ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬, সময় : ২:২০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার সকাল নয়টার দিকে বৃষ্টির মরদেহ বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।


সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টির মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকা থেকে বেরিয়ে আসে। এ সময় বৃষ্টির মা-বাবা, পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন।


যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটাসের একটি ফ্লাইট (ইকে ০২২০) বৃষ্টির মরদেহ নিয়ে ঢাকার পথে যাত্রা করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হয়ে মরদেহটি ঢাকায় পৌঁছেছে।


ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বিমানবন্দরে ফ্লোরিডার মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে স্থানীয় সময় গত বুধবার বেলা দুইটায় ফ্লোরিডার টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকে জানাজায় অংশ নেন। মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।


ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন বৃষ্টি (২৭)। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনও (২৭) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তাঁর মরদেহ ৪ মে ঢাকায় আসে।


বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর লিমন পিএইচডি করছিলেন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে। তাঁদের মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ।


গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। তাঁদের একজন বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। 


পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, দুজনই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৬ পিএম

আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। 


এ ঘটনায় আহত তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল রোববার রাত পৌনে ৭টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতদের মধ্যে সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৩০)। তিনি ওই কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করতেন। বিস্ফোরণের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। 


পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।


নজরুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে তারা আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় থাকেন। তার বাবা প্রীতি গ্রুপের কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বিক্রি করতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে দেখতে পান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।


এ ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মোখলেস মিয়া (৪৫) এবং কাভার্ডভ্যানের চালক নুর ইসলাম (৩০)।


আহত মোখলেস মিয়া জানান, তিনি ও তার ছেলে সুজন কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যায় কারখানার ভেতর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। বিস্ফোরণে লোহার বিভিন্ন সামগ্রী, ইটপাটকেল ও কাচ ছিটকে এসে সুজনের মাথায় লাগে। এতে সুজন আহত হন এবং মোখলেস মিয়ার হাতেও আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।


আহত নুর ইসলাম গ্যাস পরিবহনকারী গাড়িটির চালক। তার ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাটে। তিনি ভোলায় থাকতেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।


ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় মোট চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন ক্যাজুয়ালটি বিভাগে এবং একজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।


এর আগে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, একটি কাভার্ডভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ছয়জনের মৃত্যু হয়।


তিনি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুনে পুড়ে যাওয়া যানবাহনগুলোতে তল্লাশি চালান। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে দগ্ধ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মুখমণ্ডলসহ পুরো শরীর এতটাই পুড়ে গেছে যে, এখনো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।


এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে স্বজনেরা সালমা আক্তার ও বুলবুল নামে দুজনকে শনাক্ত করার দাবি করেছেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।


বিস্ফোরণের কারণ এবং হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩০৫ শিশু। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।


এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৬২টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ৬৩টি শিশু মারা গেছে।


এছাড়া এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ২০ হাজার ৬৪৬ জন এবং সন্দেহজনক হামে এক লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর কোনো আড়ম্বর অনুষ্ঠান বা ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বরং মানুষের জন্য কাজ এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা বলে উল্লেখ করেছেন উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ৩৫ জন।


এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ১৫ জন। রয়েছেন নিরাপত্তা, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।


মাহদী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেতে এক দিন, ফিরতে এক দিন। মাঝের মাত্র চার দিন। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে, এই চার দিনেই একের পর এক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কূটনৈতিক ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে মাত্র ছয় দিনের সফর।


ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়াবেন জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে। একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলবেন বাংলাদেশের মানুষের কথা, দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।


আরো একটি অনন্য দিক রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন,  প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তারই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণ-অভ্যুত্থান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে।


মাহদী আমিন বলেন,  এটি শুধু জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব। এটি আবেগ, অনভূতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।


ট্রোম্যান খীসা

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১০ পিএম

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কর্তব্যরত অবস্থায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


বাংলাদেশ নৌবাহিনী ট্রোম্যান খীসার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে বাহিনীর পক্ষে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।


নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে ট্রোম্যান খীসার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের গৌরবময় অবদানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২২ এএম

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ল। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন– চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপি সরকারের সময়ে দাম বাড়ল ৩৫-৪৫ টাকা। জ্বালানির এই মূল্য বৃদ্ধিতে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি এর চাপ নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।


১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১০০, ১১২, ১১৬ ও ১২০ টাকা।  এই দাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছিল। মার্চ ও এপ্রিলের শুরুতে এই দামই বহাল ছিল।  এপ্রিলের মাঝামাঝি হুট করে বড় ধরনের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বাড়তে থাকায় ১৮ এপ্রিল রাতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। 


ওই সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মার্চের শেষ দিকে প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। এতে দাম দাঁড়ায় যথাক্রমে ১১৫, ১৩০, ১৩৫ ও ১৪০ টাকা। গত জুনে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আরও পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়। ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। জুনের নতুন দামই জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে শুরুতে বহাল ছিল। রোববার আবার এক লাফে চার ধরনের তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ল।


এই দাম কার্যকর হলে গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় ডিজেলের দাম ৩৫ টাকা, কেরোসিন ৪৩, পেট্রোল ৪৪ এবং অকটেন ৪৫ টাকা বাড়বে। অর্থাৎ বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত মাসে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।


রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হলো। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। 


জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এখনও অব্যাহত। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।


২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৪৪ থেকে বেড়ে ১০৬ টাকা ৭৫ পয়সা হয়। অর্থাৎ দাম বাড়ে ১৪২ শতাংশ। পেট্রোল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে ৭৪ ও ৭৭ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ ও ১২৭ টাকা হয়; বৃদ্ধি প্রায় ৬৫ শতাংশ।


আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপের যুক্তিতে কয়েক দফা দাম বাড়ানো হয়। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট। ওই রাতে চার ধরনের জ্বালানির দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। অকটেনের দাম ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ৫১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল। এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে ডিজেলের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বাড়ে। ২০২৪ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মাসিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু হয়। 


২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিলিয়ে কয়েক দফা দাম সমন্বয় করা হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে অকটেন ও পেট্রোলের দাম ৬ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১ টাকা ২৫ পয়সা কমে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার ধরনের তেলের দাম ১ টাকা করে বাড়লেও জুনে ডিজেল ২ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেন ৩ টাকা করে কমে। ডিসেম্বরে আবার চার ধরনের তেলের দাম ২ টাকা করে বাড়ে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আরও দুই দফায় লিটারপ্রতি ২ টাকা করে কমানো হয়। ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ সমন্বয়ের পর ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২, পেট্রোল ১১৬ এবং অকটেন ১২০ টাকা। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৬ এএম

দেশের ছয় জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।


পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।


এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।