শরিফ ওসমান হাদি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬, সময় : ৫:১২ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বক্তব্যের পর আবার আলোচনায় এসেছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড।


ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল সবটাই জানি। আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে। এতদিন আমি বলিনি, মুখ খুলিনি। অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে আমি এখনও নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে– আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি।’


মমতার এ মন্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে হচ্ছে নানা ধরনের আলোচনা। কেউ কেউ মনে করেন, বিজেপি ও মমতার নির্বাচনী দ্বন্দ্বের কারণেই বাংলাদেশকে জড়িয়ে এমন মন্তব্য আসতে পারে। আবার মমতার এ বক্তব্য সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য কারও কারও।


গতকাল রাতে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার কাদের ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, ‘মমতার এমন বক্তব্য তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নয়। তিনি কি এই মামলায় সাক্ষ্য দেবেন? গ্রেপ্তার আসামিদের পাওয়া গেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। তদন্তের ক্ষেত্রে আমরা পূর্ণ মনোযোগী।’


এদিকে হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে কথা বলতে চান না পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, হাদি হত্যার আসামি যারা ভারতে গ্রেপ্তার আছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে চায় সরকার। সেটা করা হবে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে।


মমতার বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আকাশ-পাতাল বলে তো লাভ নেই। আরেকটা দেশে নির্বাচন হয়েছে, সে দেশে একজন পরাজিত হয়েছেন, সে পরাজিত একজন নেতা একটা কথা বলেছেন। এটা আমাদের আলোচনার বিষয় নয়।’


তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার যদি এখন বাংলাদেশকে হাদি হত্যার ব্যাপারে কিছু বলে… অলরেডি তো এটা নিয়ে কাজ চলছে, কাজ এগিয়েছে এবং খুবই সিরিয়াসলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই এবং যারা ধরা পড়েছে ভারতে, তাদের ফেরত এনে এখানে বিচার দ্রুত করতে হবে। সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট।’


প্রতিমন্ত্রী বলেন– ‘হাদি হত্যার কালপ্রিটদের ফেরত আনতে হবে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি খুবই সিরিয়াসলি। এটা কিন্তু বেশ ভালো এগিয়েছে। সুতরাং আমরা ওইদিকে আগাতে চাই। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে যদি তারা কোনো কথা বলে, তখন সেটা আমরা দেখব।’


এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘মমতা কারও নাম বলেননি। তবে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গকে মিলিয়ে রাজনীতির নাটাই হাতে রাখতে চাইছে। তাঁর কথা থেকে বোঝা যায় যে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আধিপত্যবাদী চিন্তা থেকে এ দেশের সরকারে ওঠা-নামার রাজনীতিতে ভারত যে খেলা খেলে বলে বলা হয়, সেই খেলাতেই তারা মেতে উঠেছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে মমতার এ বক্তব্য সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে ভারত সরকারের বক্তব্য সরকার জানতে চাইতে পারে।’


নতুন কর্মসূচি ইনকিলাব মঞ্চের


হাদি হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা ও খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল ও শুক্রবার জুমার নামাজের পর সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। 


তিনি বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সময় নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪-১৫ বার হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন পেছানো হয়েছে। আমরা আর এটি পেছাতে দেব না।


ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদি ফেসবুকে দুটি পোস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিএনপি ও জামায়াত হাদি হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ব্যাপারে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, কেন এমন পোস্ট দিয়েছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন।




প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ এএম

চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনেই ডেঙ্গুতে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগস্টে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি। আগস্টে এডিস মশাবাহিত এই রোগে মারা গিয়েছিল ৪৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গুতে দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে ৭৯০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।  


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনের একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। দুই সিটি করপোরেশনসহ এ বিভাগে মারা গেছেন ৭২ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।


গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ২৪৯ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬, ময়মনসিংহে ৭৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬১, খুলনায় ৬০, রংপুরে ৩৮, রাজশাহীতে ৩৩ ও বরিশালে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ২২০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৮৮ জন। এ নিয়ে এ বছর মোট ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। 


ফরিদপুরে প্রকোপ বাড়ছে


ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাবে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এ বছর ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।


সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় জেলার প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।


সামনে আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনও শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশের কারণে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে সংক্রমণ বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর প্রকোপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথমদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।


ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।


আজ থেকে অভিযান


বাসস জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’। 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ এএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি উত্তর পশ্চিম-পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন ওডিশা-অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।


উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।


শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।


সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।


ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ পিএম

হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিএমএইচে পৌঁছে আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।


এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।


দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।


নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।


এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।


 


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ পিএম

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯১২ জন মারা গেছে আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০০ জন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৭৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনের শরীরে।


একই সময়ে ৩৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।


এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরে রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৫৭ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫৭, চট্টগ্রামে ৬৮, খুলনায় ৩৮, ময়মনসিংহে ৭৭, রাজশাহীতে ৯৩ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৬ পিএম

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং। কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।


২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।


কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।


গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।


সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার  থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।


আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


টোকিওতে এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্সে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২৮ পিএম

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি সরবরাহ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) ক্ষমতার আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার ল্যান্ডভিত্তিক টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানের টোকিওতে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান। টোকিওর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ বিঘ্ন এবং বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। নির্ভরযোগ্যতা, সরবরাহের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য ও নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।


তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় দেশে জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশীয় উৎপাদন দিয়ে বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমদানি করা এলএনজি দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।


সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি এফএসআরইউয়ের মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। দেশে বছরে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন। এ চাহিদা পূরণে নতুন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতায় আরও ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন টন যোগ হতে পারে। ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা বাড়িয়ে ১৭ থেকে ১৮ মিলিয়ন টনে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


এলএনজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরবরাহের উৎস ও পদ্ধতিতেও বৈচিত্র্য আনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে।


আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর কথাও তুলে ধরেন। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত এ দরপত্রে মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।


বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী বলেও সম্মেলনে জানান প্রতিমন্ত্রী।