গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নসহ শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার এর সভাপতিত্বে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা জামিল আহমেদ, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম, উপজেলা তথ্য আপ ছোয়া তামান্না, আইটি এক্রপার্ট তাওহিদ, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। বিবৃতিতে আগামী শনিবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই দিন সকাল ৫টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়।
সংগঠনটি ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির সাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ ও ঘরবাড়ি-দোকান, ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা শান্তিপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অবরোধ ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অবরোধের সময় অ্যাম্বুলেন্স, রোগী ও লাশবাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন ও সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের’ ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে আটকে পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক।
পুলিশ জানায়, এসব পর্যটককে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পথে সাজেক উজো বাজার এলাকায় আসলে অবরোধকারীরা আটকে দেয়। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যাপী আটকা পড়েন সাজেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের উপর অবরোধকারীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এক পর্যায়ে পর্যটক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা। পরে পর্যটক ও সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। এসময় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গোলাগুলির ঘটনার পরে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।
তিনি আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনার আগে অবরোধকারীদের এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ৬ সদস্য আহত হন।
রংপুর মেডিকেলে আগুন
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচ তলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগলে ভয়াবহ ধোয়া আর আগুনের কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ ভয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় অন্তত ৪০ জন রোগী আহত হয়েছেন। এ সময় পুরো হাসপাতাল জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এদিকে হাসপাতালে বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ঘটনায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর কয়েকটি ওয়ার্ডে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলেও নেফ্রোলজি, হৃদরোগ, গাইনি, কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড অন্ধকারে। ফলে জরুরি অপারেশন ও সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাসপাতালের নিচ তলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো হাসপাতালে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচতলা থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালের বাইরে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় পড়ে গিয়ে অন্তত ৪০ জন আহত হন।
বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়, হৃদরোগ বিভাগ, প্যাথলজি ওয়ার্ড, চর্ম ও যৌন ওয়ার্ড, কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড, নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে রোগীরা প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিতীয় তলায় নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী সফিউল আলমকে কোলে করে দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানোর সময় তার দুই ভাতিজা পড়ে গিয়ে আহত হন। ওই সময় কিডনী রোগী সফিউলও আহত হন। ওই ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ জন রোগী তাড়াহুড়া করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে আহত হন। অপরদিকে গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ও সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুদের নিয়ে তিনতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে।
গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী মমতাজ বেগম জানান ৫ দিন আগে তার শিশু কন্যার জন্ম হয়েছে। আগুন লাগার খবর শুনে তিনি তার শিশু সন্তানকে নিয়ে নিচে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হন।
এ ছাড়াও লোহার জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি দিয়ে অনেকেই নিচে নামেন। এ সময় পদদলিত হয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, বিদ্যুতের শট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।
সিলেটের তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে জৈন্তাপুর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমেদকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে কামাল আহমেদ ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে উপস্থিত হন। এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর গোয়াইনঘাট থানার অধীন তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির চার সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। পরে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে জৈন্তাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দিদারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে জৈন্তাপুর থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, কামাল আহমেদ থানা হেফাজতে আনা হয়। যাচাই-বাছাই করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরন করা হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস সিলেন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু এবং মেয়ের আশঙ্কাজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে তানিশা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহতরা হলেন লাল চাঁন মিয়া (৬০) ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম (৫০)। তারা টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নং ওয়ার্ডের মুদাফা এলাকার মাস্টার বাড়ি জনৈক ফখরুল ইসলামের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকাল ৬টার দিকে রান্নার চুলা জ্বালাতে গেলে ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান দম্পতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের মেয়েও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল আজিজ (৩২) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আরিচপুর বউ বাজার গাজীবাড়ি এলাকার জনৈক আব্দুর রহমান বাবুর বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল আজিজ দিনাজপুর জেলার কাহারুল থানার সুন্দইল গ্রামের মোঃ জরু মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে টঙ্গীর বউ বাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বহুতল ভবনের প্লাস্টারের কাজ করার সময় ঘরের ভিতর অন্ধকার ছিল। অন্ধকার দূর করতে আব্দুল আজিজ একটি বৈদ্যুতিক বাতির লাইন দিতে যান। এ সময় তিনি অসাবধানতাবশত শর্ট সার্কিটের শিকার হয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। উপস্থিত অন্য শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)মোঃ মুন্নাফ আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান এবং নিহতের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,খবর পেয়েই ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলি প্রেরণ করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রুমিন ফারহানা
সম্প্রতি একটি পূজামণ্ডপে পরিদর্শনে গিয়ে ভক্তি প্রদর্শনের পর ফেসবুকে পোস্ট করে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সনাতন ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি তালিকাভিত্তিক পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ ও অন্যায়ের উদাহরণ টেনে ব্যঙ্গাত্মক বা কটাক্ষের সুর তুলে ধরা হয়।
তিনি লেখেন, ‘১. বলাৎকারে ধর্ম যায় না, ২. ঘুষ খেলে ধর্ম যায় না, ৩. শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতনে ধর্ম যায় না, ৪. মানুষ খুনে ধর্ম যায় না, ৫. নারীর ওপর সহিংসতায় ধর্ম যায় না, ৬. নারীকে কুৎসিত অপবাদ দিলে ধর্ম যায় না, ৭. অন্যের সম্পদ লুট করলে ধর্ম যায় না, ৮. প্রতারণা আর মানুষ ঠকালে ধর্ম যায় না, ৯. সারাবেলা মিথ্যার চাষে ধর্ম যায় না, ১০. নোংরামি করে ধরা পড়ে মুতা বিয়া বললে ধর্ম যায় না, ১১. মুনাফেকিকে জীবনের মূল মন্ত্র বানালে ধর্ম যায় না, ১২. ধর্মকে ব্যবসা বানালে ধর্ম যায় না, ১৩. বোনের হিস্যা ভাই মারলে ধর্ম যায় না, ১৪. বাবা মাকে বৃদ্ধ বয়সে ভাগাড়ে ফেললে ধর্ম যায় না, ১৫. অন্যের হক মেরে খেলে ধর্ম যায় না, ১৬. মিথ্যার বেসাতিতে ধর্ম যায় না, ১৭. ধর্মকে ঢাল বানিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হলে ধর্ম যায় না, ১৮. ওজন বা মাপে কম দিলে ধর্ম যায় না, ১৯. খাদ্যে ভেজাল এমন কি বিষ মেশালেও ধর্ম যায় না, ২০. ব্যভিচারে ধর্ম যায় না, ২১. দুর্বলের ওপর অত্যাচারে ধর্ম যায় না, ২২. দুষ্টের লালন পালনে ধর্ম মজবুত হয়।’
পোস্টের শেষে তিনি যোগ করেন, ‘ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।’ একইসঙ্গে নেটিজেনদের তাকে নিয়ে বানানো ছবি (আটভুজা) শেয়ার করে বিশেষ দ্রষ্টব্য (বি.দ্র.) হিসেবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা ও প্রতিমা প্রসঙ্গে মন্তব্য করে লেখেন, ‘মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কি আর করা।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার আশুগঞ্জের লালপুরের সূর্য কান্দি দাস পাড়ার পূজামণ্ডপে তিনি দেবী মায়ের প্রতিমার প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।