বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সামুদ্রিক ভূ-দুর্যোগ, উপকূলীয় ঝুঁকি এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশে সামুদ্রিক ভূ-দুর্যোগ ও আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনের যৌথ উদ্যোগ নেয় বাকৃবি এবং চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফি।
বুধবার (১০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো শহীদুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির অধ্যাপক ড. জিন শান, অধ্যাপক ড. ইয়ংগুই ইউ এবং বিজ্ঞানী ড. শুমিন জিয়াং।
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন। সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খান । কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির অধ্যাপক ড. জিন শান বলেন, বাংলাদেশ নদী ও প্লাবনভূমিনির্ভর দেশ হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এখানে তুলনামূলক বেশি। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ প্রতিবছর দেশের জনজীবন ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, নদ-নদীর প্রবাহ এবং সমতল ভূমির গঠন হিমালয় সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত টেকটোনিক প্লেটের দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক বিবর্তনের ফল।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ও স্থানচ্যুতির কারণেই ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন ভূ-তাত্ত্বিক ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি সমুদ্রতলের ভূমিধস ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সুনামির মতো দুর্যোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলীয় অঞ্চল ও সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। তিনি এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামুদ্রিক ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা খুবই সীমিত। চীন বাংলাদেশের বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। খুব কম মানুষই আমাদের দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করে। আমি তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়া উচিত। দুই দেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা চাই চীন ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করুক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন নতুন গবেষণার ক্ষেত্র উন্মোচিত হোক।
অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মশালা গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ৪০ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় বাকৃবির কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। তিনি কর্মশালার উদ্বোধন করেন। প্রশিক্ষণের প্রথম দিনের সেশন পরিচালনা করেন প্রশিক্ষক জি. এম. মোস্তাফিজুল আলম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করায় তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রশিক্ষণের নির্ধারিত বিষয়গুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেকিং ও এআই এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে গুজবের উর্ধ্বে উঠে সংবাদের পেছনের সত্য উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিকতায় নৈতিকতা বজায় না রাখলে তা সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন।
দীর্ঘ ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। দেশীয় উৎসের ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম থেকে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এ বায়োফরমুলেশন একই সঙ্গে জৈব ছত্রাকনাশক ও জৈব সার হিসেবে কাজ করে। এতে প্রতি গ্রাম পণ্যে ন্যূনতম ২০ লাখ জীবন্ত ট্রাইকোডার্মা স্পোর রয়েছে। গবেষকদের দাবি, এটি বিভিন্ন ফসলের রোগ দমন, ফলন বৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং মৎস্য খাতে পানির গুণগত মান উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব (প্ল্যান্ট প্যাথোলজি) বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক ও বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল। এ সময় কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে. এম. মহিউদ্দিন, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা, গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল বলেন, 'বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত মোট বালাইনাশকের প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশই রাসায়নিক ছত্রাকনাশক। এসব ছত্রাকনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু ক্ষতিকর ছত্রাকই নয়, মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব ও ছত্রাকও ধ্বংস করে। ফলে পরিবেশ, মাটির স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবন করা হয়েছে 'পিজি-ট্রাইকোডার্মা', যা একই সঙ্গে জৈব ছত্রাকনাশক ও জৈব সার হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণার শুরুতে দেশের বিভিন্ন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাটি ও রাইজোস্ফিয়ার (ছত্রাকের স্পোর) নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকে শতাধিক ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক পৃথক করে তাদের কার্যকারিতা দীর্ঘদিন ধরে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে সর্বাধিক কার্যকর, স্থিতিশীল ও বাংলাদেশের জলবায়ুর সঙ্গে অভিযোজিত ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম নির্বাচন করে এর ভিত্তিতে বায়োফরমুলেশন তৈরি করা হয়। যেহেতু এটি দেশীয় উৎসের অণুজীব, তাই আমদানিনির্ভর বায়োপণ্যের তুলনায় এটি অধিক কার্যকর, টেকসই এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, এ জৈব ছত্রাকনাশক সব ধরনের ফসলেই কার্যকর। বিশেষ করে টমেটো, আলু, বেগুন, ঢেঁড়স, মরিচ, শশা, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি, ডালজাতীয় ফসল, চা ও পান চাষে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব ফসলে ফিউজারিয়াম উইল্ট, রুট রট, স্ক্লেরোটিয়াম ব্লাইট এবং পাতার দাগ রোগ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় টমেটোতে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ, আলুতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, ধানে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ, গমে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এবং চা গাছে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ফলন বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া মরিচ ও ডালজাতীয় ফসলে বীজবাহিত ছত্রাকজনিত রোগ ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দমন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
কার্যকারিতার বিষয়ে অধ্যাপক মঞ্জিল বলেন, পিজি-ট্রাইকোডার্মা উদ্ভিদের শিকড়ের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে, পুষ্টি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির জৈবিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ ও পোকামাকড় দমনে সহায়তা করে। সহজে প্রয়োগযোগ্য হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী ও ব্যবহারবান্ধব প্রযুক্তি।
প্রযুক্তিটি শুধু কৃষিতেই নয়, ছাদকৃষি ও মৎস্যখাতেও সম্ভাবনাময়। মৎস্যখাতে ট্রাইকোডার্মার কার্যকারিতা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা বলেন, 'মাছচাষের একটি বড় অংশ হলো মাছের খাদ্য। চাষের সময় অব্যবহৃত খাদ্য এবং মাছের মল পানির গুণাগুণ নিম্ন করে তুলে। ট্রাইকোডার্মাভিত্তিক এ পণ্যটি ব্যবহারে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) বৃদ্ধি পায় এবং অ্যামোনিয়ার পরিমাণ হ্রাস পায়। ফলে মাছ উৎপাদন লাভজনক হয়। তবে এটি শুধুমাত্র ছোট পরিসরে পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা বড় পরিসরে প্রয়োগের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা যাচাই করতে পারবো।'
কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে. এম. মহিউদ্দিন বলেন, 'পিজি-ট্রাইকোডার্মা জৈব ছত্রাকনাশকের কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। এটি শতভাগ নিরাপদ। অন্যান্য ছত্রাকনাশক বা যে কোন কীটনাশক প্রয়োগে ফসল কমপক্ষে সাতদিন পর থেকে সংগ্রহ করতে হয় এবং রাসায়নিক প্রয়োগ করার পর কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা ওই জমিতে কৃষক প্রবেশ করতে পারে না। তবে আমাদের এই পণ্যটির ক্ষেত্রে এরকম বাধ্যবাধকতা নেই। এতে ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই। টেলকম পাউডারের সাথে ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক ব্যবহার করে এটি বাজারজাত করা হয়েছে। ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে জৈব, এতে ক্ষতিকর কোন উপাদান নেই।
তিনি আরও জানান, 'এই পণ্যটি দূষণ সমৃদ্ধ জমিতে প্রয়োগ করলে সেখানে উদ্ভিদের ভারী ধাতু গ্রহণ করা কমায় এবং পুষ্টি উপাদান গ্রহণ বৃদ্ধি করে ফলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। বাংলাদেশে ৪০ হাজার মেট্রিক টন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় যার মধ্যে দুই থেকে পাঁচ শতাংশ মাত্র বায়োফার্টিলাইজার। তাই আমাদের পণ্যটি দেশের রাসায়নিক ছত্রাকনাশকের বিকল্প জৈব ছত্রাকনাশক হিসেবে একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এটি নার্সারি বেড শোধন ও মাটি শোধন আকারে মাটির সাথে মিশিয়ে এবং বীজের সাথে মিশিয়ে ও সরাসরি গাছে স্প্রে করা যায়।'
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রস্তাবিত পণ্যটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এই পরিবেশবান্ধব বায়ো-পণ্যগুলো কৃষকদের কাছে সহজলভ্য হবে এবং দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে কোডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের বিষয়টি। শিক্ষার্থীদের দাবি, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রায় ৭০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি বিভাগে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হয়। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও করণীয় নির্ধারণই ছিল কমিটির দায়িত্ব।
তবে কমিটি গঠনের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে কোডিং পদ্ধতি চালু হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
এদিকে, কোডিং সিস্টেম বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ গত ৭ জুন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ফলে বর্তমানে নোবিপ্রবিতে ওই কমিটির আহ্বায়কের পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে। তবে কমিটির কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা, নতুন আহ্বায়ক নিয়োগ বা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বর্তমানে পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর পরিচয় দৃশ্যমান থাকায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিরোধ বা পক্ষপাতের প্রভাব মূল্যায়নে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কোডিং পদ্ধতি চালু হলে পরীক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রেখে খাতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে, যা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকের সঙ্গে ব্যক্তিগত মতবিরোধ বা বিরূপ সম্পর্কের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে থাকেন। তাদের আশঙ্কা, এর নেতিবাচক প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে। তাই দ্রুত কোডিং পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও উপাচার্যের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই কোডিং সিস্টেম চালু করা হবে। আমরা আশাবাদী, এটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা আরও নিরপেক্ষ ও ন্যায্য মূল্যায়ন পাবে।”
তবে কোডিং পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন কমিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং এর আওতাধীন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা, অংশীজনদের মতামত এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কপথের কারণে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যাতায়াতের অসুবিধা বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং এর আওতাধীন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন এবং শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জুলাই থেকে বিদ্যমান সময়সূচি অনুযায়ী অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
আগে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি পরে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
এদিকে রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিউটে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২৭ জুলাই শুরু হবে। পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা শেষে স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য দিনব্যাপী সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অন রুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল সাংবাদিকতা এবং পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা কামারুজ্জামান। কর্মশালায় মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চ্যানেল ২৪-এর নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি হাসিব আল আমিন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মো. তৌফিকুল ইসলাম, অর্থ ও সম্পদ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান, কার্যনির্বাহী সদস্য হিমেল রানা ও মাহাতাব চৌধুরীসহ প্রেসক্লাবের প্রশিক্ষণার্থীরা।
কর্মশালায় মূল বক্তা হাসিব আল আমিন বলেন, "সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তবে এই পেশা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।"
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সাংবাদিকতার ধরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমেও এখন নাগরিক সাংবাদিকতা (Citizen Journalism) সম্ভব হচ্ছে। অনেক সময় নাগরিক সাংবাদিকদের তথ্য-উপাত্ত মূলধারার গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের উৎস হয়ে ওঠে। তবে যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "ভালো সাংবাদিক হতে হলে নিয়মিত সংবাদ পড়তে হবে, অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের লেখার ধরণ অনুসরণ করতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই সময়ে যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই তা যাচাই করতে হবে।"
বিশেষ অতিথি কামারুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা অন্যান্য ধারার সাংবাদিকতার তুলনায় ভিন্ন। এখানে প্রতিটি সংবাদ প্রকাশে দায়িত্বশীলতা ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিচয় দিতে হবে। কোনো অভিযোগভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, "কোনো বিষয় আইনবহির্ভূত মনে হলেই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। আগে বিষয়টি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন ও তথ্য যাচাই করতে হবে। এরপরই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, একসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংবাদিকতার প্রতি অনাগ্রহ থাকলেও বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন, যা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সচেতনতার ইতিবাচক প্রতিফলন।
তিনি বলেন, "সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। কোনো তথ্য হাতে পেলেই তা সংবাদে প্রকাশ করা যাবে না। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিক—সবার জন্যই নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, নোবিপ্রবির অনেক সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে জাতীয় গণমাধ্যমে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষণার্থীরাও সততা, পেশাদারিত্ব ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, "একজন দক্ষ ক্যাম্পাস সাংবাদিক গড়ে তুলতেই এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ লেখার কৌশল, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবেন-এটাই আমাদের প্রত্যাশা। নোবিপ্রবি প্রেসক্লাব ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করবে।"
কর্মশালায় সংবাদ লেখার কৌশল, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংবাদ উপস্থাপনা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শেষে প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) আবারও পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় একাডেমিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে কৃষি ব্যবসা ও বিপণন অনুষদের দুটি ভিন্ন ব্যাচের মিডটার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং পরীক্ষা পেছানোর পুরোনো সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অনুষদটির চতুর্থ বর্ষের একটি মিডটার্ম এবং দ্বিতীয় বর্ষের একটি ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। রুটিন প্রকাশের পরও বারবার পরীক্ষা পেছানোর প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
তাদের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের অভাবে পরীক্ষা স্থগিতের প্রবণতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে সেশনজট আরও প্রকট করতে পারে। অথচ অতীতে একই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পরীক্ষা পেছানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে একাডেমিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিথিলতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে।
চলতি বছরেও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ মে কৃষি অনুষদের লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর প্যাথলজি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এর আগে একই ব্যাচের ‘সয়েল ৩০৩’ কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফা পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি কৃষি অনুষদের লেভেল-২, সেমিস্টার-২-এর ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হলেও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। পরে সংশোধিত রুটিন অনুযায়ী ২ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হয়।
একইভাবে অ্যানিমাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের লেভেল-২, সেমিস্টার-২-এর একটি ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাকি পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়। প্রায় ৬১ দিন পর স্থগিত পরীক্ষাগুলো পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়।
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের লেভেল-২, সেমিস্টার-২-এর ‘এফপিএইচটি ২৫১’ কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছিল। প্রায় ৪১ দিন পর, ১৩ এপ্রিল পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের দাবি, অনুষদটিতেও বিভিন্ন সময় মিডটার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার রুটিন কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়ে প্রশাসন ও সব অনুষদের ডিনরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই অবস্থানের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "প্রশাসন নিজেদের সিদ্ধান্তেই অটল থাকতে পারে না। এমন দুর্বল প্রশাসন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়।"
এ বিষয়ে কৃষি ব্যবসা ও বিপণন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, "শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পেছানোর কারণ আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। আমি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষেও ছিলাম না। আমি স্পষ্ট জানিয়েছিলাম, পরীক্ষা পেছানো যাবে না। এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে উপাচার্য মহোদয়ের কাছে যান।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, "ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ গভীর রাত পর্যন্ত চলায় যথাযথ প্রস্তুতি নিতে না পারার কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানায়। পরীক্ষার রুটিন তৈরির সময় বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল।"
প্রশাসনের আগের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কিছু পরিস্থিতি আকস্মিকভাবে তৈরি হয়। তখন আনুষ্ঠানিক মিটিং করার মতো সময় ছিল না। তবে পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।"