই।”
প্রশাসনের বক্তব্যের পর ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তারা ভিন্ন একটি পক্ষের সংশ্লিষ্টতা ধারণা করছেন বলে জানান শহিদুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ‘দলীয় বাহিনী’র মাধ্যমে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার কাজ করিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিএনপি সরকার যেমন বিরোধী দলকে দমনের মাধ্যমে তাদের ব্যর্থতা লুকাতে চায়, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পোষা বাহিনীর মাধ্যমে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে দমন করার উদ্দেশ্যে এরকম ন্যক্কারজনক কাজ করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।”
তবে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রশাসনের কোনো পক্ষ বা কোনো ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার সরিয়ে নিয়েছেন—ছাত্রশক্তির এমন অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জবির ক্যাফেটেরিয়া-হল নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির ৫ দফা দাবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও পরিবেশ উন্নয়ন, খাবারে ভর্তুকি, ছাত্রী হলের খাবার ও পানির সমস্যা সমাধান এবং লিফটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের বৈচিত্র্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রী হলের খাবার ও পানির ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ভবনের লিফট নিয়েও সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আগামী রবিবার থেকে ক্যাফেটেরিয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং খাবারের মান বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি খাবারের আইটেম বাড়িয়ে কমপক্ষে ১০ ধরনের ভর্তা-ভাজি রাখার দাবি জানানো হয়।
তৃতীয় দাবিতে আগামী অক্টোবর থেকে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে মাসিক পাঁচ লাখ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে বিনা মূল্যে খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করার কথাও বলা হয়।
চতুর্থ দাবিতে ছাত্রী হলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন বন্ধ এবং পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার করার দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির দাবি, পানির ট্যাংক পরিষ্কার না করায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া শহীদ সাজিদ ভবনের ১২ দিন ধরে বন্ধ থাকা লিফট দ্রুত মেরামত এবং ছাত্রী হলের লিফটের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ক্যাফেটেরিয়া ও হলের খাবার-পানির বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু খাবারের মান উন্নয়ন নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পানির ট্যাংক পরিষ্কার রাখা এবং লিফটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।”
সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ক্যাফেটেরিয়া, হলের খাবার, পানি ও লিফট নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের কাছে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি ভর্তুকির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী খাবার নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রী হলের খাবার ও পানির ব্যবস্থাপনা এবং লিফটের নিরাপত্তার বিষয়েও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জবি প্রেসক্লাবের ত্রৈমাসিক সেরা সাংবাদিক হলেন বাংলাদেশ বুলেটিনের আকাশ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রেসক্লাবের ত্রৈমাসিক সেরা সাংবাদিক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি মো. আকাশ আহমেদ রুপম।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৫৫২ নম্বর কক্ষে জবি প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিকতা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় তাকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। একাত্তর টেলিভিশনের সিওও ও হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ, ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালায় সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখার কৌশল, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা এবং গণমাধ্যমে কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের সিওও ও হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনবির ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর ও দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান। এছাড়া জবি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম ও মো. রায়হান হোসেন, সভাপতি মুশফিকুর রহমানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একই অনুষ্ঠানে জবি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ত্রৈমাসিক সেরা সাংবাদিক হিসেবে আকাশ আহমেদ রুপম, রোকনুজ্জামান গোলাম রাব্বি, রাকিব খান ও হাসনাত হাবিবকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা যেন তাদের কাজে আরও উৎসাহিত হন এবং ভবিষ্যতে ভালো কাজ করেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সাংবাদিকতা করেন, কষ্ট ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, তাদের এই সম্মাননাটুকু দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’
সম্মাননা পেয়ে আকাশ আহমেদ রুপম জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সঙ্গে যুক্ত আছি। এখানে অনেক সময় কাটিয়েছি এবং নিজের সাধ্য অনুযায়ী পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমি বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। আমার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জবি প্রেসক্লাব আমাকে এই সম্মাননা দেওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি, উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে যেন আরও ভালো কাজ করতে পারি, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’
ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের পর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ফেল থেকে পাশ করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন। খাতা পুনঃনিরীক্ষণের পর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। আর জিপিএ বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সকাল ১০টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফল সংগ্রহ করতে পারছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠানো হবে।
কোন বোর্ডে কতজন নতুন করে জিপিএ-৫
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০৬ জন শিক্ষার্থী।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭৭ জন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭৫ জন।
এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ২০৭ জন, যশোরে ১৮২ জন, সিলেটে ১২১ জন, বরিশালে ১১২ জন, চট্টগ্রামে ৮৩ জন এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৭৭ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৩ জন শিক্ষার্থী।
কোন বোর্ডে কতজন ফেল থেকে পাশ
প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে।
ফেল থেকে পাসের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে ৮৬৭ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা যশোর বোর্ডে এ সংখ্যা ৩৮০ জন।
এ ছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৩৩৭ জন, কুমিল্লায় ৩৩৬ জন, চট্টগ্রামে ১৯০ জন, সিলেটে ১৮৬ জন, রাজশাহীতে ১১১ জন এবং বরিশালে ৭৯ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৫৫ জন এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, এবার ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে।
যেভাবে জানা যাবে পুনঃনিরীক্ষণের ফল
আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা তিনভাবে পুনঃনিরীক্ষণের ফল জানতে পারবে।
প্রথমত, নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল দেখা যাবে।
দ্বিতীয়ত, সব শিক্ষা বোর্ডের পুনঃনিরীক্ষণের ফল নির্ধারিত ওয়েবসাইটে https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd পাওয়া যাবে। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সেখান থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
তৃতীয়ত, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের পাশাপাশি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষা বোর্ড তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল দেখতে পারবেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলও বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও পুর্ননিরীক্ষণের ফল দেখা যাবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীদের অনুরোধ জানিয়েছে।
১২ লাখের বেশি উত্তরপত্র পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়েছিল গত ১১ আগস্ট। আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুর্ননিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন।
একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে আবেদনকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পুর্ননিরীক্ষণের জন্য জমা পড়া উত্তরপত্রের সংখ্যা এক নয়।
তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে। সব মিলিয়ে পুর্ননিরীক্ষণের আওতায় এসেছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র।
ঢাকায় আবেদন সবচেয়ে বেশি
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন সবচেয়ে বেশি পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
এদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
আজ সকাল ১০টায় ফল প্রকাশের পর পুর্ননিরীক্ষণের আবেদনের কারণে কারও ফলাফলে পরিবর্তন এলে তা ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে জানা যাবে।