নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ এর সংশোধন করে সংসদ নির্বাচনের ১২০টি প্রতীক সংরক্ষিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ এর সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যেখানে নৌকা স্থগিত রেখে সংসদ নির্বাচনের ১২০টি প্রতীক সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, একক প্রার্থীতে থাকবে ‘না’ প্রতীক। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ইসির সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্বাচনে ১২০টি প্রতীক সংরক্ষিত থাকছে।
এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রতীকগুলো হলো- আনারস, আপেল, আম, আলমিরা, ঈগল, উট, গরুর গাড়ি, গাভী, গামছা, গোলাপ ফুল, ঘণ্টা, ঘুড়ি, ট্রাক, ট্রাক্টর, ডাব, ড্রেসিং টেবিল, ঢেঁকি, তারা, ফুলের মালা, বই, বক, বটগাছ, বাইসাইকেল, বাঘ, রকেট, রিকশা, রেল ইঞ্জিন, লাঙল, লিচু, শাপলা কলি, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কবুতর, কম্পিউটার, কলম, কলস, কলার ছড়ি, কাঁচি, কাঁঠাল, কাপ-পিরিচ, কাস্তে, কুঁড়ে ঘর, কুড়াল, কুমির, কুলা, কেটলি, কোদাল, খেজুর গাছ, ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চিংড়ি, চিরুনি, চেয়ার, ছড়ি, ছাতা ও জগ।
নির্ধারিত অন্য প্রতীকগুলো হলো- জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেবিল ল্যাম্প, টেলিফোন, টেলিভিশন, তালা, থালা, দাঁড়িপাল্লা, দালান, দেওয়াল ঘড়ি, দোতলা বাস, দোয়াত কলম, দোলনা, ধানের শীষ, নোঙ্গর, নৌকা (স্থগিত), পাগড়ি, পানির ট্যাপ, পালকি, প্রজাপতি, ফুলের ঝুড়ি, ফুটবল, ফুলকপি, বালতি, বেবী টেক্সি, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব, মই, মগ, ময়ূর, মশাল, মাইক, মাছ, মাথাল, মিনার, মোটরগাড়ি (কার), মোটরসাইকেল, মোড়া, মোবাইল ফোন, মোমবাতি, মোরগ, সিংহ, সিঁড়ি, সূর্যমুখী ফুল, সেলাই মেশিন, সোনালী আঁশ, সোফা, হরিণ, হাঁস, হাত (পাঞ্জা), হাতঘড়ি, হাতপাখা, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হুক্কা, হেলিকপ্টার, হ্যান্ডশেক ও ‘না’ প্রতীক।
ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (প্রেসিডেন্টস্ অর্ডার নম্বর ১৫৫ অব ১৯৭২) এর আর্টিকেল ৯৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর নিম্নরূপ অধিকতর সংশোধন করল। উপরিউক্ত বিধিমালার বিধি-৯ এর উপ-বিধি (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-বিধি (১) প্রতিস্থাপিত হবে। যথা- এই বিধির অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অনুচ্ছেদ ২০ এর দফা (১) এর অধীন, স্থগিতকৃত প্রতীক ব্যতীত, নির্ধারিত প্রতীকগুলো থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে, যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে।
এতে আরও বলা হয়, তফসিল-১ এর ফরম-১ এর তৃতীয় অংশের (মনোনীত প্রার্থী কর্তৃক ঘোষণা) ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর’ শব্দগুলোর পর ‘এবং প্রার্থী অথবা প্রার্থীর নিয়োজিত নির্বাচনি এজেন্টের অ্যাকাউন্ট নম্বর’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত হবে। পাশাপাশি প্রার্থী কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামার সংযুক্তি-১ এর ক্রমিক নম্বর ৩(খ) এর বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশের ‘সংযুক্ত করিতে হইবে’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে।
সংযুক্তি-১ এর ক্রমিক নম্বর ৩(গ) এ নতুন বিশেষ দ্রষ্টব্য সন্নিবেশিত হবে, যথা- ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য: অভিযুক্ত বলিতে ওই আসামিকে বুঝাইবে যাহার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক অভিযোগ (চার্জ) গঠিত হয়।’ এবং ক্রমিক নম্বর ১০ এ নতুন বিশেষ দ্রষ্টব্য সন্নিবেশিত হবে, যথা- ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরিউক্ত ছকের ক্রমিক ২, ৩ ও ৪ এ উল্লিখিত যথাক্রমে, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য প্রদান ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে।
শপথগ্রহণ করছেন পিএসসির নবনিযুক্ত সদস্য অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। আজ রোববার বিকাল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নবনিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পিএসসির সদস্য পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি ও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন। রোববার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৯২৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জনে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৮৩১ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৫৭ জন, খুলনায় ২৫৯ জন, বরিশালে ২২৯ জন, রাজশাহীতে ১৮৫ জন, ময়মনসিংহে ৯২ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৫৪ জনের মৃত্যু হল। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১৪৯ জন। মারা যাওয়া বাকি ১০৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫১১ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ২০২ জন, চট্টগ্রামে ১১১, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৬৮, খুলনায় ৫৭ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৬৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৫৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৮০ জন, চট্টগ্রামে ২৬৪, সিলেটে ১২৬, বরিশালে ১২৬, খুলনায় ৮৯, ময়মনসিংহে ৮১, রংপুরে ৫১ ও রাজশাহীতে ৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৭৮৩ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব রাখে। যদিও হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর হাম পরীক্ষা হয় না। ফলে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে শুধু হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যই নথিভুক্ত করা হয়।
গণতান্ত্রিক চর্চা ও সুশাসনের অভাবে রাজনৈতিক দলগুলো এখন অর্থ ও পেশীশক্তির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার চরম অভাবের কারণে রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব এবং পুরুষতান্ত্রিকতার গভীরতা ক্রমাগত বাড়ছে। রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণায় ৩২টি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
আকাশচুম্বী ব্যয়
টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর আয়ের আনুষ্ঠানিক উৎসের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম ও কার্যালয় পরিচালনার খরচের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। দলগুলোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় ও ন্যূনতম সাংগঠনিক কাজ চালাতে বাৎসরিক যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপ্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিনির্ভর উৎস থেকে আসে।
হিসাব তুলে ধরে টিআইবি জানায়, ন্যূনতম নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে একটি দলের যদি ২২টি জেলা ও ১০১টি উপজেলায় কার্যালয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে হয়, তবে বাৎসরিক প্রায় ১৪ থেকে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। অথচ দলগুলোর ঘোষিত আয়ের উৎস বা সদস্যদের চাঁদা বাবদ সর্বোচ্চ আয় মাত্র ২৬ লাখ টাকা। একইভাবে দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যন্ত কাজের পরিধি বিস্তৃত থাকলে বাৎসরিক খরচ দাঁড়ায় ৩৩২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা, যার বিপরীতে চাঁদা বাবদ সর্বোচ্চ আয় আসে ৩৮ কোটি টাকা। আর যেসব বড় দলের ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক ব্যাপ্তি রয়েছে, তাদের বাৎসরিক খরচ ১,৫৩২ থেকে ২,১৮৮ কোটি টাকা। অথচ তাদের চাঁদা বাবদ বার্ষিক আয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১১৬ কোটি টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। এই বিপুল অর্থের অনানুষ্ঠানিক ও ব্যক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার কারণে রাজনীতিতে বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া পৃষ্ঠপোষকতা তৈরি হচ্ছে, যা সুশাসনের পথে প্রধান অন্তরায়। রাজনীতিতে অর্থ ও পেশীশক্তির এমন ব্যবহার এক ধরনের স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে।’
নামমাত্র উপস্থিতি নারীদের
গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১০টি প্রধান রাজনৈতিক দল পারিবারিক পর্যায় থেকে নেতৃত্বে আসছে, যার ফলে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী ও যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দলগুলোতে পরিবারতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র এবং কর্তৃত্বপরায়ণতা জাঁকিয়ে বসেছে। ক্ষেত্রবিশেষে দল পরিচালনায় গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে অ্যাডহক বা বিশেষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও দলগুলোতে নারীদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। অধিকাংশ দলেই নারীদের অবস্থান নামমাত্র বা প্রতীকী হিসেবে রয়ে গেছে।
সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা
রাজনীতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্বৃত্তায়নের কারণে দলগুলোর মধ্যে তীব্র কোন্দল ও সহিংসতা বাড়ছে। গত ৯ মাসের ডেটা উল্লেখ করে টিআইবি জানায়, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও অন্তর্কলহের কারণে বহু নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষমতার এই সহিংস চর্চা শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, বরং তৃণমূল বা স্থানীয় পর্যায়েও মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
চরম ঘাটতি আইনি কাঠামোতে
টিআইবি জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী আইনি কাঠামোর অভাব রয়েছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রে অতি-নিয়ন্ত্রণমূলক এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন।
সুপারিশ
গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে মনে করে টিআইবি। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, এই রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মূল দায়িত্ব দলগুলোকেই নিতে হবে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দলগুলোকে নিজেদের আয়নার সামনে দাঁড় করাতে হবে এবং সংস্কারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের চাকরিচ্যুতির ঘটনা শুধু পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, বরং সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করে বলে মনে করে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. পূর্বা ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. মশিউর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কুয়েটে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শীল, আইইএম বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত তলাপাত্র, ইএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিবিড় মণ্ডল, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসরুরা মোস্তফা এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার রোমান। এ ছাড়া চাকরিচ্যুত হয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রি এবং অফিস সহায়ক সত্যজিৎ কুমার দত্ত।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ জানিয়েছে, আমরা মনে করি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই এ ধরনের চাকরিচ্যুতি ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোসহ সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি, সাময়িক বরখাস্ত, একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বয়কট, হুমকি-হয়রানি এবং মব সন্ত্রাসের এক ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শত শত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ঘটনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাক্স্বাধীনতা, শিক্ষকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশের পরিবর্তে ভীতি, অসহিষ্ণুতা, প্রতিহিংসা ও জবরদস্তিমূলক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের কথা বলা, চর্চা করা কিংবা এসবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কোনো অপরাধ নয়। অথচ এসব আদর্শের পক্ষে কথা বলার কারণে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসংখ্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীকে নানাভাবে হয়রানি, বঞ্চনা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বলছে, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, রাজনৈতিক মতাদর্শ, ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা ভিন্নমতের কারণে কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে হয়রানি, বঞ্চিত কিংবা চাকরিচ্যুত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ধরনের মব সন্ত্রাস, সামাজিক বয়কট কিংবা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কারও পেশাগত ও শিক্ষাগত অধিকার হরণ করা চলতে পারে না।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ অবিলম্বে কুয়েটে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অদ্যাবধি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিচ্যুতি, বয়কট, সাময়িক বহিষ্কার ও হয়রানির শিকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথাযথ মর্যাদায় স্ব স্ব পদে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্বহাল করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তিনি সিআইডির দিনাজপুর জেলায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে ডিএমপির তেজগাঁও ট্রাফিক জোনে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর বিষয়টি জানা যায়।
বিভাগীয় মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। পরে ওই নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলার আদালতের পর্যবেক্ষণেও তাদের স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে বলে বিভাগীয় নথির সারসংক্ষেপে উল্লেখ রয়েছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে বিভাগীয় তদন্তে উল্লেখ করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়।
বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির ২৫ অক্টোবরের অনুমোদনের পর এ আদেশ জারি করা হয়।