বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (পিএএফ) প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে ইসলামাবাদে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (পিএএফ) প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে ইসলামাবাদে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সফররত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
আইএসপিআর জানায়, বৈঠকে অপারেশনাল সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং এয়ারোস্পেস ও মহাকাশ খাতে যৌথ সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান তার বাংলাদেশি সমকক্ষকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বেসিক থেকে অ্যাডভান্সড ফ্লাইং এবং বিশেষায়িত কোর্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কাঠামো প্রদানের কথাও জানান।
আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ও অপারেশনাল দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরনো বিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা এবং আকাশ নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে এয়ার ডিফেন্স রাডার সিস্টেম একীভূত করার বিষয়ে সহযোগিতা চান।
সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ন্যাশনাল আইএসআর অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড এয়ার অপারেশনস সেন্টার, পিএএফ সাইবার কমান্ড এবং ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্কসহ পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করে।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতিফলন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যৌথ অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। - সূত্র: জিও টিভি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনায় ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে সরকার।’ আজ বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্ন ছিলো, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; থাকলে কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে?
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাবে এবং গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। তাই অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।’
সরকার ঢাকা হতে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী- আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। তন্মধ্যে, লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আশা করি এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পুলিশকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
তিনি বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের পাশাপাশি পুলিশেরও সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সিইসি এসব কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা দলভিত্তিক কোনো নির্বাচন না। আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। যারা আইনে বাধার কারণে যোগ্য হবেন না তারা বাতিল হবেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
নাসির উদ্দীন বলেন, খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে মূলত পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত হবেন, অথচ আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেননি, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আইজিপিকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
তিন বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও করতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। নির্বাচন কমিশনের ওপর যে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি।
পুলিশ বাহিনীর কিছু সময়সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, তাদের গাড়ির সঙ্কট রয়েছে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা খরচ হবে। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ তহবিল থেকেই এই টাকা খরচ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসারও প্রশিক্ষণ শুরু করবে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি নতুন না। জাতীয় নির্বাচনে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থার চেয়ে এখনকার অবস্থা খারাপ না। পুলিশের ওপর আস্থা আছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে পরিকল্পনা সম্পর্কে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় সিসি ক্যামেরা, বডি-অন ক্যামেরা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা থাকবে।
অন্যদিকে দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকায় পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চাপমুক্ত থাকবে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে দেশে দলীয় সরকার থাকলেও এটি গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
গত ছয় মাসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্য শতভাগ।
প্রতীকী ছবি
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ঢাকা জেলার বাসিন্দা।
রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম যে কোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব মৃত্যু হয়, সেগুলোকে হামের কারণে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদের আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে এ অনুরোধ জানানো হয়। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তানিয়া আফরোজ।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এতে বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির পূর্বে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) লোগো
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক কর্মকর্তা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দু’জন সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
আইএসপিআর জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
ছবি: পিএসসি
সরকারি চাকরির নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিধিমালা এরই মধ্যে অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটি। এখন সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সব চাকরিতে এক মানবণ্টনে পরীক্ষা হবে। এর মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ ঠেকানো যাবে।
তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, সরকারের পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দিতে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে নিয়োগ দুর্নীতির পথ খুলবে। প্রস্তাবিত পদ্ধতির প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। বিষয়টি গতকাল সংসদেও উঠেছে। তবে স্পিকার পয়েন্ট অব অর্ডার গ্রহণ করেননি। আলোচনা চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সরকারি চাকরিতে প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা নেয় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১০-১৩ গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি।
এর বাইরে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরসহ সরকারি সংস্থাগুলোর ১০ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগ হয় সরাসরি। নিজেরা পরীক্ষা নিয়ে জনবল নিয়োগ দেয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিম্ন গ্রেডের চাকরিতে একজনের লিখিত পরীক্ষা আরেকজনকে দেওয়ানোর মতো ঘটনা ধরা পড়েছে। এই যুক্তিতে সচিব কমিটি ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারের মতো শৃঙ্খলা বাহিনী বাদে সরকারি বাকি প্রতিষ্ঠানের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অভিন্ন নম্বর বণ্টন বিধিমালা করতে যাচ্ছে সরকার। গত রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে ‘প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মানবণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রণালয়-বিভাগ, অধিদপ্তর-পরিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষার নম্বর বণ্টন একেক রকম।
অধিদপ্তরে কী আছে, কী হতে যাচ্ছে
সংযুক্ত অধিদপ্তর, পরিদপ্তর এবং দপ্তরের কমন পদ নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯-এ ১১টি পদের জন্য নিয়োগের যোগ্যতা ও পরীক্ষার ধরন নির্ধারণ রয়েছে। এসব পদের ক্ষেত্রে লিখিত, মৌখিক এবং পদভেদে সাঁটলিপি ও কম্পিউটার মুদ্রাক্ষর পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এগুলো ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদ। বিধিমালার তপশিল-২ অনুযায়ী এই ১১টি পদে লিখিত পরীক্ষায় মোট ৭০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বর রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান ১৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৫০ শতাংশ এবং সময় ৯০ মিনিট। সব মিলিয়ে পরীক্ষা ১০০ নম্বরের। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ।
অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, ১১ থেকে ১২ গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরে। ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষা হবে ৬০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরে। ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের লিখিত পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরের। বর্তমানে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। কমিটির অনুমোদিত খসড়ায় ১১ থেকে ১২ গ্রেডের ক্ষেত্রে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় মুখে চিনে নম্বর দেওয়ার আশঙ্কা ও নজির রয়েছে। যেমন– ১১ থেকে ১২ গ্রেডের নিয়োগে একজন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় ১০০ এর মধ্যে ৬০ পেল। আরেকজন ৪০ পেল। কিন্তু ‘বিশেষ কারণে’ যদি ৪০ পাওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ নিতে চায় কর্তৃপক্ষ, সে ক্ষেত্রে তাঁকে মৌখিকে ৪০ নম্বর দিয়ে এগিয়ে দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় ৬০ পাওয়া প্রার্থীকে মৌখিকে ১৯ দিয়ে পিছিয়ে দেওয়া হবে। তাই এই নম্বর বণ্টন গ্রহণযোগ্য নয়।
অধিদপ্তরে সাঁটলিপিকার ও সাঁটমুদ্রাক্ষরিকসহ সংশ্লিষ্ট পদে সাঁটলিপি ও কম্পিউটার মুদ্রাক্ষর পরীক্ষার জন্য আলাদা নম্বর ও গতি নির্ধারণ করা হয়েছে। সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদের ক্ষেত্রে ইংরেজি সাঁটলিপিতে মিনিটে ৮০ শব্দ এবং বাংলায় ৫০ শব্দ লেখার গতি নির্ধারিত। উভয় পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০ করে এবং ন্যূনতম পাস নম্বর ৮০ শতাংশ।
মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা
সচিবালয় (ক্যাডারবহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা-২০১৪ অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নিয়োগ হয়। বিধিমালার তপশিল অনুযায়ী, ১০ম গ্রেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা প্রটোকল অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হয় ২০০ নম্বরে। এর মধ্যে বাংলায় ৭৫, ইংরেজিতে ৭৫, গণিতে ২৫ এবং সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ২৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।
অন্যদিকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লেইন পেপার কপিয়ার পদে সরাসরি নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা ১০০ নম্বরের। বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০, গণিতে ২০ এবং সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। এর সঙ্গে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকায় মোট নম্বর ১১০। এগুলো ১০ থেকে ১৬ গ্রেডের পদ।
সচিব কমিটির অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, ১১ থেকে ১২ গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরের। ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষা হবে ৬০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরে।
মন্ত্রণালয়ে ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের অফিস সহায়ক ও ডুপ্লিকেটিং মেশিন অপারেটর পদের সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষা ৪০ নম্বরের—বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ ও গণিত ১০ নম্বর। এর সঙ্গে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। সচিব কমিটির অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরের।
অন্যান্য অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তর তাদের নিজস্ব নিয়োগবিধি অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা নেয়। কিছু অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরে নিজস্ব নিয়োগবিধি থাকলেও এখনও নম্বর বণ্টন হয়নি। বিভাগীয় নিয়োগ বা পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) পরীক্ষার আগে নম্বর নির্ধারণ করে। ফলে এসব দপ্তর নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার জন্য এমন বিশেষ মানবণ্টন বিধিমালা করা ভালো হবে না। কারণ, এতে সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হবে এবং বিতর্ক বাড়বে। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়বে।
সরকার যা বলছে
নতুন বিধিমালায় কারিগরি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পৃথক বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাঁকে ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও পাস করতে হবে। এতে উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে নিয়োগ হবে না।
মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ভালো মনে হয়েছে বলে সরকার বাস্তবায়ন করছে। নিয়োগের মানোন্নয়নের জন্য মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার ফলে লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়– সাংবাদিকের এমন যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা বলেন, ‘ভাইভা যেহেতু সাবজেক্টিভ, তাই সেখানে কারসাজি বা পছন্দের কাউকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। এ বিষয়ে দ্বিমত করছি না।’
তাহলে কেন ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হচ্ছে প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, চাকরির জন্য শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। একজন প্রার্থীর অন্যান্য যোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোনো নিয়োগে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধিতা-বিক্ষোভ
গতকাল সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি এবং লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানো মেধার পরিবর্তে কোটার দিকে ধাবিত হওয়া।
পছন্দের প্রার্থীকে ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ায় দুর্নীতি হবে আশঙ্কা করে এই এমপি বলেন, প্রক্সি পরীক্ষা বা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি দেখালেও এতে প্রশাসনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের রাস্তা সুগম হবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেন, সংসদে চলমান নয়, এমন বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভাইভার নম্বর বৃদ্ধিকে ‘নব্য কোটা’ আখ্যা দিয়ে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম এতে নেতৃত্ব দেন। ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, দলের লোকে চাকরি পায়’, ‘নব্য কোটার নাম কী, ভাইভা ছাড়া আর কী?’ ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হয় পয়সায়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।