ছবি: সংগৃহীত।
'চলতি সপ্তাহেই' প্রকাশিত হতে যাচ্ছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল। এ বছর ৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হবেন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বা মেধাবৃত্তি এবং ৩১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন।
বুধবার এ জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার 'সম্ভাবনা' রয়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার জানিয়েছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, যা শেষ হয় ৫ জানুয়ারি। ২০২৫ সালে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর পরীক্ষার ফল প্রক্রিয়া করছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার সোমবার দুপুরে বলেন, "বৃত্তি পরীক্ষার ফল চলতি সপ্তাহেই প্রকাশিত হওয়ার কথা আছে। আমরা ইতোমধ্যে বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ পেয়েছি। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুতই ফল বা বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা সম্বলিত গেজেট প্রকাশ করা হবে।"
৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জুনিয়র বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার সোমবার দুপুরে বলেন, "১৪ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি ও ৩১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে সাধারণ বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বৃত্তির কোটা বণ্টন করা হয়েছে।
"মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে এককালীন ৫৬০ টাকা ও প্রতিমাসে ৪৫০ টাকা হারে বৃত্তি পাবেন। আর সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে ৩৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা পাবেন। আগামী দুই বছর তারা এ সুবিধা পাবেন। বুধবার বৃত্তি পরীক্ষার ফল বা বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকাসহ গেজেট প্রকাশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে।"
বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডের ৩ হাজার ৬৩৫ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৭ হাজার ৭৯০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন। ময়মনসিংহ বোর্ডের ৯৬৭ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৭৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি রাজশাহী বোর্ডের ১ হাজার ৯২৬ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৪ হাজার ১২৮ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, কুমিল্লা বোর্ডের ১ হাজার ৬৭৭ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৯৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, সিলেট বোর্ডের ৯৪৮ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৩০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি এবং বরিশাল বোর্ডের ৮৭৩ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ১ হাজার ৮৭১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন।
এছাড়া যশোর বোর্ডের ১ হাজার ৬৬২ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৬১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, চট্টগ্রাম বোর্ডের ১ হাজার ২১০ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৫৯৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি এবং দিনাজপুর বোর্ডের ১ হাজার ৮০২ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৮৬১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন।
অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ভিত্তিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়ে আলাদা আলাদা পরীক্ষা হলেও বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা হয় একসঙ্গে। বৃত্তি পরীক্ষার মোট নম্বর ৪০০। বাংলায় ১০০, ইংরেজিতে ১০০, গণিতে ১০০, বিজ্ঞানে ৫০ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা হয় ৩ ঘণ্টা সময়ে।
গত ২৮ ডিসেম্বর বাংলা, ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি, ৩০ ডিসেম্বর গণিত এবং ৫ জানুয়ারি বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার এক যুগ
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় একটি নতুন নাম, রোভার স্কাউট গ্রুপ। একই বছরের ২১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা এক যুগের গৌরবময় পথচলায় পরিণত হয়েছে। গত ১২ বছরে সংগঠনটি শুধু একটি স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হয়েছে।
রোভার স্কাউটিং এমন একটি আন্দোলন, যেখানে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়। দলগত কাজ, আত্মনির্ভরশীলতা, সময়ানুবর্তিতা, সংকট মোকাবিলা এবং সমাজসেবার মতো মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।আজ আমরা জানবো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটের সেবা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার ইতিহাস, ঐতিহ্যের দীর্ঘ পথচলার গল্প।
বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি হিসেবে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। গ্রুপ সম্পাদক ও রোভার স্কাউট লিডার (আরএসএল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লোক-প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়া উদ্দিন। গার্ল-ইন-রোভার স্কাউট লিডার হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদ হাসান কানন এবং গার্ল-ইন সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে রয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবিহা সুলতানা বেলী।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী রোভার স্কাউট সদস্য হতে হলে প্রথমে মৌলিক প্রশিক্ষণ ও দীক্ষা গ্রহণ করতে হয়। এরপর ধাপে ধাপে ডে ক্যাম্প, সার্ভিস ক্যাম্প, হাইকিং, নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন সদস্য দক্ষ রোভারে পরিণত হন।এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তারা শুধু স্কাউটিংয়ের নীতি নয়, বরং বাস্তব জীবনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দায়িত্ব পালন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও অর্জন করেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভারদের কাজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও মানবিক দুর্যোগে তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার সহায়তা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়। পাশাপাশি রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও সংগঠনটির সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।
জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্কাউটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন। উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের মধ্যে রয়েছে সুবর্ণ জয়ন্তী রোভার মুট-২০২৪, দ্বিতীয় ইন্দো-বাংলা স্কাউট ফ্রেন্ডশিপ ক্যাম্প, ৩২তম এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল জাম্বুরি এবং ১১তম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরি। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের হজ ক্যাম্পে প্রতিবছর স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সেবা প্রদানও তাদের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের একটি অংশ।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও বিভাগীয় প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারে অংশ নিয়ে সদস্যরা নিজেদের দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করছেন।
রোভার সদস্যদের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অর্জনগুলোর একটি হলো প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট (পিআরএস) অ্যাওয়ার্ড। নির্ধারিত প্রশিক্ষণ, সেবা ও দক্ষতার শর্ত পূরণকারী সদস্যরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে এ সম্মাননা গ্রহণের সুযোগ পান। এটি একজন রোভারের নেতৃত্ব ও সেবার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সিনিয়র রোভারমেট সাঈদ হাসান কানন বলেন, “রোভার স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে তারা দলগত কাজ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। বন্যা ও অন্যান্য মানবিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের লক্ষ্য দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সিনিয়র রোভারমেট সাঈদ হাসান কানন বলেন, “রোভার স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে তারা দলগত কাজ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। বন্যা ও অন্যান্য মানবিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের লক্ষ্য দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।”
গ্রুপ সম্পাদক ও রোভার স্কাউট লিডার (আরএসএল) লোক-প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের এক যুগপূর্তি আমাদের জন্য গর্বের একটি মাইলফলক। ২০১৪ সাল থেকে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আমি দেখেছি, কীভাবে এটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
রোভার স্কাউটিংয়ের মূল দর্শন ‘সেবা’। দুর্যোগে সহায়তা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের রোভাররা বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনেও তারা স্কাউটিংয়ের আদর্শ ধারণ করে সমাজ ও দেশের কল্যাণে আরও কার্যকর অবদান রাখবে।”
১২ বছরের পথচলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ অসংখ্য শিক্ষার্থীকে নেতৃত্বের শিক্ষা দিয়েছে, মানবিক কাজে যুক্ত করেছে, ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মুহূর্তে সংগঠনটির প্রত্যাশা, আগামী দিনেও আরও বেশি শিক্ষার্থীকে স্কাউটিংয়ের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে সেবা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়া।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে শাখাটির সভাপতি হিসেবে টাইমস টুডের প্রতিনিধি মো. ইকবাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাহমিনা আক্তার মীমের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।
নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন ফারজানা ইয়াছমিন শ্রাবণী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আফসান জানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও খবরের কাগজের প্রতিনিধি মো. তাসনিম হক রাফি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ ইবনে শহিদ, অর্থ সম্পাদক গোলাম রাসূল ইকরা, দপ্তর সম্পাদক ও এশিয়া পোস্টের প্রতিনিধি মো. রবিউল ইসলাম এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক ফারজানা আঞ্জুম বর্ষা।
এ ছাড়া প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক সাকিবুন নাহার, সাহিত্য প্রকাশনা ও পাঠচক্র সম্পাদক সেলিনা আক্তার শেলী, প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ, উপ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ তুর্জয় এবং তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সামিহা আক্তার জুঁই দায়িত্ব পেয়েছেন।
সম্পাদনা পর্ষদে রয়েছেন আরফান উদ্দিন ও ইসতিয়াক আহমেদ। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ইরিন জাহান ইকরা ও সামিয়া সুলতানা সাবনম।
নবনির্বাচিত সভাপতি ইকবাল হোসেন এর আগে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার মীমও এর আগে সংগঠনটির উপ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, “এই দায়িত্ব আমার কাছে একটি দায়বদ্ধতার মতো। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শাখার কার্যক্রমকে আরও সুন্দর ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া আমার লক্ষ্য। মেধাবী ও সম্ভাবনাময় লেখকদের লেখালেখিতে উৎসাহ দেওয়া এবং তাঁদের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “পাশাপাশি শাখায় নতুন কিছু কার্যক্রম যুক্ত করার চেষ্টা থাকবে। প্রতিটি কাজে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই।”
সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার মীম বলেন, “আমরা চাই, আমাদের শাখা শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত লেখালেখি, পাঠচক্র, আলোচনা, কর্মশালা, প্রকাশনা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সক্রিয় ও প্রাণবন্ত লেখকসমাজ গড়ে তুলুক।”
তিনি বলেন, “একটি সংগঠনের সফলতা কোনো একজনের একক প্রচেষ্টায় আসে না। এখানে প্রত্যেক সদস্যের মতামত, শ্রম ও অংশগ্রহণ সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমি সবার পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে চাই এবং দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম তরুণ লেখক, চিন্তাবিদ ও মতামতপ্রকাশকারীদের লেখালেখি, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সেমিনার, কর্মশালা, আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ ও প্রকাশনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের লেখার দক্ষতা বিকাশ এবং তাঁদের সৃজনশীল চিন্তাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়ে থাকে সংগঠনটি।
‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’ ব্যানারে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে এ মিছিল করা হয়।
জানা যায়, মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘রাজনীতি যার যার, শিক্ষা সবার’, ‘শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এছাড়াও মিছিলে থাকা পোস্টারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি দেখা যায়।
মিছিলের নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
এবিষয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটির জবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, "রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শিক্ষাজীবন থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মবের সংস্কৃতি দূর করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব মতের শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও পড়াশোনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা করছি। নিয়োগ ব্যবস্থায় মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।"
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, "আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, আমরা চাই আমাদের ন্যায্য অধিকার। ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আপসহীন অবস্থানের কারণে আজ আমাদের অনেকের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরীক্ষা দেওয়া, শিক্ষা সম্পন্ন করা ও সার্টিফিকেট পাওয়ার অধিকার কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এগুলো একজন শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার। রাজনীতি যার যার, শিক্ষা সবার। শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না। আমরা করুণা চাই না, আমরা আমাদের অধিকার ফিরে চাই।"
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বিশ্বের ছয়টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক এমন সাফল্যের খবরে উচ্ছ্বসিত পুরো বিভাগ।
সাফল্যের ধরনও বিচিত্র—কেউ পেয়েছেন পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ, কেউ মাস্টার্সে ভর্তি ও বৃত্তি, কেউবা পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে ও জাপান—এই ছয় দেশে ইএসডিএম বিভাগের ৮ম থেকে ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এসব সুযোগ পেয়েছেন। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন এই অর্জন নিয়ে চলছে আনন্দের রেশ।
বিভাগের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী আসমা আক্তার সোচি চলতি বছরের আগস্ট মাসে নরওয়ের ইনল্যান্ডেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ৪র্থ ব্যাচের ফাতেমা আক্তার লিমা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, এল পাসোতে পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন।
বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিদান রহমান যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থ সিস্টেমস অ্যান্ড জিওইনফরমেশন সায়েন্সেস প্রোগ্রামে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি বৃত্তি পেয়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
একই ব্যাচের গোলাম মো. সবুর গত ৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনিতে পরিবেশ প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগের পাশাপাশি পেয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম (আইআরটিপি) স্কলারশিপ।
এছাড়া এই ব্যাচের মো. ফজলুল করিম মামুন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়, টুইন সিট ক্যাম্পাসে বায়োপ্রোডাক্টস অ্যান্ড বায়োসিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স (এমএস) প্রোগ্রামে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পড়াশোনা শুরু করেছেন।
৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাফল্যের ধারা সবচেয়ে বেশি।৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জিহাদ গত ২৭ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংসাং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপের (জিকেএস) আওতায় বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।
একই ব্যাচের আবু সুফিয়ান সোহাগ দক্ষিণ কোরিয়ার হালিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোইকা-হালিম ইউনিভার্সিটি নেক্সট ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আওতায় পূর্ণ অর্থায়নে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স করবেন ক্লাইমেট এআই কনভার্জেন্স প্রোগ্রামে। গত ২৫ আগস্ট তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
৮ম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী সিথী ধর বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির পাশাপাশি পেয়েছেন গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (জিটিএ)। গত ২২ আগস্ট তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। এই বছর ফল সেমিস্টারে শুরু হবে তাঁর এই পড়াশোনা।
৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রস্তাব। ইতালির পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ভিন্ন প্রোগ্রামে, যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি, জার্মানির হার্টি স্কুল বার্লিনে ফুলি ফান্ডেড ক্লাইমেট অ্যাকশন স্কলারশিপসহ মাস্টার অব পাবলিক পলিসি, জার্মানির রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাকশন বিষয়ে মাস্টার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটর ল্যাবে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড কোস্টাল ইনফরমেটিক্স বিষয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি—এই পাঁচটি সুযোগের মধ্যে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নিয়েছেন ইতালির পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ প্রকৌশল—সয়েল প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ট্র্যাকে মাস্টার্স করার সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে তিনি পেয়েছেন ইনভেস্ট ইওর ট্যালেন্ট ইন ইতালি (আইওয়াইটি) স্কলারশিপ। গত ১০ সেপ্টেম্বর উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর মাস্টার্সের পড়াশোনা শুরু করেন।
সবশেষে, বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ আবু জোহানি জাপানের কুমামোতো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর সেশনে তাঁর পড়াশোনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার হালিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে মাস্টার্সের সুযোগ পাওয়া আবু সুফিয়ান সোহাগের কাছে এই অর্জন এসেছে বিশেষ এক মুহূর্তে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। স্নাতক শেষ করার পরপরই শুরু করেন সেই লক্ষ্যে কাজ।
সোহাগ বলেন, "স্কলারশিপ পাওয়া নিঃসন্দেহে একটা বড় অর্জন ছিল। কিন্তু বিয়ে করার দুদিনের মাথায় যখন মেইল পাই, সেই আনন্দ তখন দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিয়েছিল। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। একই সঙ্গে আমার সুপারভাইজার ও পরিবারের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ, তাঁরা আমার ওপর আস্থা রেখেছিলেন।"
এই ধারাবাহিক সাফল্যে উদ্দীপ্ত হচ্ছেন বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও। ইএসডিএম বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে একই বিভাগের এতজন শিক্ষার্থীর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার খবর তাঁদের নতুন করে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, "তাঁদের সাফল্য আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, নোবিপ্রবি থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। তাঁদের অর্জন আমাদের মতো জুনিয়র শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য আরও বেশি আগ্রহী করে তুলছে।" মেহেদী আরও জানান, সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে এখন থেকেই নিজেদের একাডেমিক প্রোফাইল, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দিতে চান তাঁরা।
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১০ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও।
এ বিষয়ে ইএসডিএম বিভাগের ২য় ব্যাচের অ্যালামনি ও বর্তমান সহকারী অধ্যাপক সজীব আহমেদ বলেন, "বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থীর বিদেশে স্কলারশিপ অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয়। একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে তাঁদের সাফল্যে আমি অনুপ্রাণিত এবং আশাবাদী—তাঁরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে দেশ ও বিভাগের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।"
শিক্ষার্থীদের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়মিত উৎসাহ ও দিকনির্দেশনার বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করেন ইএসডিএম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান।
তিনি বলেন, "আমি আমার বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটা কথা সব সময় বলি—তোমাদের জব সেক্টর শুধু বাংলাদেশ নয়, তোমাদের জব সেক্টর পুরো পৃথিবী। এই বিষয়টি আমাদের শিক্ষার্থীদের মোটিভেশন হিসেবে কাজ করেছে।"
শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের এ ক্ষেত্রে অনেক বড় একটা ভূমিকা আছে। আমাদের শিক্ষকরা সব সময় শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে উৎসাহিত করেন।"
আন্তর্জাতিক গবেষণায় শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক মহিনুজ্জামান বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আমাদের শিক্ষকেরা আন্তর্জাতিক অনেক শিক্ষকের সঙ্গে গবেষণা করেন। ফলে তাঁরা যখন আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রিফার করেন, তখন সেটা আমাদের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ পেতে সহায়তা করে।"
বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায় আগ্রহ, শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক গবেষণা-সম্পৃক্ততা এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—এই তিন উপাদানই শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার গণ্ডি ছাড়িয়ে জলবায়ু, ভূ-পরিবেশ, পরিবেশ প্রকৌশল, বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আন্তবিষয়ক ক্ষেত্রেও এখন সুযোগ তৈরি হচ্ছে বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়—বরং নোবিপ্রবির ইএসডিএম বিভাগের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানারের পাল্টা ‘সরকারের প্রথম ৬ মাসের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও উদ্যোগ’ শীর্ষক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট, গ্যারেজ, শান্তিনিকেতনসহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়।
ছাত্রদলের টাঙানো ব্যানারে সরকারের প্রথম ছয় মাসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, ভোলায় বিদ্যুৎ ও সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো, খাল খনন, চীনা বিনিয়োগ, মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার, বনায়ন কর্মসূচি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, নারী শিক্ষা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া খাদ্যনিরাপত্তা, নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন, জাতীয় এলএনজি টার্মিনাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মাদ্রাসায় ‘মিড-ডে মিল’, চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট বিতরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও ব্যানারে তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যানারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে বাঁধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ‘স্মার্ট ও গ্রিন ঢাকা’, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য হেলথ কার্ড, সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি, আধুনিক বাজার সংযোগ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্ত বলেন, “বিগত ছয় মাসে দেশের উন্নয়নে বিএনপি সরকার অনেক কাজ করেছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা ও জনবান্ধব কার্যক্রম দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাই সবাইকে সচেতন করতে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”
এর আগে গত বুধবার রাতে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙিয়েছিল জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখা। পরে এসব ব্যানার খুলে ফেলা ও পুনরায় টাঙানোকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নতুন করে টাঙানো ব্যানারগুলোও দেখা যায়নি।
এরপরই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব পাল্টা ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়। এতে সরকারের কার্যক্রম ও ব্যর্থতা নিয়ে দুই রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের পাল্টাপাল্টি প্রচারণায় নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে ছাত্রদলের ব্যানারে উল্লেখ করা বিভিন্ন কার্যক্রম, পরিসংখ্যান ও দাবির উৎস এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সচেতনতামূলক র্যালি আয়োজন করেছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংগঠন "স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি"।
১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও প্লাকার্ড বহন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— "আমি আছি— কষ্টের কথা বলুন, সাহায্য নিন", "একটি সহানুভূতিশীল কথা কারও কঠিন দিনকে সহজ করে দিতে পারে", এবং "বন্ধুর কষ্ট ছোট করে দেখবেন না"-এর মতো জীবনমুখী আহ্বান।
উক্ত র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।
সংক্ষিপ্ত বক্তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "আত্মহত্যা একটি সামাজিক ব্যাধি। সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই হার আশঙ্কাজনক। আমাদের ক্যাম্পাসের মেন্টাল হেলথ ক্লাবগুলোকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও বাড়াতে অনুরোধ রইল।"
তিনি আরও বলেন, "ক্লাবের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও আশপাশের মানুষের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কারো মধ্যে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি দেখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিবেন তিনি উপযুক্ত পদক্ষেপ নিবেন। এছাড়া ক্যাম্পাসে একজন নারী মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলর নিয়োগের জন্য ইউজিসির (UGC) সঙ্গে কথা হয়েছে,আমি আবারও কথা বলবো যাতে দ্রুতই তা বাস্তবায়িত হয়।"
নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "মানুষের মানসিক অনুভূতির ভারসাম্যহীনতা এবং বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) থেকেই মূলত সুইসাইডাল থট তৈরি হয়। কিন্তু সমাজ বা বন্ধুদের অবহেলা, কটূক্তি বা কাউকেই 'পাগল' আখ্যা দিয়ে টিজ করার কারণে এই নেগেটিভ থিংকিং আরও বেড়ে যায়। এটি কোনো নিরাময়অযোগ্য ব্যাধি নয়; মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের সাময়িক ভারসাম্যহীনতার কারণে এমনটি ঘটে, যা সঠিক চিকিৎসা, একটু সুন্দর ব্যবহার ও সহানুভূতির মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের টিজ না করে বুঝিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পারলেই একটি জীবন বেঁচে যাবে।"
র্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, চীফ মেডিকেল অফিসার (প্রশাসনিক) ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। র্যালি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে নোবিপ্রবি শহিদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টার, ব্লাড ব্রিগেড ও স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ এবং এর সঙ্গে যুক্ত স্লোগান হলো ‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ভেঙে কথা বলা শুরু করুন’।