জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। এক লাফে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন-চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। 


আজ রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হবে। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক দিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বাড়ল।


জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।


এর আগে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিন ১৮, পেট্রল ১৯ এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ে। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।


প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


নতুন দাম কার্যকর হলে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপণ্যের বাজারেও।



সর্বশেষ সব খবর

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩২ পিএম

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘খুনি হাসিনা পালিয়ে গেছে, তার নেতাকর্মীরাও পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এখন কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেখান থেকে অর্জিত অর্থ নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা, সেটি এখন আমাদের ভেবে দেখার সময় চলে এসেছে।’


বিরোধী দলের প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আজকে আমাদের যারা বিরোধীদলের অবস্থানে রয়েছে, ’৭১-এ যারা বাংলাদেশকে অস্বীকার করেছিল, সেই ঘাতক-দালাল-রাজাকাররা বাংলাদেশ চায় নাই। কিন্তু যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিরোধী দলের আসন গ্রহণ করেছে, আমরা তাদের ততটুকু সম্মান দিতে চাই।


তিনি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করবেন, তারা লং মার্চের নামে গাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রা করছে। কিন্তু কোথাও এই ফ্যাসিবাদী খুনি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো বক্তব্য তাদের মঞ্চ থেকে আসে নাই।


তিনি বলেন, ‘একদিকে যারা বিরোধীদল, তারা আমাদের পতনের জন্য আন্দোলন করছে বলে তারা বলে। অন্যদিকে পলাতক খুনি স্বৈরাচারী হাসিনা দিল্লিতে বসে নাশকতার মাধ্যমে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের রাষ্ট্রকে, আমাদের সরকারকে অস্থিতিশীল করে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। তাহলে কি এটা প্রমাণ হয় না, তাদের মধ্যে একটা যোগসাজশ হতে পারে? আমি মনে করি, এটা হতে পারে এবং এটা হলে অবাক হওয়ার কোনো কিছু থাকবে না।’


এ সময় আর উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবী, রফিকুল ইসলাম রাসেলসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনার

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৫ পিএম

ভিন্নমত ও বাক্‌স্বাধীনতা দমনে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‌‘জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতায় বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন। সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধন করে কালাকানুন রাজনীতিক আর সাংবাদিকদের ওপর চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে হয়তো এটাই হবে অনিবার্য পরিণতির নতুন মাত্রা।’ 


আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন তিনি। জামায়াতের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ এ সেমিনার আয়োজন করে। 


সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজজামান রুমান। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ডিজাটাল নিরাপত্তা আইনে শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা, মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল। কুখ্যাত এই আইনের এসব ধারায় সেই সময়কার বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা মামলার আসামি হন। দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে শেখ হাসিনা সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন করেছিল। এই আইনেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীদের কটূক্তি করার অভিযোগে বহু মামলা হয়। 


প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। তা বিএনপি গত এপ্রিলে আইনের রূপান্তর করে। তবে ‘বাকশালীনতা’ রক্ষায় পাঁচ মাসের মাথায় সরকার আইনটি সংশোধন করতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলের মতোই মানহানি, হেয়প্রতিপন্নকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে যুক্ত করতে যাচ্ছে। এতে আবারও হয়রানি, নিপীড়নের পথ খুলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে প্রবন্ধে। 


আইনের সংশোধনীর খসড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের মানহানি হলে কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারকে। কিন্তু রাষ্ট্রের মানহানি কী করলে হবে তা বলা নেই। ফলে সরকারের বিরুদ্ধে যে কোনো সমালোচনাকে রাষ্ট্রের জন্য মানহানিকর আখ্যা দিয়ে কনটেন্ট ব্লক করা হবে।


আইনের খসড়ায় মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন, গুজব, অপতথ্য, বুলিং এর যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এগুলো অস্পষ্ট। ফলে যে কোনো আইনের অপব্যবহার হতে পারে। একজন ব্যাংক লুটেরাকে লুটেরা বললে, তিনি এর বিরুদ্বে মামলা করতে পারবেন- আইনের খসড়াটি পাস হলে। সাংবাদিকতা চাপের মুখে পড়বে। 


বিদ্যমান আইন বহাল রাখার দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘চার-পাঁচ মাসে এমন কী হলো যে, সাইবার আইন সংশোধনে সরকার অস্থির হয়ে গেল? আসলে তাদেরকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভুতে ধরেছে। যা ইচ্ছা তাই বলবে এবং আইন বদলাবে, জনগণের রায় মানবে না।’


জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘মেজরিটির জোরে অতীতের অনেক সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়েছিল। তাদের পরিণতি বর্তমান সরকার ভুলে গেছে। মেজরিটির জোরে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী হেবা আইনকে পরিবর্তন করল, গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষের রায় বাতিল করতে চেষ্টা করছে’। 


গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানি, গুজব, অসত্য, তল্লাশি, জব্দ এসব পরিভাষার যে ব্যাখ্যার মধ্যে রহস্য রাখা হয়েছে, এগুলো দিয়েই তো সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের আটকানো হবে। গুজবের কী ব্যাখ্যা? অপত্যথ্য, মিস ইনফরমেশন-ডিজইফরমেশন এগুলোর ব্যাখ্যা ব্যাপকভাবে নেই। কারণ কী? শুভংকরের ফাঁকি দিয়ে এগুলো হাতে রাখা হয়েছে, যা দিয়ে বিরোধী দলকে ধরা যায়।’ 


অস্পষ্টতা থাকলে অপব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার। আইন প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, কে প্রয়োগ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ‘ম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন’ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শাসকের চরিত্র যদি কর্তৃত্ববাদী হয়, তাহলে আইনকে অপব্যাখ্যা, অপব্যবহার ও ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষকেও শাস্তি দেওয়া সম্ভব।


সেমিনারে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও নাজমুন্নাহার নীলু এমপি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, এনটিভির হেড অব নিউজ ফখরুল আলম কাঞ্চন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর

৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৩ পিএম

চাকরি থেকে পলায়নের অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।


আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।


পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, সচিবালয়ের নিরাপত্তা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, এটিইউ এর সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। চিরকুটগুলো গণমাধ্যমে আসার পর নেটিজেনদের একাংশ নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। লেখাগুলো মরিয়মের কিনা সেটি নিয়ে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চিরকুটগুলোর ফরেনসিক ব্যাখ্যা খুঁজতে গণমাধ্যম অনলাইন যোগাযোগ করেছিল হস্তাক্ষর বিশ্লেষক ও ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট মো. মিরাজ হোসেনের সঙ্গে।


বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সাইকোলজি অ্যান্ড সাইন্সেসের পরিচালক মিরাজ হোসেন ইতিমধ্যে চিঠিগুলো দেখেছেন। প্রাথমিক বিশ্লেষণ শেষে তিনি বলেন, ‘যে চিঠগুলো পেয়েছি, তার মধ্যে একটির ওপরে তারিখ দেখতে পাচ্ছি। সেটি চলতি বছরের জুলাই মাসের ১২ তারিখ লেখা। আর এখন চলে সেপ্টেম্বর।’


তিনি বলেন, ‘কালো ও লাল রঙের লেখাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তার হাতের লেখা দুই ধরনের। যাদের লেখার প্যাটার্ন এমন, তাদের ব্যক্তিত্ব সময়ের সঙ্গে বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে।’


মিরাজ বলেন, ‘জুলাই মাসের লেখাগুলো তুলনামূলক সোজা। একটু কাটাকাটি, একটু ওভাররাইটিং আছে। এর মানে তার ভেতর বিরক্তি ভাব ছিল।’


তিনি আরও বলেন, ‘‘এবার অন্য লেখাগুলোর কথা বলি। ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী’ এই চিরকুটে লম্বা লম্বা দাগ দিয়েছেন। এভাবে টান দেওয়ার অর্থ হলো ওই সময় তিনি ইমোশনাল ছিলেন। এ সময় তার আচরণ ছিল সব ঠিকঠাক থাকতে হবে। হাতের লেখাগুলো শেষের দিকে একটু বড় থাকার অর্থ হলো সঙ্গীর প্রতি তার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। এগুলো বোঝা যায় এই লেখার মাত্রা দেখে। যেমন ‘সম্মান করে’ শব্দগুলোর পর অতিরিক্ত মাত্রা দিয়েছেন। এগুলো আমার কাছে মনে হচ্ছে আত্মহত্যার আগের হাতের লেখা হতে পারে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আগের লেখাগুলো দেখতে হবে।’’


দুটি লেখার অমিলের বিষয়ে এই গবেষক বলেন, ‘লাল এবং কালো রঙের হাতের লেখার মধ্যে অমিল আছে। এখন প্রশ্ন হলো, এগুলো আসলেই তার লেখা কিনা, এটি শতভাগ নিশ্চিত হতে হলে তার আগের হাতের লেখা আমাদের দেখতে হবে। তবে মনে হয়েছে অন্যের লেখার সম্ভাবনা কম।’


তিনি যোগ করেন, ‘কালো রঙের হাতের লেখাগুলো দেখলে বোঝা যায়, এখানে আর্কেড কানেকশন আছে, মানে লেখাগুলো উপর থেকে কানেক্ট করা। এর অর্থ হলো তিনি তখন প্রটেকটিভ নেচারে চলে গিয়েছিলেন। মানে তার কাছে প্রটেকশন, কেয়ারিংটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এগুলো দেখে আত্মহত্যার আগের মানসিক অবস্থা বোঝা যায়। এ কারণে বলছি, কালো এবং লাল রঙের লেখায় কিছু অমিল থাকলেও আত্মহত্যা করতে যাওয়া মানুষের আচরণের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।’


এই গবেষক বলেন, ‘কালো রঙের লেখার বাম পাশের মাত্রা খেয়াল করলে দেখা যায়, লাইনগুলো একেকবার একেক জায়গা থেকে শুরু হয়েছে। অর্থাৎ তিনি খুব অগোছালো অবস্থায় ছিলেন। মানে এই সময় তিনি ডিসিপ্লিনড লাইফে ছিলেন না। আবার আগের লেখা, মানে লাল কালির লেখাগুলোর সময় কিছুটা ডিসিপ্লিন ছিলেন।’


অমিলের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে গিয়ে মিরাজ হোসেন বলেন, ‘লাল রঙের লেখার সঙ্গে কালো রঙের লেখাগুলোয় বেশ অমিল আছে। আত্মহত্যা করতে যাওয়া মানুষের আচরণের সঙ্গে এমনটা হতে পারে। যখন তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন, তখন হাতের লেখায় পরিবর্তন আসে। পুরোপুরি নিশ্চিত হতে ভুক্তভোগীর আগের লেখা যাচাই করতে হবে।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৬ পিএম

আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। 


এ ঘটনায় আহত তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল রোববার রাত পৌনে ৭টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতদের মধ্যে সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৩০)। তিনি ওই কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করতেন। বিস্ফোরণের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। 


পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।


নজরুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে তারা আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় থাকেন। তার বাবা প্রীতি গ্রুপের কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বিক্রি করতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে দেখতে পান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।


এ ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মোখলেস মিয়া (৪৫) এবং কাভার্ডভ্যানের চালক নুর ইসলাম (৩০)।


আহত মোখলেস মিয়া জানান, তিনি ও তার ছেলে সুজন কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যায় কারখানার ভেতর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। বিস্ফোরণে লোহার বিভিন্ন সামগ্রী, ইটপাটকেল ও কাচ ছিটকে এসে সুজনের মাথায় লাগে। এতে সুজন আহত হন এবং মোখলেস মিয়ার হাতেও আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।


আহত নুর ইসলাম গ্যাস পরিবহনকারী গাড়িটির চালক। তার ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাটে। তিনি ভোলায় থাকতেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।


ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় মোট চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন ক্যাজুয়ালটি বিভাগে এবং একজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।


এর আগে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, একটি কাভার্ডভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ছয়জনের মৃত্যু হয়।


তিনি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুনে পুড়ে যাওয়া যানবাহনগুলোতে তল্লাশি চালান। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে দগ্ধ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মুখমণ্ডলসহ পুরো শরীর এতটাই পুড়ে গেছে যে, এখনো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।


এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে স্বজনেরা সালমা আক্তার ও বুলবুল নামে দুজনকে শনাক্ত করার দাবি করেছেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।


বিস্ফোরণের কারণ এবং হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩০৫ শিশু। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।


এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৬২টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ৬৩টি শিশু মারা গেছে।


এছাড়া এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ২০ হাজার ৬৪৬ জন এবং সন্দেহজনক হামে এক লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। 

সর্বশেষ সব খবর