হলের মতবিনিময় সভায় কুবি উপাচার্য

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩০ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা শুনতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। সভায় শিক্ষার্থীরা ডাইনিংয়ের খাবারের মান, বাথরুম ও পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ, সিট বণ্টন, রিডিং রুমসহ হলের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।


সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১০টায় বিজয়-২৪ হলের টিভি রুমে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।


সভায় বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাছান খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হলে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। 


মতবিনিময় সভায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলের ডাইনিং, খাবারের মান, বাথরুম, বিদ্যুৎ, সিট বণ্টন, রিডিং রুমসহ বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা হলের গণরুম, র‍্যাগিং ও মাদকসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা করেন। সভায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরার পাশাপাশি হলের পরিবেশ ও আবাসিক সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।


শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “যে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো সব একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আমরা ডাইনিং, বাথরুম ও হলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো নিয়ে আগে কাজ করব। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি কাজগুলো করা হবে। আর গণরুম, হলের সিট বণ্টন, র‍্যাগিং ও মাদকসংক্রান্ত বিষয়গুলো হল প্রশাসনের ওপরই থাকবে।”


ডাইনিংয়ের খাবারের বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাছান খান বলেন, “আমাদের এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ডাইনিং। একসময় প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী একই ডাইনিংয়ে খাবার খেত। অল্প কিছুদিন আগেও প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী খাবার খেত। কিন্তু এখন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো খাবার খায়। হঠাৎ করে এত কমে যাওয়ার কারণটিও একটি বিষয়।”


তিনি আরও বলেন, ডাইনিং ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাজার করা, রান্না, ফ্রিজে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।





  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৭ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্তৃক এনটিআরসিএ (NTRCA) এর নিয়োগ বেসরকারি স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির উপর ন্যস্ত করায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টায় নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।


বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে নোবিপ্রবির সালাম হল, মালেক হল, শান্তিনিকেতন, গ্যারেজ হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। তার মধ্যে, "টাকা না মেধা, মেধা মেধা","নিয়োগ বানিজ্যের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন","কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে","চাচা না চাকরি? চাকরি চাকরি","মামা না চাকরি? চাকরি চাকরি","২৪ এর হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার","জালোরে জালো, আগুন জালো","ইনকিলাব ইনলিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ টাকা না মেধা, মেধা মেধা","আবু সাইদ মুদ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ","নিয়োগ বানিজ্যের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন", ইত্যাদি।


বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, আমরা আমাদের মামা-খালুদের সময় দেখেছি টাকা বা কমিটির মাধ্যমে স্কুল-কলেজ গুলোতে নিয়োগ দিতে। যা পরবর্তীতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ হতো। তবে এখন আবার কথা উঠেছে যে নিয়োগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটি দিবে। সারা বাংলাদেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এগুলো মেনে নিবেনা। এনটিআরসিএ এর মাধ্যমেই নিয়োগ দিতে হবে।


নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, শিক্ষক বিষয়টি কোন ছিনিমিনি খেলা নয়, তাই নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ শিক্ষকরা যাতে কারো কাছে ধর্না না দেয়। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে মেধাবি শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্না দিবে, চাকরির জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা কারো কাছে ধর্না দেওয়াটা জাতির জন্য লজ্জাজনক।সরকারকে বলবো এগুলো থেকে বের হয়ে আসুন। আমরা জানিনা আপনাদের এ বুদ্ধি কে দেয়। যদি এ থেকে সরে না আসেন, তাহলে আমরা যেভাবে ২৪ এ জেগে উঠেছিলাম সেভাবে আবার জাগ্রত হবো। 


উল্লেখ্য, আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএ (NTRCA)-র থেকে সরিয়ে গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এমন সিদ্ধান্তের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। পরবর্তীতে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ মিছিল করে।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২০ এএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম


নজরুল ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২০ এএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নজরুল ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটি (Nazrul University Film Society-NUFS)’। চলচ্চিত্রচর্চা, সুস্থ সাংস্কৃতিক নন্দনবোধের বিকাশ এবং বিশ্বসিনেমার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ উপলক্ষে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে তানভীর ইসলাম রানাকে আহ্বায়ক এবং শেখ সাকিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তবিবুর রহমান মুন্না, আফিয়া জাহিন উষা, আকাশ আকন্দ, কামরুল হাসান, সুমাইয়া আফরিন বৃষ্টি, মেহেদী হাসান ভূইয়া, জাহরা বাতুল মেহরীন, ইয়াকুব আলী নয়ন, আব্দুল্লাহ ইশরাক লাবিব, শিহাবুস সালেহ মো. শুভ রহমান, আমীর হামজা ও আদিত্য দেবনাথ অংকন।

কমিটির সদস্যরা হলেন— আশরাফুল ইসলাম জুবায়ের, আবু সাঈদ হাসান, ইসরাত জাহান ভাবনা, তদ্রুপ কৈরী তূর্য, ইতিশা পারভীন তথা, শ্রবণ জশিও, রাতুল হাসান তামিম, হৃদি চিরান, মাহমুদুল রহমান শাকিল, নানজিবা তাবাসসুম জয়ন্তী, মো. ইলিয়াস, শানাত কুমার অ্যাশ স্বচ্ছ, মেঘলা মরমা, তাউসীফ, মো. হাসান, প্রত্যয়, নূর আলম ঢালী, বলটন শর্মা, মো. শান্ত ইসলাম শাকিল, অন্বয় বড়ুয়া অভি, মাইনুল ইসলাম আবির, শাকিল বাবু, মৃদুল হাসান মিনহাজ, আব্দুল্লাহ উমায়ের অন্তু, তুষার বিশ্বাস, শ্রীকান্ত দেব আকাশ, তাহমিদ খান শ্রেয়, মৌমিতা আখতার লাবণ্য ও হাবিবুল্লাহ বিশ্বাস।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলচ্চিত্র বিশ্লেষণ, নির্মাণশৈলী শিক্ষা এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্পর্কে জ্ঞান বিস্তারই হবে সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, চিত্রনাট্য রচনা, সিনেমাটোগ্রাফি, আলোকচিত্র ও সম্পাদনা বিষয়ক বিশেষায়িত কর্মশালা, ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং চলচ্চিত্র সমালোচনা সেশনের আয়োজন করা হবে।

সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল এ সংগঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ ও বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা সদস্য হতে পারবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, দেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কলাকুশলীদের সমন্বয়ে গঠিত বহিঃস্থ উপদেষ্টা পরিষদ এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সম্মানিত সদস্য পরিষদ সংগঠনটির কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে।

সংগঠনটির আহ্বায়ক তানভীর ইসলাম রানা বলেন, “আমরা চাই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথাগত বিনোদনের বাইরে গিয়ে স্বাধীন চলচ্চিত্র ও শিল্পভিত্তিক নন্দনচর্চার একটি সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি হোক। এই সোসাইটি কেবল সিনেমা দেখার সুযোগই তৈরি করবে না, বরং এখান থেকেই আগামী দিনের প্রতিশ্রুতিশীল নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, সম্পাদক ও সংস্কৃতিকর্মী তৈরি হবে।”


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীর খাবারের প্রধান ভরসাস্থল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক সময় পর্যটক ও বহিরাগতরাও খাবার খেতে আসে এখানে। তবে খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামোগত সংকট এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সেবার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। গত বছর সংস্কারকাজ হলেও এক বছরের মধ্যেই আবারও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে ক্যাফেটেরিয়াটি।


সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার ওয়াশরুমের একাধিক কল ও পানির ট্যাপ নষ্ট হয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান অনেকটাই অন্ধকারাচ্ছন্ন। এছাড়া রয়েছে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত ও ব্যবহারযোগ্য ওয়াশরুমেরও সংকট।




অন্যদিকে, খাবারের মান ও বৈচিত্র্য নিয়েও অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত প্যাকেজ খাবার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার ঘটনাও ক্যাফেটেরিয়ার স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


এনিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাইল কাজী বলেন, "মাঝেমধ্যে ক্যাফেটেরিয়ায় খেতে যাই। পরিবেশ খুব একটা ভালো না। আগে খাবারের বৈচিত্র্য ছিল, এখন এক-দুই ধরনের খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্যাকেজ খাবারও বন্ধ হয়ে গেছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। খাবারের মান ও দাম কোনোটিই শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। অনেক সময় খাবার নেওয়ার সময় পাশেই মশা-মাছি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা যায়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।"


গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা সম্পা বলেন, “অনেক সময় দুপুরে ক্যাফেতে খাবার খেতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। কোনোদিন খাবারের মধ্যে মাকড়সার বাচ্চা, আবার কোনোদিন মাছের আঁশ পেয়েছি। এসব ঘটনার পর থেকেই ক্যাফের খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।”


ক্যাফেটেরিয়ার ম্যানেজার ফরিদ উদ্দিন বলেন, "কল, বিদ্যুৎ, ওয়াশরুম ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কর্মকর্তারাও পরিদর্শনে এসেছেন, তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"


ক্যাফেটেরিয়ার আহ্বায়ক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ হারুন, "দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। বিদ্যুতের সুইচ, লাইট ও পানির ফিল্টারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু কাজ চলমান রয়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আবারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।"


প্যাকেজ খাবার বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, "পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় শর্তসাপেক্ষে প্যাকেজ চালু ছিল। তবে স্টাফদের বেতন বিশ্ববিদ্যালয় বহন না করায় পরিচালনাকারীদের লোকসান হচ্ছে। এ কারণেই তারা প্যাকেজ খাবার চালু রাখতে আগ্রহী নয়।"


খাবারের পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ম্যানেজারকে বারবার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে এবং কমিটির সদস্যদের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আবার বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জনবল সংকট থাকলেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"


বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক জুলহাস উদ্দিন বলেন, "ক্যাফেটেরিয়ার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে একটি কমিটি কাজ করছে। ইতোমধ্যে আলো, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান উন্নয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কিছু লাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং বাকি সমস্যাগুলোও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।"


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩২ এএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের পাঁচ শিক্ষার্থী ভারতের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর অ্যাপ্লাইড এথোলজি (আইএসএই) আয়োজিত ৫৯তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে তারা পৃথকভাবে একটি করে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডা অঞ্চলের গৌতম বুদ্ধ ইউনিভার্সিটিতে পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার (১০ আগস্ট) শুরু হওয়া সম্মেলনটি চলবে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। এতে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের ১২৩ জন আন্তর্জাতিক ডেলিগেট অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনে প্রাণিকল্যাণ, প্রাণীর আচরণ এবং এ-সংশ্লিষ্ট গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘শেয়ারড ওয়ার্ল্ডস : এথোলজি ড্রিভেন অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড কোএক্সিস্টেন্স’।

সম্মেলনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষার্থীরা হলেন ড. সোলেমা আক্তার শান্তা, ডা. সিয়াম আহমেদ, ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক, ডা. তাসনিম বিনতে হাসান ও ডা. তাজিন খন্দকার। তারা প্রত্যেকে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে একটি করে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাকৃবির পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে।

দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। তিনি গবেষণাপত্রগুলোর করেসপন্ডিং অথর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

দলের সদস্য ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক বলেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২৩ জন আন্তর্জাতিক ডেলিগেট এখানে অংশ নিচ্ছেন। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে বিশ্বমানের গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার এই সুযোগ আমার জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একজন বিশ্বমানের গবেষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য দলটির সদস্যরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি ও ট্রাভেল গ্র্যান্ট পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এ ধরনের সহায়তা পাওয়া তাদের গবেষণার মান, সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে।বিশ্বব্যাপী প্রাণিকল্যাণ বিষয়ক গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অন্যতম বৃহৎ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাকৃবির গবেষণা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও দৃশ্যমান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।


  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বর্ষাকে বিদায় জানাতে ‘মেঘ বলছে যাব যাব’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন করেছে টিম উৎসব। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) মুক্তমঞ্চে এ আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, বাংলার সংস্কৃতি, বর্ষার সৌন্দর্য, লোকঐতিহ্য ও তারুণ্যের সৃজনশীলতাকে একসূত্রে ধারণ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আয়োজনকে ঘিরে টিএসসি প্রাঙ্গণে বসে ১২টি স্টল। এসব স্টলে বিভিন্ন ধরনের খাবার, জুয়েলারি ও কসমেটিকসসহ নানা পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল নাচ, গান ও নাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এসব আয়োজন ঘিরে বিকেল থেকেই টিএসসি মুক্তমঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আয়োজনে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস। অ্যাসোসিয়েট স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক ও পারফিউম প্যারাডাইস। গিফট পার্টনার হিসেবে রয়েছে রেট্রো সিন্ডিকেট ও সরাইখানা সেরাভিক্সসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুষ্ঠান দেখতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘টিম উৎসবের আগের আয়োজনগুলোও আমি দেখেছি এবং সেগুলো বেশ ভালো লেগেছিল। তাদের আয়োজনে একটি সুন্দর পরিকল্পনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। সেই ভালো লাগা থেকেই আজকের আয়োজনটি দেখতে এসেছি। ক্যাম্পাসে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

আয়োজনের নামকরণ প্রসঙ্গে টিম উৎসবের সাধারণ সম্পাদক যাহ্'রা তাসনীম আদিবা বলেন, ‘প্রথম শুনলে মনে হতে পারে, রবীন্দ্রনাথের কোনো বিখ্যাত গানের লাইন লিখতে গিয়ে আমরা হয়তো ভুল করেছি। আসলে বিষয়টি এমন নয়। আজ বাংলা ২৬ শে শ্রাবণ। শ্রাবণও প্রায় শেষের দিকে। সেই ভাবনা থেকেই রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত লাইনটিকে একটু পরিমার্জন করে আমাদের অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজন কিছুটা কমে এসেছে। তাই আমরা চেষ্টা করছি একটি সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে। আমরা আশাবাদী, এই আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আবারও একটি সুন্দর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে।’


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও লোগো। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩২ এএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।


রোববার (৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম। তিনি জানান, চারটি হলের ঘটনায় মোট ৪২ শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিতে হবে।


প্রক্টর বলেন, হলগুলো থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগ এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকালে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের শোকজ করা হয়েছে। এখন তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ঘটনাগুলো তদন্তে গঠিত দুটি কমিটিও কাজ করছে।


তিনি আরও বলেন, শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আর তদন্তে কেউ সংঘর্ষ বা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো প্রশাসনের কাছে জমা পড়েনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।



ঘটনার সূত্রপাত


গত ২৩ ও ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আশরাফুল হক ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। পরে ১ আগস্ট মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে আরও পাঁচজন আহত হন। সর্বশেষ ২ আগস্ট রাতে চার হলের শিক্ষার্থীরা পৃথক সংঘর্ষে জড়ান।


এসব ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের পাশাপাশি হলের গেট, জানালার কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক বাতিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর দায়ীদের শনাক্ত ও সংঘর্ষের কারণ উদ্‌ঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।