সৌরভ গাঙ্গুলী ও ডোনা গাঙ্গুলী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ পিএম

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত প্রায় ছয় মাস ধরে সৌরভের নামে একাধিক হুমকির চিঠি আসছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া চিঠিগুলোর ভাষা আগের তুলনায় বেশি গুরুতর। এসব চিঠিতে সৌরভ ও ডোনা গাঙ্গুলীকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠজনদেরও ক্ষতি করার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্তে নেমেছে। হুমকির চিঠিগুলোর বিষয়বস্তু, সেগুলো কীভাবে পাঠানো হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিঠিগুলোর প্রেরককে শনাক্ত করতে কুরিয়ার ব্যবস্থার তথ্যও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।


প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হুমকির চিঠিগুলো একটি নিবন্ধিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে একটি চিঠি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেলঘরিয়া এলাকার কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তদন্তকারীরা।


চিঠি পাঠানোর ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি মোবাইল নম্বরের সন্ধানও পেয়েছে পুলিশ। নম্বরটির অবস্থান, ব্যবহারকারী এবং তার সঙ্গে হুমকির চিঠি পাঠানোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেননি যে ছয় মাস ধরে পাঠানো সব কটি চিঠির পেছনে একই ব্যক্তি রয়েছে কি না। এর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি কিংবা কোনো সংগঠিত চক্র জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সৌরভ গাঙ্গুলী বর্তমানে সিএবির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ক্রিকেটার হিসেবে ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত সৌরভ পরবর্তী সময়ে বিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তার বিরুদ্ধে দেয়া সাম্প্রতিক হুমকির বিষয়টি তাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কলকাতা পুলিশ। 


হুমকির উৎস দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা চলছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:১১ পিএম

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করার পর এ সাজা দেওয়া হলো।


উল্লেখ্য, সিরিয়ার ইসলামপন্থী নেতা আহমেদ আল-শারার (বর্তমান প্রেসিডেন্ট) নেতৃত্বে দেশটির বিদ্রোহীরা বাশার আল-আসাদ সরকারকে উচ্ছেদ করার সময় তৎকালীন এই প্রেসিডেন্ট পালিয়ে রাশিয়ায় চলে যান। এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।


আজ মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত বাশার আল–আসাদকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। আর আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিত ‘হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।


আদালত বলেছেন, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে বাশার আল–আসাদ সরকারের সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।


প্রসঙ্গত, আরব বসন্তে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে স্বৈরশাসকদের পতন ঘটেছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি টিকে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর নৃশংস স্বৈরশাসন চালিয়ে যান আরও এক যুগের বেশি।


তবে আরব বসন্তের ১৩ বছরের মাথায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতন ঘটে নাটকীয়ভাবে। তাঁর পতনের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।


সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের শাসন শুরু হয়েছিল গত শতকের সত্তরের দশকে। বাশার আল-আসাদের বাবা হাফিজ আল-আসাদের হাত ধরে।


হাফিজ আল-আসাদ ১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর সিরিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন বাশার আল-আসাদ।


বাশার আল-আসাদ সরকার হটানোর অভিযানে নেতৃত্ব দেয় আল–শারার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)


ক্ষমতার প্রথম দিকে বাশার আল-আসাদ সংস্কারের ব্যাপারে উদ্যোগী হন। বাবার ২৯ বছরের শাসনামলের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা তিনি শিথিল করেন। কিন্তু পরে সংস্কারকের ভূমিকা থেকে বাবা হাফিজ আল-আসাদের মতোই একজন কর্তৃত্ববাদী ‘স্বৈরশাসকে’ পরিণত হন।


সিরিয়ায় আরব বসন্তের ঢেউ লাগে ২০১১ সালের মার্চে। দেশটিতে শুরু হয় বাশার আল-আসাদবিরোধী বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমনে সহিংস উপায় বেছে নেন বাশার।


সরকারি দমন-পীড়নের মুখে একপর্যায়ে বাশার আল-আসাদবিরোধীরা হাতে অস্ত্র তুলে নেন। শুরু হয় এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ।


সিরিয়াজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। এ লড়াইয়ে একের পর এক এলাকা বাশার আল-আসাদ সরকারের হাতছাড়া হয়।


সিরিয়া সংকটে জড়িয়ে পড়ে আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক পরাশক্তি। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরান বাশার আল-আসাদের পক্ষ নিয়ে তাঁকে রক্ষায় সামরিক শক্তি নিয়োগ করে।


লেবাননের ইরানপন্থী প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও সক্রিয়ভাবে বাশার আল-আসাদের পাশে দাঁড়ায়।


মিত্রদের সামরিক সহায়তা নিয়ে ২০২০ সাল নাগাদ আলেপ্পোসহ সিরিয়ার মূল শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান বাশার আল-আসাদ। তখন থেকে সিরিয়ার সিংহভাগ এলাকায় চলছিল বাশার আল-আসাদের শাসন। তবে দেশটিতে সংঘাত, রক্তপাত পুরোপুরি থেমে থাকেনি।


সিরিয়ায় প্রায় ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে ৬ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন। বাস্তুচ্যুত হন ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। গৃহযুদ্ধে ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়ে সিরিয়া। কিন্তু এদিকে সামান্যতম ভ্রুক্ষেপ না করে বাশার আল-আসাদ তাঁর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ব্যস্ত থাকেন।


ঠেকানো যায়নি পতন


হঠাৎ বিশ্বের নজর সিরিয়া থেকে অন্যত্র সরে যায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। এই অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার সামরিক অগ্রাধিকারে চলে আসে ইউক্রেন যুদ্ধ।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজা যুদ্ধ ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। আবার ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।


পরের বছর ২০২৪-এর নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনের দিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের দৃষ্টি ছিল। নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়ে চমক দেন।


এসব বৈশ্বিক ঘটনার ডামাডোলে সিরিয়া ইস্যু হারিয়ে যেতে বসেছিল। তবে নভেম্বর মাসেরই (২০২৪) শেষ দিকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের আচমকা ও বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে আবার বৈশ্বিক নজরের কেন্দ্রে চলে আসে সিরিয়া।


২৭ নভেম্বর সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা নতুন করে, নতুন উদ্যমে বাশার আল-আসাদ সরকারবিরোধী অভিযান শুরু করেন। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)।


পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ২৮ নভেম্বর মস্কোয় ছুটে যান বাশার আল-আসাদ। তিনি রাশিয়ার কাছে সামরিক সহায়তা চান। তাঁকে টিকিয়ে রাখার আবেদন জানান। কিন্তু রাশিয়ার চিন্তায় তখন ইউক্রেন। তাই মস্কো আর আগের মতো বাশার আল-আসাদকে সামরিক সহায়তা দিতে আগ্রহ দেখায়নি।


দারুণ হতাশা নিয়ে দেশে ফেরেন বাশার আল-আসাদ। তবে তিনি তাঁর মস্কো সফরের ব্যর্থতা চেপে রাখেন। ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সামরিক কমান্ডারদের মিথ্যা আশার বাণী শোনান। বিদ্রোহীদের সমূলে নির্মূলের হুমকি দেন।


অভিযান শুরুর মাত্র চার দিনের মাথায় ৩০ নভেম্বর সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখল করে নেন বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহী যোদ্ধাদের অভিযানের মুখে সিরিয়ার বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থান থেকে পালিয়ে যেতে থাকেন সরকারি সেনাসদস্যরা।


বাশার আল-আসাদকে টিকিয়ে রাখতে রাশিয়া নামকাওয়াস্তে বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালায়। অন্যদিকে আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহীদের দামেস্ক যাওয়া ঠেকাতে মধ্যবর্তী হামা শহরে যোদ্ধা পাঠায় হিজবুল্লাহ। কিন্তু এসব বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা থামাতে ব্যর্থ হয়।


একই বছরের ৫ ডিসেম্বর হামা দখল করে নেন বিদ্রোহীরা। তাঁরা দুর্বার গতিতে রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। বিদ্রোহীদের হাতে তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমসের পতন হয় ৭ ডিসেম্বর। এরপর দামেস্কের কাছের দেরা ও সুয়েইদা শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায় সরকারি বাহিনী।


৭ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ তাঁর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সেনা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে বাশার আল-আসাদ এ বলে নিশ্চয়তা দেন যে রুশ বাহিনী তাঁকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসবে।


৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সিরিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বাশার আল-আসাদ। এই ফোনালাপে মাঠের কঠিন পরিস্থিতির কথা বাশার আল-আসাদকে জানিয়েছিলেন আল-জালালি। জবাবে বাশার আল-আসাদ বলেছিলেন, ‘আগামীকাল, আমরা বিষয়টি দেখব।’


তবে বিষয়টি পরদিন আর দেখার সুযোগ হয়নি বাশার আল-আসাদের। ৮ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীতে ঢুকে পড়েন বিদ্রোহী যোদ্ধারা। বিদ্রোহীদের দামেস্ক দখলের মুখে বাশার আল-আসাদ এদিন ভোরে একটি উড়োজাহাজে করে রাজধানী ছাড়েন। দামেস্ক থেকে যান সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ায়।


লাতাকিয়ার রুশ বিমানঘাঁটি থেকে বাশার আল-আসাদকে মস্কোয় উড়িয়ে নেওয়া হয়। তিনি এমনভাবে দেশ ছাড়েন যে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে রাডারে শনাক্ত করা পর্যন্ত যায়নি।


এরপর বিদ্রোহী যোদ্ধারা ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, ‘জালিম শাসক বাশার আল-আসাদ পালিয়েছেন। দামেস্ক মুক্ত হয়েছে। সিরিয়া মুক্ত হয়েছে। একটি অন্ধকার যুগের সমাপ্তি হয়েছে। সূচনা হয়েছে এক নতুন যুগের।’


ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

ইরানের পক্ষ থেকে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে-এমন সম্ভাব্য হুমকির পর গত মাসে গোপনে তুরস্ক ছেড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নির্ধারিত এয়ারফোর্স ওয়ানের পরিবর্তে ছোট একটি উড়োজাহাজে করে তুরস্ক ছাড়েন। গতকাল সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।


নাম প্রকাশ না করে একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত ৮ জুলাই আঙ্কারায় ট্রাম্প প্রথমে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। পরে উড়োজাহাজটির সঙ্গে লাগোয়া একটি খাবার সরবরাহের (ক্যাটারিং) কনটেইনার ট্রাকে চলে যান।


এরপর ওই ট্রাকে করে ট্রাম্পকে একটি ছোট আকারের সি-৩২এ উড়োজাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে দেয়। সে সময় সংবাদমাধ্যম ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ট্রাম্প তখনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই রয়েছেন।


এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ইরানের পক্ষ থেকে হুমকির কারণে ট্রাম্প কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে (নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান) করে দেশে ফেরেননি। তিনি এ উড়োজাহাজে করেই তুরস্ক গিয়েছিলেন।


ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে গত মাসে আঙ্কারায় যান ট্রাম্প। 


তখন বলেছিলেন, তিনি ফেরার জন্য বোয়িং-৭৪৭ (পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান) ব্যবহার করবেন, যাতে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নতুন উড়োজাহাজটি (কাতারের উপহারের উড়োজাহাজ) ঘুরে দেখার সুযোগ পান।


তবে নিউইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, (মধ্যপ্রাচ্যে) ইরানের মিত্র সশস্ত্র বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে আসা একটি হুমকির কারণেই ট্রাম্পের উড়োজাহাজ পরিবর্তন করা হয়েছিল।


আঙ্কারা থেকে উড্ডয়ন করা পুরোনো উড়োজাহাজে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল, যা সাধারণত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রসংলগ্ন এলাকায় অনুসরণ করা হয়। এতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।


উড়োজাহাজ পরিবর্তনের ঘটনায় কাতারের উপহার দেওয়া উড়োজাহাজটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, আগের এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো এতে একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধীব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।


যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সাল থেকে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত দুটি পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-এর অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। পরে গত বছর কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল একটি উড়োজাহাজকে দ্রুত সংস্কার করে তিনি সেটিকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেন।


গত ১ জুলাই প্রথমবারের মতো এটি ট্রাম্পকে নিয়ে নর্থ ডাকোটায় উড়াল দেয়। মাত্র কয়েক দিন পর তিনি উড়োজাহাজটিতে চড়ে প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে যান।


ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন সম্পর্কে এএফপির প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস নতুন উড়োজাহাজটির পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে একটি বিবৃতি পাঠায়।


বিবৃতিতে যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ, যাতে উচ্চমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।


চিউং আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁর দিকে নজর রেখে চলেছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় আমরা ব্যবহার করছি।’


নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রথম প্রশ্ন ওঠার পর গত মাসেও হোয়াইট হাউস থেকে একই বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।


ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার কয়েক মিনিট পর সেটির নিচ থেকে একটি ক্যাটারিং ট্রাক সরে যাচ্ছে। এরপর ক্যাটারিং ট্রাককে দূরে থাকা ছোট আকারের সি-৩২এ উড়োজাহাজের দিকে যেতে দেখা যায়।


দুটি উড়োজাহাজই যুক্তরাজ্যে অবতরণের পর ট্রাম্পকে বড় উড়োজাহাজটির সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে দেখা যায়। এরপর নতুন করে সংস্কার ও নিরাপত্তা-উন্নয়ন করা এয়ারফোর্স ওয়ানের দিকে যান তিনি। তবে কীভাবে ট্রাম্প আবার বড় উড়োজাহাজটিতে ফিরে এসেছিলেন, তা স্পষ্ট নয় বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।


আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

 লন্ডনের রাস্তায় এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম। সুদানে চলমান যুদ্ধে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে তাকে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, লন্ডনের নাইটসব্রিজ এলাকায় মাকতুম ও তার সঙ্গীদের পথ আটকে এক সুদানি নাগরিক চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।


রাস্তার অন্য পাশ থেকে ওই সুদানি নাগরিক চিৎকার করে বলেন, আমিরাত সুদানের সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। তার দেশে রক্তপাত বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।


এ সময় মাকতুমের সফরসঙ্গী এক ব্যক্তি ওই সুদানি নাগরিকের দিকে তেড়ে যান এবং বর্ণবাদী গালিগালাজ করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই ব্যক্তি রাস্তা পার হয়ে সরাসরি প্রতিবাদকারীর মুখোমুখি হন।


এ সময় সুদান সংকটের জন্য আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করা হয়।


সুদান সংঘাতে আমিরাতের ভূমিকা


সংযুক্ত আরব আমিরাত বরাবরই সুদান সংঘাতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানায়, আমিরাত সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সহায়তা করছে।


লিবিয়া, চাদ এবং সোমালিল্যান্ডের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহের বড় প্রমাণও রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে সুদানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।


লন্ডনে আমিরাতের শীর্ষ নেতারা


এর আগে আমিরাতি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, লন্ডনের জুমেহিরা কার্লটন টাওয়ার হোটেলে মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও মাকতুমের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। দুই নেতার এই সাক্ষাৎকে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। তবে ঠিক সেই সময়ই লন্ডনের রাজপথে এই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন দুবাইয়ের শাসক।


দুবাইয়ের এই শাসকের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা বিতর্ক রয়েছে। ব্রিটিশ আদালত অতীতে তার দুই কন্যাকে বন্দি রাখা এবং সাবেক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়ার ফোন হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তাকে দায়ী করেছিল।


কলম্বিয়াতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ পিএম

কলম্বিয়াতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে মৃতের সংখ্যা সংখ্যা বেড়ে  ১৬৪-এ দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ৫৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। কলম্বিয়ার সরকার তাদের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 


গতকাল সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে এ দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। 


যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনবিরল প্রদেশ চোকোর সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থল থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে হলেও রাজধানী বোগোটা পর্যন্ত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।


ভূমিকম্পের মাত্র কয়েকদিন আগেই গত শুক্রবার দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার সরকারের প্রথম বড় ধরনের সংকট। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রাজধানী বোগোটায় জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার সমন্বিত কমান্ড পোস্ট থেকে তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রও কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।


বোগোটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কালি শহরে অন্তত ২৫টি ভবন ধসে পড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিসারালদা প্রদেশে ৬০ জন, ভায়েই দেল কাওকা প্রদেশে ২৭ থেকে ৩৫ জন, চোকো প্রদেশে ৯ জন, মানিসালেস শহরে ৩ জন, কালদাস অঞ্চলে ২ এবং অ্যানতিওকিয়া প্রদেশে ১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য স্থানের তথ্য এখনও জানা যায়নি।


কলম্বিয়ার ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার তাচিরা রাজ্য ও বারকিসিমেতো শহরের বাসিন্দারা কম্পন অনুভব করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে।


মোহসেন রেজাইকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা এসএনএসসির নতুন সচিব করা হয়েছে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে দেশটির শীর্ষ সামরিক পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 


একই সময়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) নতুন সচিব করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।


সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কার্যালয় নতুন নিয়োগের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে আলী আবদোল্লাহিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ করা হয়েছে। আলী ওজমাইকে আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রধান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিকে আইআরজিসির নতুন প্রধান করা হয়েছে। ওয়াহিদি মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় আইআরজিসির নেতৃত্ব দেবেন।


আহমাদ ওয়াহিদি নিহত মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শুরুর দিকে পাকপুর নিহত হন। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই তিন পদের কর্মকর্তাদের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।


এই রদবদলের পাশাপাশি মোহসেন রেজাইকে এসএনএসসির সচিব এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি করা হয়েছে। ৭১ বছর বয়সী রেজাই প্রায় ১৬ বছর আইআরজিসির প্রধান ছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও তিনি বাহিনীটির নেতৃত্ব দেন। পরে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। চলমান সংঘাতের সময় তিনি আবার সামরিক ভূমিকায় ফিরে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হন।


ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতিতে এসএনএসসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই পরিষদে প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা থাকেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তে এই পরিষদ সমন্বয় করে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।


জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেন, "রেজাইয়ের দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা এবং আইআরজিসির ভেতরে তার প্রভাব রয়েছে। তার নিয়োগের মাধ্যমে সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদার এবং সংগঠনের ওপর নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।"


রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। হরমুজ প্রণালি নিয়েও তিনি ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। 


সম্প্রতি তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তার আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন কোনো করিডর চালুর বিরোধিতা করেন তিনি।


রেজাইয়ের আগে এসএনএসসির সচিব ছিলেন মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর। তিনি পদ ছাড়ার পর তাকে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। 


ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত নূরনিউজ বলেছে, রেজাইয়ের নিয়োগ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোয় বৃহত্তর কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ।


যুক্তরাষ্ট্রের বড় সিদ্ধান্ত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। এ অভিযানের ফলে আরও হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনের বিশেষ সুবিধাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত একটি তথ্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের বড় কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংস উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকি।


গত বছর ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নজিরবিহীনসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাঁদের অনেকের কাছে বৈধ ভিসাও ছিল। এখন ব্যাপক হারে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে ওই অভিযানের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দপ্তরের ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ভিসাগুলো বাতিল করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে ভিসাধারীরা তাঁদের ভিসার শর্ত মেনে চলছেন এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে উঠছেন না।


হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ছিল ভিসা বাতিল হওয়ার প্রধান কারণগুলোর কয়েকটি।


পররাষ্ট্র দপ্তর যেসব নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে, এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য একজনের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার এক ডজনের বেশি অভিযোগ রয়েছে।


দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিস্ট’ হিসেবে আসা বাবা-মায়েদের। অভিযোগ, এসব মা-বাবা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য দেশটিতে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায়।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চার্লি কার্ককে হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কিছু বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের একজন বলেছিলেন, ‘ফ্যাসিস্টরা মারা গেলে গণতন্ত্রপন্থীরা অভিযোগ করে না।’ 


আরেকজন বলেছিলেন, ‘তিনি দেরিতে মারা গেছেন।’ জনপ্রিয় রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ককে গত বছর হত্যা করা হয়।


পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করা বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তাঁদের ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রাখবে।


দপ্তর আরও বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ ভিসার এই সুযোগের অপব্যবহারকারীদের ভিসা বাতিল করতে বিদ্যমান সব ধরনের ক্ষমতার ব্যবহার অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দপ্তর।


গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, তারা এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। সে সময় এটিই ছিল রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা।


এদিকে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনকারীদের যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।


অধিকারকর্মী ও মানবাধিকারবিশেষজ্ঞরা ট্রাম্প প্রশাসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের এ উদ্যোগের নিন্দা করেছেন। তাঁদের মতে, এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। একই সঙ্গে এটি নজরদারি ও অভিবাসীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার মতো ঘটনা।