জাতীয় বেতন কমিশন
পদোন্নতির সুযোগ না থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য দুটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা কমানোর জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
নতুন বেতন কাঠামোতে আগের মতোই ১০ ও ৬ বছরের সময়সীমা বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চাকরির ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে ৫ ও ৫ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করে। পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীদের বঞ্চনা কমাতে এই সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চতর গ্রেড ২০১৫ সালের পে স্কেলের মতোই ১০ ও ৬ বছরের সময়সীমা বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ, পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীদের পাঁচ বছর পরপর বেতন বাড়ালে সরকারে আর্থিক ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
গত সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ শুরুর জন্য গেজেট প্রকাশের জন্য কাজ করছে অর্থ বিভাগ।
সাবেক অর্থ সচিব ও জাতীয় বেতন কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান গতকাল বুধবার বলেন, উচ্চতর গ্রেডের সময়সীমা কেন কমানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা আছে। অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেটা জানা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে এসআরও জারি না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। নিয়ম বা পরিবর্তনগুলো প্রজ্ঞাপন জারির পরই স্পষ্ট হবে।
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারের যেগুলো ব্লক পদ, সেই দপ্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই। তাদের যৌক্তিক সময়ে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধি করা উচিত। কারণ, এটা ছাড়া তাদের বেতন বৃদ্ধির কোনো পথ নেই।
জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী নিম্ন বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারীরা চাকরির ৮, ১০, ১২ ও ১৫ বছর পূর্তিতে চারটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-তে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে চাকরির ১০ ও ৬ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান করা হয়।
কর্মচারী নেতারা জানান, জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা আগের বেতন স্কেলে কর্মচারীদের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়কাল কমিয়ে আনার অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে চাকরির ৫ ও ৫ বছর অন্তর দুটি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন কর্মচারী নেতারা।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম বলেন, একজন কর্মচারী যে পদে চাকরিতে যোগদান করেন, অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে সেই একই পদেই কর্মরত থাকতে হয়। ফলে যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীরা পরবর্তী ধাপে উন্নীত হতে পারেন না।
তিনি বলেন, অর্থ বিভাগ থেকে বেতন কমিশনের সুপারিশ বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের পদোন্নতি না হলেও নির্দিষ্ট সময় পর আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিধান রয়েছে জাতীয় পে স্কেল ২০১৫-তে। একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকলেও পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীদের জন্য দুই দফা উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ রাখা হয় ওই বেতন কাঠামোয়।
জাতীয় পে স্কেল ২০১৫-এর ৭(১) উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করলে এবং তাঁর চাকরি সন্তোষজনক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১১তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন। এ ছাড়া ৭(২) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর পরবর্তী ছয় বছরের মধ্যে পদোন্নতি না হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন কর্মচারী। তবে এই সুবিধা নিয়ে কোনো কর্মচারী তৃতীয় বা তার ওপরের গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন না।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর ও শিষ্টের পালনে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে জনগণকে নিয়মিত অবহিত রাখা ও ব্যাপক প্রচারণার ওপরও রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে, বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানান। দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন আইজিপি। রাষ্ট্রপতিও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ছবি : সংগৃহীত
গ্যাসের সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরের জন্য লিফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ১ টাকা ৩ পয়সা। এতে সবচেয়ে ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকায়, যা আগে ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।
জুলাইয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। আগস্টে এক লাফে ৭০ টাকা বাড়ার পর চলতি মাসে সামান্য কমলেও জুলাইয়ের তুলনায় ভোক্তাকে এখনও সিলিন্ডারপ্রতি ৫৭ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। পাইপলাইনের গ্যাস সংকটে রান্নার জন্য এলপিজির ওপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ায় এই মূল্যের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে মধ্যবিত্তের বাজেটে।
বিইআরসি জানায়, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকো ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত (৩৫:৬৫) অনুযায়ী গড় সৌদি সিপি (কার্গো মূল্য) দাঁড়িয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। এর সঙ্গে জাহাজভাড়া, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা হিসাব করে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, অন্যান্য সিলিন্ডারের মধ্যে ৫.৫ কেজি ৭২৭ টাকা, ১২.৫ কেজি ১৬৫২ টাকা, ১৫ কেজি ১৯৮২ টাকা, ১৬ কেজি ২১১৩ টাকা, ১৮ কেজি ২৩৭৮ টাকা, ২০ কেজি ২৬৪২ টাকা, ২২ কেজি ২৯০৭ টাকা, ২৫ কেজি ৩৩০৩ টাকা, ৩০ কেজি ৩৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজি ৪৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজি ৪৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৫৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা। এছাড়া রেটিকুলেটেড এলপিজি প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৩৭ পয়সা করা হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির ১২.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা অপরিবর্তিত রয়েছে।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রোপেন ও বিউটেনের দর (সৌদি সিপি) এবং ডলারের বিনিময় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে আদেশ পুনর্ব্যক্ত করে কমিশন জানিয়েছে—মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক বা খুচরা—কোনো পর্যায়ই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া যাবে না।
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম কমিটি গঠনের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সভাপতি করে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ ফরিদুল কবির তালুকদার, মোহাম্মদ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান চৌধুরী, মোসাম্মৎ শামীমা সুলতানা, মোহাম্মদ গোলাম রসূল, মোহাম্মদ রায়হান সাঈদী।
মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়াকে সভাপতি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান মোল্লা, মো. জাহাঙ্গীর আলম মিয়া, মোসা. তাহসিনা রুশদী, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, আতিকুর রহমান মুজাহিদ।
রকিবুল ইসলামকে সভাপতি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, হাবিবুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, মো. রুহুল আমিন দুলাল, মো. শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং মো. মতিয়ার রহমান।
আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে সভাপতি করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ জসিম উদ্দিন আহমেদ, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, মাছুম মোস্তফা এবং মোহাম্মদ আবু তালিব।
কলিম উদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মো. আবুল খায়ের ভূইয়া, মো. তমিজ উদ্দিন, মো. হারুনুর রশিদ, মোবাশ্বের আলম ভূইয়া, মানসুরা আক্তার, মো. কেরামত আলী, সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
মো. আমানউল্লাহ আমানকে সভাপতি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, ইয়াসের খান চৌধুরী, নরসিংদী-৫ আসনের মো. আশরাফ উদ্দিন, জামালপুর-৩ আসনের মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, মো. মজিবুর রহমান, নিলুফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার।
মোহাম্মদ জি কে গউছকে সভাপতি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সরোয়ার আলমগীর, সুলতানা জেসমিন, মো. মাহবুবুল আলম, মো. আব্দুল আলীম এবং মো. আবুল কালাম আজাদ।
নাসের রহমানকে সভাপতি করে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, সরদার সরফ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, এরশাদুল্লাহ, সুলতানা আহমেদ, মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং মাহমুদুল্লাহ।
রফিকুল ইসলাম জামালকে সভাপতি করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), মোহাম্মদ শামীম কায়সার আতাউর রহমান খান, নূরুল আমিন, নিপুন রায় চৌধুরী, সূবর্না সিকদার, মো. নূরুল আমিন, মো. আবুল হাসান এবং মো. আব্দুল খালেক।
সেলিমা রহমানকে সভাপতি করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস বেগম।
অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সভাপতি (চেয়ারম্যান) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে ০৫ (পাঁচ) বছর বা তাঁর ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে বহাল থাকবেন।
এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। এরপর পদটি শূন্য হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ পিএসসির ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। একই সঙ্গে মক্কা প্যাক্টের সদস্য দেশগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেন, ‘বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে কোনো সমস্যা নেই। মক্কা প্যাক্টের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালী পার করতে পারবে।’
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাতারএনার্জি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ বা চুক্তিগত দায়মুক্তির সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পরও বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের এলএনজি জাহাজের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে মক্কা প্যাক্টে ইরানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ইরানি রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ইরান মক্কা প্যাক্টকে নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পে হামলা করেছে, কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে হামলা করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেন, ‘আমরা মক্কা প্যাক্টকে আমাদের বিপক্ষে দেখছি না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আমরা শুধু আমেরিকার ক্যাম্পে আক্রমণ করেছি, ইসলামিক কোনো রাষ্ট্রকে নয়।’
ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা প্যাক্টে আমন্ত্রণ জানানো হলে তাতে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘মক্কা প্যাক্টে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালে ইরান গ্রহণ করবে।’
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গঠিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও বর্তমানে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখার ফলেই দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট ও আমদানিনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সংকট কাটিয়ে দেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার বহুমাত্রিক ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মৌখিক উত্তরদান পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার রূপরেখা তুলে ধরেন। দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান এবং আমদানিনির্ভরতার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে স্থায়ীভাবে নিরসন করে দেশকে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপের খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এগুলোর কাজ শেষ হলে গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া নতুন গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তুলতে নতুন দুটি আধুনিক রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অফশোর ও অনশোর মডেল পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট)-এর আওতায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বহুগুণ বাড়বে। পাশাপাশি সামুদ্রিক এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যা থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি ক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে।
এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কিংবা পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে তা সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জনমনে আগ্রহ তৈরি ও এ খাতের দ্রুত প্রসারে ২০২৬ সালের ৮ জুন তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সব প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর থেকে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অতিরিক্ত অগ্রীম আয়করসহ সব ধরনের শুল্ক সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় আর্থিক মডেল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার স্থাপন করবেন, তাদের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০.১৫ টাকা দরে কিনে নেবে। বর্তমান গড়ে প্রতি ইউনিট ৬ থেকে ৭ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে এই বাল্ক রেট ও সরকারি প্রণোদনার ফলে উদ্যোক্তারা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম) নিট মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের অংশ হিসেবে সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে সোলার প্যানেল বসাতে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোলারের পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।