এমসিজে নিউজের সিএনই ফরহাদ মিয়া কাউছার

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৪ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নিজস্ব মিডিয়া প্লাটফর্ম এমসিজে নিউজ এর চিফ নিউজ এডিটর (সিএনই) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ মিয়া কাউছার।

‎রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এমসিজে নিউজ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক সাংবাদিকতা চর্চার একটি নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসভিত্তিক সংবাদ, ফিচার, প্রতিবেদন ও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি করে বাস্তব সংবাদমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

নবনিযুক্ত সিএনই ফরহাদ মিয়া কাউছার বলেন, "আমরা সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যা পড়ি তার বাস্তব প্রয়োগের জায়গা এমসিজে নিউজ। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে আমরা সাংবাদিকতা চর্চা করি। এমসিজে নিউজ একটি জনপ্রিয় মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এটার চিফ নিউজ এডিটর অর্থাৎ সিএনই'র দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য সম্মানের এবং ভালো লাগার বিষয়। বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়র সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমসিজে নিউজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।"


গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: বেলাল হুসাইন বলেন, "এমসিজে নিউজের কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য নতুন সিএনই নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি দেশ বিদেশে বিভাগের ব্রান্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আশাকরি নতুন সিএনই ও তার টিম তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করবে এবং এমসিজে নিউজকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।"



সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে কুবির উদ্ভাবনী প্রকল্প

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৯ পিএম

গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত এ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে শিক্ষার্থীদের তৈরি তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে।


শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (এমপি)। অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


মেলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে প্রদর্শিত তিনটি প্রকল্পই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উদ্ভাবন। এর মধ্যে শাকিরুল ইসলামের তৈরি স্মার্ট হুইলচেয়ার মুখের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে চলতে সক্ষম। হাত-পা অচল হলেও মুখের নড়াচড়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্বনির্ভর চলাচল নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।


রায়হান হোসেন রিফাতের উদ্ভাবিত ‘যুক্তি’ একটি বাংলাভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা, যা প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় প্রোগ্রামিং শেখার সুযোগ করে দেবে। অন্যদিকে, জাহিদুর রহমানের ‘আমার প্রশ্ন’ (Amar Prosno) একটি প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, ওএমআর এবং ওএমআর প্রক্রিয়াকরণসহ ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের সমন্বয় করছেন ফোকাল পয়েন্ট ড. মাহমুদুল হাছান এবং সহ-ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মেহেদী হাসান।


অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. এম. শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের ফোকাল পয়েন্ট ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মাহমুদুল হাছান বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে আমরা তিনটি প্রজেক্ট প্রদর্শন করছি। মেলায় আগত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মাঝে আমাদের এই উদ্ভাবনগুলো বেশ আলোড়ন তুলেছে। তারা গবেষণাগুলোর কার্যকারিতা ও বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”


তিনি আরও বলেন, “একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি করার সময় সেটি দেশের কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে কি না, তা বিবেচনায় রাখা উচিত। একই সঙ্গে এসব প্রকল্প শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করে।”


উল্লেখ্য, ‘ইনোভেট টু মার্কেট' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর নভোথিয়েটারে চলবে।


সর্বশেষ সব খবর

SelfGuard এর উদ্ভাবক ইফতেখার নাহিম

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৯ পিএম

ডিজিটাল যুগে মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি হলো মনোযোগ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনবরত নোটিফিকেশন, রিলস, শর্ট ভিডিও এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্টের কারণে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে সেই মনোযোগ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল আসক্তি দিন দিন বাড়ছে, যা তাদের পড়াশোনা, কর্মদক্ষতা এবং মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।



এই বাস্তবতা বিবেচনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের  ২০১৯-২০ শিক্ষা বর্ষের আইসিটি বিভাগের  শিক্ষার্থী ইফতেখার নাহিম তৈরি করেছেন সেল্ফগার্ড নামের একটি ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যাপ। অ্যাপটির নির্মাতার দাবি, এটি শুধু একটি অ্যাপ-ব্লকার নয়; বরং ব্যবহারকারীদের সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সুস্থ ডিজিটাল জীবনযাপন নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ।



সেল্ফগার্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা জানান, ব্যক্তিগতভাবে কাজ কিংবা কোডিংয়ের সময় বারবার ফোনের নোটিফিকেশন এসে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই অ্যাপটি তৈরির চিন্তা শুরু হয়। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, এই সমস্যা কেবল তার একার নয়; বরং বর্তমান প্রজন্মের অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা।



বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফোকাস ও স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপ থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলোতেই ব্যবহারকারীরা সহজে নিয়ম ভাঙতে পারেন। সেল্ফগার্ডের ক্ষেত্রে 'নো বাইপাস সিকিউরিটির' ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা কার্যকরভাবে বজায় রাখার চেষ্টা করে। নির্মাতার মতে, এটি ব্যবহারকারীদের আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।



অ্যাপটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাইভেসি ফার্স্ট নীতি। নির্মাতা জানান, বর্তমানে অনেক অ্যাপ বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারী তথ্য সংগ্রহ করে ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষণ করে। তবে সেল্ফগার্ড এর ক্ষেত্রে  ব্লক ফিল্টারিংসহ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইসেই সম্পন্ন হয়।



তার দাবি অনুযায়ী, অ্যাপটির অ্যাক্সেসিবিলিটি সার্ভিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য শুধুমাত্র ডিভাইসের ভেতরে রিয়েল-টাইমে প্রক্রিয়াজাত হয় এবং কোনো রিমোট সার্ভারে সংরক্ষণ বা প্রেরণ করা হয় না। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর ব্লক রুলস, কী-ওয়ার্ড, ফোকাস সেশন, স্ট্রিক এবং অন্যান্য তথ্য এসকিউএল সিফার এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা হয়। এছাড়া অ্যাপটিতে কোনো থার্ড-পার্টি বিজ্ঞাপন বা ট্র্যাকিং অ্যানালিটিক্স সংযুক্ত করা হয়নি।



ইফতেখার নাহিম জানান, তিনি অ্যাপটির সাফল্য কেবল ডাউনলোড বা ইনস্টলের সংখ্যায় মূল্যায়ন করে না। বরং ব্যবহারকারীর স্ক্রিনটাইম কমানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করাকেই প্রকৃত সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



গুগল প্লে স্টোরেও অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। একাধিক রিভিউতে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, অ্যাপটি মনোযোগ ধরে রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়াতে সাহায্য করছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২০তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীও অ্যাপটিকে উপকারী বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট থেকে দূরে থেকে মনোযোগ ধরে রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর। এ ছাড়া আরেকজন ব্যবহারকারী জানান, ডিভাইসে অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট ব্লক করতেও অ্যাপটি কার্যকরভাবে কাজ করছে। অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিটি রিভিউয়ের জবাবে ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং প্রতিক্রিয়াগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আগ্রহীরা চাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.selfguardapp.android



ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সেল্ফগার্ডের প্রতিষ্ঠাতা  ইফতেখার নাহিম বলেন, 'নিজের গোপনীয়তা শতভাগ সুরক্ষিত রেখে অ্যালগরিদমের হাত থেকে নিজের সময় ও স্বপ্নের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যই সেল্ফগার্ড।'


 তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে সেল্ফগার্ড-কে একটি সাধারণ মোবাইল অ্যাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ের 'ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং মুভমেন্ট' এ পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২০ পিএম

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরিষ্কার এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের ১ নং যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সরদারের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী।


আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা থেকে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে এমন স্থানগুলো পরিষ্কার করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করা এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ক্যাম্পাসের সব অংশীজনকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখা গেলে মশার প্রজননস্থল কমানোর পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পরিবেশও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব হবে।


তারা আরও বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এছাড়াও ছাত্রদলের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 


তাদের মতে, ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এমন কর্মসূচি জনসচেতনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"


তিনি বলেন, "একদিনে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।" 


এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ক্যাম্পাস নয়, নিজ নিজ বাসাবাড়ির আশপাশও পরিষ্কার রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে এবং মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


এছাড়াও রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার না চালিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ, আরিফুল ইসলাম আরিফ, ইয়াসির আরাফাত, মনির হোসেন, রায়হান হোসেন অপু, আল আমিন সোহেল, রবিন মিয়া শাওন, মেহেদী হাসান এবং আহ্বায়ক সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয়, রাহাত হাসান, মেহেদী হাসান ইমন, মেহেদী হাসান সাগর, মনির হোসেন শান্ত, লিমন, মাসফফিক, মনির, মিঠু, রেদোয়ান রুবায়েত, নাইমুর, নাইম, সাইফুল, কামরুল, ইভান, আশরাফুল, আবু হুয়াইয়া, আকরাম, সৌরভ, সাব্বির, মালেক, রায়হান, মামুন, মিথীল, সিয়ামসহ সংগঠনটির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হল প্রভোস্ট বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে শাহ আজিজুর রহমান হল শাখা ছাত্রশিবির।


শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. এটিএম মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতিতে     স্মারকলিপি গ্রহণ করেন হাউজ টিউটর সহযোগী অধ্যাপক মো. আনারুল ওহাব শাহিন।


স্মারকলিপিতে শাহ আজিজুর রহমান হলে দীর্ঘদিন পর সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রদানের পরও কার্যক্রম বিলম্বিতের অভিযোগ উল্লেখ করে পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলে—অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ ও মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিতকরণ, স্থায়ী সিট বন্টন নীতিমালা প্রণয়ন, প্রশাসন কর্তৃক নিয়মিত সিট বরাদ্দ, হলের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিশ্চিতকরণ।


হল শাখা শিবির সভাপতি শাহ মো. মারুফ হাসান বলেন, "২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে হলে কোনো অ্যালোটমেন্ট দেওয়া হয়নি; বর্তমানে চলমান অ্যালোটমেন্টের সময়সীমাও ২০ আগস্ট থেকে বাড়িয়ে ২০ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে—তাহলে সিট বণ্টনে এত দীর্ঘসূত্রতা কেন? অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত অপসারণ করে মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ন্যায্য আবাসন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।"


হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. এটিএম মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে  পাওয়া যায় নি।


হাউজ টিউটর সহযোগী অধ্যাপক মো. আনারুল ওহাব বলেন,"প্রভোস্ট ছুটিতে আছেন। আমি স্মারকলিপি রিসিভ করেছি। প্রভোস্ট আসলে আমরা বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।"

সর্বশেষ সব খবর

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৩ পিএম

শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফেরায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।


বহিষ্কৃত শিক্ষকরা হলেন কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে.বি.এম. সাইফুল ইসলাম।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফেরায় ওই শিক্ষকদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তাঁরা সন্তোষজনক জবাব দেননি। পরে বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হলে তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।


এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তাঁরা মন্তব্য করতে রাজি হননি।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০০ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফকে মারধর এবং তার আবাসিক হলের কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।


আহত শিক্ষার্থীরা হলেন ২৩ ব্যাচের মো. রাতুল হাসান রুম্মান ও ২১ ব্যাচের হোসাইন শরীফ। এ ঘটনায় রাতুল হাসান রুম্মান শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে কক্ষ ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট হওয়া মালামালের বিষয়ে পৃথক মামলা করার কথা জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফ।


‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে সূত্রপাত


সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান রুম্মান ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হোসাইন শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। তাঁকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।


রাতুলের ভাষ্য, ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি হোসাইন শরীফকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলে লিফটটি ধরতে বলেছিলেন। এতে শরীফ তাঁর পরিচয় জানতে চান এবং তাঁকে লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরে রাতে শেরেবাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে দুপুরের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়।


রাতুল অভিযোগ করেন, ২১ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মারুফের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে হোসাইন শরীফ তাঁকে বকাঝকা ও মারধর করেন। এতে তাঁর কপাল কেটে রক্তপাত শুরু হলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।


তবে হোসাইন শরীফের দাবি, দুপুরের ঘটনার পর রাতে রাতুলসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। তাঁরা তাঁর পরিচয় জানতে চান এবং একপর্যায়ে তাঁকে আঘাত করেন। নিজেকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর হাত লেগে রাতুলের কপাল কেটে যায় বলে দাবি করেন তিনি।


ঘটনাস্থলে ছাত্রদল নেতার উপস্থিতি, পরে উত্তেজনা


রাতুল হাসান রুম্মান ১৭ ব্যাচের ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসারী বলে জানা গেছে। রাতের ঘটনার একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


জিবরাইল শরীফ বলেন, ‘আমি শেরেবাংলা হলের সামনে ছিলাম। হলের ভেতর হইচই শুনে সেখানে গিয়ে দেখি, আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর সিনিয়রের কোনো একটি বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ ও তাঁর ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে হলের গেস্টরুমে বসতে চেয়েছিলাম।’


ঘটনার এপর্যায়ে ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।


অন্যদিকে, হোসাইন শরীফের অভিযোগ, জিবরাইল শরীফ অন্তত ১৫ জনকে নিয়ে এসে তাঁর কলার ধরে তাঁকে হলের বাইরে নিয়ে যান। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয় এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।


নেতার কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ


জিবরাইল শরীফ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর একদল শিক্ষার্থী তাঁকে না পেয়ে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলে গিয়ে তাঁর কক্ষে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কক্ষের আসবাব ও ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে তছনছ করা হয় বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে, উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিজয়-২৪ হলে গিয়ে রাতুল হাসান রুম্মানের কক্ষে প্রবেশ করে তাঁর বিছানা ও ব্যবহার্য সামগ্রী বাইরে ফেলে দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।


নিজের কক্ষ ভাঙচুরের বিষয়ে জিবরাইল শরীফ বলেন, ‘কিছু ছেলে কারও উসকানিতে হলে এসে রুম ভাঙচুর করেছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ক্যাম্পাসকে স্থিতিশীল রাখতে ও শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এসব মববাজ ও ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’


প্রশাসন যা বলছে


ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে বসব। ইতোমধ্যে সকালে এক পক্ষের সঙ্গে বসেছি। দুপুরে আরেক পক্ষের সঙ্গে বসব।’


কক্ষ ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার দিকে আমরা এগোচ্ছি।’


থানায় যোগাযোগের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম। আমরা যদি ঘটনাটি মীমাংসা করে ফেলতে পারি, তাহলে বাইরের হস্তক্ষেপের আর প্রয়োজন হবে না।’

সর্বশেষ সব খবর