ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬, সময় : ১০:১০ এএম

হেলেন ইয়াফে ৩০ বছর ধরে নিয়মিত কিউবায় আসা-যাওয়া করছেন। একবার এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় (ক্যাটাগরি ফোর হারিকেন) যখন দ্বীপরাষ্ট্রটির দিকে ধেয়ে আসছিল, সেই সময়ের স্মৃতি আজও গেঁথে আছে তাঁর মনে। এই শিক্ষাবিদ ও পডকাস্টার তখন একটি বাড়িতে আরও ১৩ জনের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। 


প্রবল ঝড় আঘাত হানলেও সেখানে থাকা মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক ছিল না। কারণ, দুর্যোগের সময় কার কী ভূমিকা হবে, তা প্রত্যেকে আগে থেকেই জানতেন। ওই বাড়িতে থাকা কেউ কেউ বয়স্ক ও অসহায় প্রতিবেশীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। অন্যরা ঝড়ের বেগ কমার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।


প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কিউবার জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রশংসা পেয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছ থেকে। চরম আবহাওয়ার কবলে ঘনঘন পড়লেও কিউবায় প্রাণহানির সংখ্যা খুব কম। দেশটির এই সক্ষমতা সমাদৃত বিশ্বজুড়ে।


দুর্যোগ মোকাবিলার সেই একই মডেলকে এখন অন্য একটি হুমকির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চাইছে হাভানা। তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত।


কিউবার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য সম্প্রতি আরও তীব্রতর হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা ৩০ বছর আগের এক ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করেছেন। এতে দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


১৯৯৬ সালে কিউবার কয়েকটি বিমান দেশটির নির্বাসিতদের দ্বারা পরিচালিত দুটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল। এতে তিনজন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট চারটি ও বিমান ধ্বংস-সংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।


উত্তেজনার এই আবহে ১৬ মে কিউবার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় পারিবারিক নির্দেশিকা’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় পরিবারের দায়িত্ব ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিয়মাবলি কী হবে, তা বলা হয়েছে।


যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাতিন আমেরিকান রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক ও ‘কিউবা অ্যানালাইসিস’ পডকাস্টের উপস্থাপক ইয়াফে আল-জাজিরাকে বলেন, এই নির্দেশিকা কিউবার প্রতিরক্ষা তত্ত্ব ‘ওয়ার অব অল পিপল’ বা জনযুদ্ধের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।


সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর কিউবা এ নীতি গ্রহণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করে বিদেশি হামলা প্রতিহত করা।


ইয়াফে বলেন, ‘কিউবার প্রত্যেক নাগরিক সামরিকভাবে প্রশিক্ষিত। তাঁরা এই জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আওতাভুক্ত।’


রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের একটি অংশ। অন্যান্য চাপের মধ্যে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে কিউবার উপকূলে মার্কিন নজরদারি বিমানের টহল বৃদ্ধি, মার্কিন সিনেটে কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করার ব্যর্থ চেষ্টা এবং কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘উল্লেখযোগ্য হুমকি’ ঘোষণা করে নির্বাহী আদেশ জারি।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে সেটি তাঁর আমলেই হবে।


একই দিন রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অনেক বছর ধরে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাঁর দাবি, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা রেখে সেটি আর ঠিক করা সম্ভব নয়।


কিউবাকে অন্যায়ভাবে ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করায় রুবিওর তীব্র সমালোচনা করেছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। 


তিনি বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, যাতে একটি সামরিক আগ্রাসন উসকে দেওয়া যায়। এমন পদক্ষেপ কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র-উভয় দেশের নাগরিকদের রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’


এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শিগগিরই কিউবায় সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। কিউবা বর্তমানে কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘ বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, মার্কিন অবরোধের কারণে জ্বালানিসংকট এবং ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও কিউবা মোটেও অরক্ষিত নয়।


ভেনেজুয়েলা মডেল ‘কাজ করবে না’ কিউবায়


যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে তাঁর দেশ থেকে তুলে নিয়ে যায়। সেই অভিযানের ক্ষিপ্রতা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছিল।ইয়াফে জানান, সেই লড়াইয়ে নিহতদের মধ্যে ৩২ জন ছিলেন কিউবার নাগরিক, যাঁরা ‘সত্যিই প্রচণ্ড প্রতিরোধ’ গড়ে তুলেছিলেন। খোদ ট্রাম্প এই প্রতিরোধের কথা স্বীকার করেন।


এদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল ১৮ মে বলেন, কিউবার বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ একটি ‘রক্তবন্যা’ ডেকে আনবে। অথচ এই দ্বীপরাষ্ট্র কারও জন্য হুমকি নয়।


ইয়াফে বলেন, ‘তাঁরা (যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা) ভেনেজুয়েলা মডেলের কথা বলছেন। প্রশ্ন হলো, তাঁরা কি কিউবাতেও একই মডেল প্রয়োগ করবেন? কিন্তু এটি কিউবায় কাজ করবে না।’


বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কিউবার নেতা ও জনগণের কথা হলো তাঁরা (মার্কিন কর্মকর্তারা) কী মনে করেন, ওটাই প্রচণ্ড প্রতিরোধ ছিল? সেখানে তো কিউবার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন মাত্র ৩২ জন। ভাবুন- তাঁরা যদি এখানে আসে, তাহলে এক কোটি মানুষ তাঁদের প্রতিরোধ করবে।’


স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত এলকানো রয়্যাল ইনস্টিটিউটের আর্জেন্টাইন লাতিন আমেরিকা বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদও একমত পোষণ করেন ইয়াফের সঙ্গে। কিউবার চ্যালেঞ্জ ভেনেজুয়েলার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন তিনি।


মালামুদ বলেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবার সেনাবাহিনী অনেক বেশি প্রশিক্ষিত। তাঁদের সরঞ্জামও তুলনামূলকভাবে উন্নত।


তবে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর কিউবান স্টাডিজের কিউবান-আমেরিকান পরিচালক সেবাস্তিয়ান আরকোস সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। 


তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘কিউবার সামরিক বাহিনী সেকেলে। তাদের মার্কিন বাহিনীকে প্রতিরোধ করার তেমন একটা সামর্থ্য নেই।’


তবে তিনি এটাও মানেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা বেশি চ্যালেঞ্জিং। এটা যতটা না সামরিক শক্তির কারণে, তার চেয়ে বেশি হলো তারা এই ধরনের অভিযান মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘ সময় পেয়েছে।


কিউবার সামরিক সক্ষমতা যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দূরত্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। মালামুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছে হওয়ার কারণে কিউবার পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। ভেনেজুয়েলা বা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।


কিউবায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যে পাল্টা হামলা হবে, তা কোনো কল্পনা নয়, বরং তা বাস্তব হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদ। 


তাঁর ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক জনগণ, মিয়ামিসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের অনেক বেশি।’


অন্যদিকে সেবাস্তিয়ান আরকোস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন জনমতকে খেপিয়ে তুলতে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে।


১৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কিউবা ৩০০টি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে। তারা গুয়ান্তানামো বে-র মার্কিন নৌঘাঁটি, নৌযান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ শহর কী ওয়েস্টে হামলার পরিকল্পনা করছে।


তবে ইয়াফে ও মালামুদ এই গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দিহান। তাঁদের মতে, কিউবা কোনো ধরনের সামরিক সংঘাতের পক্ষে নয়। অন্যদিকে আরকোস মনে করেন, অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি ‘যৌক্তিক’। কারণ, কিউবা সব সময় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সম্পদের অভাব থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।


তবে কিউবা এরই মধ্যে প্রতিবেদনটিকে মার্কিন হামলার অজুহাত তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।


ভিন্নধর্মী অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা


সামরিক হিসাব-নিকাশের বাইরে এমন কিছু রাজনৈতিক বিষয় আছে, যা কিউবায় মার্কিন হামলাকে অনেক বেশি জটিল করে তুলতে পারে।


ইয়াফে বলেন, দ্বীপটিতে হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে অভিবাসনের জোয়ার সৃষ্টি হতে পারে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটা ট্রাম্প ও তাঁর দলকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে। কারণ, অভিবাসনবিরোধিতা করেই ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন।


মালামুদ বলেন, কিউবা বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভেনেজুয়েলার প্রবাসীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। মূলত এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো তুলনা চলে না। মার্কিন কংগ্রেসে কিউবা বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা বংশোদ্ভূত। এসব কারণে কিউবার প্রবাসী জনগণ ভেনেজুয়েলা ধরনের সমাধান মেনে নেবে না।


মালামুদ এ জটিলতা ব্যাখ্যা করে বলেন, ভেনেজুয়েলায় নেতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পুরোনো ক্ষমতা কাঠামো রয়ে গেছে। কিউবার নির্বাসিতরা কাস্ত্রো পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া কোনো কিছু মেনে নেবে না।


অন্যদিকে ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, আমাদের জয় হবেই’-এটা হলো কিউবার বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর জাতীয়তাবাদী চেতনার মূল কথা। তাই যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত রাউল কাস্ত্রোকে অপহরণ করে সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, এতে একদিকে কিউবান-আমেরিকান সমর্থকেরা সন্তুষ্ট হবেন না। অন্যদিকে রাউল কাস্ত্রোর অপহরণ কিউবার সরকারকে নমনীয় করার বদলে জেদ বাড়িয়ে দেবে।


চরম অর্থনৈতিক সংকটে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি


উরুগুয়ের ওআরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক মাতিয়াস ব্রাম সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার পর কিউবায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে হামলার মতো কোনো ঘটনা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।


ব্রাম আল-জাজিরাকে বলেন, তাঁর ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্র কখনো ভেনেজুয়েলায় সরাসরি হামলা চালাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়েছে এবং মাদুরোকে অপহরণ করেছে। তাই তিনি আগে ট্রাম্পকে গুরুত্ব না দিলেও এখন তাঁকে ভয় পাচ্ছেন।


তাঁর মতে, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, লাতিন আমেরিকার বামপন্থী সরকারগুলো সেদিকে নিবিড় নজর রাখবে। বিশেষ করে কলম্বিয়া ও মেক্সিকো। কারণ, ট্রাম্প এসব দেশকেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন।


এদিকে কিউবার গভীর সংকটের মধ্যেই বুধবার দেশটির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রুবিও। তিনি হাভানাকে ১০ কোটি ডলারের খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন। এটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের আগের প্রস্তাবেরই অংশ। কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেল তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধই যে কিউবার বর্তমান সংকটের মূল কারণ, তা রুবিও স্বীকার করেননি। বরং বিদ্যুৎ, খাদ্য ও জ্বালানি ঘাটতির জন্য তিনি কিউবার নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন।


বিশ্লেষক মালামুদ মনে করেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা এখনো কিছু কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা দেশটির রয়েছে। কিন্তু গভীর মানবিক সংকট শেষ পর্যন্ত সেই সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।


মালামুদ বলেন, কিউবার পরিস্থিতির জটিলতা এখানেই। সংকট এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।


এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে কিউবার ওয়ার অব অল পিপল বা জনগণের যুদ্ধ নীতি কি শুধু তাত্ত্বিক ধারণা হয়েই থাকবে, নাকি বাস্তবে রূপ নেবে।


হেলেন ইয়াফে মনে করেন, কিউবা লড়বে। তাঁর ভাষায়, হাভানাজুড়ে এখনো একটি স্লোগানই বেশি শোনা যাচ্ছে-‘নো সে রিন্দে নাদিয়ে’, অর্থাৎ এখানে কেউ আত্মসমর্পণ করে না।



সর্বশেষ সব খবর

সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সিজেপি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ পিএম

অনশন ও রাজপথের উত্তাল প্রতিবাদের মুখে অবশেষে আন্দোলনকারী তরুণদের দাবি মেনে নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অনুরোধের পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়াতে দুপক্ষ বৈঠকে বসেছে। 


সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো পূরণে সরকারের আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভঙ্গ করেন।


স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে নিরপেক্ষ পরিবেশে এই বৈঠকটি শুরু হয়। সরকারের এমন নমনীয় মনোভাব এবং নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সিজেপি।


সংগঠনটির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি আলোচনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে একটি নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠক করার অনুরোধে সরকার শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে এবং আলোচনার জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আশা করি সরকার খোলা মনে আলোচনায় আসবে এবং আন্দোলনরত তরুণদের কথা শুনবে।’


এর আগে সরকারের মন্ত্রী ভবন বা তাদের দাপ্তরিক কার্যালয়ে বৈঠকের সব ধরনের আমন্ত্রণ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল সিজেপি। সরকারের সঙ্গে যেকোনো পরবর্তী আলোচনার জন্য নিরপেক্ষ স্থান নির্ধারণের বিষয়ে তারা অনড় ছিলেন।


এর আগে গত ২০ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন সিজেপির দুই শীর্ষ প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে সাক্ষাৎ করতে যান। 


পরে অভিযোগ ওঠে, মন্ত্রী ভবন চত্বরে বৈঠক চলাকালীন তাদের প্রায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ওই অভিজ্ঞতার পর থেকেই আন্দোলনকারীরা সরকারের যেকোনো দাপ্তরিক ভবনের বদলে নিরপেক্ষ স্থানকে প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে আনেন।


এদিকে সিজেপি আরও জানিয়েছে, দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের গণপ্রতিবাদ কর্মসূচি থামবে না। 


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে অনিয়মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা।

সর্বশেষ সব খবর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ এএম

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।


প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


ফেসবুকে মোদি জানান, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে দেওয়া ওই বার্তায় মোদি আরও লেখেন, ‘যারা আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

সর্বশেষ সব খবর

৬ সপ্তাহে সর্বোচ্চ তেলের দাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে।


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৮ ডলার অতিক্রম করেছে। 


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪১ ডলার বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। 


গতকাল তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ফলে ব্রেন্টের দাম ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের দিকে বাজার সব সময় নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানে হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। 


হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা করবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। তাঁর এ মন্তব্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা আছে- এমন পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তাদের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর আরও দুটি ট্যাংকার যাত্রাপথ থেকে ফিরে যায়।


আইআরজিসি আরও বলেছে, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই প্রণালি এখন পুরোপুরি বন্ধ। ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো ট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও তারা সতর্ক করেছে। এদিকে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে অভিযান আরও জোরদার করায় সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে।


হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল বহনকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানে তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা করেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পতাকাবাহী ট্যাংকার এনসেলিয়া লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়েছে।


এ ছাড়া হুতিদের দাবি, সৌদি বন্দরের দিকে যেতে নিষেধ করে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর প্রায় ১০টি জাহাজ ফিরে গেছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।


এসব ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ-হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি-দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে মাইন পাতা আছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অকার্যকর ঘোষণার পর এবার তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের নিচেই আছে। যদিও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত আছে। 


এর আগে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল, এখন দাম তার চেয়ে ৩০ ডলার কম।

সর্বশেষ সব খবর

শাহবাজ শরিফ, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আসিম মুনির

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সুবিধা চেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মেয়াদে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


আজ বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের এই অনুরোধ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান সহায়তা কর্মসূচির অধীনে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে দেশটি।


অনুমোদন মিললে এই তহবিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, রুপির ওপর চাপ কমাতে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন আওরঙ্গজেব। পাশাপাশি দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে দেশটি। ২০২৩ সালে সার্বভৌম ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান প্রথমে ৩ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই ঋণ পায়। 


পরে আরও ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়।


তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো মূলত আইএমএফের অর্থছাড়, দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এবং চীন ও সৌদি আরবের মতো অংশীদারদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।


উল্লেখ্য, মুদ্রা স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর মাধ্যমে দেওয়া বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থা। এর আওতায় ডলার সহায়তা, মুদ্রা বিনিময় চুক্তি বা গ্যারান্টির মাধ্যমে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা হয়।


রয়টার্স জানিয়েছে, এ ধরনের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী ডলার সোয়াপ লাইনের বাইরে একটি পৃথক ব্যবস্থা। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সহায়তার আগে সর্বশেষ বড় ধরনের এমন প্যাকেজ ২০০২ সালে উরুগুয়েকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে ১৯৪০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

জাপান প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দেশটি প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরোনো বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন এই সতর্কতা চালু করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।


গতকাল মঙ্গলবার জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিন শহর তাজিমি, গুজো এবং তয়োদায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই তীব্র তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে- এমন ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপানের আওহাওয়া সংস্থা।


তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেই দিনগুলোকে জাপানে ‘কোকুশোবি’ বলা হয়। তীব্র গরমের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এই পরিভাষাটি চালু করা হয়েছিল।


বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহওয়া ঘন ঘন দেখা দিতে থাকার মধ্যে জাপানে প্রথমবারের মতো ‘অসহনীয় গরমের দিন’ ঘোষণা করা হল। গত বছর জাপানের ইসেসাকি নগরীতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখা গিয়েছিল।


জাপানে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য বিশেষ পরিভাষা আছে। যেমন: যেসব দিনে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায় তাকে বলে মোসোবি বা ‘চরম গরম দিন’।


কিন্তু ‘কোকু’ শব্দটি আরও প্রচণ্ড বা প্রখর তাপ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কিয়োদো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশের ৯১৪ টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর প্রায় ৩০০ টিতেই মঙ্গলবার মোসোবি রেকর্ড করা হয়েছে।


তাছাড়া, কর্তৃপক্ষ দেশের ৪০ টিরও বেশি প্রশাসনিক এলাকায় হিটস্ট্রোক অ্যালার্ট জারি করেছে। লোকজনকে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করা, যথেষ্ট পানি পান, লবণ খাওয়া এবং বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদেরকে শীতল পরিবেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, টোকিও দমকল বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিটি হাসপাতালে ৩ থেকে ১০৩ বছর বয়সের মোট ২৮৭ জনকে হিটস্ট্রোকের কারণে ভর্তি করা হয়েছে। এবছর এটিই হিটস্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড।


দমকল বিভাগও অ্যালার্ট জারি করে লোকজনকে তাপ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।


মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং বেশি মাত্রায় ঘটছে। গত বছর জাপান ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

আন্দোলনের চাপের মুখে মোদি

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০১ এএম

পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির পর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় এমপিদের সমর্থন পাওয়ার পর আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে আজ বুধবার (২২ জুলাই) অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে হাজার হাজার সমর্থকের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে। 


শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। খবর এএফপির। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক আন্দোলন সিজেপির নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। 


উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না। যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা বলা হতো, আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।"


বেশিরভাগ তরুণ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার পর মোদি সরকারের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। 


কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো পুলিশি দমনপীড়নের জন্য সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। আজ বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। 


অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, তরুণেরা যখন রাজপথে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করছেন।


এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত মে মাসে, যখন দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা এবং ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ককরোচ জনতা পার্টির, যা এখন বেকারত্ব ও সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনলাইন মূল্যায়নে অনিয়মের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হলে এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির উত্তাপ বুঝে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সংস্কার এবং আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। 


তবে দিল্লি ছাড়িয়ে এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা সরকার কীভাবে এই অচলাবস্থা নিরসন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ সব খবর