ডিজিএফআই সদর দপ্তরে থাকা জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪২ পিএম

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) আটকে রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১/১১ এর সময় তারেক রহমানকে জেআইসির একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর নির্যাতন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষীদের বর্ণনা ও আমাদের তদন্তে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআইয়ের 'জেআইসি সেল' নামের গোপন বন্দিশালা বা 'আয়নাঘর' পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’ নামে টর্চার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আমরা আজকে আমাদের বিচারের অংশ হিসেবে ডিজিএফআইয়ের কমপ্লেক্সের ভেতরে জেআইসি... এটি টর্চার সেল, 'আয়নাঘর' হিসেবে পরিচিত... সেই জেআইসি পরিদর্শনে তিনজন বিচারপতি, সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, আমাদের প্রসিকিউশন টিমের সদস্য উপস্থিত ছিলাম। আমাদের ডিফেন্স টিমের আইনজীবী বন্ধুরাও উপস্থিত ছিলেন। সবাই আমরা আমাদের বিচারপতিদের নেতৃত্বে এই জেআইসিটি পরিদর্শন করেছি।


আমিনুল ইসলাম বলেন, 'জেআইসি ছিল মানুষকে ধরে এনে বন্দি রেখে তাদের ওপর অত্যাচার এবং নির্যাতনের একটা সেল, যেটা পরে সর্বজন পরিচিত 'আয়নাঘর' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেখানে কী অমানবিকভাবে বন্দিদের ধরে এনে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হয়েছে, সেই নির্মম চিত্র আজকে এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কিছুটা অনুভব করা গেছে।'


তিনি আরও বলেন, 'আজকে যে জেআইসি, এখানে কিন্তু ব্রিগেডিয়ার আজমীসহ বন্দিদের এই জেআইসিতে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে।'


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'আরও একটি বিষয় দেখবেন, এক-এগারোর সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী... আজকে যে জেআইসি সেলটি আমরা পরিদর্শন করেছি, তারই কোনো একটি কামরায় তাকেও কিন্তু আনা হয়েছে। তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল। আমাদের ইনভেস্টিগেশনে বিভিন্ন সাক্ষীদের মুখের বর্ণনা থেকে সেই তথ্য পাওয়া গেছে এবং পর্যায়ক্রমে এগুলো বিচারের রিফ্লেকশন হবে।'


তিনি আরও বলেন, 'বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল। যেখানে কিছুসংখ্যক অতি উৎসাহী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরকারের কিছু অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই আয়নাঘর নামে টর্চার সেলগুলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের নেতা, যারা মত-পথের ভিন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের ধরে এনে অনেক মানুষকে সেখান থেকে পরে গুম করা হয়েছে। সেই গুমের অনেক ভিকটিমদের আমরা কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের হদিস পাইনি। অনেক ভিকটিমদের সেখানে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে। তাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হয়েছে।'


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'আপনারা ইতোমধ্যে জানবেন যে, এই ডিজিএফআই এবং জেআইসি সেলের সম্পৃক্ত যেসব কর্মকর্তারা ছিল, তাদের অনেককেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিচার চলছে। ভবিষ্যতেও যাদের সংশ্লিষ্টতা এভাবে পাওয়া যাবে, তাদেরও এই অমানবিক ঘটনার জন্য বিচারের সম্মুখীন করা হবে।'


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'হুম্মাম কাদের চৌধুরী, তাকেও কিন্তু এই জেআইসি সেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তিনি কতদিন বন্দি ছিলেন, তার নিজের হাতের একটা লেখা ছিল এবং এইচ কিউ সি নামে একটা ব্যাপার ছিল, সেটি কিন্তু তারা সাদা রং করে প্লাস্টার করে দিয়েছে। প্লাস্টারের পরেও তার এই লেখাটা জেআইসি সেলের একটি রুমের মধ্যে বিদ্যমান আছে এবং সেখানে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বর্ণনা থেকে কিন্তু আমরা এটা পেয়েছি।'


তিনি বলেন, 'তার (হুম্মাম) বর্ণনার সঙ্গে জেআইসিতে যে রুমটি, এটার হুবহু মিল পাওয়া গেছে। আমরা এগুলো সিলগালা করে রেখেছি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়তো এগুলো আমাদের কাস্টডিতে থাকবে।'


ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে এই পরিদর্শন দলে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও। এর আগে, গত শনিবার উত্তরায় র‍্যাব পরিচালিত বন্দিশালা বা গুমঘর পরিদর্শন করেন তারা।


প্রসিকিউশন জানায়, র‍্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত বন্দিশালায় গুম করে রাখার অভিযোগে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এই বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব বন্দিশালা পরিদর্শন করছেন বিচারপতিরা।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৭ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বক্তব্য রাখেন।


অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ এই বৈশ্বিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন তিনি।


এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে (জেনারেল ডিবেট) বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। 


বক্তব্যে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

মনজুর রহমান পিপিএম পদকে ভূষিত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ পিএম

বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান পেশাগত দায়িত্বে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকে ভূষিত হয়েছেন।


পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত, অপরাধ উদঘাটন এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ মর্যাদাপূর্ণ পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়।


পিপিএম পদক লাভ করায় সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসআই মনজুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা তার কর্মজীবনের সাফল্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।


এসআই মনজুর রহমান বলেন, পিপিএম পদক তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গৌরবের। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তাকে অনুপ্রাণিত করবে।


পুলিশের একজন কর্মকর্তা হিসেবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

রুহুল কবির রিজভী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৩ পিএম

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।


রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ দীর্ঘদিন দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে।


সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা সমন্বয় করা হলেও লোকসান পুরোপুরি কাটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।


বিভিন্ন দেশের দামের তুলনা


আলোচনায় বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দাম তুলে ধরে রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে প্রায় ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।


রিজভীর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময়ও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। পরে দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলেও সরকারের লোকসান এখনো রয়েছে।


নাশকতার বিরুদ্ধে কর্মসূচির আহ্বান


দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।


এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।


রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচির পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।


তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নেই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে তারা কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।


সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান ও মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।

 

সর্বশেষ সব খবর

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৭ পিএম

সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীনকে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ রদবদলের কথা জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।


মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাঁকে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

নতুন পে স্কেল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম

নতুন বেতন কাঠামোয় পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়ি ভাতার হার কমবে। ফলে গ্রেড বাড়লেও বাড়ি ভাতা কম পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে কিছু ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর মোট বেতন ঊর্ধ্বতন গ্রেডের কর্মচারীর চেয়েও বেশি হচ্ছে। বাড়ি ভাতার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম অঙ্ক উল্লেখ না থাকায় এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।


সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির সঙ্গে সাধারণত কর্মচারীর আর্থিক সুবিধা বাড়ার কথা। কিন্তু নতুন বেতন কাঠামোর এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি পেলে যদি বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যায়, তাহলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোট মাসিক প্রাপ্যও কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়বে না। 


শেষ করে একই কর্মস্থলে কর্মরত দুই গ্রেডের কর্মচারীর ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারী যদি বাড়ি ভাড়া বাবদ তুলনামূলক বেশি পান, তাহলে বেতন কাঠামোর গ্রেডভিত্তিক যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে। 


বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৫ হাজার ৬০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পান চাকরিজীবীরা। ৯ হাজার ৭০১ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা মূল বেতন হলে ৬০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। মূল বেতন ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা হলে ৫৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। 


আর মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি হলে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রে বাড়ি ভাতার হার ও ন্যূনতম অঙ্কে ভিন্নতা রয়েছে।


গেজেট প্রকাশের পর এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন। কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, এই ভুলের জন্য তাদের কিছু করার নেই। তারা সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করেছেন।


বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, গতকাল ১২টি সংগঠনের জোট মিলে তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর অসংগতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা) মো. নাজমুল হুদা সিদ্দিকী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে বলার কিছু নেই। এ বিষয়ে আমি অবহিত নই।’ নতুন পে স্কেল যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু না, এটা ভিন্ন উইংয়ের কাজ। এটা আমার দায়িত্বাধীন না, এজন্য ভিন্ন কর্মকর্তা রয়েছেন।’


নতুন বেতন কাঠামোয় বৈশাখী ভাতা নিয়েও কর্মচারী সংগঠনগুলো বিদ্যমান সুবিধার সঙ্গে তুলনা করেছে। এতে বিদ্যমান ২০ শতাংশের বিপরীতে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১২ পিএম

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বৃদ্ধির পর বেড়ে গেল বাসের ভাড়াও। প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিবহন মালিকদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এই সিদ্ধান্তের পর এখন দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হলো। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ালো ২ টাকা ৭০ পয়সা।


রোববার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন– চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় সরকার। রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ গতকাল মঙ্গলবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হয়েছে। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। 


জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের পর গতকাল সোমবার বাসভাড়াও বাড়ানোর প্রস্তাব দেন পরিবহন মালিকরা। কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া ১৮ থেকে ২০ পয়সা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে প্রস্তাব দেন তারা। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে ভাড়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। 


এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এএসএম আহমেদ খোকন সোমবার রাতে বলেছিলেন, ‘জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে ১ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। সে হিসাবে লিটারে ২০ টাকা বাড়লে কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়বে। প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং নগর বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা হবে।’


তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব আমরা বিআরটিএর কাছে দিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিআরটিএ এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।


চলতি বছরের এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকায় মিনিবাসে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর