ধানমন্ডিতে ছাদ থেকে ফেলে গৃহকর্মীকে হত্যা
রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি বহুতল ভবনের আটতলা ছাদ থেকে রিক্তা মণি (১২) নামে এক গৃহকর্মীকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসার গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিক্তা মণির বাড়ি সুনামগঞ্জে। সে ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল।
ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিক্তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসি সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, ঘটনার পর ওই বাসার গৃহকর্তা প্রকৌশলী সবিবুর রহমান এবং তার স্ত্রী ফারাহ নুসরাতকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত রিক্তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে।
কামরাঙ্গীরচর সরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শন এবং লিফলেট বিতরণ করা
ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে দু’দিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা করে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারপ্রধানের এই নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কামরাঙ্গীরচর সরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে এই প্রচারণা চালানো হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসের প্রচারণায় কামরাঙ্গীরচরে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার হতে পারে, এমন জায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
প্রায় সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে কেনাকাটার জন্য আমাদের মার্কেটে বা দোকানে যেতে হয়। তবে রাজধানীতে প্রতিদিনই কোনও না কোনও মার্কেট বন্ধ থাকে। তাই এ বিষয়ে আগে থেকে জানা থাকলে সুবিধা হয়, নয়তো অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়। তাই দেখে নেয়া যাক বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর যেসব এলাকার দোকানপাট, শপিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।
যেসব মার্কেট বন্ধ থাকে
মোহাম্মাদপুর টাউন হল মার্কেট, কৃষি মার্কেট, আড়ং, বিআরটিসি মার্কেট, শ্যামলী হল মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, মাজার করপোরেট মার্কেট, মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্স, শাহ্ আলী সুপার মার্কেট, মিরপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, কর্নফুলি গার্ডেন সিটি, কনকর্ড টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, সিটি হার্ট, জোনাকি সুপার মার্কেট, গাজী ভবন, পল্টন সুপার মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট-১ ও ২, গুলিস্থান কমপ্লেক্স, রমনা ভবন, খদ্দর মার্কেট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট, বাইতুল মোকাররম মার্কেট, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট, সাকুরা মার্কেট।
যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকে
মোহাম্মাদপুর, আদাবর, শ্যামলী, গাবতলী, মিরপুর স্টেডিয়াম, চিড়িয়াখানা, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, আসাদগেট, ইস্কাটন, মগবাজার, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগের একাংশ, শাজাহানপুর, শান্তিনগর, শহীদবাগ, শান্তিবাগ, ফকিরারপুল, পল্টন, মতিঝিল, টিকাটুলি, আরামবাগ, কাকরাইল, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা, হাইকোর্ট ভবন এলাকা, রমনা শিশু পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।
রাজধানীর দক্ষিণখানের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সী মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা রোড ও ফরিদ মার্কেট এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এ ছাড়া উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে কারা জড়িত, কেউ এসব কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন কি না এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে সোহরাব উদ্দিনের মুঠোফোনে (০১৮৩০০৯৬১৪৭) যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন গুলশানে আছেন বলে ফোন কেটে দেন । এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
*ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার কথা উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
*বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা
অভিযোগকারীরা বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তা তদন্ত করে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে দক্ষিণখানের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ফুটপাতে মারধরের এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে
রাজধানীর ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুই পুলিশ সদস্যের সামনেই এক ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হচ্ছে এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
নেটিজেনদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই সংস্কৃতি এবং পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তা কেন দেখা গেল? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে অবস্থিত বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের উল্টো দিকে। ভুক্তভোগী ২৩ বছরের এক তরুণীর অভিযোগ, শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তি তাকে ‘ব্যাড টাচ’ বা শ্লীলতাহানি করেন। তরুণী তৎক্ষণাৎ বিষয়টি সেখানে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে জানালে তারা লোকটিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক না করে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন। এরপর ভুক্তভোগী তরুণী তার মামাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান।
ভাগনির ওপর শ্লীলতাহানির খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তরুণীর মামা। তিনি অভিযুক্ত শহীদ আবদুল্লাহকে পেয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন এবং কান ধরে ওঠবস করান। সেই মারধরের ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতার ভিড়ের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা এগিয়ে যাননি। ফেসবুকে অনেকে পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে বিচার করার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্তকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান। বিচারকের কাছে তরুণীকে শ্লীলতাহানির কথা স্বীকারও করেন ওই ব্যক্তি।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা যুবকটিও অপরাধ করেছেন। তাঁকে পুলিশ খুঁজছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যের ভূমিকা প্রসঙ্গে ওসি জানান, উত্তেজিত জনতার মারমুখী ও উগ্র আচরণের কারণে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাননি। তবে ওই দুই পুলিশ সদস্যের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। তিনি অতীতে এমবিবিএস পড়ার সময় মানসিক রোগে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তার বিয়ে হয়েছিল। তবে অনেক আগেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।
সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা
রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এক পাশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মহাসড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, যাত্রী ও পথচারীরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা আজমপুর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সেখানে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে গণপরিবহনে আটকে পড়েন অনেক যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
বাসে আটকে পড়া সিপার মাহমুদ বলেন, ‘সকালে জরুরি কাজে বের হয়েছি। কিন্তু সড়কে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আটকে পড়ে যাই। অনেক সময় বাসে অপেক্ষার পর হেঁটেই যাচ্ছি।’
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে উত্তরার আজমপুর ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সড়ক ব্যবহারকারীদের বিকল্প পথে চলাচল এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং অবরোধ নিরসনে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পুনঃব্যবহার বাড়ানো এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে চক্রাকার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ (মঙ্গলবার) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপিএপি) বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘চক্রাকার অর্থনীতির পথে সমন্বিত উদ্যোগ’।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক দূষণ নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী, জলাভূমি, উপকূল, জনস্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে। আবার প্লাস্টিক উৎপাদন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই এ সমস্যার সমাধানে উৎপাদন থেকে ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিতে হবে।
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নীতিমালার সুফল পেতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, উৎপাদক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এনপিএপি বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ প্ল্যাটফর্ম বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে যুক্ত করতে, নীতির সঙ্গে বাস্তবায়নের সংযোগ ঘটাতে, উদ্ভাবকদের বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিনিয়োগ সমন্বয়ে সহায়তা করবে। সরকার নেতৃত্ব দেবে, তবে এ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি এনপিএপি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস্তবসম্মত সমাধান ও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তি শক্তিশালী করতে, উন্নয়ন সহযোগীদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সহযোগিতা সমন্বয় করতে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চক্রাকার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এনপিএপির সাফল্য সভার সংখ্যা দিয়ে নয়, বাস্তব ফলাফল দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের উন্নতি, সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কার্যকর সমাধানের প্রসার এবং জনগোষ্ঠী ও বর্জ্যকর্মীদের অবস্থার উন্নতিই হবে সাফল্যের মাপকাঠি।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ বলেন, প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব বর্জ্য ফেলার স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি নালা বন্ধ করে, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং নদীর মাধ্যমে সাগরে পৌঁছায়। প্লাস্টিকসহ বর্জ্য খোলা জায়গায় পোড়ানোর ফলে ক্ষতিকর কণা ও বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, পরিবারকে বর্জ্য আলাদা করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সংগ্রহের সময় তা আলাদা রাখা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের পরিচালক ক্লেমঁস শ্মিড ভিডিও বার্তা দেন। এনপিএপি বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্লাস্টিকসংক্রান্ত অভিন্ন জাতীয় তথ্যভিত্তি তৈরি, অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে ইউএনডিপি মত দেয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম. আসাদুজ্জামান,বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।