প্রতীকী ছবি
রাজধানীর মহাখালীতে অন্তর্বতী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের শাস্তির দাবিতে এক ঝটিকা মিছিল থেকে তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর মহাখালী টার্মিনালের মূল সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় এক নারীসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- মিজানুর রহমান হাওলাদার (৪০),শামীম আর বেবি (৫০) ও শামীম হোসেন (৪৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ১০ থেকে ১৫ জন জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের প্ল্যাকার্ডও ছিল। তারা প্রতিরোধযোগ্য হাম রোগে নিষ্পাপ সম্ভাবনাময় শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউনূস-নূরজাহানদের বিচার এবং মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করেন।
শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সকালে তিন-চারটা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের লোকজন এটি ঘটিয়েছে। যারা ঘটিয়েছে তাদের থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আব্দুল্লাহ আল ইমরান গণমাধ্যমকে জানান, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কোনো কর্মসূচির তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। ব্যানারেও একটু ডিফরেন্ট শব্দ লেখা। আমরা তদন্ত করছি।
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গুলশানে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ৪০ জনকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এর আগে গতকাল শনিবার মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল ডিএমপি। তিনি বলেছিলেন, ‘এ ঘটনায় ১১৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অজ্ঞাত ৮০ থেকে ১০০ জন’ যারা সরাসরি ককটেল বিস্ফোরণসহ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত ছিল।’
এছাড়া মিছিলের সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করার কথা জানিয়েছিল গুলশান থানা পুলিশ। অর্থাৎ এ নিয়ে মোট ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
শুক্রবার দুপুরে গুলশান–১ এ আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. আরাফাত (২০) ও আ. রহিম (৪৯)।
পুলিশ জানায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান–১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা চালান। পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ সদস্য গুলশান এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। এ সময় নিকেতন এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এক উপপরিদর্শক তাদের ছত্রভঙ্গ করতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে পাঁচটি তাজা ককটেল ফেলে পালিয়ে যান।
ওসি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে তারা স্লোগান দেন মিছিলে। মিছিলটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে গুলশান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকশ’ লোক একটি মিছিল বের করেছেন। সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেছেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।
গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
শেখ ওয়াসিম রনি
পুরান ঢাকার লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর বন্ধুর অফিস থেকে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান শুরুর পর শুক্রবার ভোরে লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন বলেন, আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওয়াসিম রনি। তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন বন্ধু মাসুম। এই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধেই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
মাসুমের ভাষ্য, টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন রনি। ৮ সেপ্টেম্বর তিনি টাকা চাইতে মাসুমের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ওই ভবনের নিচতলার অফিসে যান। সেখানে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে জোরে ঘুষি মারেন মাসুম। এতে রনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তার হাত ও পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে অফিসের পেছনের দিকের একটি করিডোরে নিয়ে সেখানে লাশ বালুচাপা দিয়ে রাখেন মাসুম।
ওসি জানান, রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসুৃমকে ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর পাওনা তিন লাখ টাকার চেক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন তিনি ওই অফিসে যাওয়ার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পান স্বজনরা। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে তারা অভিযুক্ত মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে মাসুমের স্ত্রী বলেন, রনি বাসায় এসেছিলেন, কথা বলে চলে গেছেন। কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করেন।
মুরাদ হোসেনের অভিযোগ, তিন লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেননি মাসুম। তাই টাকা ফেরত চান রনি।
অভিযুক্ত মাসুম চৌধুরীর স্বজনরা জানান, মাসুম ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন। যে ভবন থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় তার কারখানা ছিল। প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তিন লাখ টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে দুজনের বিরোধ দেখা দেয়।
মহাখালীতে ব্রিটিশ টোব্যাকোর একটি পুরোনো ভবনে আগুন লেগেছে
রাজধানীর মহাখালীতে ব্রিটিশ টোব্যাকোর একটি পুরোনো ভবনে আগুন লেগেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১২ মিনিটে সেখানে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে এবং এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
এর আগে এদিন সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে এপেক্স ভবনে আগুন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট।
রাজধানীর রোজ গার্ডেন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন
ঢাকা শহরকে মাদক, ময়লা, মশা ও যানজটমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘পদে থাকা না থাকা বড় বিষয় নয়; জনগণের সন্তান, ভাই ও সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে চাই। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
বুধবার রাজধানীর কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ওয়ারী থানা বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সেবা করাই তাঁদের প্রধান কাজ। মাদক, চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল করে চাঁদা আদায় কিংবা অন্যের জমি দখলের মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
নিজের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তাঁর আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। সংসদ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি এলাকার বিষয়গুলোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়েছে। আগামী দিনে আরও ভালো করার জন্য তিনি সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা চান।
ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লং মার্চের নামে কয়েক শ গাড়ি নিয়ে রোডশো করা হয়েছে। এতে জনগণের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমদানি করা জ্বালানির অপচয় হয়েছে। লং মার্চ করতে হলে একটা পরিস্থিতির প্রয়োজন হয়। দেশে একটা সেই ধরনের সংকটের প্রয়োজন হয় এবং সেখানে গণমানুষের পার্টিসিপেশনের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে হাজার হাজার, শত শত কিলোমিটার গিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে যে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনা করা হয়, সেটিকে বলে লং মার্চ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম তারা বেশ কিছু ভাড়া গাড়ি নিয়ে দামি দামি গাড়ি নিয়ে এসি গাড়িতে করে একটা পিকনিকে গেল, একটা রোডশো করল। এই রোডশো করার মাধ্যমে তারা আসলে কী অর্জন করতে চেয়েছে, সেটি তো আমি জানি না। তবে অবশ্যই তারা জনগণের কষ্টে অর্জিত যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমরা আমদানি করে থাকি, সেই আমদানিকৃত জ্বালানির অপচয় করেছে, অপব্যয় করেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ তারা নষ্ট করেছে এটাই বাস্তব, প্রকৃত সত্য।’
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন বড় গ্রুপকে সিলিন্ডার গ্যাসের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল এবং ওই ব্যবসার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচার করা হয়েছে।
বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, তারা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে পারত। কিন্তু তারা নানা ধরনের অভিযোগের তীর ছুড়ে চলেছে। গুম ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপি আন্দোলন করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করে চলে গেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার দুবাইয়ের একটি ল ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছে। বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হবে।
ইশরাক আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতারাতি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ দল হলেও তাদের সমর্থকদের বাংলাদেশের জনগণের বাইরে বের করে দেওয়া হয়নি। নিরীহ আওয়ামী লীগ সমর্থক বা ভোটার পরিবারের ওপর জোর-জবরদস্তি, অর্থ আদায় কিংবা ভয়ভীতি দেখানো হলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য থাকে না। তিনি বলেন, যারা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল, বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য লুটপাট ও দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিরীহ সমর্থকদের হয়রানি করা যাবে না।
অনুষ্ঠানে বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন, ওয়ারী থানা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মুক্তা, গোলাম মোস্তফা সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মুকিতুল আহসান রঞ্জু, ওয়ারী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মাসুদ রেজা সুমন ও তবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ারী থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বুলবুল।
প্রতীকী ছবি
শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং এলাকায় গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তর ও সংযোগের (টাই-ইন) কাজের কারণে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আজ বুধবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাসাবো, খিলগাঁও, মাদারটেক, শাহজাহানপুর, সিপাহীবাগ, তিলপাপাড়া, মালিবাগ, শান্তিবাগ ও তালতলা মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং অংশে রেললাইনের দুই পাশে ভালভ স্থাপন এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিতরণ লাইন স্থানান্তরের কাজের টাই-ইনের জন্য এ সাময়িক সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এ সময়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে।
সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।