আজ সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ এএম

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠন করা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি আজ মঙ্গলবার প্রথম বৈঠকে বসছে। জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর কী হবে, সংবিধান সংশোধন কমিটি কীভাবে কাজ করবে, কত দিনের মধ্যে এ কমিটি প্রতিবেদন দেবে- এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 


আজ প্রথম বৈঠকে কমিটির কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার কথা রয়েছে।


সংবিধান সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছিল, সেটি অনুসরণ করছে না নির্বাচিত বিএনপি সরকার। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করে জাতীয় সংসদ।


এই কমিটির কার্যপরিধি হলো, ‘সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের নিমিত্ত সুপারিশ প্রণয়নপূর্বক সংসদে রিপোর্ট পেশ’। এ কাজ করার ক্ষেত্রে কমিটি কী কী করবে, কীভাবে কাজ করবে, তার বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক হয়নি। কত দিনের মধ্যে কমিটিকে সংসদে প্রতিবেদন দিতে হবে, সেটাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কমিটির সংসদে প্রতিবেদন দিতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে। সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত কমিটিও অংশীজনদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে আলোচনা করবে। এ ছাড়া কমিটি বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব, বিএনপির দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত যেসব দফা ছিল, সেগুলোও পর্যালোচনা করবে। এসবের ভিত্তিতে সংবিধানের কোথায় কোথায় কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সে সুপারিশ করবে বিশেষ কমিটি।


সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম বৈঠকে কমিটি নিজেদের কর্মকৌশল ঠিক করবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অঙ্গীকার আছে। এর বাইরেও বিএনপির নিজস্ব কিছু অঙ্গীকার আছে। সংবিধানে কী কী সংশোধনী আনা যায়, তা নিয়ে বিশেষ কমিটি সংবিধানবিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সব স্তরের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবে। এরপর কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে পেশ করবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংসদে বিল আনবে। সে বিলের ওপর আবার সংসদে আলোচনা হবে। তারপর বিলের ওপর ভোটাভুটি হবে।


বিরোধী দল থেকে এই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করেছিল সরকারি দল। তবে কারও নাম দেয়নি বিরোধী দল। গঠনের দিনই এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল। 


সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে বলেছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত মতপার্থক্য আছে। তাঁরা সংবিধান সংস্কার চান।


সংবিধান সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়েছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর একটি ছিল অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, জনমত জরিপসহ বিভিন্নভাবে নেওয়া মতামতের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই কমিশন বিস্তারিত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। 


পরে ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফায় দীর্ঘ আলোচনা করে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ।


সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। এর মধ্যে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধানসহ এ ধরনের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আসবে। তবে এ ধরনের কিছু প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) ছিল।


ভিন্নমত থাকা বিষয়গুলো বিএনপি যেভাবে চায়, সেভাবে নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছিল। যেমন তারা একটি দলের নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলেছে। জুলাই সনদের প্রস্তাবে নিম্নকক্ষে সারা দেশে পাওয়া ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলা আছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের নভেম্বরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়েছিল। সেটার আলোকে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির ভিন্নমতের বিষয়গুলো গণভোটে উল্লেখ ছিল না। 


অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশনের মূল প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হয়েছে। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।


জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা নেননি। ফলে ওই সংস্কার পরিষদও গঠিত হয়নি। বিএনপি দাবি করেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ। এ ধরনের শপথ নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তবে জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে তারা ভিন্নমতসহ স্বাক্ষর করেছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করবে।


বিশেষ কমিটি কি জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে, নাকি সেগুলোকে কেবল বিবেচনায় রেখে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নতুন করে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরি করবে- এমন প্রশ্নও আছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, সংবিধান সংস্কারে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সে মতে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।



সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষিখাত লাভজনক করতে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে, কৃষকদের সাহায্য করতে হবে। কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হবে। যদিও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ ভর্তুকি দিতে বাধা দেয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে কৃষি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।


রাষ্ট্রপতি বলেন, যেসব খাতে ঘাটতি আছে, গবেষণার মাধ্যমে তা সমাধান করা প্রয়োজন। উৎপাদনের পর কৃষক দাম পায় না, আবার কৃষক যখন ফসল ফলায় তখন বাড়তি দামে বীজ কিনতে হয়।


ফল ও সবজি দীর্ঘদিন মজুত রাখার জন্য কোল্ড স্টোরেজ করা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।


কৃষি এখন লাভজনক নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জীবন ব্যয়ের যোগান না থাকায় মাঠে এখন শ্রমিক পাওয়া যায় না। কৃষি এখন লাভজনক নয় বলেই অনেকেই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে, কৃষকদের সাহায্য করতে হবে।


মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ চাষে বিপ্লব হয়েছে, এখন আর আমদানি করতে হয় না। ফলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও তার প্রক্রিয়া সুখকর নয়। জমিতে সার ব্যবহার নিয়ে কৃষকদের সচেতনতা তৈরি করতে হবে। জমিতে ফার্টিলাইজার ব্যবহারে ঊর্বরতা কমে যায়।


কৃষি বিজ্ঞানীদের নিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। আইন পরিবর্তন করে হলেও কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে। 


তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে সব ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি সবপ্রতিষ্ঠানে ছেয়ে গেছে। এখন সুযোগ এসেছে সেখান থেকে বের হয়ে আসার। সবাই একটু ধৈর্য্য ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবে। 


এই মতবিনিময় সভায় উঠে আসে বাংলাদেশের বর্তমান কৃষি নানা চ‍্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা। বক্তারা বলেন, কৃষিতে উৎপাদনের সাথে সাথে মানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক পণ‍্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে তবে এখন রপ্তানি দিকে নজর দিতে হবে। শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয় বরং এর বাইরে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পণ‍্য পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশের কথা মাথায় রেখে কীটনাশক আরও উন্নত করার জন‍্য গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৬ পিএম

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এসময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে মারা গেছে ৮৬ জন। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।


বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

দীর্ঘসময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।


এতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে কাজ করছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে এজেন্সির সংখ্যা ৩৩৮টি।


মন্ত্রণালয় জানায়, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।


পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারে আরও উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছে সরকার।


প্রথম ধাপ: জব ওর্ডার সংগ্রহ


মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে জব ওর্ডার বা ডিমান্ড সংগ্রহ করতে পারবে।


দ্বিতীয় ধাপ: কর্মী নির্বাচন


যে এজেন্সি জব ওর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজের কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নিজের কাছেই থাকবে।


তৃতীয় ধাপ: মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রসেসিং


যেখানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-সহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসিসিং ও সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।


চতুর্থ ধাপ: বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স


মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।


এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমেই তার নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। 


অর্থাৎ, জব ওর্ডার যে এজেন্সি সংগ্রহ করবে এবং কর্মী যে এজেন্সি নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সি নিজের লাইসেন্সের অধীনেই তার কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে।


সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে। বিএমইটি-এর ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।


কর্মীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে


এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের কর্মীদের স্বার্থ। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের জন্য একজন কর্মীকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে দেওয়া যাবে না। আমরা চাই একজন কর্মী যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।


রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিও আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা ব্যবসা করবেন, নতুন জব ওর্ডার  সংগ্রহ করবেন এবং আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন; কিন্তু সবকিছু করতে হবে দেশের আইন মেনে এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে।


এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী


মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিদ্যমান এমওইউ অনুযায়ী, মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ দায়িত্ব।


শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তকরণের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে, সেহেতু এই প্রক্রিয়ায় সময়ের প্রয়োজন। তাই মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদ ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিতর্কিত মেডিক্যাল সেন্টার বাদ দিয়ে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত অবশিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 


তবে, শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে। 


মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়মিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং সেগুলোকে স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করবে। আমরা নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হবে। 


এছাড়াও যথাসময়ে এই তালিকায় আরও কিছু নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হবে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।


নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং আমাদের মন্ত্রণালয়ও সবার জন্য সেই তালিকা ঘোষণা করবে। আমরা পর্যায়ক্রমে অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর তালিকা নিশ্চিত করবো।


আমাদের লক্ষ্য শুধু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বৈধ ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং সর্বোপরি আমাদের কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।


এটি শুধু একটি শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নয়। আমরা এটিকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রম সহযোগিতার একটি নতুন এবং আরও অংশগ্রহণমূলক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখতে চাই।


ঘোষণা


মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ভাই-বোনদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রণালয় এক সংবদা বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা চাই, কর্মীরা যেন সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কোনও ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান।


এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনে দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, একইসঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের সহযোগিতা ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এখন সবার দায়িত্ব সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং কর্মী একসঙ্গে এই সুযোগকে সফল করা এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, সুশৃঙ্খল ও টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলা।

সর্বশেষ সব খবর

দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। গতকাল বুধবার রাতে তিনি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


মির্জা আব্বাসের সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মির্জা আব্বাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস ও ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন।


প্রায় পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন মির্জা আব্বাস। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া যান তিনি। দেশটির প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে তার চিকিৎসা চলে।


১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে দেড় মাস চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩২ পিএম

সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের ‘পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিতি আক্তার।


সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘আজেল নিউজ’ এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়।


বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সময় ও স্থানের পবিত্রতা বিবেচনায় নিয়ে এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়। তবে কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 


পবিত্র স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ সব খবর

রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরত আসা ঝিনাইদহের রাজন হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫২ এএম

‘শরীরের একটা অংশ প্রায় অবশ হয়ে ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার পর প্রথমে দেড় মাস একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। হাসপাতালটি রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনের অংশে পড়েছিল। সেখান থেকে পরে আমাকে রাশিয়ার কাজান শহরের পাশে একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 


চিকিৎসাধীন থাকার সময় রাশিয়ান একজন নারী চিকিৎসক আমাকে সেখান থেকে পালাতে সহায়তা করেন; রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এর পর দূতাবাসের সহযোগিতায় ট্রাভেল পাস নিয়ে গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশে ফিরেছি।’ 


গতকাল বুধবার নিজের জীবনের করুণ গল্প শোনালেন রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরত আসা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের রাজন হোসেন (২২)। ইউক্রেন বাহিনীর ড্রোন হামলায় কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। ডান পায়েও চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। রাজন কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের কালুর ছেলে। এখন ক্র্যাচে ভর করে চলাফেরা করতে হয় তাঁকে। 


রাজন জানান, ৮ মে বাংলাদেশ থেকে ৩০ জনের একটি টিম রাশিয়ায় যায়। তাদের সেখানে পিআরও টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে মাসে ৭৫ হাজার রুবলের বিনিময়ে কাজ দেওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশি যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজন বড় স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় যান, তাদের ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন। জমি বিক্রি, বন্ধক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার টাকা জোগাড় করে রাজনের পরিবার।


রাজন আরও জানান, যে প্রতিষ্ঠানে কাজ দেওয়ার কথা ছিল, সেই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। এটি রাশিয়ায় পৌঁছার পর জানতে পারেন। পরে ১৩ মে ইউক্রেনের যে অংশ রাশিয়া দখল করেছে, সে ধরনের একটি এলাকায় নেওয়া হয়। একটি বাঙ্কারে তাদের রাখা হয়। এরপর ২১ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশি ৩০ জনের দলকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। একটি ভাগে ছিল ১৬ জন। আরেকটিতে আটজন। অন্যটিতে ছয়জন। রাজন ছিলেন ছয়জনের দলে।


রাজন বলেন, ড্রোন হামলায় আমার দলের মেহেদী, মিন্টু, রিপন ও মামুন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মিন্টুর গ্রামের বাড়ি যশোর, রিপনের গাজীপুর, মামুনের ময়মনসিংহ ও মেহেদীর ঢাকায়। ১৪ জুন রাজনের ওপর আঘাত হানে ড্রোন। এরপর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কোমরের নিচে আঘাত পান। চার দিনে ৪ কিলোমিটার পথ বুকে ভর দিয়ে অতিক্রম করে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের অংশে তাদের ক্যাম্পে পৌঁছান। এরপর তাঁকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। পরে কাজান শহরের আরেকটি হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার সময় রাশিয়ান এক ডাক্তার তাঁকে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়ে যান।


রাজন আরও জানান, রাশিয়ায় যাওয়ার পরপর তাদের পাসপোর্ট নিয়ে যান রিক্রুটিং এজেন্সির লোকজন। এ কারণে রাশিয়া থেকে তাঁকে ট্রাভেল ভিসা নিয়ে ফিরতে হয়েছে। রাজনের দেওয়া তথ্যানুসারে, ৩০ বাংলাদেশিকে একটি বাসে করে মস্কো থেকে ওয়ারেনবার্গ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হোটেলে তিন থেকে চার দিন রাখার পর ব্যাংককার্ড, সিমকার্ডের কথা বলে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় দালাল চক্রের রাশিয়ান সিন্ডিকেট। পরে কাজের কথা বলে রাজনসহ অন্যদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি অজ্ঞাত রুশ সেনাক্যাম্পে। যুদ্ধক্ষেত্রের বিষয়টি টের পেয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে অনেকে আকুতি জানান। এরপরও তাদের যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়।


রাজন বলেন, আমাদের দলের ২০ জন মারা গেছেন। এক দিনে মারা গেছেন ১৭ জন। তাদের মধ্যে অনেকের নাম জানা আছে। অনেকের জেলার নামও জানি। আমরা যে তিনটি গ্রপে ভাগ হয়ে যুদ্ধ করেছি, সেটি কাছাকাছি এলাকায় ছিল। একই ব্যাটালিয়নের আওতায় আমরা ছিলাম। আমাদের সবার কাছে ওয়াকিটকি দেওয়া হয়েছিল। সহযোদ্ধাদের লাশ চোখের সামনে পড়ে ছিল। 


ব্র্যাকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বৈধভাবে রাশিয়ায় গেছেন আট হাজার ৬১৮ বাংলাদেশি।

সর্বশেষ সব খবর