গুজরাটের জুনাগড়ের বাসিন্দা ইব্রাহিম কাদরি। একসময় জীবিকা নির্বাহ করতেন সাইনবোর্ড আঁকার কাজ করে। ১০ বছর আগেও অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানো ছিল কঠিন। আর এখন? শুধু শাহরুখ খানের সঙ্গে চেহারার মিলকে পুঁজি করে তিনি প্রতি অনুষ্ঠানে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন সর্বোচ্চ ৫ লাখ রুপি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪০ বছর বয়সী ইব্রাহিম জানান, ছোটবেলা থেকেই পরিবার ও বন্ধুরা তাকে শাহরুখ খানের মতো দেখতে বলতেন। তবে সে সময় বিষয়টি তাকে বিরক্তই করত। এমনকি তুলনা এড়াতে একপর্যায়ে নিজের লুকও বদলে ফেলেছিলেন তিনি।
আইপিএলের এক ম্যাচেই বদলে যায় জীবন। ২০১৭ সালে রাজকোটে আইপিএলের একটি ম্যাচ দেখতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন ইব্রাহিম। দর্শকদের অনেকেই তাকে সত্যিকারের শাহরুখ ভেবে সেলফি তুলতে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এগিয়ে এলেও সেই পুলিশ সদস্যও শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে ছবি তোলেন।
সেখান থেকেই নতুন পথের শুরু। ইব্রাহিম সিদ্ধান্ত নেন, শুধু চেহারার মিল নয় শাহরুখের হাঁটা, কথা বলা, নাচ, সংলাপ ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজও আয়ত্ত করবেন।
ইব্রাহিম বলেন, প্রথমদিকে তিনি ভাবতেন শুধু দেখতে শাহরুখের মতো হলেই যথেষ্ট। কিন্তু এক অনুষ্ঠানে এক নারী দর্শক তাকে বলেন, 'ডায়লগ আর নাচ না থাকলে শাহরুখের অনুভূতি আসে না।' এরপর টানা এক বছর ধরে তিনি শাহরুখের অভিনয়, সংলাপ ও পারফরম্যান্স নিয়ে অনুশীলন করেন।
বর্তমানে ইব্রাহিম প্রতি অনুষ্ঠানে দেড় লাখ থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন। ভারত ছাড়াও বিদেশের বিভিন্ন স্টেজ শো ও করপোরেট অনুষ্ঠানে নিয়মিত আমন্ত্রণ পান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রায় ৩২ লাখ সাবস্ক্রাইবার এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২৬ লাখ অনুসারী রয়েছে।
ইব্রাহিমের দাবি, তিনি ইতোমধ্যে ৩০০ জনের বেশি মানুষকে শাহরুখ খানের স্টাইল, অঙ্গভঙ্গি ও পারফরম্যান্স অনুকরণে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
মজার বিষয় হলো, এত পরিচিতি পেলেও ব্যক্তিগতভাবে শাহরুখ খানের সঙ্গে দেখা করার তেমন আগ্রহ নেই ইব্রাহিমের। তার ভাষায়, 'দেখা হলে হয়তো তাকে অনুকরণ করার সেই অনুভূতিটাই বদলে যেতে পারে। তবে শাহরুখ নিজে ডাকলে অবশ্যই যাব।'
আর যদি একদিনের জন্য সত্যিই শাহরুখের জীবন পাওয়ার সুযোগ মেলে? ইব্রাহিমের স্বপ্ন একটাই, মান্নাতের ছাদে দাঁড়িয়ে শাহরুখ খানের সঙ্গে এক কাপ কফি পান করা।
সালমান খান
১৯৯৮ সালের ঘটনা। সেই সময় রাজস্থানের কঙ্কানি গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে বিতর্কে জড়ান বলিউডের 'ভাইজান'খ্যাত অভিনেতা সালমান খান। সেই সময় বলিউড সুপারস্টারের বিরুদ্ধে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। দুই দশক আগের সেই ঘটনার পর থেকেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় সালমান খান। একাধিকবার বলিউডের ভাইজানকে খুনের হুমকি দিয়ে খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই।
সেই উপদ্রব আবারও বেড়েছে। '২৪ সালে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানো হয়। বিদেশে সালমানের বন্ধু-গায়কের বাড়িতে হামলা করা হয়। তারপর সালমান-ঘনিষ্ঠ বাবা সিদ্দিকীর খুন থেকে শুরু করে নতুন করে অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত, টাইগার শ্রফদের টার্গেট করা— একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে ভাইজানকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বিষ্ণোই গ্যাং। যার জেরে ওয়াই ক্যাটাগরির পাশাপাশি সালমান খানের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এর মধ্যে দুবাই থেকে দুই কোটি রুপি খরচ করে বুলেটপ্রুফ গাড়িও এনেছেন সালমান খান। বুলেটপ্রুফ কাঁচে মুড়েছেন গ্যালাক্সির বারান্দা। শুটিং ছাড়া গতিবিধিতেও রাশ টানতে হয়েছে এ অভিনেতাকে। কিন্তু সারাজীবন কি এভাবে প্রাণভয়ে বেড়াতে হবে? কী করলে বিষ্ণোইদের কাছ থেকে মুক্তি পাবেন সালমান খান?
এবার সেই নিদান দিল রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায়। যারা কৃষ্ণসার হরিণকে দেবতাজ্ঞানে পূজা করেন। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাকা ভাইজানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এক মোক্ষম উপায় বাতলে দেন।
এ বিষয়ে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাকা রমেশ বিষ্ণোই বলেন,তিনি কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করেন না। বহুকাল ধরেই গ্যাংয়ের সবাইকে সতর্ক করে আসছেন। তিনি বলেন, 'সালমান বা তার ঘনিষ্ঠ কারও ওপর হামলা কিংবা হত্যাকে আমি সমর্থন করি না। আসলে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ জমে রয়েছে এবং এর সমাধান হওয়া উচিত। সালমান যদি আমাদের মন্দিরে পূজা দিয়ে ক্ষমা চাইতেন, তাহলে বিষয়টি অনেক আগেই মিটে যেত।'
কাকা রমেশ বিষ্ণোই বলেন, বিষ্ণোইরা মনে করেন— কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করে গর্হিত অপরাধ করেছেন সালমান খান, যা কিনা বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের আচারবিধির বিরুদ্ধাচরণ। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের থেকে মুক্তি চাইলে সালমানকে অবশ্যই রাজস্থানের বিকানিরে অবস্থিত মুক্তিধাম মুকামে যেতে হবে।
তিনি বলেন, এ মন্দির বিষ্ণোইদের সব থেকে পবিত্র ধর্মীয় স্থান। এই একই নিদান বহু আগে দিয়েছিলেন ‘অল ইন্ডিয়া বিষ্ণোই সমাজ’-এর সম্পাদক হনুমানরাম বিষ্ণোই। কিন্তু শোনেননি ভাইজান!
রমেশ বিষ্ণোই বলেন, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের বিশ্বাস— কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার মধ্যে অবশ্যই অনুশোচনাবোধ থাকতে হবে, যা তাকে প্রায়শ্চিত্তের পথে নিয়ে যাবে। কেউ যদি বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো রকম অপরাধ বা অন্যায় করেন, তাহলে তাকে মুক্তিধাম মুকামে গিয়ে পুরো সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্ষমা চাওয়া হলে, সেটি গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে যাচাই করেন বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
অন্যদিকে সালমান খানের বাবা সেলিম খানের আশঙ্কা— এই মন্দিরে পূজা দিতে গেলে সালমানের ওপর হামলা হতে পারে। এ আশঙ্কায় লরেন্সের কাকা রমেশ বিষ্ণোই জানিয়েছেন— 'আমি ব্যক্তিগতভাবে সালমানের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিচ্ছি। এটা অনেক দিন ধরে চলছে। এ অধ্যায়ের অবসান হওয়া উচিত। একটা ক্ষমা প্রার্থনাই তো যথেষ্ট।'
অন্যদিকে আবার ক্ষমা চাইলেই আইনি জটিলতায় পড়তে হবে খোদ ভাইজানকেই। কারণ ২০১৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় সালমানকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন নিম্ন আদালত। যদিও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাজস্থান হাইকোর্টের দ্বারস্থও হন অভিনেতা। মামলাটি বর্তমানে সেখানেই বিচারাধীন।
এদিকে সেলিম খান বলেন, যে ছেলে ছোট থেকে একটা আরশোলা মারতে পারেনি, সে কীভাবে হরিণ মারবে? তাই ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
শাহরুখ খান
৬২তম জন্মদিনে তার ভক্ত-অনুরাগীদের বিশেষ উপহার দিয়েছেন বলিউডের বাদশাহ শাহরুখ খান। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর প্রথম গান ‘তু মিল জায়ে’ প্রকাশ্যে এসেছে সোমবার (২ নভেম্বর)। এ গান নিয়ে আবার শাহরুখ ও দীপিকার রসায়ন সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। নাচের দৃশ্যগুলোও প্রশংসিত হচ্ছে। গানটির সুর দিয়েছেন সচিন-জিগর, কথা লিখেছেন কুমার। কোরিওগ্রাফার পীযূষ-শাজিয়া জুটি।
এর আগে পীযূষ-শাজিয়া জুটি ‘রুহি’, ‘ভেড়িয়া’ ও ‘লাইগার’-এর নাচের দৃশ্য পরিচালনা করেছেন। তবে তারা এখনো নিজেদের নতুন বলেই মনে করেন। সিদ্ধার্থ আনন্দের আগের ছবি ‘ফাইটার’-এর ‘হীর আসমানি’ গানটির নৃত্যপরিচালনাও ছিল তাদেরই। সেই সূত্রেই দীপিকার সঙ্গে আগেও কাজের অভিজ্ঞতা ছিল তাদের। তবে শাহরুখের সঙ্গে এই প্রথম।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোরিওগ্রাফার পীযূষ-শাজিয়া বলেন, 'কর্মজীবনের এত অল্প সময়ে শাহরুখের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ সবার হয় না। হয়তো অন্যদের থেকে আমাদের কাজের ধরন কিছুটা আলাদা। সে কারণেই এত বড় সুযোগ পেয়েছি।'
এ যুগল নৃত্যপরিচালক বলেন, তাদের কাজের মধ্যে নতুন ভাবনা দেখেছিলেন সিদ্ধার্থ। প্রায় এক বছর আগেই এ গানের দায়িত্ব তাদের হাতে তুলে দেন পরিচালক। শাহরুখও তাদের নতুন ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তারা বলেন, 'শাহরুখকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। আমাদের নতুন ভাবনা বুঝতে পেরেছেন তিনি। নতুন কিছু করার প্রস্তাব দিয়েছি, শুটিংয়ের ধরন নিয়ে নিজেদের ভাবনার কথা জানিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি আগ্রহ দেখিয়েছেন।'
‘তু মিল জায়ে’ যে আর পাঁচটা নাচের গানের মতো নয়, তা স্পষ্ট করেছেন পীযূষ-শাজিয়া। তারা বলেন, 'এই গানটির নাচ তৈরি করা বেশ কঠিন ছিল। কারণ এটি একেবারে নাচের গান নয়। বরং একটা আবহ, একটা অনুভূতি রয়েছে। তাই নাচের ভঙ্গিও সেই মেজাজের সঙ্গে মানানসই করতে হয়েছে।'
তবে গানটিতে শুধু প্রেমের আবহ রাখতে চাননি তারা। শাহরুখের চরিত্রের মধ্যে যে তীব্রতা এবং হিংস্রতার ছাপ রয়েছে, সেটিও গানের দৃশ্যায়নে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাই রোমান্টিক মুহূর্তের পাশাপাশি রয়েছে অ্যাকশনের ঝলক। গানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘হুক স্টেপ’। সেটিও তৈরি করা হয়েছিল শাহরুখের নিজস্ব নাচের ধরন মাথায় রেখে।
পীযূষ-শাজিয়া বলেন, শাহরুখ নিজেই বলেছিলেন— যতক্ষণ না আমি ভালো করে নাচটা করতে পারছি, ততক্ষণ আমাকে মহড়া করতে দিও। শাহরুখের এই পরিশ্রম এবং সহকর্মীদের প্রতি তার আচরণ মুগ্ধ করেছে এ নৃত্যপরিচালক জুটিকে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ‘নবীনবরণ ও ডোনার সংবর্ধনা–২০২৬’ । ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ‘নবীনবরণ ও ডোনার সংবর্ধনা–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাঁধন বুটেক্স ইউনিট। ‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদায়ী ৪৮তম ব্যাচের রক্তদাতাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাঁধনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, বুটেক্স ইউনিটের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং বাঁধনের সঙ্গে যুক্ত রক্তদাতাদের অভিজ্ঞতা ও অবদানের চিত্র তুলে ধরা হয়।
বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইটিইটি'র সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন, আইটিইটি'র সমাজকল্যাণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আরফান আলী প্রামাণিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা, শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, ওয়েলকিন টেক্সটাইল ইনোভেশনস লিমিটেডের পরিচালক কে. এম. আলাওল কবির এবং বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক রিফাত জাহান। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাঁধনের সাবেক কর্মী, নতুন ও পুরাতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, "বাঁধন বুটেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সংগঠন, যা স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রোগীদের সহায়তায় কাজ করে আসছে। গত বছর এ ইউনিটের মাধ্যমে ৫০০টিরও বেশি ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগী উপকৃত হয়েছেন। এ বছর নতুন উদ্যোগ হিসেবে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করা হয়েছে।"
তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চক্ষু পরীক্ষা আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাঁধনের প্রতি আহ্বান জানান। এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইটিইটি'র সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন বলেন, "মানবতার সেবায় কাজ করার ক্ষেত্রে বাঁধন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম পথিকৃৎ। নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, গভীর রাতেও রক্তের প্রয়োজনে যোগাযোগ করা হলে বাঁধনের কর্মীরা সবসময় ইতিবাচক সাড়া দিয়ে থাকেন।"
তিনি বুটেক্সে একটি স্থায়ী ‘ব্লাড ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা এবং মরণোত্তর চক্ষুদান কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি আইটিইটি ও অ্যালামনাইদের পক্ষ থেকে বাঁধনের যেকোনো কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, "মানুষ সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারে না। বাঁধন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সেই দায়বদ্ধতা পালনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। রক্তদানের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে শুরুতে ভয় বা দ্বিধা কাজ করলেও রক্তদানের পর যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়, তা অসাধারণ। বাঁধনের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।"
তিনি বাঁধনকে রক্তদানের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে এর মাধ্যমে সমাজ ও দেশ উপকৃত হয়।
সমাপনী বক্তব্যে বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের সভাপতি পিয়াল আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, রক্তদাতা ও নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের বর্তমান সাফল্যের পেছনে নিবেদিতপ্রাণ রক্তদাতা ও দায়িত্বশীলদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় বাঁধন অতীতের মতো ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। এ সময় তিনি সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড সংগীতের মধ্য দিয়ে আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
মাহফুজ আনাম জেমস। ছবি: সংগৃহীত
ঢালিউড চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাংবাদিকরা। আদালত চত্বরে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজুর সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা, গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ এবং সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া ও ট্রাইপড ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমনির আচরণের সমালোচনা করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার আদালত চত্বরে জামিন পেয়ে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন পরীমনি। এ সময় গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন তিনি। মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকা ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান অভিনেত্রী।
ওই ব্যক্তি সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজু। তার দাবি, তিনি শুধু ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরীমনি তার মুঠোফোন কেড়ে নেন এবং ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন। নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কথাও উল্লেখ করে রাজু জানান, তার একটি হাত ঠিকমতো কাজ করে না। অন্য হাত দিয়ে তিনি মোবাইল ব্যবহার করছিলেন।এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক মুজাহিদ শুভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, নিম্নমানের এই অভিনেত্রীকে মাথায় উঠিয়েছেন দেশের রাঘববোয়ালরা। রাজুকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। সে অত্যন্ত বিনয়ী একটা ছেলে। গায়ে হাত দেওয়া তো অনেক দূরের কথা। এর চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো তার একটি হাত সচল। অপর হাতটি দিয়ে সে মোবাইল চালায়, মোজো রিপোর্টিং এর জন্য।
অন্যদিকে সাংবাদিক রাকিব হাসান লিখেছেন, রবিউল ইসলাম রাজু আমার দেখা সবথেকে ভদ্র বিনয়ী ও হাসিখুশি একটা ছেলে। আর কোন মেয়ে মানুষের ধারেরকাছে ঘেঁষা তো দূরের কথা, জোরে কথাও বলে না। অথচ আমাদের এই রাজুকে ই হেনস্তা করেছে একটা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে। আফসোস হয় এই সমাজে এসব হাইক্লাস.... দের দাম অনেক বেশি। তাদের অনেক ক্ষমতা। রাজু হয়তো বিচার পাবে না। কেউ হয়তো তার পক্ষে কথাও বলবে না। তবুও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রাখলাম।
তুলন ভাই নামে একজন লিখেছেন, তুই আমার গায়ে হাত দিছস কেন বাই*** সাংবাদিকতা সো*** আমার লগে? এভাবে হাজার মানুষের সামনে গালিগালাজ করছিল পরীমনি৷ পরীমনি বলছিল, এই শার্ট পরা সাংবাদিক নাকি তার গায়ে হাত দিছে৷ যদিও ভিডিওতে এমন কিছুই দেখা যায়নি৷ যদি করেও থাকে এটা অবশ্যই অন্যায় সেটার জন্যে পুলিশে দেন কিংন্তু প্রকাশ্যে গালাগালি করা একজন পাবলিক ফিগারের শোভা পায়? পরীমনি আজ না, এর আগেও তার লাইভে এমনকি পোস্টে গালাগালি করতো৷ অথচ সে নাকি অনেকের আইডল৷ পরী লাস্ট কি মুভি করছে এটা কেউ নাম ও বলতে পারবে না৷ অথচ ওর লাইফ স্টাইল দেখেন৷ এতো টাকার উৎস আসলে কই থেকে আসে? পুরনো একটা মামলার জামিন নিতে আজকে আদালতে সে আসছে ১০ বডিগার্ড নিয়া। এরপর সাংবাদিকদের ফোন কেড়ে নিছে পরীমনির বডিগার্ডরা৷ এমনকি তাদের গায়ে হাতও দিছে৷ মানে ওই কি এ দেশের প্রেসিডেন্ড হয়ে গেল নাকি, বুঝলাম না৷
এর আগে কালবেলা অনলাইনকে রবিউল ইসলাম রাজু বলেন, আদালতের লিফটে ওঠার সময় থেকেই পরীমনির সঙ্গে তার অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শুরু। ভিডিও ধারণ করার সময় পরীমনি তার ফোন কেড়ে নেন এবং ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন।
পরিমনি
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতকাল পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। এই মামলায় পরীমনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল এ মামলায় সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আসামি পরীমনির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। সেখানে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। নাসির এবং আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।