ফাইল ছবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের চেয়ে কমিয়ে ৪ শতাংশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গত জুলাই মাসে দেওয়া পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।
আজ বুধবার প্রকাশিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সর্বশেষ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও)’ অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীর হয়ে গিয়েছিল। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এর প্রভাব সীমিত হতে পারে।
তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এলেও, জ্বালানি ঘাটতি, উচ্চ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্যের দামের ওপর এল নিনোর প্রভাবের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়া, রপ্তানির তুলনায় আমদানির প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় চলতি হিসাবের ঘাটতি (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট) জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এডিবি জানায়, ২০২৭ অর্থবছরে সেবা ও কৃষি খাত মূলত প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকবে, যা বেসরকারি ভোগ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং উচ্চতর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সঙ্গে মিলে বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
তবে উচ্চ ঋণগ্রহণের ব্যয়, ঋণের সীমিত প্রাপ্যতা, জ্বালানি ঘাটতি ও দুর্বল বাহ্যিক চাহিদার কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি তেলের উচ্চমূল্য, বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, ব্যাংকিং খাতে চাপ, রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব এবং জলবায়ু সংক্রান্ত ধাক্কা দেশের প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ঝুঁকি (ডাউনসাইড রিস্ক) তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিয়াংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হতে শুরু করলেও এটি এখনও বাহ্যিক ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কাছে অরক্ষিত।
তিনি বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সংস্কার ত্বরান্বিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। বেসরকারি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করতে, মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে এসব সংস্কার অপরিহার্য।’
সংস্কারগুলোকে দেশের মানুষের জন্য দৃশ্যমান বা বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করতে বাংলাদেশকে সমর্থন করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইসলামী ব্যাংক
এস আলম গ্রুপের হাতে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ থাকার সময় ব্যাংকটিতে ১০ হাজার ৮৩২ জন কর্মী নিয়োগ হয়েছে। এদের মধ্যে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়া কেবল জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি জমা নিয়ে আট হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে বেশির ভাগ এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া এবং গ্রুপের আসাদগঞ্জ অফিসে রাখা বাক্সে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ এবং আগস্টে সরকার পতনের পর ছাঁটাই প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে গঠিত কমিটি এই প্রতিবেদন দেয়।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সাধারণত বিভিন্ন ব্যাংকে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয় যুগ্ম পরিচালকের নেতৃত্বে।
মূল্যায়ন পরীক্ষার পর ছাঁটাই হওয়া কর্মী এবং ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে কোনো সুপারিশ না করে শুধু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কর্মী নিয়োগ এবং ছাঁটাই- দুটিই ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল। তারাই ছাঁটাই করেছে। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা সমীচীন হবে না।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৩২ জন। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই শুধু প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে আট হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম জেলার আট হাজার ৯৯ জন। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছিল পাঁচ হাজার ১৪৮ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি ও আসাদগঞ্জের অফিসে জীবনবৃত্তান্ত জমার বাক্স থাকত। এসব বাক্সে লেখা থাকত পটিয়া জেনারেল, পটিয়া ক্যাশ, পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, পুরুষ ক্যাশ-গণ্ডামারা-বাঁশখালী, সনাতন জেনারেল, মহিলা ক্যাশ, পিয়ন-ডিপ্লোমা, পুরুষ জেনারেল, পুরুষ ক্যাশ ইত্যাদি।
সলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের থেকে আবেদন আহ্বান করে অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মার্কসকে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোন পদে কতজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ব্যাংকটি মোট ২৭টি পদে এসব নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে পরীক্ষা ছাড়া সর্বোচ্চ দুই হাজার ৭৮৯ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) ও দুই হাজার ১৬০ ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর বাইরে মেসেঞ্জার কাম গার্ড এক হাজার ৫৪৪ জন এবং রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) প্রকল্পের স্টাফ হিসেবে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৫০১ জন ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।
ওই সময়ে উচ্চপদের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া দুজন এমডি, আটজন ডিএমডি, দুজন এসইভিপি, ব্যাংকটির ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটের জন্য একজন প্রিন্সিপাল নিয়োগ হয়। আর পাঁচজন ইভিপির মধ্যে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ডিএমডি হতে হলে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে এস আলমের পিএস আকিজ উদ্দিনকে মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং মিফতাহ উদ্দীনকে ১৭ বছর অভিজ্ঞতায় ডিএমডি নিয়োগ দেওয়া হয়।
ছাঁটাইয়ের বিষয়ে যা আছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শন ও চারটি বহির্নিরীক্ষকের বিশেষ নিরীক্ষায় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট সময়কালের নিয়োগে অনিয়ম চিহ্নিত হয়। ফলে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়াদের যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ। মূল্যায়ন পরীক্ষা বন্ধের জন্য দুই কর্মী ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট করেন।
বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ওই বছরের ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন আদালত। ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নিতে বাধা নেই বলে জানানো হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করে।
প্রাথমিকভাবে সেখানে পাঁচ হাজার ৩৭৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে অংশগ্রহণকারী ৪০২ জনের সবাই চাকরিতে বহাল আছেন। চার হাজার ৯৭১ জন কর্মকর্তা পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। বিভিন্ন কারণে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারাদেরও ২৮৭ জনকে পরবর্তী সময়ে আবার যুক্ত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্ষদের সিদ্ধান্তে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ চার হাজার ৬৮৫ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এদের মধ্যে চার হাজার ৪৪০ জনের বাড়ি চট্টগ্রামে। ১৫৫ জনের বাড়ি কক্সবাজার, ঢাকার ১০ জন এবং বাকি ৬১ জেলার ছিলেন ৮০ জন।
এর বাইরে পাঁচজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে ১২১ জন, চুক্তির মেয়াদপূর্তিতে নবায়ন না করায় এক হাজার ১৯০ জন এবং অন্যান্য কারণে ১৩৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ পাওয়াদের জন্য গত বছর একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় যারা অংশ নেয়নি, শুরুতে তাদের ওএসডি করা হয়। পরবর্তী সময়ে সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছাঁটাই করা হয়।
কোন জেলার কত নিয়োগ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলার সর্বোচ্চ আট হাজার ৯৯ জন নিয়োগ পান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯৮ জন নিয়োগ দেওয়া হয় কক্সবাজার জেলা থেকে। এর পরের অবস্থানে কুমিল্লার, ১১৪ জন। ময়মনসিংহের ৯৯, বগুড়ার ৯৭ ও ঢাকা জেলা থেকে নিয়োগ পান ৯৬ জন।
এ ছাড়া রাজশাহী থেকে ৮৩, যশোর থেকে ৭৮, গাইবান্ধা থেকে ৭৫, রংপুর থেকে ৬৬ এবং অন্যান্য ৫৪টি জেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় বাকি এক হাজার ৬২৭ জনকে। ২০১৭ সালে মাত্র ৩৬৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে এক হাজার ১১৮ জন এবং ২০১৯ সালে দুই হাজার ৪৬৭ জন নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০২০ সালে নিয়োগ দেওয়া হয় দুই হাজার ১১০, পরের বছর ৮৬৫ জন। চরম তারল্য সংকটের সময় ২০২২ সালে দুই হাজার ১১৯ জন, ২০২৩ সালে ৩৯৭ জন এবং ২০২৪ সালে নিয়োগ দেওয়া হয় এক হাজার ৩৯২ জন কর্মী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল দৈবচয়ন ভিত্তিতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ১০ জন কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নিয়েছে, যারা বর্তমানে ঢাকায় চাকরিতে আছেন। তারা জানিয়েছেন, এস আলমের নিজ বাড়ি ও আসাদগঞ্জ অফিসের বক্সে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন তারা। সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা এবং যোগদানপত্র দেওয়া হয়। এই ১০ জনের মধ্যে দুজনের মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি।
প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগেও নিয়ম লঙ্ঘন
কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যাংকে সর্বোচ্চ পদ হিসেবে বিবেচিত হয় প্রবেশনারি অফিসার। সব ব্যাংক এই নিয়োগ দেয় যাচাই-বাছাই করে। ইসলামী ব্যাংকে এ ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। এস আলমের সময়ে প্রবেশনারি অফিসারের চারটি ব্যাচ নিয়োগ হয়। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২৪তম ব্যাচের ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়া।
এর মধ্যে ১২ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পেয়ে যান। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় চট্টগ্রাম থেকে। ৮৪০ জনের সিভি পাঠানো হয় প্রধান কার্যালয়ে। এদের মধ্য থেকে ৭৬৩ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ৩৬ জন ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পান। পরে শর্ত শিথিল করে ২০ শতাংশ নম্বর পাওয়াদেরসহ ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। এদের পরে ৩০৪ জনকে উত্তীর্ণ করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে এবং বাকি ১২৬ জনকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পাঠানো হয়। এদের সবার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলায়।
এদের মধ্যে ১৮৪ জন যোগদান করেন। এখনও চাকরিতে আছেন ৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ২১ জন পদত্যাগ করেছেন, চাকরি হারিয়েছেন ১৩১ জন এবং একজন মারা গেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবেশনারি অফিসারের ২৫তম ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে। এই ব্যাচের লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ৯০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৯৮ জনের বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে। এই ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া ১৫০ জনের মধ্যে ৮৮ জনই চট্টগ্রামের। এই ব্যাচের নিয়োগের সময় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।
২০১৭ সালে ১৪৪ জন এবং ২০২৪ সালে ২০০ জন প্রবেশনারি অফিসারের নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালের ২০০ জনের মধ্যে মাত্র ৩৬ জন ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার।
অর্থ মন্ত্রণালয়
মৃত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পুনর্বিবাহ না করার শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন। এ জন্য বছরে একবার পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।
তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে এ অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার শর্ত প্রযোজ্য হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আজ রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এতে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, নিট পেনশন, আনুতোষিক, পারিবারিক পেনশন ও ছুটি নগদায়নের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে, যেগুলো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধায় নতুন হিসাব নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নিয়মে চাকরিকালের ভিত্তিতে পেনশনের হার হবে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ। বিদ্যমান পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
চাকরিকাল বেশি হলে পেনশনও বেশি
নতুন ব্যবস্থায় পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ বছর থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে পেনশনের হার নির্ধারণ করা হবে।
পাঁচ বছর চাকরি হলে পেনশনের হার হবে মূল বেতনের ২১ শতাংশ। এরপর প্রতিবছর চাকরিকালের সঙ্গে পেনশনের হার বাড়বে। ১০ বছর চাকরিতে হার ৩৬ শতাংশ, ১৫ বছরে ৫৪ শতাংশ এবং ২০ বছরে ৭২ শতাংশ।
এ ছাড়া ২১ বছরে ৭৫ শতাংশ, ২২ বছরে ৭৯ শতাংশ, ২৩ বছরে ৮৩ শতাংশ ও ২৪ বছরে ৮৭ শতাংশ পেনশন পাওয়া যাবে। ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালে পেনশনের হার হবে ৯০ শতাংশ।
নিট পেনশনে সর্বোচ্চ ৭০,২০০ টাকা
বিদ্যমান পেনশনভোগীদের জন্য গত ৩০ জুন পাওয়া নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে নতুন পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে। নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নতুন নিট পেনশন হবে ১০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা।
এভাবে ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বৃদ্ধি হবে ৭৫ শতাংশ। নতুন নিট পেনশন হবে ১৮ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বৃদ্ধি হবে ৬৫ শতাংশ। নতুন নিট পেনশন হবে ৩৫ হাজার ১ টাকা থেকে ৪৯ হাজার টাকা। ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বৃদ্ধি হবে ৬০ শতাংশ। নতুন নিট পেনশন হবে ৪৯ হাজার ১ টাকা থেকে ৬২ হাজার টাকা। আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হবে ৫৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশন হবে ৬২ হাজার ১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা।
তবে বর্তমানে যাঁরা ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাঁরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বর্তমান হারেই পেনশন পাবেন। এরপর প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) কার্যকর করা হবে।
আনুতোষিকের হার বদলায়নি
নতুন প্রজ্ঞাপনে আনুতোষিকের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১০ বছরের কম চাকরির ক্ষেত্রে প্রতি টাকায় আনুতোষিক হবে ২৬৫ টাকা। ১০ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১৫ বছরের কম চাকরিতে প্রতি টাকায় ২৬০ টাকা। ১৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ২০ বছরের কম চাকরিতে প্রতি টাকায় ২৪৫ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিতে প্রতি টাকায় ২৩০ টাকা আনুতোষিক পাওয়া যাবে।
অবসরে ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন
অবসর গ্রহণের সময় সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যাবে। অর্থাৎ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের অর্জিত ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তর করা যাবে। পিআরএল ভোগ না করলেও নির্ধারিত শর্তে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো কর্মচারী স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে বা মারা গেলে নির্ধারিত শর্তে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধানও রাখা হয়েছে।
স্মার্টফোন
দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু হয়েছে। চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় স্মার্টফোন পাওয়া যাবে। এ কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ২.০’ শীর্ষক গ্রুপ ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ওই তথ্য দেন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষক ও সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ আরও সুগম হয়েছে। তারা এখন সহজেই আবহাওয়া, সারের মাত্রা কিংবা পণ্যের বাজারদর জানতে পারছেন। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চালু করার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ঘটছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে শক্তিশালী ইন্টারনেট, ‘এক নাগরিক এক ওয়ালেট’ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি একে অপরের পরিপূরক। ডিজিটাল অর্থনীতির সার্বিক গতি নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ অপরিহার্য। শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো ছাড়া ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সুফল পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব নয়।
‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক উৎপাদক ও কারিগরদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে উদ্ভাবন যেন থমকে না যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সাইবার নিরাপত্তা ও নীতিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশে সিগারেটের দাম আবার বেড়েছে। নিম্নস্তরের বা কম দামি প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা করা হয়েছে। গত বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছিল। এর দুই মাসের মাথায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য আরও ৩ টাকা বাড়ানো হলো। তবে অন্য তিন স্তরের সিগারেটের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাঝারি স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য আগের মতোই ৯২ টাকা থাকবে। আর উচ্চ স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ২১০ টাকা বা এর বেশি বহাল থাকছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার চারটি স্তরেই সিগারেটের দাম বাড়িয়েছিল। তবে সর্বশেষ এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু নিম্নস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।
বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সিগারেটকে সাধারণত চারটি মূল্য স্তরে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে বাজারের সবচেয়ে কম দামি সিগারেটগুলো নিম্নস্তরের অধীনে ধরা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনও কাটেনি। রাজধানীর অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না তেল। দু-এক দোকানে পাওয়া গেলেও সেগুলো শুধু ২ বা ৫ লিটারের বোতল। আধা লিটার ও এক লিটারের তেলের বোতল নেই বললেই চলে। খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীরা বলছেন, সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। তারপরও তারা সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি।
মূলত ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম ছাড়ছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তীব্র সংকট হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ক্রেতা ধরতে অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন।
আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তেল কেনার জন্য ক্রেতারা ৪-৫টি দোকান ঘুরে একটিতে পাচ্ছেন, তাও কাঙ্খিত পরিমাণের বোতল মিলছে না।
বিক্রেতারা জানান, বাজারে সয়াবিনের আধা লিটার ও এক লিটার বোতলের সরবরাহ একেবারেই নেই বললে চলে। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা। এখন শুধু দু-তিনটি কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে; যা চাহিদার তুলনায় সামান্য। তাও শুধু ২ ও ৫ লিটারের বোতলে।
মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় ফরিদ নামের একজন ক্রেতা বলেন, আমার লাগতো এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল; কিন্তু কয়েক দোকান ঘুরেও তা পেলাম না। তাই বাধ্য হয়ে দুই লিটারের বোতলই কিনেছি। যে কারণে অন্য সদাই না নিয়েই বাড়ি ফিরছি।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে এখন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম হয়েছে ২০৪ টাকা। অর্থাৎ, ২ লিটার তেল কিনতে এখন ক্রেতাকে একসঙ্গে গুনতে হচ্ছে ৪০৮ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেলের জন্য ১০২০ টাকা।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তেল কোম্পানিগুলো তাদের বিক্রির কমিশন একবারে কমিয়ে দিয়েছে। এখন প্রতি লিটারে মাত্র এক টাকা কমিশন দিচ্ছে।
রামপুরা এলাকায় ভাই ভাই স্টোরের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, ৫ লিটার তেল কিনলে এমনিই মানুষ ৫-১০ টাকা কম দিতে চায়। এখন আমাদের মুনাফাই ৫ টাকা। অর্থাৎ, হাজার টাকা ইনভেস্ট করে লাভ হচ্ছে ৫ টাকা। তাও কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।
বোতলজাত তেলের এ সংকটে খোলা তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।
বাড়ছে ডিমের দাম
রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোয় ডিমের দামও বাড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুদিন ধরেই ডিমের দাম একটু বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়।
তবে স্থিতিশীল রয়েছে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা।
সবজির বাজার কেমন
রাজধানী ঢাকার বাজারে খানিকটা চড়া দামে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। এর মধ্যে ঢ্যাঁড়স ও পটলের দাম কমে সপ্তাহ দু-এক আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় গেলেও এখন আবার সবজিটি বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। লম্বা আকারের বেগুণের দামও বেড়েছে।
মোটামুটি ভালো মানের এই জাতের বেগুণ কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। কচুর মুখি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
চিচিংগার দামও খানিকটা চড়া। এগুলো বাজারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে, বরবটির দাম বেশি চড়া। পণ্যটি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভালো মানের ঝিঙ্গা ও কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।
বাজারে এখন কাচা মরিচের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি কাচা মরিচ বাজারভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. বিমা দাবি নিষ্পত্তি, প্রিমিয়াম আয়, লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সূচকে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে দেশের জীবন বিমা খাতে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।
গ্রাহকসেবায় দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সোনালী লাইফ ২০২৫ সালে মোট ৪০৫ কোটি টাকা বিমা দাবি পরিশোধ করেছে। ২০২৬ সালেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০৬ কোটি টাকা বিমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি যোগ্য দাবিগুলো সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে কোম্পানিটি।
২০২৬ সালেও সোনালী লাইফের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট প্রিমিয়াম আয় প্রায় ৫৭২ কোটি টাকা। বছরের প্রথম আট মাসেই এই পরিমাণ প্রিমিয়াম আয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা, গ্রাহক আস্থা এবং বাজারে ধারাবাহিক কার্যক্রমের প্রতিফলন তুলে ধরে।
অন্যদিকে, কোম্পানির ২০২৫ সালের ব্যবসায়িক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোনালী লাইফের মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৮৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং নবায়ন প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ৫৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। নবায়ন প্রিমিয়ামের এই শক্তিশালী অবস্থান গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা এবং পলিসি নবায়নের ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন।
বিভিন্ন ব্যবসায়িক সূচকে সোনালী লাইফের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। মোট প্রিমিয়াম আয়ের দিক থেকে দেশের ৩৬টি জীবন বিমা কোম্পানির মধ্যে পঞ্চম, লাইফ ফান্ডের দিক থেকে সপ্তম এবং বিনিয়োগের দিক থেকে দশম অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পাশাপাশি মোট প্রিমিয়াম আয়, নবায়ন প্রিমিয়াম আয়, লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগ—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে সোনালী লাইফ।
সোনালী লাইফের এই অগ্রযাত্রার পেছনে রয়েছে গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব। বিশেষ করে দাবি নিষ্পত্তিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি গ্রাহকদের প্রতি কোম্পানির দায়বদ্ধতা ও সেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
দাবি পরিশোধে ধারাবাহিকতা, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫৭২ কোটি টাকার প্রিমিয়াম আয়, শক্তিশালী লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. দেশের জীবন বিমা খাতে নিজেদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরছে।
ভবিষ্যতেও গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা ও টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।