ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মুহুরী ও কহুয়া নদীর অববাহিকার মানুষের কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি তাদের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রতিবছর বন্যায় এ অঞ্চলের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেনীর মুহুরী ব্রিজের সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ এলাকায় এসে মুহুরী ব্রিজ উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর একই জনপদে তাঁর সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরশুরাম, ফুলগাজীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে নদীতীর সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ফেনী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন এ জনপদের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যাপ্রবণ এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনী অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। পাশাপাশি আগামী বছর (২০২৭ সাল) থেকে ফেল করা শিক্ষার্থীদের তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসএসসিতে যারা ভালো ফলাফল করতে পারেনি, তাদের তালিকা তৈরি করতে। আমরা চাই, তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে দিতে। যে যেখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে, সেই ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করছি। তোমাদের জন্য একটি পথ তৈরি করব। অর্থাৎ, কাউকে হয়তো কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যুক্ত করে দেব, কাউকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করব। কারও হয়তো খুব ভালো ব্যবসায়িক ধারণা আছে, তাকে আমরা ছোট পরিসরে প্রাথমিক তহবিলের ব্যবস্থা করে দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশে অনেক জায়গায় জনশক্তি রপ্তানির ভালো সুযোগ রয়েছে। তোমরা নিশ্চয়ই জানো, আমরা তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। জাপানি, কোরীয় কিংবা চীনা ভাষা অথবা ইউরোপের কোনো একটি দেশের ভাষা- এসব ভাষায় তিন থেকে ছয় মাস মেয়াদি কোর্স করতে পারলে বিদেশে যাওয়ার পথ অনেক সহজ হয়ে যায়।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী এসএসসির পর এইচএসসি করছে, তারপর অনার্স করছে; তারপরও তার কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু তোমাদের যদি আমরা ভাষা শেখার ব্যবস্থা করে দিতে পারি এবং তিন বা ছয় মাস মেয়াদি বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে তোমাদের অনেকেই সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আবার অনেকে আছে, যারা হয়তো কোনো একটি কারণে পড়াশোনায় ভালো ফল করতে পারেনি। তারা সামনের দিনগুলোতে আবার পরীক্ষা দেবে। ইতোমধ্যে আমরা অনেক শিক্ষক ও অভিভাবকের কাছ থেকে শুনেছি, এক বছর অপেক্ষা না করে তিন মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করা যায় কি না- বিশেষ করে যে বিষয়ে কেউ অকৃতকার্য হয়েছে, সেই বিষয়ে।
আমরা কথা দিচ্ছি, বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। আমি আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ, সামনে আমরা এ বিষয়ে পরিবর্তন আনতে পারব।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো আপস নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তায় সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত বিনিয়োগ। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রমবাজার। দেশটিতে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হবে বিশ্বাস ও আস্থা। বাংলাদেশ অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না, বরং বিনিয়োগের অংশীদার হতে চায়। দেশে বিনিয়োগের জন্য স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে ঢাকা।
শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকলে মক্কায় যোগ দেয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
ঢাকা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে শুরুর আগমুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
এদিকে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সাতমসজিদ সড়ক অবরোধ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জাহিদুল করিম বলেন, তাঁরা বলেছেন শুরুর আগমুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করায় তাঁরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
জাহিদুল করিম আরও জানান, বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাতমসজিদ সড়ক ও সাড়ে ১১টার দিকে মানিক মিয়া সড়কে তিনি এ অবরোধ দেখেন।
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গালর্স কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, শুরুর মিনিটখানেক আগে পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা শুনেছেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তাঁর বাড়ি সিলেট।
আরেকজন বলেন, প্রশ্নপত্র দেওয়ার সময় শিক্ষকেরা বললেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে তাই বাতিল।
পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মো. মাজহারুল হক বেলা সোয়া একটার দিকে বলেন, ‘পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।’
আজ বেলা ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
২৪২টি পদের এ পরীক্ষায় রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। তবে পরীক্ষার আগের রাতে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে স্ট্যাটাসও দেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান বলেন, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরোটা তো দেয়নি, যতটুকু দিয়েছে মিল পাওয়া গেছে।’
শুভ মহালয়া
প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপূজা মূলত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত হয়। তবে পঞ্জিকার বিশেষ গণনা ও তিথির মারপ্যাঁচে এ বছর শারদীয় দুর্গাপূজা এক দিন বেড়ে চলবে ছয় দিন ধরে। মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় পূজার দিনসংখ্যা বাড়ার এমন ঘটনা বিরল।
এর ওপর এবার সরকারি ছুটিও বেড়েছে এক দিন। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে উৎসবের আমেজ। সাড়ম্বরে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। সারাদেশের মণ্ডপ, মন্দিরে নির্মীয়মাণ প্রতিমায় মাটির প্রলেপের ওপর রঙের শেষ আঁচড় চলছে। প্যান্ডেল আর সাজসজ্জার কাজও এগিয়েছে অনেকটাই।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের সূচনা ঘটবে আগামী ১৬ অক্টোবর, চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এর আগে আজ শনিবার দুর্গাদেবীর আবাহন তথা মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীর আরাধনা।
মহালয়ার সাত দিন পর আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে সন্ধ্যায় দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা ৩টি কমেছে।
আজ দেবীকে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ
শুভ মহালয়া আজ। দেবীর আরাধনা সূচিত হয় মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে। চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। মূলত দুর্গাপূজার ক্ষণ গণনাও শুরু হবে আজ থেকে।
হিন্দু ধর্মমতে, মহালয়ায় দেব-দেবীকুল দুর্গাপূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করেন। এদিন অতি প্রত্যুষে মন্দিরে মন্দিরে চণ্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়। ভক্তরা গঙ্গাতীরে তাদের মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদ্গতি প্রার্থনা করে তর্পণ করেন।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস সরকার ও প্রশাসনের
সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও বৈঠক করে নিরাপত্তার কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। ঢাকাসহ সারাদেশে আজ ভোরে মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু থেকে দুর্গাপূজার ছয় দিনই কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সরকার, প্রশাসন এবং দেশবাসীর সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা শেষ করতে পারব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে থাকা ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল ১০ অক্টোবর (শনিবার) ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘দৃশ্যত স্বাস্থ্যবান অথবা নীরোগ থাকাটাই স্বাস্থ্য নয়, বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার নামই স্বাস্থ্য।
সুতরাং, কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
কাউকে তার মানসিক সমস্যার জন্য অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তার কথা শুনতে হবে, পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ সহজ করতে হবে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Lived experiences heard: real voices, real change’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, যারা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করাই প্রকৃত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা, টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণ, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সরকারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।
পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু-কিশোরদের সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তরিকতার সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে মানুষের কথা শুনুন, সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে দাঁড়ান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকুন।’
একটি কল্যাণমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবে না, সহায়তা চাইতে কেউ লজ্জিত হবে না কিংবা নিজেকে একা বা অবহেলিত মনে করবে না।’
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও বিশ্বের সব মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন এবং বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬-এর সাফল্য কামনা করেন।
সূত্র: বাসস
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে একজন, চট্টগ্রামে একজন ও সিলেটে বিভাগে একজন রয়েছে। এ সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪৯ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ দুই হাজার ৮৯৩ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৫ জন।