কমলাপুরে ট্রেনে আগুন

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৯ পিএম

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে রোববার রাতে ‘হাওড় এক্সপ্রেস’ নামের একটি ট্রেনে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। 


আগুনে  ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থাকা ট্রেনটির একটি বগি পুড়ে গেছে। ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি জয়নাল আবেদীন আগুনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি বলেন, ‘ট্রেনটি ওয়াশপিটে ছিল। সেখান থেকে দুই নম্বর প্লাটফর্মে আসার সময় আগুন লাগে। এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।’


আগুনে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বড়ি পুড়ে গেছে

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে কমলাপুর রেলস্টেশনে হাওড় এক্সপ্রেস নামের ট্রেনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। রাত ১০টা ১৬ মিনিটে আগুন নেভানো হয়। ট্রেনের একটি বগি পুড়ে গেছে।





চোরাচালানে নতুন প্রবণতা ই-সিগারেট–ভেপ

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯০টি ভেপসহ ৩২ লাখ টাকার পণ্য আটক!


  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে এবার ধরা পড়েছে ৯০ পিস ই-সিগারেট/ভেপ। গত ৬ ও ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের পৃথক অভিযানে এসব পণ্যের পাশাপাশি ১৬৬ কার্টন সিগারেট, ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম ও ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার আটক করা হয়েছে। আটক পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা।




গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ নভেম্বর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন। এ সময় কুয়ালালামপুর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের BG-387 ফ্লাইটে ঢাকায় আগত যাত্রী সুলতানা রাজিয়া (Sultana Razia)-এর ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করে ৯০ পিস ই-সিগারেট/ভেপ, ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়।


সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রীর পাসপোর্টে গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার আনার এন্ট্রি রয়েছে। একই বছরে পুনরায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে আসার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ায় এবারের স্বর্ণালংকার আটক করা হয়।




পৃথক অভিযানে ৭ নভেম্বর কাতার থেকে ঢাকায় আগত QR-640 ফ্লাইটের ব্যাগেজ বেল্ট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৬৬ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়।




যাত্রী ব্যাগেজে ই-সিগারেট/ভেপ বহনের এ ঘটনা চোরাচালানের নতুন প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। রাজস্ব সুরক্ষার পাশাপাশি নিষিদ্ধ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


৩৩ প্লাটুন বিজিবি

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৪ এএম

চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। 


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা।


রোববার (৮ নভেম্বর) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইল এবং গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনা এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।বিজিবি সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল থেকে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও লাইভ ফুটেজ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।


শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনসাধারণের জানমালের সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবির এ মোতায়েন ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


গ্রেপ্তার মো. ফরিদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ পিএম

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সাধারণ চানাচুরের প্যাকেট। মোড়কে লেখা ‘ঈগল চানাচুর’ ও ‘ঈগল ফুডস’। তবে ভেতরে রয়েছে মাদক হেরোইন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এমন ১০টি প্যাকেটসহ মো. ফরিদ (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে মোট ১ হাজার ৫০০ পুরিয়া হেরোইন জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের এসি ওয়ার্ল্ড নামের একটি দোকানের সামনে থেকে ফরিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হেরোইনের ওজন মোট ১৫০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। আজ শনিবার তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল এলাকায় মাদক উদ্ধার ও ছিনতাই প্রতিরোধে টহলে ছিল। রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে পুলিশ গোপন খবর পায়, বাবর রোডের একটি দোকানের সামনে দুজন ব্যক্তি হেরোইন বিক্রির জন্য অবস্থান করছেন। এর ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশের দলটি সেখানে পৌঁছালে দুই ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া করে ফরিদকে ধরে ফেলে, তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অপরজন পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, তল্লাশির সময় ফরিদের ট্রাউজারের বাঁ পকেট থেকে একটি হলুদ রঙের শপিং ব্যাগ পাওয়া যায়। সেই ব্যাগের ভেতর ছিল ‘ঈগল চানাচুর’ লেখা ১০টি প্লাস্টিকের ছোট্ট প্যাকেট। প্রতিটি প্যাকেটে রুপালি কাগজে মোড়ানো ১০০টি করে মোট ১ হাজার পুরিয়া হেরোইন ছিল। এ ছাড়া আরও ১০টি সাদা রঙের জিপার ব্যাগ থেকে রুপালি কাগজে মোড়ানো ৫০টি করে আরও ৫০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্রে মেপে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া মোট হেরোইনের ওজন ১৫০ গ্রাম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদ পুলিশকে জানান, তিনি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দা। পলাতক সহযোগীর সঙ্গে যোগসাজশে বিক্রির উদ্দেশ্যেই তিনি হেরোইনগুলো নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের বাসে আগুন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৫ পিএম

রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে বারিধারার ৭ নম্বর সড়কের জে ব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ।


তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে বাসে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণে আনে।


সাভার-নতুন বাজার রুটে চলাচলকারী বাসটি নতুন বাজারে যাত্রী নামানোর কিছু সময় পর হঠাৎ এতে আগুন দেয় দুবৃত্তরা। তবে কে বা কারা এই আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছেন না পরিবহন কোম্পানির কর্মকর্তারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসটির চালক ও হেলপারকে থানায় নেওয়া হয়েছে।


এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। 


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


তাদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৪১ জন, লালবাগ বিভাগ ৪২ জন, ওয়ারী বিভাগ ৯৫ জন, মতিঝিল বিভাগ ৪৪ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জন, মিরপুর বিভাগ ১৪৪ জন, গুলশান বিভাগ ৫৫ জন, উত্তরা বিভাগ ৪৯ জন, এসআরইউ-২ ও গোয়েন্দা বিভাগ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।


পাশাপাশি অভিযানকালে ৫৪০ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ২৫৮ পিস ইয়াবা, ৪.২ গ্রাম ৪ পুরিয়া হেরোইন, ৩৭টি প্যাথেড্রিন ইনজেকশন, ২টি চাকু ও ২টি কাটার উদ্ধার করা হয়।


আকতার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।



বনানীতে এক কিলোমিটারজুড়ে গড়ে উঠছে নগর বন।আছে ২২০ প্রজাতির গাছ, লতাগুল্ম, জলাশয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ পিএম

মাঝ দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা হাঁটার পথ। হাঁটতে হাঁটতে কোথাও চোখে পড়ে ছোট জলাধার; কোথাও ঝর্ণার মতো গড়িয়ে পড়ছে পানি। পানির ওপর ছায়া ফেলেছে সবুজের পরত। ঝোপের ভেতর প্রজাপতির ওড়াউড়ি। নানা রকম পোকামাকড়ের আনাগোনা। রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে মহাখালীর দিকে এগোতেই বনানীতে চোখে পড়ল এক টুকরো বন। 


কাকলী মোড় থেকে কামাল আতাতুর্ক সড়কে প্রবেশের মুখে ছোট ছোট গাছের সারি, লতাপাতায় ঘেরা পথ, ঝোপঝাড়ের আড়ালে ছোট্ট ছোট্ট জলাশয়। কোথাও চিকন পাতার বাঁশ, কোথাও থাই সুপারি। আবার কোথাও আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা। তুলসী থেকে কদম, বাঁশ, আখ থেকে বেত; নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ। একটি গাছের পাশে আরেকটি গাছ; কোথাও লতাগুল্ম জড়িয়ে আছে বৃক্ষের গায়ে। বনানীর এই নগর বন প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ; আয়তন প্রায় ১২ হাজার বর্গমিটার। 


বন বিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গড়ে উঠছে এই বন। এই নভেম্বরেই এটি উদ্বোধনের কথা। বনটি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে পথচারীরা ফুটপাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে বনের ভেতর দিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে পারেন। ফুটপাত দিয়ে চলা ক্লান্ত পথিকের জন্য রাখা হয়েছে বসার ব্যবস্থা।



বনের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দেখা ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তারের সঙ্গে। তিনি উদ্বোধনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তদারকি করছিলেন। তিনি জানালেন, এই জায়গায় একসময় আবর্জনা ছিল। গত জানুয়ারিতে শুরু হয় নগর বন তৈরির কাজ। সেই আবর্জনার স্তূপ এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সবুজে ঘেরা এক অরণ্যে। আমরা চাই, মানুষ এই বনের পাশ দিয়ে হাঁটবেন; প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখবেন।


তিনি জানান, শুধু এই এক কিলোমিটার এলাকা নয়; বনানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচেও সবুজায়ন করা হয়েছে। ফুটপাতের পাশেও গাছ লাগানো হয়েছে। ফলে সড়কের পাশে হাঁটার সময়ও সবুজের ছোঁয়া পাবেন পথচারীরা। প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। উদ্বোধনের পর দুই বছর বনটির পরিচর্যা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকবে বন বিভাগ। এখানে শুধু বড় গাছ নয়; ছোট ছোট গাছ, ফুল, ঔষধি গাছ, লতাগুল্ম, ঝোপঝাড় মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে এক বৈচিত্র্যময় পরিবেশ। 


শারমীন আক্তার জানান, নগর বনে দেশীয় ফলদ, ফুল, ঔষধি, শোভাবর্ধক, কনিফার, গুল্ম, ঝোপালো, কাঠ জাতীয়সহ ২২০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। গাছগুলো এমনভাবে লাগানো হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক বনের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। বনটি গড়ে তুলতে মাটির প্রস্তুতিতেও বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। দো-আঁশ মাটির সঙ্গে ভার্মি কম্পোস্ট, কোকোডাস্ট, রাইস হাস্ক, বোনমিল ও জৈব সার মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে বনোপযোগী পরিবেশ। গাছের নিচে এমনভাবে ঘাস লাগানো হয়েছে, যাতে মাটি থেকে ধুলো উড়ে না আসে। 


বনের কোথাও উঁচু-নিচু টিলা, কোথাও আঁকাবাঁকা পথ। ছোট ছোট জলাশয়ের মতো পানির আধার রাখা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। এসব জলাধার ও গাছপালার মধ্যে নগরের নানা প্রাণীর আশ্রয় তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। শহরের ব্যাঙ, বেজি, পাখি ও নানা কীটপতঙ্গ যেন এখানে থাকতে পারে, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা করা হয়েছে এই বন ঘিরে।

শারমীন আক্তার জানান, সারাদিন বিভিন্ন পাখি এখানে আসে। সন্ধ্যা হলে ব্যাঙের ডাক শোনা যায়। কীটপতঙ্গের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রাস্তার শব্দদূষণ এখানে কানে আসে না। 


কিছু গাছ আরেকটু বড় হলে এই পরিবেশ অনেক বদলে যাবে। শারমীন আক্তার বলেন, নগর জীবনে গাছের বাস্তব উপকারিতা অনুভব করার মতো উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। এমন সবুজ পরিবেশ নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই বনভূমি ঢাকার দূষণ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 



এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে মানুষ ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শুধু বনটি দেখে চলে না যান, বরং কিছু সময় সেখানে কাটাতে পারেন। বিশ্রামকালে গাছের ছায়ায় বসে শুনতে পারেন পাখির ডাক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণ বনের চেয়ে এ ধরনের নগর বন ১০ গুণ দ্রুত বাড়তে পারে এবং ৩০ গুণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে সক্ষম। ফলে নগরের বায়ুদূষণ কমানো ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় 


এ ধরনের বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া নগর বন ঘিরে কার্বন ক্রেডিটের মাধ্যমে আয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, নগরে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনতে সব সময় বিশাল বনভূমির প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও এক টুকরো জায়গায় শত প্রজাতির গাছ, লতাগুল্ম, পানি আর প্রাণের আশ্রয় তৈরি করেও নগরবাসীকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যায়।