বাংলাদেশ সরকারের লোগো

  • প্রকাশ : রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ পিএম

সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। 


শপথ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা চল্লিশের কাছাকাছি হতে পারে। মন্ত্রিসভায় দলের নবীন ও প্রবীণদের যেমন সমন্বয় করা হবে, তেমনি জোটের শরিক দলের একাধিক নেতাও স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট সদস্য হিসেবেও একাধিক মুখ থাকতে পারেন।


মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে ৪৩টি। বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪২ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর শপথের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। 


বিএনপির নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। 


সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এরপর সংসদ ভবনের ৯ তলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন শপথ নেওয়া সদস্যরা। পরে সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। 


রাষ্ট্রপতি তখন তাঁকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। এরপর ওই দিন বিকেলেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ হবে। নিয়মানুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন।


মন্ত্রিসভার আকার নির্ধারণ আছে সংস্কার প্রস্তাবে


জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ২৩ মন্ত্রী এবং ১২ প্রতিমন্ত্রী রাখার সুপারিশ করে। পাশাপাশি বিদ্যমান মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে নামিয়ে ২৫ আনার সুপারিশ করে কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলো থাকবে পাঁচটি গুচ্ছে। এমনকি সংস্কার কমিশনের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর নামও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। ওই সুপারিশের পর প্রথমবারের মতো দলীয় সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। 


সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাদে মন্ত্রণালয় হবে ২৫টি। এতে দুজন টেকনোক্র্যাটসহ মন্ত্রী হবেন ২৩ জন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন ১২ জন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব একজন, মুখ্য সচিব ১৭ জন ও সচিব থাকবেন ৪২ জন। একাধিক বিভাগ সংবলিত মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়া এবং সমন্বয়ের জন্য একজন মুখ্য সচিব থাকবেন। 


কেমন ছিল আগের মন্ত্রিসভা 


সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। 


২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে ৪৭ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ মন্ত্রী ও ১৯ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। 


আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে দুটি মন্ত্রণালয় করা হয়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুটি করে বিভাগে পৃথক করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগ দুটিকে একীভূত করেছে।


২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ জন। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩ জন হয়েছিলেন।


২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা শুরুতে ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৩২ জন। পরে বিভিন্ন রদবদল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ সংখ্যা ৬২ জন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।


এর আগে ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপির মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৬০ জন। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান একটি মাঝারি আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে যাচ্ছেন।


মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা 


জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক বড় মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলে পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আবার ছোট মন্ত্রণালয়ে একাধিক মন্ত্রী হলে কাজে শৃঙ্খলা থাকে না। এ জন্য ২০ থেকে ২২ জন মন্ত্রী এবং আট থেকে ১০ জন প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন। এতে বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রীরা। ছোট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন প্রতিমন্ত্রীরা। 


সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া সমকালকে বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করে ৩৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে আর্থিক অবস্থা, সেখানে মন্ত্রিসভার সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা উচিত। এ ছাড়া ডিজিটাল যুগে একজন লোক অনেক কাজ করতে পারে। এ জন্য জনবলের সংখ্যা কমিয়ে সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে।’


আলোচনায় যারা


এবারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আলোচনায় আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া থাকতে পারেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তরুণ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় নাম এসেছে নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহসহ কয়েকজনের। জোটসঙ্গী হিসেবে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুরের নাম শোনা যায়। তবে কারও নামই দায়িত্বশীল কোনো নেতা নিশ্চিত করেননি। 


১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ


শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। গতকাল রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।


এদিকে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপিই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা, এই সংসদটা একটু ভিন্ন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং এই গণঅভ্যুত্থানে অনেক ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার বিনিময়ে এই সংসদ পেয়েছি।


প্রস্তুত হচ্ছে সংসদ ভবন


নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাতে জাতীয় সংসদ ভবনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির পাশাপাশি অধিবেশনের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 


সংসদ ভবন সূত্র জানিয়েছে, ভবনের অভ্যন্তরে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে এবং সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সংসদের বাইরে সদস্যদের বরাদ্দ করা কক্ষগুলো সাজানোর কাজও চলছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। 


জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা


শপথ গ্রহণের পর নবাগত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির প্রতীক সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ জন্য স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 


গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার সকাল থেকেই স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ শ্রদ্ধা জানানোর পর আবার জাতীয় স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।




বিটিআরসি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১২ পিএম

অবৈধভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান এবং অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে বছরে সরকারের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। 


আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি বন্ধেরও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রমগুলো চালু করা হবে। তবে এ পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিদেশ থেকে আনা অবৈধ, চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থাও থাকবে।


দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিটিআরসির কমিশন সভায় সংস্থাটির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। 


এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো চালু করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন পেতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।


রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তাগিদ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।


২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তি এড়ানোর কথা বিবেচনায় নিয়ে ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।


২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।


সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।


সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।


এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৫ পিএম

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আকাশপথে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রীর সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। পরে প্রধানমন্ত্রী নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলা যান।


বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখবেন। দিনব্যাপী সরকারি কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন। দিনব্যাপী এ সফরে তিনি সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি সরকারি একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারে করে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও এর আশপাশের সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন।


পরে সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।


দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছানোর পর ওয়ার্ডরুমে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেবেন তিনি।


বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শন করবেন তারেক রহমান। এরপর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তার।


দিনব্যাপী সফর শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়েছে, সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।


প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েছে।


সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ পিএম

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) একটি দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী দল। বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর কখনও রাজনীতি করতে দেবে না।


বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।


স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছিল দেশের সম্পদ লুটপাট করতে। দলটির এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর বিদেশে দুই শতাধিক বাড়ি রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।’


বিগত শাসনামলে নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, ২০০১ সালে এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি পরাজিত হওয়ায় পরে ঢাকা থেকে এক সন্ত্রাসীকে এনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করান শেখ হাসিনা।


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তজুমদ্দিন উপজেলা শাখার পক্ষ থেকেও স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।


বিগত শাসনামলে নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০১ এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি পরাজিত হওয়ায় পরবর্তীতে ঢাকা থেকে এক সন্ত্রাসীকে এনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করান শেখ হাসিনা।


তিনি আরও জানান, সেই ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে লালমোহনে ৫০০ বিঘা জমি ও ঢাকায় একাধিক বাড়ি করেছিলেন। তবে, ৫ আগস্টের পর সেসব সম্পদ রেখে সপরিবারে পালিয়ে যান।


নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে স্পিকার বলেন, তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হবে। এ ছাড়া বিনোদনের জন্য মেঘনার পাড়ে একটি পার্ক নির্মাণ করা হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।


তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে স্পিকার উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

দীর্ঘসময়ের বিরতির পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল কাঙ্ক্ষিত ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা ‍ডিভি লটারি। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিভি লটারি বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় রায়ে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ডিভি লটারি পুনরায় চালুর পক্ষে রায় ‍দিয়েছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। খবর বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের


আদালতের রায় অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ডিভি লটারির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত পোর্টাল চালু করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বরের ১ তারিখ। নিবন্ধন কার্যক্রম অন্তত ৩০ দিন চালু থাকবে। এ ছাড়া ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। 


এবারের আবেদনে বাংলাদেশের নাম থাকা নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে ২৯ অক্টোবরের ডিভি লটারির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর। 


২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি (ডাইভারসিটি ভিসা) লটারি বন্ধ রয়েছে। মূলত, ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তথা আমেরিকা ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী পাওয়ায় দেশটি এই কর্মসূচির বাইরে চলে যায়। কারণ ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি কর্মসূচিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য।


আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পূর্বে যোগ্যতার শর্ত, সঠিক ওয়েবসাইটের ঠিকানা এবং আবেদনের নির্ভুল পদ্ধতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য সতর্কতার সঙ্গে অপেক্ষা করতে হবে।


সেখানে আরও বলা হয়েছে, গ্রিন কার্ড লটারিতে চান্স পাইয়ে দেওয়া বা অর্থের বিনিময়ে বিজয়ী করার নামে কোনো প্রতারকের ফাঁদে পা দেবেন না। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মার্কিন সরকারের অফিসিয়াল পোর্টালে সম্পন্ন করতে হবে।

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ এএম


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ পিএম

ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ সাতটি জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন এক লাখ টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬৫ হাজার রোগীকে এ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।


সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সহায়তা করা এবং তাদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানো এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।


যে সাত রোগে মিলবে আর্থিক সহায়তা


সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় সাতটি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। রোগগুলো হলো-


১. ক্যান্সার

২. কিডনি রোগ

৩. লিভার সিরোসিস

৪. প্যারালাইসিস

৫. হৃদরোগ

৬. লিউকেমিয়া

৭. থ্যালাসেমিয়া


কারা পাবেন অগ্রাধিকার


আর্থিক সহায়তা পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ জন্য পরিবারের আয়-ব্যয় ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে।


এ ছাড়া যেসব রোগীর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এবং যাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।


তবে আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া, একই বিষয়ে সরকারের অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা কিংবা তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কমিটি আবেদন বাতিল করতে পারবে।


নিয়ম অনুযায়ী, একজন আবেদনকারী একই অর্থবছরে একবার এবং সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ সহায়তা পেতে পারবেন।


আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে


আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে।


এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি, নমিনির তথ্য, রোগী বা আবেদনকারী কিংবা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংকের চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি দিতে হবে।


আবেদনের সঙ্গে চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপিও জমা দিতে হবে।


রোগভেদে যেসব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন


ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে।


কিডনি রোগীদের রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয়ের রিপোর্ট এবং ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রের চিকিৎসকের সনদও প্রয়োজন হবে।


লিভার সিরোসিসে আক্রান্তদের লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ফাইব্রোস্ক্যান রিপোর্টসহ প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কিংবা রোগের প্রমাণযোগ্য ছবি জমা দেওয়া যাবে।


হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রামের রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। অন্যদিকে, থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস বা প্রযোজ্য অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।


অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত এক বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে; মূল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।


যেভাবে আবেদন করবেন


আর্থিক সহায়তা পেতে প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন লিংকে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্টকপি, চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।


অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আবেদন ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রত্যয়নপত্র পূরণ করে দুই কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।


তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা, নির্ধারিত অনলাইন আবেদনের লিংক এবং কাগজপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।


আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।