শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৬ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) দীর্ঘদিন আগে ছাত্রত্ব হারানো দুই ছাত্রদল নেতাকে পুনরায় ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া। প্রচলিত অর্ডিন্যান্সে তাদের ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সুযোগ না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ ও একাডেমিক বিধিমালার সঙ্গে সিদ্ধান্তের অসঙ্গতি নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক।


পুনঃভর্তির আবেদনকারীরা হলেন কৃষি অনুষদের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন এবং অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা পৃথকভাবে ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন করেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৮৩তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আবেদন দুটি যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ৮৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের পুনঃভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনবার অকৃতকার্য হয়ে ছাত্রত্ব বাতিল


ফরহাদ হোসেন ২০১৮ সালে পোষ্য কোটায় কৃষি অনুষদে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষের একই সেমিস্টারে ধারাবাহিকভাবে তিনবার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অনুষদের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ২০২১ সালে তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।


ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পরও ২০২২ সালের মে মাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মানবিক বিবেচনায় ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন করেন।


আবেদনে ফরহাদ দাবি করেন, ২০১৮ সালের পর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারায় ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেষ সুযোগে মেকআপ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ২০২২ সালে বিশেষ মেকআপ পরীক্ষার আবেদন করলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। AGEC-109 কোর্সে বারবার অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনাকেও তিনি পরিকল্পিত বৈষম্যের ফল বলে দাবি করেন।


তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী পরপর তিনবার অকৃতকার্য হওয়ায় তার ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল। ২০২২ সালে বিশেষ মেকআপ পরীক্ষার আবেদন ৭৯তম একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপিত হলেও তা অনুমোদন পায়নি। ফলে কমিটি ৭৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সুপারিশ করে।


মারুফের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনার সুপারিশ


এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ পরপর দুই সেশনে পুনঃভর্তি নিলেও তৃতীয় সেশনে নির্ধারিত সময়ে আবেদন না করায় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।


আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে তার বাবা মারা যাওয়ার পর পারিবারিক সংকট তৈরি হয়। পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের বাধার কারণে হলে থাকতে না পারায় তার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।


তবে হলে থাকতে না পারার দাবির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, মারুফকে হলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তাদের দাবি, আবেদনে করা এ অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।


তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী মারুফেরও ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সুযোগ নেই। তবে পারিবারিক ও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে এককালীন পুনঃভর্তির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোনো নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।


অর্ডিন্যান্স বনাম মানবিক বিবেচনা


বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, একই কোর্সে নির্ধারিত সংখ্যক সুযোগ শেষ হয়ে গেলে কিংবা নির্ধারিত সময়ে পুনঃভর্তি গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল হয়। ফরহাদ ও মারুফ উভয়ের ক্ষেত্রেই সেই বিধান কার্যকর হয়েছে।


এ অবস্থায় প্রচলিত অর্ডিন্যান্সের বাইরে গিয়ে মানবিক বিবেচনায় ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কী নীতিমালা অনুসরণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।


রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ


বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রসংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, প্রচলিত অর্ডিন্যান্সে সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিষয়টি বারবার একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপন করা হয়েছে। তাদের মতে, একাডেমিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও একাডেমিক শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।


এদিকে চারজন কর্মচারীকে লাঞ্ছনা ও মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় প্রথম ও তৃতীয় আসামি যথাক্রমে ফরহাদ হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মারুফ। মামলাটি বর্তমানে চলমান।


এছাড়া ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় চাঁদাবাজির ও আশেপাশের হাসপাতালগুলোতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।


প্রশাসনের বক্তব্য


তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন বলেন, "শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। চলমান মামলা ও অন্যান্য অভিযোগও হাউজে জানানো হয়েছিল। সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোনো নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।"


উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, "একাডেমিক কাউন্সিলে তাদের পুনঃভর্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা মানবিক ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করেছিল। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে এ ধরনের বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে, সেভাবেই তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৪ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামে ছয় কবি-সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তার অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি নয়—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ছবিগুলো সরিয়ে নতুন ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।


এর আগে সংগ্রহশালার একটি ফ্রেমে পল্লিকবি জসীমউদ্​দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজল ও ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের নামের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল।


এই ছয়জনের মধ্যে জসীমউদ্‌দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামে ব্যবহৃত ছবিগুলো তাঁদের নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। আবুল ফজলের নামের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিটিও তাঁর নয় বলে মনে করেন তিনি। শুধু মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটির সঙ্গে তাঁর চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেছে।


অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, ‘জসীমউদ্‌দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামের ওপরে যেসব ছবি আছে, সেগুলো মোটেও এসব ব্যক্তির নয়। আবুল ফজলের ছবিটিও তাঁর হওয়ার কথা নয়। শ্মশ্রুমণ্ডিত ভিন্ন আবুল ফজলই আমাদের কাছে পরিচিত। একমাত্র মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটি খানিকটা তাঁর চেহারার সঙ্গে যায়।’


ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক তারিক মনজুর। একই সঙ্গে ছয় সাহিত্যিকের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।


তারিক মনজুর বলেন, ‘খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের একাংশ’ শিরোনামে যে তালিকা করা হয়েছে, সেটি অসম্পূর্ণ। খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের তালিকা এত বড় যে বাস্তবে সবাইকে এক দেয়ালে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট কয়েকজনের ছবি টাঙানো সমীচীন হয়নি।


তবে ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। নকশার সময় ছবির মান বাড়াতে গিয়ে কয়েকটি ছবির চেহারা বদলে যায়। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন–বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম ঝুমা বলেন, ডিজাইনারকে ছবি দেওয়ার পর মান বাড়ানোর সময় দু-তিনটি ছবির চেহারা এক রকম হয়ে যায়।


এআই দিয়ে ছবি তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা জানতে চাইলে ফাতিমা তাসনিম বলেন, ‘এআই দিয়ে বানানো নয়। সবার ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া। সে ক্ষেত্রে ছবিগুলোর কোয়ালিটি এনহ্যান্স করতে গিয়ে হয়েছে।’


ফাতিমা তাসনিম আরও বলেন, অনেকগুলো ছবি একসঙ্গে থাকায় বিষয়টি প্রথমে তাঁদের নজরে আসেনি। পরে তিনি বিষয়টি দেখে ডিজাইনারকে জানান। এরপর নতুন ছবি পাঠানো হলে গতকাল তা প্রিন্ট করে সংগ্রহশালায় আগের ছবি পরিবর্তন করে এই ছবি লাগানো হয়েছে।


সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর ১৩ সেপ্টেম্বর আবার চালু করা হয়। সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগের কয়েকটি ছবি বাদ পড়েছে। যুক্ত হয়েছে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আব্দুল মালেকের ছবিও রাখা হয়েছে।


পরে ১৪ সেপ্টেম্বর সংগ্রহশালায় সাঁটানো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান একজন শিক্ষার্থী।


এদিকে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত (পরে প্রয়াত) গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টাঙিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা।


ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টাঙানোর ঘটনাটি তদন্তে ১৪ সেপ্টেম্বরই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৯ এএম

২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে নতুন করে আরও দুই থেকে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে যুক্ত হতে পারে।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জিএসটি গুচ্ছের এক সভায় ভর্তি পরীক্ষার এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সভা শেষে এবারের ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটির কো-কনভেনর ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ১৯ মার্চ, ‘সি’ (বাণিজ্য) ও ‘ডি’ (আর্কিটেকচার) ইউনিটের পরীক্ষা ২০ মার্চ এবং ‘এ’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের পরীক্ষা হবে ২৭ মার্চ।


ভর্তি আবেদনের সময়সূচি ও আবেদনসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।


নোবিপ্রবি মূল ফটক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৬ এএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রোগ্রামে মাস্টার অব সায়েন্স ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (M.Sc. Engg. (EEE)) এবং মাস্টার অব ইঞ্জিনিয়ারিং ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (M. Engg. (EEE))—দুই ধরনের ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ থাকছে। আবেদনের শেষ সময় ২২ অক্টোবর ২০২৬।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইইই বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


আবেদনের সময় ও ফি

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এবং চলবে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রার্থীদের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। অনলাইনে ফি পরিশোধের পর মূল রসিদ আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

ভর্তির যোগ্যতা

ইইই বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।

এ ছাড়া মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অথবা জিপিএ ৪.০০ (৫.০০-এর মধ্যে) এবং উচ্চমাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অথবা জিপিএ ৪.০০ (৫.০০-এর মধ্যে) থাকতে হবে।

M.Sc. Engg. (EEE) প্রোগ্রামের জন্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বা সমমানের ডিগ্রিতে প্রথম শ্রেণি অথবা সিজিপিএ ৩.২৫ (৪.০০-এর মধ্যে) এবং M. Engg. (EEE) প্রোগ্রামের জন্য দ্বিতীয় শ্রেণি অথবা সিজিপিএ ২.৫০ (৪.০০-এর মধ্যে) থাকতে হবে।

নোবিপ্রবি ছাড়া অন্য কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বা সমমানের ডিগ্রিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।


ভর্তি পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তি কমিটির প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হতে পারে। নোবিপ্রবি ব্যতীত অন্য বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের ইইই বিভাগের ভর্তি কমিটির আয়োজিত ৩০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

লিখিত পরীক্ষায় ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটস, ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনস এবং ইলেকট্রনিক্স—প্রতিটি বিষয়ে ১০ নম্বর করে মোট ৩০ নম্বর থাকবে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষা হবে ২০ নম্বরের।


দেড় বছরে সম্পন্ন হবে মাস্টার্স

ইইই বিভাগের এ মাস্টার্স প্রোগ্রামের ন্যূনতম মেয়াদ দেড় বছর বা তিনটি একাডেমিক টার্ম। উভয় ডিগ্রির জন্য মোট ৪৩ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হবে।

এর মধ্যে M.Sc. Engg. (EEE)-তে থিওরি ২১, থিসিস/প্রজেক্ট ১৮ এবং সেমিনার/ভাইভা-ভোস ৪ ক্রেডিট। অন্যদিকে M. Engg. (EEE)-তে থিওরি ৩০, থিসিস/প্রজেক্ট ৯ এবং সেমিনার/ভাইভা-ভোস ৪ ক্রেডিট নির্ধারণ করা হয়েছে।


গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লিখিত ভর্তি পরীক্ষা ২ নভেম্বর ২০২৬ সকাল সাড়ে ১১টায় এবং ভাইভা একই দিন দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩ নভেম্বর। ভর্তির শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর এবং ক্লাস শুরু হবে ১ ডিসেম্বর ২০২৬।

যেসব কাগজপত্র লাগবে

আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রার্থীকে দুই কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও গ্রেড/মার্কশিট/ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত কপি, থিসিস/প্রজেক্ট সুপারভাইজার চয়েস ফরম এবং সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সত্যায়িত প্রশংসাপত্র/চারিত্রিক সনদের কপি জমা দিতে হবে।

আবেদন ফরম ও সুপারভাইজার চয়েস ফরম ইইই বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আবেদনপত্র ইইই বিভাগ, কক্ষ নম্বর ৫২১, প্রশাসনিক ভবন, নোবিপ্রবি-তে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া চাকরিরত প্রার্থীদের নির্বাচিত হলে ভর্তির আগে নিজ নিজ নিয়োগকর্তার কাছ থেকে স্টাডি লিভ বা ডেপুটেশনের প্রমাণপত্র ভর্তি কমিটির কাছে জমা দিতে হবে।


নোবিপ্রবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ এএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে মাস্টার অব সোশ্যাল সায়েন্স (MSS) in Political Science প্রোগ্রামে ভর্তির পুনর্বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীদের আবেদনের সময় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


আবেদনের সময় ও ফি

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভাগীয় অফিস থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণ করে জমা দিতে হবে। আবেদন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

ভর্তির যোগ্যতা

নোবিপ্রবি অথবা অন্য কোনো স্বীকৃত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়-আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, লোক প্রশাসন এবং পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ, এ স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন।

তবে আবেদনকারীর স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষাবর্ষ ২০১৯-২০ অথবা ২০২০-২১ হতে হবে। অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.৫০ এবং বহিঃস্থ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.৭৫ থাকতে হবে।

অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় এবং বহিঃস্থ প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।


পরীক্ষার সময়সূচি

বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, বহিঃস্থ শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বিকেল ২টায়।

চূড়ান্ত মূল্যায়ন ৫ অক্টোবর ২০২৬ এবং ভর্তি ও ক্লাস শুরু হবে ৬ অক্টোবর ২০২৬।

যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে

আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল পরীক্ষার একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট/মার্কশিট ও সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি, সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/বিভাগের প্রত্যয়নপত্র, তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং আবেদন ফি জমার রশিদের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

এছাড়া, চাকরিরত প্রার্থীদের ক্লাস ও শিক্ষাকার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিয়োগকর্তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র/অফিস আদেশ দাখিল করতে হবে। ভর্তির সময় মূল সনদপত্র/প্রমাণপত্র প্রদর্শন করতে হবে।


নোবিপ্রবি শব্দকুটিরের সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শান্ত রায়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৬ এএম

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাহিত্য সংগঠন ‘শব্দকুটির’র ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জসিম উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কৃষি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত রায়।


‎নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের ফরাদিন পারভেজ ও ওশানোগ্রাফি বিভাগের মো. শফিউল্লাহ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাহবুবুর ইসলাম মিলি। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সুমাইয়া ইসলাম সারা।

‎এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের মেহরাজ হোসেন এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন বাংলা বিভাগের মারুফ হোসেন।


‎কমিটিতে বিভিন্ন বিভাগে আরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উচ্চারণ ও আবৃত্তি বিভাগের প্রধান হিসেবে রয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আবৃত্তি শুভ। উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান হয়েছেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অর্পিতা পৌদ্দার অর্পণ। লেখালেখি, সম্পাদনা ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলা বিভাগের মাজেদা বেগম।


‎নতুন কমিটি নিয়ে সভাপতি জসিম উদ্দীন বলেন, শব্দকুটিরের সঙ্গে আমার পথচলা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই। সাহিত্য চর্চাকে আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে  এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। আমি সবসময় একজন শ্রোতা হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ শব্দকুটির আমাকে যে দায়িত্ব ও জায়গা দিয়েছে, তার ভার আমি অনুভব করি। একা এই দায়িত্ব বহন করা সম্ভব নয়। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে আমরা সবাই মিলে শব্দকুটিরকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে পারব।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্যচর্চার যে দূরত্ব এবং প্রশাসনের সঙ্গে যে কিছুটা গ্যাপ রয়েছে, তা কমিয়ে সাহিত্যের মেলবন্ধন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাবো।


‎ তিনি আরো বলেন, বিগত দুই বছর সদ্যবিদায়ী সভাপতি মুজতাবা ফয়সাল নাঈম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব, ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। সংগঠনের একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে তিনি আমাদের এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন। তাঁর প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।একই সঙ্গে শব্দকুটিরের প্রতিটি সদস্যের শ্রম ও ত্যাগের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা শব্দকুটিরকে আরও সমৃদ্ধ ও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

‎সাধারণ সম্পাদক শান্ত রায় বলেন, আমাকে সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্বে ভূষিত করায় বিগত কমিটি এবং অ্যালুমনাই কমিটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সংগঠনের পূর্ববর্তী সকল গঠনমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও সুদূরপ্রসারী করে তোলাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও যৌথ প্রচেষ্টায় সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল উপায়ে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।"


‎এ ছাড়া সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন—শ্রুতপূর্ণা মণ্ডল (শিক্ষা), হাসিবুর রহমান সরকার (এসিসিই), বুশরা আক্তার দীপালী (সমাজকর্ম), মীর মুনতাসীর (অনুজীব বিজ্ঞান), সামিয়া জাহান (সমাজবিজ্ঞান), বিশাখা চৌধুরী তমা (ইইই), সারিকুল আক্তার (বাংলা), মেহেদী হাসান ইমন (বিজিই), ইমতিয়াজ হোসেন সায়েম (ব্যবসায় প্রশাসন), আব্দুল হাই (বাংলা) এবং ইয়াসিন আরাফাত (শিক্ষা)।

‎নতুন কমিটির নেতৃত্বে ‘শব্দকুটির’র সাহিত্যচর্চা, লেখালেখি, আবৃত্তি, উপস্থাপনা, প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা করছেন সংগঠনটির সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্য ও সৃজনশীলতার চর্চা বাড়াতে সংগঠনটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৭ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নবীনবরণের ছবি ও ভিডিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজে প্রকাশের ঘটনায় জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দলীয় আবহের বিভিন্ন খবরের তথ্য-উপাত্ত প্রচারিতভাবে Jagannath University নামে একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের নিউজ প্রকাশের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে ওই পেজ থেকে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে নোটিশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে তার এ ধরনের কার্যক্রম ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থী, অসদাচরণের শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


এ বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


উল্ল্যেখ্য, ১৬ সেপ্টেম্বর জবি শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।