ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬, সময় : ৫:৪৪ এএম

ব্যক্তিমালিকানাধীন সোনার অলংকারকে আর শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়, মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করলে সেই আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) দিতে হবে।


গতকাল রোববার রাজধানীর পল্টনে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত অর্থ বিল বিষয়ক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।




সেমিনারে কর পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের সোনার অলংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব জাফর ইমাম এর ব্যাখ্যা দেন।


তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সোনা ও স্বর্ণালংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক করদাতা আয়কর রিটার্নে সোনা বা স্বর্ণালংকারের তথ্য দিলেও এর মূল্য উল্লেখ করেন না, যা কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি করে।


সেমিনারে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, চলতি বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। যদিও আবাসন খাত থেকে এ বিষয়ে চাপ ছিল, তবে সরকার শুরু থেকেই এমন কোনো বিধান না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ এবং তথ্যভিত্তিক নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।


এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, সঞ্চয়পত্রে নতুন করে কর বাড়ানো হয়নি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রিম কাটা কর ফেরত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।


সভায় ভ্যাট নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ব্যবসা সহজ করতে অনলাইনে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাসিক রিটার্নের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হবে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫২ পিএম

দেশে সিগারেটের দাম আবার বেড়েছে। নিম্নস্তরের বা কম দামি প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা করা হয়েছে। গত বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়।


২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছিল। এর দুই মাসের মাথায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য আরও ৩ টাকা বাড়ানো হলো। তবে অন্য তিন স্তরের সিগারেটের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।


নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাঝারি স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য আগের মতোই ৯২ টাকা থাকবে। আর উচ্চ স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ২১০ টাকা বা এর বেশি বহাল থাকছে।


২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার চারটি স্তরেই সিগারেটের দাম বাড়িয়েছিল। তবে সর্বশেষ এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু নিম্নস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সম্প্রতি মন্ত্রিসভা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।


বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সিগারেটকে সাধারণত চারটি মূল্য স্তরে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে বাজারের সবচেয়ে কম দামি সিগারেটগুলো নিম্নস্তরের অধীনে ধরা হয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ পিএম

খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনও কাটেনি। রাজধানীর অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না তেল। দু-এক দোকানে পাওয়া গেলেও সেগুলো শুধু ২ বা ৫ লিটারের বোতল। আধা লিটার ও এক লিটারের তেলের বোতল নেই বললেই চলে। খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীরা বলছেন, সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। তারপরও তারা সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি। 


মূলত ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম ছাড়ছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তীব্র সংকট হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ক্রেতা ধরতে অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন।


আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তেল কেনার জন্য ক্রেতারা ৪-৫টি দোকান ঘুরে একটিতে পাচ্ছেন, তাও কাঙ্খিত পরিমাণের বোতল মিলছে না।


বিক্রেতারা জানান, বাজারে সয়াবিনের আধা লিটার ও এক লিটার বোতলের সরবরাহ একেবারেই নেই বললে চলে। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা। এখন শুধু দু-তিনটি কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে; যা চাহিদার তুলনায় সামান্য। তাও শুধু ২ ও ৫ লিটারের বোতলে।


মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় ফরিদ নামের একজন ক্রেতা বলেন, আমার লাগতো এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল; কিন্তু কয়েক দোকান ঘুরেও তা পেলাম না। তাই বাধ্য হয়ে দুই লিটারের বোতলই কিনেছি। যে কারণে অন্য সদাই না নিয়েই বাড়ি ফিরছি।


বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে এখন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম হয়েছে ২০৪ টাকা। অর্থাৎ, ২ লিটার তেল কিনতে এখন ক্রেতাকে একসঙ্গে গুনতে হচ্ছে ৪০৮ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেলের জন্য ১০২০ টাকা।


খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তেল কোম্পানিগুলো তাদের বিক্রির কমিশন একবারে কমিয়ে দিয়েছে। এখন প্রতি লিটারে মাত্র এক টাকা কমিশন দিচ্ছে।


রামপুরা এলাকায় ভাই ভাই স্টোরের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, ৫ লিটার তেল কিনলে এমনিই মানুষ ৫-১০ টাকা কম দিতে চায়। এখন আমাদের মুনাফাই ৫ টাকা। অর্থাৎ, হাজার টাকা ইনভেস্ট করে লাভ হচ্ছে ৫ টাকা। তাও কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।


বোতলজাত তেলের এ সংকটে খোলা তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।


বাড়ছে ডিমের দাম

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোয় ডিমের দামও বাড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। 


বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুদিন ধরেই ডিমের দাম একটু বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়।


তবে স্থিতিশীল রয়েছে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা।


সবজির বাজার কেমন

রাজধানী ঢাকার বাজারে খানিকটা চড়া দামে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। এর মধ্যে ঢ্যাঁড়স ও পটলের দাম কমে সপ্তাহ দু-এক আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় গেলেও এখন আবার সবজিটি বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। লম্বা আকারের বেগুণের দামও বেড়েছে। 


মোটামুটি ভালো মানের এই জাতের বেগুণ কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। কচুর মুখি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।


চিচিংগার দামও খানিকটা চড়া। এগুলো বাজারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে, বরবটির দাম বেশি চড়া। পণ্যটি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভালো মানের ঝিঙ্গা ও কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।


বাজারে এখন কাচা মরিচের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি কাচা মরিচ বাজারভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. বিমা দাবি নিষ্পত্তি, প্রিমিয়াম আয়, লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সূচকে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে দেশের জীবন বিমা খাতে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।


গ্রাহকসেবায় দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সোনালী লাইফ ২০২৫ সালে মোট ৪০৫ কোটি টাকা বিমা দাবি পরিশোধ করেছে। ২০২৬ সালেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০৬ কোটি টাকা বিমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি যোগ্য দাবিগুলো সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে কোম্পানিটি।


২০২৬ সালেও সোনালী লাইফের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট প্রিমিয়াম আয় প্রায় ৫৭২ কোটি টাকা। বছরের প্রথম আট মাসেই এই পরিমাণ প্রিমিয়াম আয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা, গ্রাহক আস্থা এবং বাজারে ধারাবাহিক কার্যক্রমের প্রতিফলন তুলে ধরে।


অন্যদিকে, কোম্পানির ২০২৫ সালের ব্যবসায়িক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোনালী লাইফের মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৮৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং নবায়ন প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ৫৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। নবায়ন প্রিমিয়ামের এই শক্তিশালী অবস্থান গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা এবং পলিসি নবায়নের ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন।


বিভিন্ন ব্যবসায়িক সূচকে সোনালী লাইফের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। মোট প্রিমিয়াম আয়ের দিক থেকে দেশের ৩৬টি জীবন বিমা কোম্পানির মধ্যে পঞ্চম, লাইফ ফান্ডের দিক থেকে সপ্তম এবং বিনিয়োগের দিক থেকে দশম অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


পাশাপাশি মোট প্রিমিয়াম আয়, নবায়ন প্রিমিয়াম আয়, লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগ—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে সোনালী লাইফ।


সোনালী লাইফের এই অগ্রযাত্রার পেছনে রয়েছে গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব। বিশেষ করে দাবি নিষ্পত্তিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি গ্রাহকদের প্রতি কোম্পানির দায়বদ্ধতা ও সেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।


দাবি পরিশোধে ধারাবাহিকতা, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫৭২ কোটি টাকার প্রিমিয়াম আয়, শক্তিশালী লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. দেশের জীবন বিমা খাতে নিজেদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরছে।


ভবিষ্যতেও গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা ও টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।


মেট্রোরেল

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৫ পিএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মেট্রোরেলের তিন প্রকল্প একসঙ্গে অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। তিন প্রকল্পের মধ্যে দুটি হলো- জাপানের অর্থায়নে মেট্রোরেল লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব। অন্য প্রকল্পটি হলো- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প।


তিন মেট্রোরেলসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প সাতটি ও সংশোধিত প্রকল্প পাঁচটি।


একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি মেট্রোরেল প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে ব্রিফ করেন।


জানা গেছে, বুধবার একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। পরে এই প্রকল্পের সঙ্গে জাপানের অর্থায়নের সংশোধিত দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


জাপানের অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। জাপানের অর্থায়নের ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ১৩.১০ কিলোমিটার আন্ডরগ্রাউন্ডসহ ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।


দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪ শতাংশ। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এমআরটি করিডোর নির্মাণ ও চালু করা।


শিগগির আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট)। প্রকল্পের সবকিছু মোটামুটি প্রস্তুত। রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এ মেট্রো লাইন। হাতিরঝিল অংশের লাইন যাবে টানেল দিয়ে। আফতাবনগর থেকে বাকিটা হবে উড়াল।


এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা যৌথভাবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (ইডিসিএফ)। প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার।


সোনার দাম কমলো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৩ পিএম

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে। 


আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।


এদিন বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ১ হাজার ১০৮ টাকা। তার আগে ৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। এতে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হলো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।


এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা।


এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।


৯ সেপ্টেম্বর ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা।


এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৭০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা। 


আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়। সোনার গহনার দাম কমানোর পাশাপাশি এখন রুপার গহনার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৬ টাকা। 


এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমালো সরকার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৮ পিএম

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। 


সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।


রপ্তানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত


কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।


শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-


১. রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।

৪. প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে।

৬. কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।

৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।

৯. জনস্বার্থে সরকার যে কোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।

১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে PRC (Proceeds Realization Certificate) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


এর আগে, দুই দফায় ২৭৮ টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২৪১৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।


সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।


নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। 


এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি পরিচালনা করা।