• প্রকাশ : রবিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ এএম

ঢাকার অলিগলিতে নামে-বেনামে কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের শত-শত স্কুল। সরু গলির ভেতরে, আবাসিক ভবনের নিচতলায়, ভাড়া করা ফ্ল্যাটে কিংবা অস্থায়ী কিছু কক্ষে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। 


প্রি-প্রাইমারি, কেজি, স্কুল-মাদ্রাসা, ইংলিশ মিডিয়ামসহ নানা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগেরই নেই খোলা ক্লাসরুম, খেলার জায়গা কিংবা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা।


এ ধরনের স্কুলগুলোর শিক্ষার মান, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধানে সরকারের কোনো তদারকি নেই, নেই সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালাও। স্কুলগুলো কে খুলছে, কারা চালাচ্ছে, কার অনুমতিতে চলছে, সরকার আদৌ জানে কি না সেখানে কী হচ্ছে– এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।


সম্প্রতি রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় শারমিন একাডেমি নামে একটি স্কুলের ভেতরে এক শিশুশিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, স্কুলের অফিস কক্ষের ভেতরে এক ব্যক্তি ৪ বছর বয়সি শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করছেন। 


পাশে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে রেখেছেন। কিছুক্ষণ পরপর ওই ব্যক্তি শিশুটিকে আঘাত করছেন। পরে জানা যায়, মারধরকারী ব্যক্তি ওই স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার, আর পাশে বসে থাকা নারী সেখানকার প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তার। মূলত এ দুজনই একাডেমিটির মালিক। ঘটনার তিনদিন পর পুলিশ পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে।


গত ২২ জানুয়ারি সকাল থেকে নয়াপল্টনের ওই এলাকা ও স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলের ভেতরে কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই। মাঝে মধ্যে দুই- একজন অভিভাবক ও কৌতূহলী পথচারী সেখানে এসে স্কুলের ভেতরের দিকে তাকাচ্ছেন, কেউ কেউ খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে ভেতর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ থাকায় কারও প্রবেশের সুযোগ ছিল না।


স্কুল ভবনের কেয়ারটেকার কামরুল হক ঢাকা পোস্টকে জানান, গতকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি খোলা ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাউকে আসতে দেখেননি তিনি। 


কেন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণও জানাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে জানতে স্কুলটির দেয়ালে ও ব্যানারে থাকা কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সবগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।


স্থানীয় ও আশপাশের বাসিন্দারা জানান, ঢাকার বহু অলিগলির স্কুলের মতো শারমিন একাডেমিও পরিচালিত হচ্ছে সীমিত পরিসরে একটি ভবনের মধ্যে। ওই ভবনের ভেতরে রয়েছে একটি বিউটি পার্লারও। 


স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানতেন সেখানে একটি স্কুল আছে কিন্তু সেটির অনুমোদন আছে কি না, শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো নীতিমালা আছে কি না বা শিশুরা সেখানে নিরাপদ কি না- এসব বিষয়ে কারও কোনো ধারণা নেই।


অবশ্য গোটা রাজধানীজুড়েই এমন অসংখ্য স্কুল-মাদ্রাসা রয়েছে। যেগুলোর শুধু সাইনবোর্ড দেখে মানুষ, আর বাচ্চাদের ভর্তি করে দেয়। 


অনুমোদিত নাকি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান তা আর যাচাই করে না কেউ। রাজধানীর আজিমপুর, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় অলিগলির ভেতরে গড়ে ওঠা এমন স্কুলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। 


অনেক ক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাটে ৩০-৪০ জন শিশুকে গাদাগাদি করে বসানো হচ্ছে। নেই খোলা জায়গা, নেই জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা। তবুও এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


২০২৫ সালে বেড়েছে শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতন


আইন অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০১১ সালে হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক শাস্তি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অসাংবিধানিক। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, শিশুকে নির্যাতন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ।


প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নির্যাতনের আলাদা তথ্য না থাকলেও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সামগ্রিক তথ্য বলছে, ২০২১ সালে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নির্যাতনের ২১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল, যেখানে শিক্ষার্থীদের বয়স ছিল শূন্য থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। 


এই সংখ্যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৯-এ দাঁড়ায়। তারপর ২০২৩ সালে সামান্য কমে ৪৭ এবং ২০২৪ সালে আরও কমে ৩০-এ নেমে আসে। তবে নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ হয় না।


২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৯টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।


উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা


এমন অবস্থায় রাজধানীসহ সারা দেশের অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সামাকি মাধ্যমে অনেকে এসব নির্যাতনের ঘটনা দেখে আঁতকে উঠছেন এবং স্কুলগুলোর তদারকির ব্যবস্থা কী- সেই প্রশ্ন রাখছেন। তারা বলছেন, এখনই কঠোর নজরদারি ও বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব স্কুলকে তদারকির আওতায় আনা দরকার।


রাজধানীর মিরপুর এলকার নাঈমা মিতু নামে এক অভিভাবক বলেন, আমরা বাবা-মায়েরা চাকরি বা কাজের কারণে বাধ্য হয়ে কাছাকাছি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাই। কিন্তু এসব স্কুলের ভেতরে কী হচ্ছে, শিক্ষকরা কেমন আচরণ করেন- তা জানার কোনো উপায় নেই। 


শারমিন একাডেমির ঘটনার ভিডিও দেখে আমি ভীষণ আতঙ্কিত। যদি আমার সন্তানের সঙ্গে এমন কিছু ঘটে? সরকারের উচিত এসব স্কুলের নিয়মিত তদারকি করা বা শিক্ষাদান ও শিক্ষকদের গুণগত মানের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা।


শারমিন সুলতানা নামে আরেক অভিভাবক বলেন, লটারি-নির্ভর ব্যবস্থা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারকে ঠেলে দিচ্ছে গলির ভেতরের স্কুলে। কোনো অনুমোদন, কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই যারা শিশুদের পড়ায়, তাদের হাতে আমরা সন্তান তুলে দিচ্ছি। 


তাছাড়া শিশুদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখছি উল্টো চিত্র। এসব ছোট ছোট স্কুলে অভিভাবকদের কথাও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।


প্রি-প্রাইমারি শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা নেই, রাষ্ট্রের তদারকি দাবি


বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল জায়গাটি হলো তদারকি না থাকা। প্রাইমারি বা কেজি স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পরিদর্শন বা কার্যকর নজরদারি নেই। আর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। 


এগুলো জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নয়, আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণেও নেই। ফলে কার্যত এসব স্কুল একটি ‘আইনগত ধূসর অঞ্চলে’ পরিণত হচ্ছে।


আবার অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয় বরং সোসাইটি, ট্রাস্ট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। এতে করে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষক নিয়োগ, শিশু সুরক্ষা বা আচরণবিধি– এসব বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। একবার সাইনবোর্ড ঝোলালেই কার্যক্রম শুরু করা যায়।


প্রাথমিক বা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এমন অগোছালো ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাষ্ট্রের পরিসরে যা কিছু ঘটে, তার দায় সরকারের রয়েছে। 


একই সঙ্গে সমাজ ও কমিউনিটির স্টেকহোল্ডারদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে কোথায় কতগুলো প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন তার সঠিক পরিকল্পনাই হয়নি।


অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, বর্তমানে ভর্তি ব্যবস্থায় লটারির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। লটারিতে যাদের নাম ওঠে, তারা স্কুলে ভর্তি হতে পারে, আর যাদের নাম ওঠে না, তারা কোথায় যাবে- এই প্রশ্নের কোনো কার্যকর সমাধান নেই। 


একদিকে শিক্ষা সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত, অন্যদিকে ভর্তি সীমিত করার এই বাস্তবতা একটি বড় বৈপরীত্য তৈরি করছে। এই সুযোগেই পাড়া-মহল্লায় নামে-বেনামে অনেক বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গড়ে উঠছে, যেগুলো মূলত ব্যবসায়িক মানসিকতায় পরিচালিত।


তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নীতির বাস্তবায়ন দেখা যায় না। 


শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার সঙ্গে নার্সিং, কেয়ারিং ও টিচিং–এই তিনটি বিষয় গভীরভাবে যুক্ত। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মনোজাগতিক প্রস্তুতি ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিশু নির্যাতনের মতো অমানবিক ঘটনা ঘটতেই থাকবে।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই একক মালিকানাভিত্তিক ক্ষমতার জায়গা হতে পারে না উল্লেখ করে অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, শিশুদের শারীরিক নির্যাতন, অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি হাওর, বাওর, চর ও প্রত্যন্ত এলাকায় মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে।


তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বহু শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু তাদের কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। শুধু তালিকা তৈরি করে বসিয়ে না রেখে শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। 


অপ্রতুল অবকাঠামো, অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে একাধিক শ্রেণি পরিচালনা, নামমাত্র বেতন ও অতিরিক্ত কাজের চাপ- এসব বাস্তবতায় শিক্ষকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিশু নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেই।


এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট শিশুদের শিক্ষা দেওয়া সবচেয়ে কঠিন ও দায়িত্বশীল কাজ। শিশুরা হলো একটি ‘ছোট চারা গাছ’। এই চারার যত্ন নিতে হলে দক্ষ ‘মালি’ প্রয়োজন। 


অর্থাৎ যারা শিশুদের দেখভাল ও শিক্ষা দেবেন, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এই জায়গায় ঘাটতি তৈরি হলেই বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


শিশুকে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই, নিবন্ধনের আওতায় আসছে সব স্কুল


শিশু শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, কোনো শিশুকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই। এটি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হলে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।


ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারিভাবে পরিচালিত কেজি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তদারকি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধনের বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেখে থাকে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই সরবরাহের বিষয়টিও নিবন্ধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।


তবে সরাসরি মনিটরিং বা তদারকির দায়িত্ব মূলত মন্ত্রণালয়ের বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নিবন্ধনসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ অন্যান্য নির্ধারিত কাজগুলো তদারকি করে থাকে।


ডিজি আরও জানান, বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত একটি বিধিমালা রয়েছে, যা সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত সেই বিধিমালার আলোকে বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সম্প্রতি একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট টিমের প্রশিক্ষণ চলছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরই সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করা হবে– যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে, কেবল তারাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার কার্যালয়ে গিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়নে ওয়েবসাইট চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গত ১১ সেপ্টেম্বর ডাকসুর সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম, কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে ‘ডিউইভালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেন। 


তবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। রোববার সন্ধ্যায় উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ডাকসু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ঘাটতি তৈরি করেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


এদিকে রোববার ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ওয়েবসাইটটির উন্নয়নের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিভিউ গোপন রাখা হয়েছে। তবে গত ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়েবসাইটের রিভিউগুলো উন্মুক্ত ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে সংগ্রহ করেছে।


এতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট দুই হাজার ৪৫ জন শিক্ষকের মধ্যে এক হাজার ২৪৩ জন, অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষক রিভিউ পেয়েছেন। বাকি ৮০২ জন শিক্ষকের কোনো রিভিউ পাওয়া যায়নি। রিভিউ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ৬৩৩ জনের গড় রেটিং ৪ বা তার বেশি, যা মোট রিভিউ পাওয়া শিক্ষকের ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ১৪৮ জন শিক্ষক পূর্ণ ৫ রেটিং পেয়েছেন এবং ৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৯ রেটিং পেয়েছেন ৪৮৫ জন। এ ছাড়া ৩ থেকে ৩ দশমিক ৯৯ পেয়েছেন ২৩৫ জন, ২ থেকে ২ দশমিক ৯৯ পেয়েছেন ১৯২ জন এবং ২-এর নিচে রেটিং পেয়েছেন ১৮৩ জন শিক্ষক, যা মোট শিক্ষকের প্রায় ১৫ শতাংশ।


ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় পাস হওয়া থেকে নানা অনুরোধের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি চালু করার সদিচ্ছা দেখায়নি। তাই প্রশাসনের আশায় বসে না থেকে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য ওয়েবসাইটটি তৈরি করছি। এতে করে আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্ব আরও বেশি শক্তিশালী হবে, পাঠদান মানসম্মত হবে।


ওয়েবসাইটে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কোর্স অনুযায়ী শূন্য থেকে ৫ পর্যন্ত পয়েন্ট দিতে পারেন এবং রিভিউ লিখতে পারেন। তবে শিক্ষার্থীর রিভিউ ম্যানুয়ালি যাচাই করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ইনস্টিটিউশনাল মেইলের মাধ্যমে সাইন করলে একটি কোড পান, সেটি প্রবেশ করিয়ে সাইন ইন করে শিক্ষার্থী শুধু তাঁর ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের রিভিউ দিতে পারেন।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম বলেন, শিক্ষক মূল‌্যায়‌নের নামে ডাকসু যেটা কর‌ছে, তা অন‌ধিকার চর্চা। এর ফ‌লে এখন অনানু‌ষ্ঠা‌নিকভা‌বে শিক্ষক‌দের রে‌টিং হ‌বে এবং বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য় প‌রিস‌রে বিশৃঙ্খলা তৈ‌রি হ‌বে, যা পরে ম‌বে রূপান্ত‌রিত হ‌তে প‌রে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষক মূল‌্যায়‌নের ইতিবাচক ফলাফল থে‌কে ব‌ঞ্চিত হ‌বে। আমি বরং বিশ্ববিদ‌্যালয় কর্তৃপক্ষ‌কে শিক্ষক মূল‌্যায়‌নে যথাদ্রুত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা গ্রহ‌ণের আহ্বান জানাই।


এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন চালুর বিষয়টি প্রশাসন ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে এবং ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে ডাকসু সেটাকে হঠাৎ করে নিজের মতো করে একটা মূল্যায়ন করেছে, যা ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের একটা ঘাটতি তৈরি করেছে। আমরা এই বিষয়ে ইউনিভার্সিটির আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।


ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করেন, ডাকসু নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় আমার প্রথম এবং প্রধান ইশতেহার ছিল শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রশাসনের বাইরে গিয়ে হলেও কিছু করে যাওয়া চাই। সে জায়গা থেকে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।


শিক্ষকদের নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও শিক্ষার্থীরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের মাধ্যম শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষকরা বুঝতে পার


  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০৮ এএম

অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ করে মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিতকরণ ও রিডিং রুমে এসি স্থাপনসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ  হল শাখা ছাত্রশিবির।


রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তারা।


দাবিগুলো হলে—অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ ও মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিতকরণ, স্থায়ী সিট বন্টন নীতিমালা প্রণয়ন, প্রশাসন কর্তৃক নিয়মিত সিট বরাদ্দ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রিডিং রুমে এসি স্থাপন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ।


লালন শাহ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তোমাদের দাবিগুলোর যৌক্তিক। আমরা শীঘ্রই হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তোমাদের অন্যান্য দাবিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে হলের পানির ফিল্টার গুলো মেরামতের কাজ চলমান। তবে রিডিং রুমে এয়ার কন্ডিশনার স্থাপনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করবো।


  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে ম্যাজেন্ডা প্রকল্পের উদ্যোগে জাতীয় ভিডিওগ্রাফি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহযোগিতায় ছিলেন শেকৃবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও কিষাণ থিয়েটার। 


রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের ১০টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩৮টি শিক্ষার্থী দলের মধ্য থেকে বিজয়ী সেরা ৩টি দলকে মোট ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার প্রদান করা হয়। এতে প্রথম পুরস্কার বিজয়ী দল পায় ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী দল পায় ১৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী দল পায় ১০ হাজার টাকা।


বিজয়ী দলের শিক্ষার্থী জারিফুল ইসলাম জিম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি সমাজে প্রচলিত কিছু ধারণাকে প্রশ্ন করতে। আমাদের তুলে ধরা গল্পের যে স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি তা ভবিষ্যতে আমাদের আরও ভালো গল্প বলের অনুপ্রেরণা দেবে। 


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেকৃবি গবেষণা সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান এবং পরিচালনায় ছিলেন  শেকৃবি প্রজেক্ট টিমের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলম।


শেকৃবি গবেষণা সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামানের  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ম্যাজেন্ডা শেকৃবি প্রজেক্টের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবি ছাত্র পরিচালক অধ্যাপক আশাবুল হক। প্রতিযোগিতায় জেন্ডার ইকুয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ২৭টি ভিডিওর প্রশংসা করে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ বিভেদ ভুলে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। একটি হাত কর্মক্ষম আর অন্যটি নিষ্ক্রিয় থাকলে প্রগতি সম্ভব নয়; দুই হাতকে সমানভাবে কাজে লাগিয়েই একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব।


প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, পুরুষ বা নারী হিসেবে নয়, সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। শেকৃবিতে সমতাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কমিটিতে নারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভিডিওগ্রাফির ফ্রেমে শিক্ষার্থীরা যেভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়গুলো ফুটিয়ে তুলেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।


পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন কৃষাণ থিয়েটারের নিজস্ব রচনা ও নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক 'বহ্নিশিখা'। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক উদ্দীপনাময় আবহে সমাপ্ত হয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ এএম

সংস্কার শেষে চালু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি ঠাঁই না পেলেও নতুন যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আলোচিত ছবি।


শিক্ষার্থী সংসদের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা রোববার দুপুরে ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা এ সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।


উদ্বোধনের পর সংগ্রহশালা ঘুরে দেখা যায়, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী হত্যার পূর্বাপর বেশ কিছু স্থিরচিত্র সেখানে স্থান পেয়েছে।


পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা যায় সংগ্রহশালায়। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।


১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবিতেও জিন্নাহ রয়েছেন। ওই সম্মেলনেই ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি সংবলিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল।


অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।


ডাকসুর সংগ্রহশালায় আরো দেখা গেল আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এম এ জি আতাউল গণি ওসমানী, নবাব সলিমুল্লাহ, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ছবি।


বঙ্গবন্ধুর কোনো একক বা গুরুত্বপূর্ণ ছবি সংগ্রহশালায় রাখা হয়নি। তবে ১৯৭৪ সালে তার দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত তিনটি পেপার কাটিং রাখা হয়েছে।


ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা, আগরতলা মামলা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন কিংবা ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি সেখানে চোখে পড়েনি।


জানতে চাইলে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর ফ্যাসিবাদের সব আইকনের ছবি এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাই এখানে রাখা হয়নি। আর ৭২-৭৫ সালের অংশে তো তার ছবি আছে।


কিন্তু ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল অংশে কেন নেই, এ প্রশ্নে জুমা বলেন, “ইচ্ছা হয়নি, তাই রাখিনি।”


তাহলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি কেন রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি জিন্নাহর ছবি রাখিনি, সেই ইভেন্টের ছবি রেখেছি।”


২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনের আগেও বঙ্গবন্ধুর বেশকিছু ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় ছিল।


ডাকসু নির্বাচনের আগের দিন ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনেও ডাকসু সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধুর একাধিক ছবি সংবলিত চিত্র প্রকাশ হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাকসুর এক কর্মচারী বলেন, “২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির জয়ী হওয়ার পর সেই ছবিগুলো সেখান থেকে সরিয়ে ফেলেছে।”


সংগ্রহশালায় আরও যা যা আছে


১৯৪৭—১৯৭১


১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদ থেকে শুরু করে সেসময়ের আন্দোলনের কিছু দৃশ্য এবং মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ কবিতাসহ ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক পিয়ারু সরদারের ছবি সেখানে রাখা হয়েছে।


মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের কমান্ডার, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ কয়েকজনের বুদ্ধিজীবীদের মুখাবয়ব, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি স্থান পেয়েছে সংগ্রহশালায়। এসব ছবির নিচের দিকে মুক্তিযুদ্ধে একটি খোদাই চিত্র আছে, যেখানে বঙ্গবন্ধুও আছেন।


১৯৭১—১৯৮১


১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত তিনটি পেপার কাটিং বাঁধাই করে রাখা হয়েছে। ‘বাংলাদেশে কোনো বিরোধীদল নেই’শীর্ষক সংবাদের পেপার কাটিং এবং চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের দুটি ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে।


আর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের ছবি হিসেবে খাল খননের দৃশ্য; খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের একসঙ্গে একটি স্থিরচিত্র; জিয়াউর রহমানের যুদ্ধের সময়ের দুটি ছবি এবং ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারের একটি ছবি সেখানে স্থান পেয়েছে।


স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন


হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ১৪টি স্থিরচিত্র সেখানে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—শহীদ নূর হোসেনের শরীরে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তিপাক’ লেখা সেই আইকনিক ছবি। এছাড়া ডাকসুর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত শহীদদের তালিকা, শহীদ আসাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যসহ আরও কয়েকটি ছবি সেখানে রাখা হয়েছে।


২০০৯—২০২৪


২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগ আন্দোলন, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ও সানি হত্যাকাণ্ড, ২০২০ সালের মোদী বিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ছবি সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বিশেষ কোনো স্থিরচিত্র পাওয়া যায়নি।


সাহিত্যিক যারা আছেন


ডাকসুর সংগ্রহশালায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে হুমায়ুন আহমেদ, কবি জসীমউদ্দিন, আবুল কাশেম ফজলুল হক, মুনীর চৌধুরী, আবুল ফজলসহ বরেণ্য সাহিত্যিকদের ছবি স্থান পেয়েছে।


হাদীও আছেন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর থেকে লাশ আনা, জানাজা এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফনের ছবি।


ডাকসু বোর্ড


ডাকসু বোর্ডে ২০১৯ সালে নির্বাচিত সহ-সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম লেখা হলেও সাধারণ সম্পাদকের নাম খালি রাখা হয়েছে। সেই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।


পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে ছাত্রত্ব না থেকেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন তার পদ বাতিল করে ওই মেয়াদে ডাকসুর জিএস ঘোষণা করেন রাশেদ খাঁনকে, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর দায়িত্বে রয়েছেন।


কেন সেই ঘর খালি রাখা হয়েছে জানতে চাইলে ডাকসুর বর্তমান জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “রাব্বানী ও রাশেদ খাঁন—দুজনেরই বিষয়ে বিতর্ক আছে। কারণ রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে, ঠিক আছে। কিন্তু সেই ডাকসু কমিটির তো মেয়াদ শেষ।


“এখন কারো নাম ঘোষণা করলে সেই জিএস হয়ে গেছে এমন না। এক্ষেত্রে তাদের দুজনের যেহেতু বিতর্ক আছে, তাই আমরা খালি রেখেছি।”


যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা


সবশেষ ডাকসু নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা নেতৃত্বাধীন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন নূমান আহমাদ চৌধুরী।


মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদে ভোট করা নূমান বলেন, “শুনলাম ডাকসু সংগ্রহশালার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন করে সাজানো হয়েছে। তবে একটিবারের জন্যও ওদিকে যাবার আগ্রহ হয়নি।


“কারণ জানি যে সংস্কার কাজ করেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত থাকা সংগঠন ‘পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘ’র (পরিবর্তিত নাম ইসলামী ছাত্রশিবির) প্যানেল।”


তিনি বলেন, “তাদের করা সংস্কার কীরকম হতে পারে, সেটা আগে থেকেই অনুমান করা যায়। লোকমুখে জানতে পারলাম, সেখান থেকে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলে পাকিস্তানের জাতির পিতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টাঙানো হয়েছে; যেই জিন্নাহ শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে বেঈমানি করে তার লাহোর প্রস্তাব কাঁটছাট করে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষকে একাত্তরের বিভীষিকার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন।”


নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, “ডাকসু মুজিবের ছবি রেখেছে, তবে মুজিবের জীবনের যে অধ্যায়টা বিতর্কিত—সেই সময়ের ছবি রেখেছে। কিন্তু যে মুজিবকে সামনে রেখে পুরো বাঙালি জাতি মুক্তিসংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেই মুজিবকে সরিয়ে ফেলেছে।


“ওরা আপামর বাঙালির নেতা শেখ মুজিবকে মুছে দিয়ে শুধু তার বিতর্কিত অধ্যায়টা রাখতে চায়; কারণ তাকে মুছে দিতে পারলে ও বিতর্কিত করতে পারলে বাংলাদেশের জন্মকে ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। ১৯৭১ এ পরাজয়ের জ্বালায় একটু প্রলেপ দেওয়া যায়।”


তিনি বলেন, “একাত্তর পূর্ববর্তী সময়ে পাকিস্তানি শাসকদের এক নম্বর পূর্ববঙ্গীয় শত্রু ছিলেন শেখ মুজিব। তাদের উত্তরসূরিদের ক্ষেত্রেও তাই হওয়াটাই স্বাভাবিক। স্বাধীনতার পর শিবিরের আদি পিতা যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম চেষ্টা করেছিলেন ভেঙে দুই টুকরা হয়ে পাকিস্তানকে পুনরায় জোড়া লাগানোর। গোলাম আযমের উত্তরসূরিরা যে তার সেই পরিকল্পনা থেকে এখনো সরে আসেনি, ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে ফেলাই তা প্রমাণ করে।”


ডাকসুর সাবেক এক নেতা  বলেন, “এর আগে কখনো জিন্নাহর ছবি ডাকসুতে ছিল না। ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্র সংসদে আসার পর এ ছবি যুক্ত করেছে।”


ডাকসু সংগ্রহশালায় এখন কোনো তত্ত্বাবধায়ক নেই। এর আগে গোপাল চন্দ্র দাস নামে একজন ছিলেন, যাকে সবাই ডাকসুর গোপাল দা নামেই চেনেন। তিনি কয়েক বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।


গোপালচন্দ্র দাসকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আলী জিন্নাহর ছবি জীবনেও ছিল না। আমি ১৯৯১ সাল থেকে এখানে কাজ করি। এ সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা থেকে আমি সব দুর্লভ ছবিগুলো সংগ্রহ করেছি। ভাষা আন্দোলনের আমগাছটাও আমার সংগ্রহ করা। আর আলী জিন্নাহর থাকবেই বা কেন? বাংলাদেশকে আজ পাকিস্তান বানিয়েছে শিবির।”


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নেই শুনতেই গোপালচন্দ্র দাস বলেন, “হায় হায়, এখানে অনেক রেয়ার কিছু ছবি ছিল। তাও শেষ করে ফেলছে শিবির! কী আর বলব!"


অভিযোগের বিষয়ে শিবিরের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে ।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ পিএম

কৃষিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একদল শিক্ষক ও তরুণ গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে তৈরি রিমোট সেন্সিংভিত্তিক নির্ভুল নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘N-FertiSmart’। 


গবেষকদের দাবি, প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা গেলে প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করা সম্ভব। 


গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। 


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ ‘N-FertiSmart: Remote Sensing Based Precision Nitrogen Management for Sustainable Agriculture in Bangladesh’ শীর্ষক প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. আতাউল গনি ও ড. এ এম এম গোলাম আদম এবং সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কাজ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে দুই বিভাগের তরুণ গবেষক বিপ্লব বিশ্বাস ও মো. নাজিম শরিফও যুক্ত রয়েছেন। 


গবেষকরা জানান, প্রচলিত ‘Fertilizer Recommendation Guide-2024’ (FRG-2024) অনুযায়ী প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। তবে N-FertiSmart প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার হিসাব করে গবেষণায় প্রতি হেক্টরে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের পরিমাণ ১৩৫ দশমিক ৭০ কেজিতে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এতে প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করা সম্ভব বলে দাবি গবেষকদের। 


গবেষকদের ভাষ্য, অনেক কৃষক বেশি নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়বে এমন ধারণা থেকে সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়েও বেশি সার ব্যবহার করেন। কিন্তু ফসলের গাছ প্রয়োজনের অতিরিক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত সার মাটিতে থেকে যায় কিংবা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। 


গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, নাইট্রোজেন সারের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ডিনাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় হারিয়ে যেতে পারে। এতে একদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে পানিদূষণ, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। 


গবেষকরা আরও জানান, বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষিজমি প্রতিবছর কোনো না কোনোভাবে প্লাবিত হয়। প্লাবনের ফলে মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি উপাদানের অবস্থায় পরিবর্তন ঘটে। ফলে কয়েক বছর পরপর প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত সার প্রয়োগের সুপারিশ সব এলাকার পরিবর্তিত মাটির অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। 


এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই N-FertiSmart-এ স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার ও নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যাবে। ফলে জমির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। 


গবেষকদের মতে, প্রচলিত সার সুপারিশ নির্দিষ্ট সময় পরপর হালনাগাদ করা হলেও স্যাটেলাইটভিত্তিক এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিবছর জমির অবস্থা ও সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার বিবেচনায় নিয়ে নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক অতিরিক্ত সার প্রয়োগ এড়াতে পারবেন। একই সঙ্গে সার ব্যবহারের দক্ষতা বাড়বে, কৃষকের খরচ কমবে এবং পরিবেশে নাইট্রোজেনের অপচয় ও দূষণও কমানো সম্ভব হবে। 


গবেষক দলের সদস্য ও জবির সিএসই বিভাগের মাস্টার অব সায়েন্সের শিক্ষার্থী বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে N-FertiSmart প্রকল্পটি নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী ও গর্বিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, রিমোট সেন্সিং এবং ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তিকে একত্রিত করে বাস্তব কৃষি সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষণার সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে মাঠপর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার সুযোগ পাওয়া।” 


তিনি বলেন, “এই প্রকল্প শুধু নাইট্রোজেন সার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নয়, বরং কৃষকের খরচ কমানো, সার ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষি গড়ে তোলার একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ।” 


গবেষক দলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. এ এম এম গোলাম আদম বলেন, “বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। উদ্ভিদের ফলনের জন্য নাইট্রোজেন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। আমাদের দেশে স্থান, মাটির প্রকৃতি ও ফসলভেদে নাইট্রোজেনের সুপারিশকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু তা প্রতিবছর হালনাগাদ হয় না। আমাদের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবছর সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার নির্ণয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারব।” 


তিনি বলেন, “এর ফলে কৃষকদের সারের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় লাঘব করে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। একইভাবে দেশে সারের ঘাটতি কমানো, পরিবেশদূষণ রোধ এবং জাতীয়ভাবে কৃষি খাতকে অনেকাংশে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।” 


নিজেদের উদ্ভাবন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে অধ্যাপক গোলাম আদম বলেন, “আমি সত্যিই অনেক ভালো অনুভব করব যদি আমরা আমাদের এই উদ্ভাবনকে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। আর এটি তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে বড় পরিসরে আমাদের উদ্ভাবনকে বাস্তবে সকল কৃষকের জন্য উন্মুক্ত করতে পারব। কৃষকরা আমাদের সবার জন্য সারা বছর কাজ করেন, আহারের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের জন্য কিছু করতে পারা সত্যিই আমাদের জন্য একটি অনন্য অর্জন।” 


প্রকল্পটির কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রযুক্তিগত অংশের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ও ডেটা বিশ্লেষণকে কাজে লাগিয়ে কৃষিজমির অবস্থাভেদে নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা সম্ভব। এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।” 


তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।” 


গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।” 


তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।” 


অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।” 


নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।” 


এখন কবে নাগাদ প্রযুক্তিটির মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কৃষিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা। 


এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।” 


তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।” 


গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।” 


তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।” 


অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।” 


নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।” 


তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।” 


গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।” 


তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।” 


অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।” 


নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।” 


এখন কবে নাগাদ প্রযুক্তিটির মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কৃষিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।


বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে কুবির উদ্ভাবনী প্রকল্প

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৯ পিএম

গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত এ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে শিক্ষার্থীদের তৈরি তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে।


শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (এমপি)। অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


মেলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে প্রদর্শিত তিনটি প্রকল্পই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উদ্ভাবন। এর মধ্যে শাকিরুল ইসলামের তৈরি স্মার্ট হুইলচেয়ার মুখের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে চলতে সক্ষম। হাত-পা অচল হলেও মুখের নড়াচড়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্বনির্ভর চলাচল নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।


রায়হান হোসেন রিফাতের উদ্ভাবিত ‘যুক্তি’ একটি বাংলাভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা, যা প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় প্রোগ্রামিং শেখার সুযোগ করে দেবে। অন্যদিকে, জাহিদুর রহমানের ‘আমার প্রশ্ন’ (Amar Prosno) একটি প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, ওএমআর এবং ওএমআর প্রক্রিয়াকরণসহ ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের সমন্বয় করছেন ফোকাল পয়েন্ট ড. মাহমুদুল হাছান এবং সহ-ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মেহেদী হাসান।


অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. এম. শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের ফোকাল পয়েন্ট ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মাহমুদুল হাছান বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে আমরা তিনটি প্রজেক্ট প্রদর্শন করছি। মেলায় আগত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মাঝে আমাদের এই উদ্ভাবনগুলো বেশ আলোড়ন তুলেছে। তারা গবেষণাগুলোর কার্যকারিতা ও বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”


তিনি আরও বলেন, “একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি করার সময় সেটি দেশের কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে কি না, তা বিবেচনায় রাখা উচিত। একই সঙ্গে এসব প্রকল্প শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করে।”


উল্লেখ্য, ‘ইনোভেট টু মার্কেট' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর নভোথিয়েটারে চলবে।