ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিনই কেনাকাটা করতে আমরা কোথাও না কোথাও গিয়ে থাকি। অনেক ভোগান্তি শেষে কোথাও গিয়ে দেখলেন, সেখানকার কার্যক্রম বন্ধ, তখন কাজ তো হলোই না বরং সময় নষ্ট। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট, দোকান ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে।
যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ
আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট অঞ্চল, তেজগাঁও শিল্প অঞ্চল, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী বাণিজ্যিক অঞ্চল, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল অঞ্চল, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া ও রায়েরবাগ।
বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট
বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আইডিবি), পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লি, ইব্রাহীমপুর বাজার, রজনীগন্ধা মার্কেট, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স এবং মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেট।
তিতাস গ্যাস
গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি মেরামত কাজের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শনিবার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার তালিকায় রয়েছে সারুলিয়া, পূর্ব বক্সনগর, হাজি নগর, বড়ভাঙ্গা, কোনাপাড়া, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, আমুলিয়া, রানীমহল, নিমাই কাসারি, রসূলনগর ও সুকুসি এলাকা।
এ ছাড়া কাঁচপুর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে সুলতানা কামাল ব্রিজ পর্যন্ত এলাকা, শনির আখড়া, মাতুয়াইল, পোস্তগোলা, জুরাইন, হাজী খোরশেদ আলী সড়ক, জিয়া সরণী, ধনিয়া, পাটের বাগ, জাপানি বাজার, খুদের বাজার, ধোলাইপার মোড়, মাদ্রাসা রোড, পাইপ রোড, কাজলার মোড়, মীরের বাগিচা ও বাঘমারা এলাকাতেও একই সময়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, নির্ধারিত ছয় ঘণ্টা এসব এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। একই সময়ে সংলগ্ন এলাকাগুলোতে গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে।
সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সন্দেহে অন্তত ৪০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার বিকেল পৌনে ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। আটক ব্যক্তিদের পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের লোকজন জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক করছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
আজ দুপুরের পর জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী গোপন বৈঠক করছেন- এমন খবর পেয়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে তাদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। এ সময় বাইরে যুবদলের শত শত নেতাকর্মী অবস্থান করেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। তাহলে এটাকে কীভাবে জাসদের কার্যালয় বলতে পারি! এটা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়। যেখানেই আওয়ামী লীগের স্লোগান দেখব, সেখানেই যুবদল যাবে। ৪০০ থেকে ৫০০ লোক এ কার্যালয়ে আটকা অবস্থায় রয়েছে। কার্যালয়ের সামনে যুবদলের হাজার হাজার লোক আছে, তাদের শান্ত রেখেছি। কার্যালয়ে আটকে থাকা লোকজনকে প্রশাসনকে নিয়ে যেতে বলেছি।’
পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ‘বিকেল ৩টার দিকে তিনতলায় গিয়ে জাসদ কার্যালয়ে দেখা যায়, সেখানে বৈঠক চলছে।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন আজ বিকেল পৌনে ৫টায় বলেন, ‘‘ওই কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ৪০ জনকে পল্টন থানায় নিয়ে গেছে। এখনো অভিযান চলছে।’’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ‘শপথ নেওয়া’ মো. হারুনকে গ্রেপ্তার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ‘শপথ নেওয়া’ মো. হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, হারুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। দুই দিন আগে তিনিসহ কয়েকজন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার শপথ নেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, কেরানীগঞ্জের একটি আবাসন প্রকল্পের ফাঁকা জায়গায় দুই দিন আগে জড়ো হন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা একে অন্যের হাত ধরে শপথ নেন যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনবেন। সেটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে হারুনকে দেখা গেছে। এ ছাড়া গত ১৭ মে ভোরে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের ভাগ্যকুল মিষ্টি ভান্ডারের সামনে হারুনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা চালান।
বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালানো হয়
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মুখোশ পরা ২৫০ জনের বেশি দুর্বৃত্ত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে তারা ক্লিনিকের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালপত্র লুট করে এবং স্থাপনা ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার সকালে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার এসব তথ্য জানান।
ডা. নাসরিন আখতার বলেন, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। এটি এলাকার হাজারো নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রায় ২৫০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’-এর ব্যানারে ক্লিনিকে হামলা চালায়। তারা সেখানে কর্তব্যরত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। একপর্যায়ে ক্লিনিকটি দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশে বাধা দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে যায়।
পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিঃ’-এর সাইনবোর্ড লাগানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, লুটপাট ও ভাঙচুরে যন্ত্রপাতি ও মালপত্রের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। ১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ঘটনায় ক্লিনিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আগামীকাল থেকে ক্লিনিকটিতে সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই প্রতিষ্ঠানটি দখল ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ডা. নাসরিন আখতার। তিনি বলেন, হামলাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়, দেশের দরিদ্র, শিশু ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের ওপরও আঘাত।
প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দুটি দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হলো, হামলায় জড়িত সবাইকে দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সম্পূর্ণ ক্ষতি পূরণ করে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।
ঘটনার বিষয়ে ডিএমপির শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাড্ডা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎসুক জনতাকে জড়ো হয়ে থাকতে দেখেছেন। ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের বিবৃতি
এদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার এক বিবৃতিতে এটিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্রেখ করে লুটপাটে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে যা ঘটেছে, তা নিছক কোনো ডাকাতি বা হামলা নয়-এটি একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম, যা সমাজের অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি জঘন্য ষড়যন্ত্র। এই হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়; এটি এই দেশের প্রতিটি গরিব মা, প্রতিটি শিশু এবং প্রতিটি অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।’
দেশের সচেতন নাগরিক, মানবাধিকার সংগঠন, চিকিৎসক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে বলেন, ‘এই হামলা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমাজের সেই সব মানুষের বিরুদ্ধে যারা প্রতিদিন এই সেবার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। আজ যদি আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করি, যদি এই হামলার বিরুদ্ধে নীরব থাকি, তবে আগামীকাল সেই সন্ত্রাসীরা আরও দুঃসাহসী হয়ে উঠবে এবং সারা দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র তাদের জন্য অরক্ষিত হয়ে পড়বে। তখন এই নীরবতা আমাদের নিজেদেরই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।’
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিম (২৪) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় ‘আপস-মীমাংসা’ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে অভিযুক্ত কিশোরকে হাজির করা হলে এ তথ্য জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন।
এদিন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আয়াজকে আদালতে আনা হয়। শুনানি শুরুর আগেই আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস করা হয়েছে।
আপসনামা অনুযায়ী, নিহত মেহেদী হাসান মিমের দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ টাকা এবং তার বৃদ্ধ মা-বাবার ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় আরো ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নিহতের পরিবারকে মোট ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মোট ৯ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি প্রচলিত আইন ও আদালতের বিধি-বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া অভিযুক্ত আয়াজ আলী শারীফ ও গাড়িচালক আকাশ মারকের জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে আইনানুগভাবে আদালতে উপস্থিত থেকে আপত্তি না করা বা অনাপত্তি জানানোর বিষয়েও সহযোগিতার কথা আপসনামায় বলা হয়েছে। তবে আপসনামায় মামলাটি আদালতের এখতিয়ার ও প্রচলিত আইনের অধীনেই নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে অবস্থানরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে পড়া গাড়ির চাপায় নির্মাণ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় কিশোর চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকালে ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরকে গুলশান ১২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন গুলশান থানার ওসি জাহেদ নূর।
তিনি বলেন, ওই কিশোর তাদের হেফাজতে রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালের এ ঘটনায় এর আগে ওই কিশোরকে বাদ দিয়ে মামলা করা হয়। এতে আসামি দেখানো হয় গাড়িটির চালককে। ওই কিশোরের বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি বলেন, মামলার সঠিক তদন্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকালে বারিধারা ১ নম্বর সড়কে জার্মান দূতাবাসের কাছে অনিয়ন্ত্রিত একটি গাড়ি ফুটপাতে উঠে মেহেদী নামে এক নির্মাণ শ্রমিককে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই ২৪ বছর বয়সি ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে কালো রঙের একটি এসইউভি দ্রুত গতিতে এসে ফুটপাতে উঠে পড়ে। তখন সেখানে বসে ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী। গাড়িটি মেহেদীকে চাপা দিয়ে একটি সড়ক বাতির খুঁটিতে গিয়ে ধাক্কা দিলে সেটিও ভেঙে পড়ে।
পরে স্থানীয় লোজন উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত আনা হয়েছে বলে জানায়। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে বের হয়ে আসা এক কিশোরকে স্থানীয় লোকজন ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
অভিযোগ উঠেছে, পরে থানায় নিয়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তবে পুলিশের বক্তব্য, মব থেকে রক্ষা করতে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই একটি মামলা করলেও সেখানে ওই কিশোরের নাম ছিল না বলে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন জানান।
মামলায় আকাশ মারক (৪৪) নামে একজনের নাম দেওয়া হয়েছে, যাকে দুর্ঘটনায় পড়া গাড়ির চালক হিসাবে পরিচয় দেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা ইসমাইল বলেন, “মামলায় ওই গাড়ির চালকের নাম থাকলেও প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে দুর্ঘটনার পর চালকের আসন থেকে ওই কিশোর বেরিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই কিশোরই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।”
পরে তাকে গুলশানের ১২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ওই কিশোরের বাবা বিমান বাংলাদেশের একজন ক্যাপ্টেন।
“আমরা চালককেও খুঁজতেছি। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”
বারিধারায় কিশোর চালকের অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি ফুটপাতে, প্রাণ গেল নির্মাণ শ্রমিকের