প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের খরচ হয়েছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ব্যয় ধরা হয়নি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া হাজার হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, সামরিক ব্যয়ও তত বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। অনেকের ধারণা, এই নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সীমিত করতে চাইতে পারেন, কারণ যুদ্ধটি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
যুদ্ধ কত দিন চলবে সে বিষয়ে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও ভিন্নতা দেখা গেছে। শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন যুদ্ধ প্রায় এক মাস চলতে পারে। পরে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের সরকার পতন এবং পারমাণবিক হুমকি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলতে পারে।
এই যুদ্ধের খরচ শুধু অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জামে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই সাধারণ মার্কিন নাগরিকের জীবনে পড়তে শুরু করেছে। পেট্রলের দাম বেড়েছে, সামনে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে।
কারণ, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটছে। মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় মর্টগেজ ঋণের সুদ বাড়ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় শেয়ারবাজারেও পতন দেখা যাচ্ছে।
প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ ওয়েইন ওয়াইনগার্ডেন বলেন, যুদ্ধের কারণে পেট্রল, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের দামে চাপ তৈরি হচ্ছে। পরিবহন, প্যাকেজিং ও সার উৎপাদনের খরচ বাড়ার ফলে এই দাম আরও বাড়তে পারে। এতে এমনিতেই উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে বিপাকে থাকা পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। এই যুদ্ধ কীভাবে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝার জন্য কয়েকটি দিক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবহন ও জ্বালানি
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে। এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। ইরান এই প্রণালির উত্তর দিক নিয়ন্ত্রণ করে। যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো জাহাজ সেখানে প্রবেশ করলে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। একই পথ দিয়ে সার, সার তৈরির কাঁচামাল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও যায়। ফ্রান্সের এসেক বিজনেস স্কুলের অর্থনীতির প্রভাষক হেরন লিম জানান, ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, প্লাস্টিক ও রাবার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক কাঁচামালও এই পথ দিয়ে যায়। অন্যদিকে এশিয়া থেকে ওষুধ, পোশাক ও ব্যাটারির মতো পণ্য উল্টো পথে পরিবহন করা হয়।
ইরান নাকি এই পথজুড়ে নৌ মাইন পেতে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এমন কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো মাইন স্থাপন করছিল। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি কার্যকর সমাধান নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
বিকল্প পথ ব্যবহার করাও সহজ নয়। কারণ, সুয়েজ খালের পথেও নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর কারণে লোহিত সাগর হয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর প্রভাব ইতিমধ্যে জ্বালানির বাজারে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন মোটর ক্লাব এএএর তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম প্রতি গ্যালন প্রায় ৩ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র এক সপ্তাহেই দাম বেড়েছে প্রায় ৩৫ সেন্ট।
এ ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে শিগগিরই অনেক পরিবারকে বেশি বিদ্যুৎ ও গরমের বিল দিতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের কয়েকটি দেশ গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য জ্বালানি সংরক্ষণের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ৮ মার্চ সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানবে। তাদের ভাষায়, যদি প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারের বেশি সহ্য করতে পারেন, তবে এই যুদ্ধ চালিয়ে যান।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্যদেশগুলো ইতিমধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈশ্বিক বাজারে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র তার জরুরি তেল মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল বাজারে ছাড়বে।
তবে অর্থনীতিবিদ ওয়েইন ওয়াইনগার্ডেনের মতে, এটি অনেকটা সংগীতের খেলায় চেয়ারের অভাবের মতো অবস্থা। খেলোয়াড় বেশি, চেয়ার কম। কৌশলগত তেল মজুত বাজারে ছাড়লে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তাতে বড় পরিবর্তন আসবে না।
কৃষি ও খাদ্য
যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও খাদ্য খাতেও। মার্কিন ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের সভাপতি জিপি ডুভাল এক চিঠিতে ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, সার সরবরাহে বিঘ্ন এবং দাম বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা বড় সমস্যায় পড়তে পারেন। এর ফল হিসেবে বাজারে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে। প্রাকৃতিক গ্যাস সার তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। আর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বে ইউরিয়া সারের অন্যতম বড় উৎস।
বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ ইউরিয়া রপ্তানি এবং প্রায় ৩০ শতাংশ অ্যামোনিয়া রপ্তানি আসে এই অঞ্চল থেকে। বিশ্বের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ ইউরিয়াও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকেই ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। তেল ও গ্যাস পরিশোধনের একটি উপজাত সালফারের প্রায় অর্ধেক সরবরাহও আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এই সালফার সার উৎপাদন ছাড়াও বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
হেরন লিম বলেন, যদি জাহাজে করে বাজারে সার পৌঁছানো না যায়, তাহলে কৃষকেরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। এতে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং খাদ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
বিমান ও পর্যটন
বিমান ভাড়াও বাড়তে শুরু করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি সতর্ক করেছেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ার কারণে বিমান ভাড়া বাড়তে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৫৮ শতাংশ বেড়েছে।
ক্যাথে প্যাসিফিক ও তাদের বাজেট এয়ারলাইন এইচকে এক্সপ্রেস ইতিমধ্যে জ্বালানি সারচার্জ প্রায় দ্বিগুণ করেছে। হংকং এয়ারলাইনসও একই পদক্ষেপ নিয়েছে।
মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক জানিয়েছেন, জ্বালানি খরচ কমাতে কিছু ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে এবং খাদ্যসহ জরুরি পণ্য পরিবহনে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
যুদ্ধের কারণে ভ্রমণপথও বদলে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে গিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের অনেক রুটে বিমান ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের কিছু রুটে এই মাসে ভাড়া প্রায় ৯০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
প্রযুক্তি
উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতেও প্রভাব পড়ছে। বিশ্বের প্রায় ৮ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন হয় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতার ও বাহরাইনের কয়েকটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানা রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। ফলে অ্যালুমিনিয়ামের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে গাড়ি, নির্মাণ ও বিমানশিল্পের খরচও বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের হিলিয়াম উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে হিলিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। চিকিৎসা যন্ত্র, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আইফোন, ল্যাপটপসহ নানা ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
নেদারল্যান্ডসের গ্রোনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উইলিয়াম ফিগুয়েরোয়ার মতে, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই সাধারণ মানুষের পকেটে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পেট্রলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় মর্টগেজের সুদ বাড়ছে। তেল ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার ঝুঁকির মুখেও পড়তে পারে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরপর আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। সোমবার দুপুর ১২টায় এর অবস্থান ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এ সময় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
পরে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আগামী বুধবার ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
নেত্রী মাচাদো। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশে ফিরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমি এখানে, আপনাদের সঙ্গে।’ এর আগে, একাধিকবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। এবার তার প্রত্যাবর্তন ঘটল ভেনেজুয়েলার জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে। গত জানুয়ারিতে, নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে যাওয়ার জন্য অন্ধকারের সুযোগে দ্রুতগতির নৌকায় ভেনেজুয়েলা ছাড়েন মাচাদো।
এর এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যায়। এরপর মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন রদ্রিগেজ। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি তেল চুক্তিও সই করেন, যেখানে ওয়াশিংটনকে বেশ অনুকূল শর্ত দেওয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভেনেজুয়েলার লারা রাজ্যের একটি গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নিতে দেখা যায় মাচাদোকে। এ সময় তার চারপাশে ভিড় করেন সমর্থকেরা। তারা তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং হাত ধরে স্বাগত জানান।
এরপর উল্লাসরত সমর্থকদের গাড়িবহর নিয়ে রাজধানী কারাকাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি। রাজধানীতে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন। রোববার গভীর রাতে কারাকাসে প্রবেশের সময় গাড়ির সানরুফ দিয়ে বেরিয়ে হাসিমুখে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে দেখা যায় তাকে। এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে মাচাদো লেখেন, ‘আমাদের কারাকাসে পুনর্মিলনের রাত। প্রতিটি পরিবারের পুনর্মিলনের জন্য, প্রতিটি রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির জন্য, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য।’
মাচাদোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এডমুন্দো গনসালেস উরুতিয়াও তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোববার হামলায় নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনকে গির্জার পাশেই সমাহিত করা হয়। শেষকৃত্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে দেখা যায়, ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পতাকায় মোড়ানো কফিনগুলো জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়ে বহন করা হচ্ছে।
সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্প
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে দুই দেশের একাধিক অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.২।
শুরুতে এর মাত্রা ৫.৮ বলে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫.২ নির্ধারণ করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের ১১০ কিলোমিটার গভীরে।
আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কাবুল, নানগারহারসহ আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে কম্পন অনুভূত হয়। তবে আফগানিস্তানে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা এবং উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।
দুই দেশেই পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ।
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নির্বাচনে নাটকীয় জয় পেয়েছেন। কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে তিনি ঐতিহাসিকভাবে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসছেন। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তাঁর ৪৫ বছর বয়সী প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট।
অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচনের প্রথম ধাপে বলসোনারোর কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন লুলা। এতে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। আর প্রগতিশীল ব্রাজিলীয়রা তিন সপ্তাহের জন্য হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন। আশির দশকে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এমনটা আর কখনোই হয়নি। প্রথম ধাপে দ্বিতীয় হওয়া কোনো প্রার্থী এর আগে দ্বিতীয় ধাপে জিততে পারেননি।
কিন্তু গতকাল রোববার লুলা ঠিক সেই অসম্ভব কাজটাই করে দেখিয়েছেন। এতে সাও পাওলোর রাস্তায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সেখানকার একটি হোটেলে বসেই তিনি ভোট গণনা দেখছিলেন।
ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর লুলার অন্যতম প্রধান মিত্র রেজিনাল্ডো লোপেস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে...এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকে জানিয়ে দিল যে কট্টর ডানপন্থীরা হলো ফ্যাসিবাদী। তারা কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে, গরিবদের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং সমকামীদের বিরুদ্ধে...। আমরা এই দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে নতুন করে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছি।’
তিন সপ্তাহ আগে ব্রাজিলের এই প্রেসিডেন্ট ২২ লাখ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু এবার তিনি ৪৩ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
৮১ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা তাঁর সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার মধ্য দিয়েই এই বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলেছেন। তাঁর মিত্ররা এটিকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন।
প্রথম ধাপে ভোট না দেওয়ার হার ছিল রেকর্ড ২১.০৮। এ কারণে লুলার ভোটাররাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। কারণ, তাঁরা ভোটকেন্দ্র থেকে বেশ দূরে থাকেন। তবে দ্বিতীয় ধাপে ভোট না দেওয়ার এই হার কমে ১৯.২১–এ নেমে আসে।
আগামীকাল মঙ্গলবার লুলার বয়স ৮১ বছর পূর্ণ হবে। এই জয় তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের চূড়ান্ত অধ্যায়। সত্তরের দশকের শেষের দিকে সাও পাওলোর শিল্প শহরতলিতে একজন শ্রমিকনেতা হিসেবে তাঁর এই জীবন শুরু হয়েছিল।
গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন লুলা। রাজনীতিতে আসার পর ১৯৮৯, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে টানা তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ২০০২ সালে তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনিই শ্রমিক শ্রেণি থেকে উঠে আসা প্রথম প্রেসিডেন্ট।
সংবিধান অনুযায়ী, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর লুলা পদত্যাগ করেছিলেন। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে বলসোনারোর বাবা এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে হারিয়ে তিনি আবারও ক্ষমতায় ফেরেন। পরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করার অপরাধে জইর বলসোনারোকে কারাগারে পাঠানো হয়।
লুলার এই জয় বলসোনারোর জন্য একটি দুঃসংবাদ। তিনি এখন ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি আশা করেছিলেন যে ছেলে জিতলে তিনি হয়তো মুক্তি পাবেন এবং সরকারে কোনো পদ পাবেন।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। তিনি বলসোনারো পরিবারের মিত্র।
ট্রাম্প আশা করেছিলেন, লাতিন আমেরিকায় তাঁর সমর্থক নেতাদের তালিকায় বলসোনারোও যুক্ত হবেন।
লুলার জয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ব্রাসিলিয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেই বলসোনারো গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন এবং তাঁর ছেলে সেখান থেকেই ভোট গণনা দেখছিলেন।
গত শনিবার লুলার সমর্থকেরা দুটি বিশাল শোডাউন করেন। রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে ১০ লাখের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। এর চেয়েও বেশি মানুষ সাও পাওলোর প্রাণকেন্দ্র পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে মিছিল করেন।
রিও ডি জেনিরোর সমাবেশে ট্রাকচালক জোসিয়াস সিলভা কথা বলেন। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বলসোনারোবিরোধী বিক্ষোভের পর লুলার ফিরে আসার বিষয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
সিলভা দাবি করেন, ‘জনগণ জেগে উঠেছে... এর আগে কখনো এমন বিক্ষোভ হয়নি। এটি ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।’
গতকাল সন্ধ্যায় লুলার শত শত সমর্থক ভোট গণনা দেখতে আবারও পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে ফিরে আসেন। তখন তাঁরা লুলার ছবিযুক্ত লাল পতাকা ওড়াচ্ছিলেন।
শুরুতে লুলার এগিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ৩৫ বছর বয়সী কামিলো বুয়ার্কে বলেন, ‘এখানে থাকতে পেরে এবং লুলার জন্য লড়াই করতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমার চারপাশের এই মানুষের শক্তি, আনন্দ আর ভালোবাসা থেকেই আমার আত্মবিশ্বাস এসেছে। এটাই হলো গণতন্ত্র।’
ইসরায়েলি হামলার পরে গাজার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রোববার (২৫ অক্টোবর) উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
সূত্র জানায়, গাজা নগরীর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর কিছুক্ষণ আগে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার পর গাজা নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্রম-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানে বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত অনেক ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
উত্তর গাজায় উপত্যকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন আহত হন। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ ছাড়া জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের পশ্চিমে আল-ফালুজা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে পায়ে আঘাত পাওয়া এক ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র। খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক নারীও মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে জানান, খান ইউনিস শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলের দিকে গুলি ও গোলা ছুড়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ।
মধ্য গাজায় দেইর আল বালাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় ৩৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলীয় আল তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে দুটি দফায় বাড়িঘর ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপত্যকাটির বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।