• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:০৮ এএম

রাজধানীর বসুন্ধরা ও উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজারের বেশি সিম, মোবাইল ফোন ও ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় পাঁচ চীনা নাগরিকসহ প্রতারক চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।


ডিবি বলছে, এই প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ, টেলিগ্রাম গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, জব প্রতারণাসহ ঘরে বসে কাজের বিজ্ঞাপন দিয়ে ভিওআইপি গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। একই সঙ্গে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাঠাচ্ছিল।

গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোতে চীনা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ডিসি-সাইবার উত্তর হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।




ডিসি হাসান মোহাম্মদ বলেন, ‘এক সপ্তাহ অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সিম, ২১টি ভিওআইভি গেটওয়ে, ৫টি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল উদ্ধারসহ দেশি-বিদেশি ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেফতার পাঁচ চীনা নাগরিকসহ টেলিগ্রাম প্রতারক চক্রের আট সদস্য হলেন—চেন লিং ফেং (Chen Ling Feng), জেং কং (Zeng Cong), জেং চাংকিয়াং (Zeng Changqiang), ওয়েন জিয়ান কিউ (Wen Xian Qiu), হুয়াং ঝেং জিয়াং (Huang Zheng Xiang), মো. জাকারিয়া (২৬), নিয়াজ মাসুম (২০) ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় (৩৮)।


মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারণার প্রচুর অভিযোগ পাচ্ছি। সেগুলা জিডি ও মামলা আকারে পাচ্ছি। ক্রমেই অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। এতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। ঢাকার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির ৫১ হাজার ২৫১টি সিম উদ্ধার করি। এছাড়া ২১টি ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে মেশিন উদ্ধার করি, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো সিম ইনসার্ট করা থাকে। এই মেশিনটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।


তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে পাঁচটি ল্যাপটপ, ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল ফোন ও দুটি সিপিইউ উদ্ধার করেছি। চক্রের দেশি-বিদেশি আট নাগরিককে গ্রেফতার করেছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দু’পক্ষের সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আজ সোমবার ফের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ফোরামের সদস্যদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকালে এস আলমের সময়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া চট্রগ্রামের পটিয়া থেকে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুতদের একাংশের সঙ্গে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।


প্রতক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে পটিয়া অঞ্চল থেকে আসা কিছু সাবেক কর্মী চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নেন। এ সময় গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেয়। এতে দুই গ্রুপের পক্ষের অর্ধশতাধিক সদস্য আহত হন।


গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর উন নবী মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আজ যখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, তখন পুলিশের ছত্রছায়ায় আমাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। যারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’


অন্যদিকে, চাকরিচ্যুতদের ২৫ জনের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন শহিদুল ইসলাম নামের সাবেক এক কর্মী। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আজ উপস্থিত হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’


‎পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষ অবস্থান নেয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালের ঘটনা আমি জানি না। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা অবস্থান নিয়েছেন। যেহেতু এটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের এখান থেকে চলে যেতে বলেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।’


মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাকিবুল আলম ভূইয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটালে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৫ পিএম

এক তরুণীকে ঘিরে ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে রাজধানীর সবুজবাগে খুন হয়েছেন কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ (২৭)। দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসেন সিফাত। এরপর তিনি জানতে পারেন সাজিদুল ইসলাম সাজিদ নামে আরেক যুবকের সঙ্গে চার বছর ধরে সম্পর্ক চলছে ওই তরুণীর। এ নিয়েই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।


গত রবিবার বিকেলে রাজধানীর মাদারটেক এলাকায় সিফাত হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় র‌্যাব সাজিদ ও তার সহযোগী আল আমিন হোসেন জয়কে গ্রেপ্তার করেছে।


গতকাল সোমবার র‌্যাব-৩ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান।


লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় ওই তরুণীর বাসায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান সিফাত। এ খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ কয়েকজন ওই বাসায় যায়। জয় তখন ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন। জয়ের সহযোগীরা বাসায় ঢুকে সিফাতের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তিতে জড়ায়। ধস্তাধস্তিতে সময় ইয়াছিন ও রাজু আহত হয়। পরে তারা নিচে নেমে আসে। সিফাতও মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে জয়ের সহযোগীরা তাকে পেছন থেকে হামলা করে এবং ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। স্থানীয়রা সিফাতকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। র‌্যাব ৩-এর অধিনায়ক বলেন, রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁও হাজিবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও শেখের জায়গাবাজার থেকে প্রধান আসামি জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।


জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, সিফাত প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসেন। ওই তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে সাজিদের সঙ্গেও তার চার বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সিফাতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। 


অন্যদিকে জয় ওই মেয়েটির সঙ্গে মাদারটেক আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে পরিচিত ছিলেন। জয় এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে জয়সহ তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে জয়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


র‌্যাব-৩ অধিনায়ক জানান, হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সবুজবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

‘মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি’

খাটের সঙ্গে শিকলে বেঁধে স্ত্রীকে নির্মম নির্যাতন, তিন দিন পর লাশ উদ্ধার


মুক্তা ইসলাম মাওয়া

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৭ পিএম

২৫ বছর বয়সী মুক্তা ইসলাম মাওয়ার পায়ে শিকল। বাসার খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তাঁকে। ওই তরুণীকে সহিংস শাস্তি দিতে এমন অমানবিক আয়োজন তাঁর স্বামী সোহেল শিকদারের (৩১)। কয়েক সেকেন্ড পরপর তাঁকে চামড়ার বেল্ট দিয়ে সজোরে পেটানো হচ্ছিল। ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল মুক্তার চোখ-মুখ। শরীরজুড়ে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। মায়ের ওপর এমন বর্বর নির্যাতনের সময় পাশের রুমে কাঁদছিল তাঁর দুই সন্তান সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪)। দুই শিশুর কান্না কী করে সহ্য করবেন মা! তখন মুক্তা তাঁর স্বামীকে বলেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।’ সন্তানের কান্না ও স্ত্রীর অশ্রুসজলেও মন গলেনি সোহেলের। 


রাজধানীর খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে এর ভিডিও করেন সোহেল শিকদার। সেই ভিডিও মুক্তার ভাইয়ের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে সোহেল লেখেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’ এরপর খিলক্ষেতের বাসা থেকে গত বৃহস্পতিবার মুক্তাকে নিয়ে যান স্বজনরা। তবে সেটি তাঁর নিথর দেহ! সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিলেন মুক্তা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সোহেল নির্যাতনের পর হত্যা করে স্ত্রীকে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছেন। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ ও যৌতুকের জন্য কয়েক মাস ধরে মুক্তাকে নির্যাতন করে আসছিলেন সোহেল। 


৩ মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তাকে পেটানোর সময় সোহেল বলছিলেন, ‘কথা ক, কথা ক, তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু। তোকে আমি ছাড়ব না। তোকে আজ ছাড়ব কি ছাড়ব না, এটা আমার বিবেচনা। একবার শুধু কথা ক।’ বেল্ট দিয়ে নির্দয়ভাবে পেটানোর পর তাঁর শরীরে রক্তাক্ত কালচে জখম হয়ে যায়। এক পর্যায়ে মুক্তা বলছিলেন, ‘আমি কিছু করিনি। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এ কথা বলার পর তাঁকে আরও পেটানো হয়। তখন মুক্তা বলছিলেন, ‘আমাকে আর মাইরো না, ও আল্লাগো।’ নির্যাতনের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে চোখ বন্ধ করে অনুচ্চ স্বরে কিছু একটা বলছিলেন তিনি। তখনও তাঁর শরীরে বেল্ট দিয়ে আঘাত চলছিল। 



মুক্তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গত শুক্রবার খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন তাঁর ছোট ভাই তানভীর রহমান। এজাহারে বলা হয়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে মুক্তার ওপর নির্যাতন করে আসছিলেন সোহেল শিকদার। সর্বশেষ ৩০ আগস্ট মুক্তাকে বেল্ট দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন মুক্তার ওপর নির্যাতনের ভিডিও তার এক স্বজনকে পাঠান সোহেল। তখন হুমকি দেন, মুক্তাকে মেরে ফেলা হবে। পরে গত বৃহস্পতিবার মুক্তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়ার খবর পান স্বজনরা। 


তানভীর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তাঁর বোনের লাশ সিলিং ফ্যান থেকে নামানো হয়েছে। কয়েক মাস আগে আমার কাছে তিন লাখ টাকা চেয়েছিলেন সোহেল। সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় বোনকে মারধর করা হতো। তিনি আরও বলেন, মাকে হারিয়ে তাঁর দুই বাচ্চা সারা দিন কান্নাকাটি করছে। বারবার বলছে,  বাবা মাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।  


তানভীর বলেন, আমরা চার ভাই-বোন। বাবা ছোটবেলায় মারা যান। মা আমাদের বড় করেছেন। অনেক নির্যাতনের পর মায়ের কষ্টের কথা চিন্তা করে আমার বোন অনেক কিছু গোপন করতেন। নির্যাতন সহ্য করার পরও মারা যাওয়ার আগে পুলিশের কাছে যায়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। একই এলাকার সোহেল শিকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ের পর থেকে মুক্তা খিলক্ষেতে স্বামীর সঙ্গে থাকেন। সোহেল প্রথমে খিলক্ষেত এলাকার মুদি দোকানি ছিলেন। পরে তিনি এম্ব্রয়ডারি ব্যবসায় জড়ান। সেখানেও ভালো করতে পারেননি। এরপর স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি শুরু করেন। শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক চাওয়া শুরু করেন।  


খিলক্ষেত থানার ওসি মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, মুক্তাকে পেটানোর যে ভিডিওটি পাওয়া গেছে, সেটি তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগের। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা, না আত্মহত্যা। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


এদিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে স্বামীর হাতে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে কল এসেছিল ১৮ হাজার ৬২৬টি।  ২০২৪ সালে অভিযোগ আসে ২৩ হাজার ৩৩টি। এর মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল ১১ হাজার ৪১৮টি। ২০২৩ সালে ২৬ হাজার ৭৯৮টি কলের মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ৯ হাজার ৯১৩টি। ২০২২ সালে ২১ হাজার ৭১২টি কলের মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ৬ হাজার ৫৬০টি। ২০২১ সালে ১২ হাজার ১৬৯টি অভিযোগের মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে ছিল ৩ হাজার ৩৪৮টি।



এসআইকে পিটিয়ে হত্যায় ‌গ্রেপ্তার আসামিরা

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

‎ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা টার্গেট ছিল না। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সোমবার সকালে ঢাকার কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় এসবির এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে তাদেরই এক গেঞ্জি কারখানায় ঢুকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে ১৫ জনের নামে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এরপর ‘হামলার মূলহোতা’ প্রাইভেটকার চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় রোবাবর রাতে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে এজাহারনামীয় আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরানকে এবং আমিনবাজার থেকে র‌্যাব-৪ এর হাতে গ্রেপ্তার চারজন হয়- নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিম।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, চারজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছি। তাদের বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। একই ঘটনায় র‍্যাব-৪ আরও চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ফলে এজাহারনামীয় ১৫ জনের মধ্যে র‌্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’

‎ঘটনার বিবরণে র‌্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেটকারে থাকা ৫ জন ওই গ্যারেজ মালিককে হামলা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সাথে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন, এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়।

‎এরপর তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিশেষ করে আপন এবং জিহাদ অত্যন্ত অপরাধী প্রবণ হয়ে উঠেছিল, বেশ কিছুদিন থেকে তাদের আগের অপরাধের রেকর্ড খুব খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাং লিড করে এবং মাদকের সাথে সম্পৃক্ত।

এসআইকে পিটিয়ে হত্যায় ‌গ্রেপ্তার আসামিরা

‎এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিল না। কারণ আলতাফ হোসেন এসবিতে চাকরি করেন, উনি সেই সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন। তিনি পুলিশ ও একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে একজন বৃদ্ধ মানুষকে (অটোরিকশা গ্যারেজের রিকশার মালিক) যখন আঘাত করা হচ্ছিল তখন মানবিকভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা।’

হামলাকারীরা প্রত্যেকেই নেশাগ্রস্ত ছিল, যেটিকে ‘মূল বিষয়’ বলছেন এই কর্মকর্তা।


‎অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট এবং মাদক সংক্রান্ত এটা আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। আলাউদ্দিন নিজে ওখানে আলতাফের উপরে আঘাত করেছে। জিহাদ নিজে চাকু দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে। আপন ওখানকার গ্যাংয়ের মূলহোতা বলা যায়। তার বিরুদ্ধে তিনটা মাদক মামলাও আমরা পেয়েছি। সে এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় চরমভাবে আঘাত করে। ইমরান গণপিটুনিতে অংশ নিয়েছিল।’

‎এ সময় র‌্যাব কর্মকর্তা আসাদুজাজামান ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৯ ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমলযোগ্য অপরাধ হলে শুধু পুলিশ না, সাধারণ মানুষও অপরাধীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি এই ধরনের ঘটনার সময় নাগরিকদের এগিয়ে না এসে ছবি তোলা-ভিডিও করার প্রবণতায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। যেটিকে নাগরিকদের ‘নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


গ্রেপ্তার ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৩ পিএম

বিদেশি একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি ও বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত এক জোড়া হ্যান্ডকাফ। সঙ্গে এক রোল কালো স্কচটেপ, একটি শপিং ব্যাগ ও একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস। এসব সরঞ্জাম নিয়ে বনানীতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পাঁচজন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ।



ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার একজন বর্তমানে র‍্যাবে কর্মরত। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বনানী থানাধীন ‘এ’ ব্লকের ৪ নম্বর রোডের খায়ের প্যালেসের সামনে এ অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৪৫ সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মো. মাসুদ রানা (২৯), মো. রাজিব হাওলাদার (৩০), হাফিজুল মাতব্বর (২৪), মোহাম্মদ শাকিল হোসেন (২৪) ও মো. বাদলকে (৪২)।


ডিবির তথ্য মতে; গ্রেপ্তার মাসুদ রানা র‍্যাবের সৈনিক। তিনি র‍্যাব সদর দপ্তরের ডগ স্কোয়াড বিভাগে কর্মরত।



র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এই বিষয়টি আজকে সকালেই ঘটেছে এবং সাথে সাথে ডিবি কর্তৃক তাঁকে (মাসুদ রানা) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে তাঁকে র‍্যাব কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।’


ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে র‍্যাবের পক্ষ থেকে একজন মেজরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। তিনি অনুসন্ধান করে দেখবেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।


রাজধানীর মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁরা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং তাঁরা আগে কোনো অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





জব্দ পণ্যসহ আটককৃতরা

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১০ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত দুই দিনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার চোরাচালানের পণ্য আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সম্প্রতি পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশী সিগারেট, মোবাইল ফোন, যন্ত্রাংশ, বিদেশী মদ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।



৩১ আগস্ট সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা দুই যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি চালান কাস্টমস গোয়েন্দারা। এমডি মনসুর আলম নামের এক যাত্রীর কাছ থেকে ২৩১ কার্টুন এবং মোহাম্মদ নওয়াজ শরীফ নামের অপর যাত্রীর কাছ থেকে ২৫০ কার্টুনসহ মোট ৪৮১ কার্টুন বিদেশী সিগারেট জব্দ করা হয়। এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা।


একই দিনে ব্যাংকক থেকে আসা অন্য একটি ফ্লাইটের টিপু আল ইমরান নামের এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। তার ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৩৬টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি রেডমি টার্বো ৪ প্রোভ এবং ১৭টি অনার ২০০ মডেলের ফোন রয়েছে। আটক মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।


উক্ত যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে আরো ৫৫০টি মোবাইল ডিসপ্লে এবং ৯৫০টি বোতাম মোবাইলের মাদারবোর্ড জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ টাকা এবং মাদারবোর্ডগুলোর মূল্য ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।


এছাড়া এয়ারপোর্টের ব্যাগেজ বেল্টের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি হাতব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগটি থেকে ৩ লিটার বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০ হাজার টাকা।



১ সেপ্টেম্বর গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে বাহরাইন থেকে আসা মোহাম্মদ আল আমিন নামের এক যাত্রীকে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ১৮ লিটার রেড লেবেল ব্র্যান্ডের বিদেশী মদ উদ্ধার করেন শুল্ক কর্মকর্তারা। জব্দ করা এই মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।


অন্যদিকে ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান চালানো হয়। দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ১২ কার্টুন বিদেশী সিগারেট, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা।


ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দুই দিনের অভিযানে জব্দ হওয়া সব পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা।


কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্য বিশ্লেষণ ও বিমানবন্দরে নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে চোরাচালান রোধে তাদের এ নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।