প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেমন কোনো সরকার চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে না।
আজ সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, মানুষ বা সরকার কেউই চিরদিন ক্ষমতায় থাকে না। এটি অতীতেও বহুবার প্রমাণিত হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও যার উদাহরণ রয়েছে। একইভাবে জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদও স্থায়ী নয়।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বা প্রশাসনের পদমর্যাদা ক্ষণস্থায়ী, তাই অর্পিত দায়িত্বকে যথাযথভাবে পালন করা এবং এই বাস্তবতা মেনে চলাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ।
ক্ষমতার পরিবর্তনশীলতাকে মাথায় রেখেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
নতুন পে স্কেল
নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। তবে মূল বেতনের অংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়ার হার কমবে। এ ছাড়া উচ্চ গ্রেডে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির হার কমবে।
তবে চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিনসহ অধিকাংশ ভাতা বাড়বে। সব ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।
গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রণয়নের কাজ করছে। গেজেটে এসব বিষয়ে তথ্য থাকবে।
২০১৫ সালের বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় এ হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে মূল বেতনের অনুপাতে বাড়ি ভাতার হার কমলেও টাকার অঙ্কে বাড়বে।
ঢাকা সিটি করপোরেশন ছাড়া দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভার উপজেলায় বর্তমানে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এসব এলাকায় ওই হার
৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে কর্মরতদের বাড়ি ভাড়া বর্তমানে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় তা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হবে।
বাড়ছে চিকিৎসা, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতা
বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় গ্রেডনির্বিশেষে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরিজীবীরা মাসে তিন হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সীরা চার হাজার টাকা পাবেন।
পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনাররা মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা ছয় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনারদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা দুই হাজার ৫০০ টাকা।
প্রথমবারের মতো সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোবাইল ফোন ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা মোবাইল বিল পান। চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা এক হাজার টাকা পান।
অন্য গ্রেডের চাকরিজীবীরা এ সুবিধা পান না। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মোবাইল ভাতা কমিয়ে মাসে ৫০০ টাকা করা হবে। আর ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন মাসে ১৫০ টাকা।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসিক যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে।
তবে পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। হাওর, দ্বীপ ও চরভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করা হচ্ছে।
শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি, বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার এবং পরিমাণ বহাল রাখা হচ্ছে। তবে ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান ভাতার তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা শতকরা হারে না দিয়ে টাকার অঙ্কে দেওয়া হচ্ছে; নতুন কাঠামোয় এটি মূল বেতনের ১০ শতাংশ হতে পারে।
বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী বছরে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন কাঠামোয় এ অভিন্ন ব্যবস্থা থাকছে না। ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখা হচ্ছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৫ সালের বেতন কাঠামোতে সবার জন্য ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ছিল। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০২৪ সালে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করে সরকার। এটি প্রথমে ৫ শতাংশ ছিল। পরে ১০ শতাংশ করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আগের প্রণোদনা হবে।
পদোন্নতি ছাড়া উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ একই গ্রেড ১০ বছর থেকে কমিয়ে আট বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পদোন্নতি ছাড়া দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছয় বছর একই গ্রেডে থাকার শর্ত বহাল থাকবে।
পদোন্নতিযোগ্য পদে থাকা চাকরিজীবীরা এভাবে সর্বোচ্চ দুইবার উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারবেন। আর যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ব্লকড পদ হিসেবে ঘোষিত, সেসব পদে চাকরিজীবীরা পুরো চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন চলতি বছরের জুলাই, আগামী ডিসেম্বর এবং পরবর্তী জুলাই- এই তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব ধরনের ভাতা পাওয়া যাবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।
নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি বছর অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, ২০২৭ সালে ৪৪ হাজার ৮৩৮ কোটি এবং ২০২৮ সালে ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
বর্তমান কাঠামোয় চলতি অর্থবছর বেতন, ভাতা, পেনশন, আনুতোষিক ও লাম্পগ্রান্টে সরকারের ব্যয় এক লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে এ ব্যয় চলতি অর্থবছরে বেড়ে এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা হবে। আগামী অর্থবছরে তা দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি এবং ২০২৮ সালে সব ভাতা কার্যকর হলে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।
সব চাকরিজীবী পাবেন মোবাইল ভাতা
নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। তবে মূল বেতনের অংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়ার হার কমবে। এ ছাড়া উচ্চ গ্রেডে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির হার কমবে।
তবে চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিনসহ অধিকাংশ ভাতা বাড়বে। সব ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।
প্রথমবারের মতো সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোবাইল ফোন ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা মোবাইল বিল পান। চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা এক হাজার টাকা পান।
অন্য গ্রেডের চাকরিজীবীরা এ সুবিধা পান না। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মোবাইল ভাতা কমিয়ে মাসে ৫০০ টাকা করা হবে। আর ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন মাসে ১৫০ টাকা।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসিক যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে। তবে পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। হাওর, দ্বীপ ও চরভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করা হচ্ছে।
শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি, বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার এবং পরিমাণ বহাল রাখা হচ্ছে। তবে ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান ভাতার তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা শতকরা হারে না দিয়ে টাকার অঙ্কে দেওয়া হচ্ছে; নতুন কাঠামোয় এটি মূল বেতনের ১০ শতাংশ হতে পারে।
পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনাররা মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা ছয় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনারদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা দুই হাজার ৫০০ টাকা।
বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় গ্রেডনির্বিশেষে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরিজীবীরা মাসে তিন হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সীরা চার হাজার টাকা পাবেন।
গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রণয়নের কাজ করছে। গেজেটে এসব বিষয়ে তথ্য থাকবে।
২০১৫ সালের বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় এ হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে মূল বেতনের অনুপাতে বাড়ি ভাতার হার কমলেও টাকার অঙ্কে বাড়বে।
নতুন পে স্কেল
নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। তবে মূল বেতনের অংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়ার হার কমবে। এ ছাড়া উচ্চ গ্রেডে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির হার কমবে।
তবে চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিনসহ অধিকাংশ ভাতা বাড়বে। সব ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।
গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রণয়নের কাজ করছে। গেজেটে এসব বিষয়ে তথ্য থাকবে।
২০১৫ সালের বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় এ হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে মূল বেতনের অনুপাতে বাড়ি ভাতার হার কমলেও টাকার অঙ্কে বাড়বে।
ঢাকা সিটি করপোরেশন ছাড়া দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভার উপজেলায় বর্তমানে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এসব এলাকায় ওই হার
৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে কর্মরতদের বাড়ি ভাড়া বর্তমানে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় তা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হবে।
বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় গ্রেডনির্বিশেষে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরিজীবীরা মাসে তিন হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সীরা চার হাজার টাকা পাবেন।
পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনাররা মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা ছয় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনারদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা দুই হাজার ৫০০ টাকা।
প্রথমবারের মতো সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোবাইল ফোন ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা মোবাইল বিল পান। চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা এক হাজার টাকা পান।
অন্য গ্রেডের চাকরিজীবীরা এ সুবিধা পান না। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মোবাইল ভাতা কমিয়ে মাসে ৫০০ টাকা করা হবে। আর ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন মাসে ১৫০ টাকা।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসিক যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে। তবে পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। হাওর, দ্বীপ ও চরভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করা হচ্ছে।
শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি, বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার এবং পরিমাণ বহাল রাখা হচ্ছে। তবে ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান ভাতার তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা শতকরা হারে না দিয়ে টাকার অঙ্কে দেওয়া হচ্ছে; নতুন কাঠামোয় এটি মূল বেতনের ১০ শতাংশ হতে পারে।
বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী বছরে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন কাঠামোয় এ অভিন্ন ব্যবস্থা থাকছে না। ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখা হচ্ছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৫ সালের বেতন কাঠামোতে সবার জন্য ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ছিল। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০২৪ সালে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করে সরকার। এটি প্রথমে ৫ শতাংশ ছিল। পরে ১০ শতাংশ করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আগের প্রণোদনা হবে।
পদোন্নতি ছাড়া একই গ্রেডের ক্ষেত্রে যা হবে
পদোন্নতি ছাড়া উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ একই গ্রেড ১০ বছর থেকে কমিয়ে আট বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পদোন্নতি ছাড়া দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছয় বছর একই গ্রেডে থাকার শর্ত বহাল থাকবে। পদোন্নতিযোগ্য পদে থাকা চাকরিজীবীরা এভাবে সর্বোচ্চ দুইবার উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারবেন। আর যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ব্লকড পদ হিসেবে ঘোষিত, সেসব পদে চাকরিজীবীরা পুরো চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
মূল বেতন তিন ধাপে, ভাতা ২০২৮ সালে
নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন চলতি বছরের জুলাই, আগামী ডিসেম্বর এবং পরবর্তী জুলাই- এই তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব ধরনের ভাতা পাওয়া যাবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।
নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি বছর অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, ২০২৭ সালে ৪৪ হাজার ৮৩৮ কোটি এবং ২০২৮ সালে ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
বর্তমান কাঠামোয় চলতি অর্থবছর বেতন, ভাতা, পেনশন, আনুতোষিক ও লাম্পগ্রান্টে সরকারের ব্যয় এক লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে এ ব্যয় চলতি অর্থবছরে বেড়ে এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা হবে।
আগামী অর্থবছরে তা দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি এবং ২০২৮ সালে সব ভাতা কার্যকর হলে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ সচিবালয়
সরকারি কাজে গতি ফেরাতে সচিবদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিএনপি সরকারের প্রথম সচিব সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সভায় প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। কোন কর্মকর্তা কীভাবে তাঁর কর্মজীবন পরিকল্পনা করবেন, সে বিষয়ে প্রত্যেক সচিবের কাছে পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের সব ধরনের দপ্তর ও কর্মস্থলে কাজের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমুল গনি সচিবদের বলেন, একটি কার্যকর ক্যারিয়ার প্ল্যান বা পেশাগত পরিকল্পনা হলো আপনার ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, যা আপনাকে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এ জন্য সব সচিবকে দ্রুত একটি ক্যারিয়ার প্ল্যান দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সচিব বলেছেন, সভায় বলা হয়, আমলাতন্ত্রের কাঠামো ও কাজের ধরন এখন আর আগের মতো নেই। পরিবর্তিত বাস্তবতায় কর্মকর্তাদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ডি-নথির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়। সচিবালয় নির্দেশমালা মেনে চলার বিষয়েও সচিবদের সতর্ক করা হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়, সব কর্মকর্তা সব ধরনের কর্মস্থলে চাকরি করতে চান না। কিন্তু সরকারের প্রতিটি দপ্তর ও সংস্থাকে কাজের উপযোগী করে তুলতে হবে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী কাজের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কেউ সরকারের কাজ করছেন না বা দায়িত্বে অবহেলা করছেন- এমন কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
সচিব সভায় বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ খাতটির সার্বিক অবস্থা, চলমান কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
পরে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা এবং অগ্রাধিকারের বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির নির্দেশ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের দপ্তরগুলোতে প্রাথমিকভাবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিগগির সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’
দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণের মাধ্যমে প্রশাসনের কার্যক্রম গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে সচিবদের একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম নিতে বলা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, সব শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত। এর বিপরীতে শূন্য আছে চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ।
গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে
দেড় মাসের বেশি সময় পর দেশে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গত সোমবার রাত থেকেই বেড়েছে সরবরাহ। গতকাল মঙ্গলবার যা আরও কিছুটা বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশ যাচ্ছে শিল্প খাতে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানি করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।
এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনায় শুরুতে সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সময়মতো এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়াতে দেরি হয়েছে। এখন নিয়মিত আসছে কার্গো।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। গত সোমবার রাত ১০টায় এলএনজি সরবরাহ করা হয় ৯৮ কোটি ঘনফুট। আর গতকাল রাত আটটায় এটি বেড়ে হয়েছে ১০১ কোটি ঘনফুট। এতে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৬৩ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুট।
এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছিল ২৬৪ কোটি ঘনফুট। তখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হতো ৯৯ কোটি ঘনফুট। এখন এলএনজি থেকে একই পরিমাণ সরবরাহ করা হলেও দেশি গ্যাস থেকে এরই মধ্যে উৎপাদন কমেছে ৪ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার দরপত্র দিলেও সব কটি পাওয়া যায়নি। দামও অনেক বেড়ে গেছে। এ মাসে সব মিলিয়ে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে পাঁচটি।
আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, এ মাসে আরামকোর দুটি, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে কার্গো ইতিমধ্যে এলএনজি সরবরাহ করেছে। এরপর আজ ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো ও ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের একটি করে কার্গো আসার কথা। ফলে এলএনজি থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই অক্টোবরের জন্য ১১টি এলএনজি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে অক্টোবরের ৮টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। আরও ৩টি কিনতে গতকাল দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমতিয়াজ রাজীব বলেন, চাপ ১০ পিএসআই থাকার কথা, আসছে ৪ পিএসআই। আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, কারখানা চালাতে যতটুকু চাপ প্রয়োজন, সেই পরিমাণ চাপ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
লোডশেডিং থামেনি, কিছুটা কমেছে
গ্যাসের সংকটে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও কয়লার স্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছিল না। এতে এক মাস ধরেই সারা দেশে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এটি কমাতে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফার্নেস তেলের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় বেশি করা যাচ্ছে না। ২০ সেপ্টেম্বরের পর তেল থেকে উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে।
গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন আরও কমায় দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়।
গত রোববার দুপুর ১২টায় আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করে সরবরাহ করা হচ্ছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায় বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এক ইউনিট বন্ধের পর গতকাল ৬১০ মেগাওয়াট উৎপাদন করেছে কেন্দ্রটি। এটি আবার পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে আরও দুই দিন লাগতে পারে।
পটুয়াখালীতে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দুটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। প্রতিটি কেন্দ্র ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় নির্মিত হয়। এর মধ্যে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ আছে। এতে উৎপাদন হচ্ছে ৫৭০ মেগাওয়াট। এখানে পর্যাপ্ত কয়লা আছে। আর একই জেলার আরেকটি কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র বলছে, সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কয়লা থেকে। কিন্তু এক মাস ধরে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। জ্বালানি তেল থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। গত সোমবার দিবাগত রাত একটায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে।
গতকাল দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এর আগে গত মাসে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। এ হিসাবে আগের তুলনায় লোডশেডিং কমে এসেছে।
‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার গত সাত মাসে দেশে মানুষের অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী পুঞ্জীভূত জঞ্জাল একবারে রাতারাতি মূলোৎপাটন করা দুরূহ। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই সাত মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। কোথাও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো গুম হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলের ভিন্ন মত, পথ, ভিন্ন আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক মূল্যবোধকে হরণ করা হয়নি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত কোনো প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আমাদের জানা মতে ঘটেনি।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মদদে’ কথাটি স্পষ্ট করে বলার কারণ— অতীতে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কার্যালয় থেকে বা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা করা হতো এবং নির্দেশ দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতো। বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা প্রশাসনিক ভুলভ্রান্তি ঘটে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তা জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনের অনুশাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই গণতান্ত্রিক ধারাকে সরকার স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটে থাকলে অতীতের মতো তা ধামাচাপা না দিয়ে তথ্য পাওয়ামাত্রই দ্রুত তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে এখন প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে মূল্যায়ন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটিই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন। সামনের দিনগুলোতে এই স্বচ্ছতা আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, এমন একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, যেখানে সবাই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল।
বিভিন্ন আইনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বিগত অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের একশ’র বেশি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতো দ্রুত সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির অতীতে বিরল। তবে, নতুন যে কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলোতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের খসড়াগুলো অনেক আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছিল। মনে রাখতে হবে, আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া।
দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন শেষে যখন একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করে, তখন আইন প্রণয়নকারী সংসদ সদস্যরা সর্বস্তরের মানুষের মতামত ধারণ করার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো প্রথমবারেই শতভাগ নিখুঁত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে, বিভিন্ন পর্যায়ে অংশীজনদের মতামত নিয়ে যেখানে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে, সেখানে সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধনীও নিয়ে আসছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনা রয়েছে— একটি আইনকে কীভাবে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করা যায়, সেজন্য যারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবেন তাদের সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আইনের অক্ষরের চেয়ে সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ফ্যাসিবাদের সময়ে সংবিধানের নানা ধারার অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। কাজেই আইনের ভাষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার মানবিক ব্যাখ্যা এবং প্রায়োগিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশে এখন সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অশালীন বা অশ্রাব্য আচরণ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরমসহিষ্ণুতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা হচ্ছে। সংকীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও দর্শনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল।
তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক ও অবিচল থাকতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে মূল অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন মত ও পথকে এক ছাদের নিচে এনে দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়াকেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বলে অভিহিত করেন তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকটে এবং গণতান্ত্রিক পালাবদলে বিএনপির ভূমিকা অপরিসীম। বাকশাল, সামরিক শাসন কিংবা দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের পর প্রতিবারই বিএনপির হাত ধরে এ দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাকশালের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে এবং দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ পুনরায় গণতান্ত্রিক কক্ষপথে ফিরে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এক্ষেত্রে স্বাধীনতা, অখণ্ড সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আজকের এই মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। ফ্যাসিবাদী আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম ও শহীদ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই এই কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
মাহ্দী আমিন আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্র ক্ষমতার একমাত্র উৎস এবং প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। তাই জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধতা ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিয়ে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, কেবল রাজনীতিকরা নন; দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে মূল চালিকাশক্তি করে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনায় আরো অংশ নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা প্রমুখ। এছাড়া শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।