ছবি : সংগৃহীত
‘আয়াতুল্লাহ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘আল্লাহর নিদর্শন’ বা ‘ঐশ্বরিক চিহ্ন’। এটি দ্বাদশ শিয়া ইসলামে একটি উচ্চ ধর্মীয় পদবি, যা সাধারণত সেসব আলেমদের জন্য সংরক্ষিত যারা সেমিনারে কয়েক দশক ধরে ইসলামী আইনশাস্ত্র ও ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন এবং শিক্ষাদান করেছেন। একজন আয়াতুল্লাহকে সাধারণত একজন মুজতাহিদ হিসেবে গণ্য করা হয়- যিনি স্বাধীন আইনি যুক্তি প্রয়োগ করতে এবং ধর্মীয় ফতোয়া জারি করতে যোগ্যতাসম্পন্ন একজন আইনজ্ঞ।
যদিও ‘আয়াতুল্লাহ’ মূলত একটি ধর্মীয় উপাধি, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে এটি রাজনৈতিক ক্ষমতার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উচ্চ পর্যায়ের ধর্মীয় যোগ্যতা থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়। শিয়া ইসলাম ইরানের সরকারি রাষ্ট্রধর্ম, যা আনুমানিক ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষ অনুসরণ করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উপাধিটি এক বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য লাভ করেছে, কারণ ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমগুলো মোজতবা খামেনিকে তার ধর্মীয় মর্যাদা জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে ‘আয়াতুল্লাহ’ বলে উল্লেখ করছে।
তার প্রয়াত পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে, মোজতবা খামেনিকে ব্যাপকভাবে ‘হোজাতে ইসলাম’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো, যা আয়াতুল্লাহর চেয়ে এক ধাপ নিচের পদমর্যাদা।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতাকে অবশ্যই একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি আইনবিদ হতে হবে, এবং পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরাধিকারের জন্য মোজতবা খামেনির ধর্মীয় পদমর্যাদা বৃদ্ধি করা ছিল প্রয়োজনীয় ধর্মীয় বৈধতা জোরদার করার একটি উপায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি চরম অস্থিতিশীলতার এই সময়ে কট্টরপন্থি ক্ষমতা কেন্দ্রগুলোর, যার মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সমর্থক গোষ্ঠীও রয়েছে, এমন একজন প্রার্থীর প্রতি পছন্দের ইঙ্গিত দেয়, যিনি ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
বিশেষত, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের প্রথম দিনেই এক মারাত্মক বিমান হামলায় আলী খামেনিই নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাকে সর্বোচ্চ নেতা বানানো হয়।
সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাস
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে অবস্থানরত কিছু মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন মিশন থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতের ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। দেশটির দাম্মাম শহরের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সৌদি আরামকোর একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবে হামলার প্রেক্ষাপটে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও রয়েছে। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি যাতায়াতব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
রয়টার্সকে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও মার্কিন মিশনগুলো কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। তবে সৌদি আরবের বাইরে অন্য মিশনগুলোর বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেননি পিগট।
আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা
ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত এল। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, হুতিদের হামলা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিস্তৃত এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পর সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
এর আগে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, শাইবাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করা ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত হন।
এদিকে, হুথিদের আরও হামলার আশঙ্কায় বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।
মার্চের শুরুতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু করার পর রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও সেখানে অবস্থিত সিআইএর কার্যালয়ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স
প্রতীকী ছবি
সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। এসব ত্রুটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলাকারীরা কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
গত বুধবার পিএইচপি প্রকল্পের ডেভেলপাররা ত্রুটি সংশোধনের আপডেট প্রকাশ করেছেন। ব্যবহারকারীদের দ্রুত সেই আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেক জনপ্রিয় ওয়েবডিজাইন প্ল্যাটফর্মে পিএইচপি ব্যবহার করা হয়। ফলে এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সংবাদমাধ্যম, সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজও এসব ত্রুটি শনাক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। উইজের ভাষ্য, পিএইচপিতে এ যাবৎ শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার ঘটনাগুলোর অন্যতম এটি। এমনকি সফটওয়্যারের ইতিহাসেও একে অন্যতম দুর্বলতা বলা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট করার পরামর্শ দিয়েছে। অবিলম্বে আপডেট করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেমে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে এনএসএ জানিয়েছে, এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা সরাসরি সার্ভারের ফাইল বা ডেটাবেজে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তা ছাড়া হামলাকারীরা কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সার্ভারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।
পিএইচপি ফাউন্ডেশনের নিরাপত্তা প্রকৌশলী ভলকার ডুশ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে পিএইচপি এবারই সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যার মুখে পড়েছে। তিনি এর সঙ্গে ২০১৪ সালের আলোচিত ‘হার্টব্লিড’ ত্রুটির তুলনা করেছেন। সে সময়ও বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার আপডেট করার হিড়িক পড়েছিল।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালিফ’ গত আগস্টে ওপেনএআইয়ের তৈরি ‘জিপিটি-৫.৬ সল মডেল ব্যবহার করে এসব ত্রুটি খুঁজে পায়। ওপেনএআইয়ের অর্থায়নে পিএইচপির কোড পর্যালোচনার সময় তারা এটি শনাক্ত করেছিল।
গুগলের মালিকানাধীন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘উইজ’ বলেছে, কয়েক সপ্তাহ পর তারাও নিজস্ব উদ্যোগে এসব ত্রুটি শনাক্ত করে। এ কাজে তারা গুগলের ‘জেমিনি ৪ আর্গন’ ও ‘জিপিটি-৫.৬ সল’ মডেলের সাহায্য নিয়েছিল।
ওপেনএআই এক্সে লিখেছে, তারা এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিতে নতুন এক ধাপ উন্মোচিত হলো। এখন পুরো ইন্টারনেটে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন বড় ত্রুটিও এআই নিজে খুঁজে বের করতে পারছে।
এ ত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে পিএইচপি প্রকল্পের ডেভেলপাররা বুধবার একটি আপডেট প্রকাশ করেছেন। পিএইচপি ডেভেলপারদের তহবিল দেওয়া প্রতিষ্ঠান পিএইচপি ফাউন্ডেশন এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, ‘আপনারা পিএইচপি ব্যবহার করলে এখনই আপডেট করা জরুরি।’
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার অনুরোধে স্থানীয় প্রশাসনের ওয়েবসাইটগুলো বুধবার বিকেল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিস পুলিশের ওয়েবসাইটও রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনওএস জানিয়েছে, দেশটির ডিজিটাল পরিচয় যাচাই সেবা ‘ডিজিডি’, প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েবসাইট এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের ওয়েবসাইট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অফলাইনে রাখা হয়েছে।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্কতার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার কথা এক্সে জানিয়েছে। তবে দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, তখন পর্যন্ত বেলজিয়ামের কোনো ওয়েবসাইটে হামলার তথ্য নথিভুক্ত হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি জানিয়েছে, পিএইচপির ত্রুটি যেসব ওয়েবসাইট আক্রান্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের নিজস্ব ওয়েবসাইট সাইবার ডট গভ ডট এইউ রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সজুড়ে গত সপ্তাহে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমর্থনে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। অনেকেই তাঁদের কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে অদ্ভুত একটি স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। স্লোগানটি এমন-‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রার্থনাবাক্য ‘আল্লাহর নামে শুরু’ এবং ফরাসি বাক্যাংশ ‘এ তো অন্ধকার’-এর মিশ্রণে তৈরি এই বাক্যের বাহ্যিক কোনো অর্থ হয়তো তেমন পাওয়া যাবে না।
তবে গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষা সরঞ্জামের অভাবে তরুণদের প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর থেকে এই স্লোগান একটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ওই বিক্ষোভ পরে ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল।
বাক্যটি কীভাবে এল
ধারণা করা হয়, বাক্যটি প্রথম যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত অ্যাপ স্ন্যাপচ্যাটে ব্যবহার করেছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি প্রাইভেট চ্যাটরুমে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।
বার্তাপ্রেরক স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ করে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ সম্ভাষণ জানান। বাক্যটি শুনতে অদ্ভুত। ফ্রান্সে তরুণদের ব্যবহৃত আরবি ও ফরাসি ভাষার সংমিশ্রণকে অনুকরণ করে বাক্যটি লেখা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এরপর সেই লেখক যোগ করেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব’।
লেখক মামাদৌ ও আবদুল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রোফাইল থেকে কয়েকবার বার্তাটি পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
অন্যান্য স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারী এই বাক্যকে হাস্যকর মনে করে বার্তার স্ক্রিনশট নেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। নিউইয়র্ক টাইমস বার্তাগুলোর মূল উৎস যাচাই করতে পারেনি।
এরপর কী ঘটল
অনেক তরুণের সন্দেহ, বার্তাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসেছে। তাঁরা আনাড়িভাবে শিক্ষার্থী প্রতিবাদ আন্দোলনে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ বাক্যটিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। তাদের আন্দোলনকে দমন করতে কর্তৃপক্ষ যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তাকে উপহাস করা–ই ছিল এই স্লোগানের উদ্দেশ্য।
এই স্লোগানকে এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আন্দোলনকারীদের বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার একটি রূপক হিসেবে অভিব্যক্তি দেখা হচ্ছে। ফরাসি উপনিবেশগুলোর সাবেক বাসিন্দাদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ এবং আরব ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। বার্তাগুলোর মাধ্যমে তাদের ভুলভাবে তুলে ধরার পুলিশের চেষ্টা হিসেবে অভিযোগ করে আসছেন তাঁরা।
জানতে চাইলে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এজেন্টরা এ ধরনের বাক্যটি ব্যবহার করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা স্বীকার করেছে, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে অনলাইনে ছদ্মবেশ ধারণ করেন, যাতে বিক্ষোভে বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের ওপর নজরদারি রাখা যায়।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রেক্ষাপটে, তদন্তকারী এজেন্টের একটি ছদ্মনাম তৈরি করার সুবিধা রয়েছে, যাতে ‘অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের যোগাযোগ বের করে সংরক্ষণ করা যায় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় এসব কিছু প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।’
কেন এই বাক্য এতটা সাড়া ফেলল
শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের কাছে এই অদ্ভুত বাক্যটি তাদের আন্দোলন এবং সরকারের মধ্যকার প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। সরকার তাদের দাবি মানতে অনেকটা অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রভাবশালী শিক্ষার্থী ইউনিয়নের মুখপাত্র সাবরিন খারবাচ বলেন, কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না। তরুণেরা এই বাক্যটিকে তাদের নিজস্ব করে নিয়েছে এটা বোঝাতে, তাদের আন্দোলনে নজরদারি বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চোখ এড়িয়ে যায় না। তারা সেগুলোর তোয়াক্কা না করেই নিজেদের গুছিয়ে নিতে সক্ষম।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদানি সাবাদি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, স্ন্যাপচ্যাট বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের একধরনের ‘পূর্বসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস’-কে তুলে ধরেছে। কারা ব্যারিকেড তৈরি করছে বা ‘সবকিছু ভেঙে ফেলার’ চেষ্টা করছে, সেটা যেন তারা অনুমান করে ফেলেছে।
প্যারিসের উচ্চবিদ্যালয়ের ফেদ্রে কেমেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ জাতীয় কৌতুকে পরিণত হয়েছে। কারণ, ‘এটি একজন তরুণের অত্যন্ত বাজে এক নকল রূপ’।
ফেদ্রে আরও যোগ করেন, বাক্যটি বর্ণবাদের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এই বাক্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, যারা সম্পত্তি ভাঙচুর করতে যাচ্ছে, তারা সবাই আরব।
ফ্রান্সের বাইরে এই স্লোগান কীভাবে ছড়াল
‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ স্লোগানটি বেলজিয়াম ও জার্মানির অনুরূপ বিক্ষোভেও ব্যবহার করা হয়েছে।
সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ শিক্ষার্থী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওতে এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছেন। ভিডিওতে থুনবার্গ ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণদের অন্যান্য অঙ্গভঙ্গিও দেখান। এর মধ্যে ‘সিক্স-সেভেন’ সম্পর্কিত একটি অঙ্গভঙ্গিও ছিল, যা মিম হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।
নতুন এই স্লোগানের ব্যবহার ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর হাস্যরসের সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে এক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণ ও বেকার ভারতীয়দের ‘পরজীবী’ এবং ‘রুই-কাতলা/কাকরোচ’ (তেলাপোকা) বলে ব্যঙ্গ করার পর প্রতিবাদকারীরা তাদের আন্দোলনের নামকরণ করেছিলেন সেই ব্যঙ্গাত্মক শব্দের নামে।
বিক্ষোভ কীভাবে শুরু হয়েছিল
গত মাসে ফরাসি স্কুলগুলোতে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ ভবনের উন্নয়ন, শিক্ষক বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং কঠিন সময়সূচি শিথিল করা।
অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয় বা ভাঙচুর করা হয়। এসব সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে সরকার প্রায় ৮ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ধীরে ধীরে বিক্ষোভটি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দলের জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম যায়। ওই আন্দোলন গত সপ্তাহান্তে দেশব্যাপী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং এতে ব্যাপক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ আন্দোলনকারীদের আরও বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
গত মাস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগের অন্তত ৩৪টি অভিযোগ তদন্ত করছে ফরাসি অফিশিয়াল ওয়াচডগ। ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। কাছ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গ্রেনেড ছোড়ায় ওই কিশোর পঙ্গু হয়ে গেছে।
লানা নুসাইবেহ
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লানা নুসাইবেহর নাম আলোচনায় এসেছে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা। তবে নতুন মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় প্রতিযোগিতা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের।
কূটনীতিকদের বরাতে জানা গেছে, নুসাইবেহর সমর্থকরা জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সমর্থন যাচাই করছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এদিকে মহাসচিব পদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি নয়টি সমর্থনসূচক ভোট পেয়েছেন। তবে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি স্থায়ী সদস্য তার বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও দুটি বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।
নুসাইবেহর সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে আঞ্চলিক রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে আমিরাত সমালোচনার মুখে রয়েছে। আবুধাবি অবশ্য সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ ছাড়া সৌদি আরব তার প্রার্থিতাকে কীভাবে দেখবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই উপসাগরীয় দেশের মধ্যে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে।
জাতিসংঘে এবার লাতিন আমেরিকার কাউকে মহাসচিব করার অনানুষ্ঠানিক প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পুরুষ মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর একজন নারীকে এ পদে বসানোর দাবিও আলোচনায় রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রার্থী নির্বাচনে অঞ্চল বা লিঙ্গের চেয়ে যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এদিকে জাতিসংঘের বাজেট সংকট, বৈশ্বিক সংঘাত এবং সংস্থাটির সংস্কারের চাপের মধ্যে নতুন মহাসচিবকে দায়িত্ব নিতে হবে।
সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। দখলমুক্ত করেছে বিস্তৃত বনভূমি। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫০০-এর বেশি পরিবার। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত দাবি করেছেন, রাজ্যের উন্নয়নের ‘রুদ্র রূপ’ প্রদর্শন করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে সংখ্যালঘু সংগঠন। কারণ, যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।
আসামের তিনটি জেলায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গোলাঘাট, হোজাই ও নগাঁও জেলায় এক সপ্তাহের মধ্যে ৬৩৮ হেক্টরের বেশি জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুরো অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল মূলত বন বিভাগের সুরক্ষিত জমি রক্ষা করা এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা নানা কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া।
গত শনি ও রোববার নগাঁও, হোজাই এবং গোলাঘাট জেলায় মূল অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগ। এর মধ্যে রোববার নগাঁও জেলার লুতুমাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে এক দিনেই প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়। এতে প্রায় ৫৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিনটি জেলা মিলিয়ে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি।
বন কর্মকর্তাদের দাবি, গত আগস্ট মাসেই মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এরই ফলে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ কথিত দখলদার স্বতঃস্ফূর্তভাবে জায়গা খালি করে চলে যান। তা ছাড়া এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশ মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অভিযানে ১ হাজার ১০০-এর বেশি পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা ছাড়াও বেশ কয়েকটি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকেও এই অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন উচ্ছেদের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে দাবি করেছে, গত রোববারের অভিযানে সহস্রাধিক ঘরবাড়ির পাশাপাশি একাধিক মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি জানিয়েছেন, লুতুমাই বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশকে ১৯৭৩ সালে সরকার সাময়িকভাবে সেখানে পুনর্বাসিত করেছিল।
ওই সংগঠনের দাবি, আদালত নির্দেশ দিলেও উচ্ছেদপ্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশানা করা হচ্ছে। অথচ অন্য ধর্মাবলম্বী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এখনো নোটিশ দেওয়ার কাজ শুরু হয়নি। সব মিলিয়ে সম্পত্তি উদ্ধার ও স্থানীয় লোকজনের দাবির মধ্যে এক মিশ্র ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমান বাহিনীর একটি মিরাজ ২০০০ডি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন এবং নেভিগেটর নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভি জানায়, ন্যান্সি-ওশে বিমানঘাঁটি থেকে ওড়া দুই সদস্য বিশিষ্ট ক্রুবাহী বিমানটি মঙ্গলবার গভীর রাতে ন্যান্সি শহরের কাছে মার্থ-এ-মোজেল বিভাগে দুর্ঘটনায় পড়ে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ন্যান্সির উত্তরে রোজেভিল, দোমেভ্র-অঁ-হে এবং ত্রঁবলেকুর গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
কর্মকর্তারা পাইলটের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন এবং নিখোঁজ নেভিগেটরকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। নিকটবর্তী পঁত-আ-মুসঁ শহরের মেয়র অঁরি ল্যমোয়ান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বিপুল সংখ্যক সদস্য উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। রোজেভিলে একটি সংকট সমন্বয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ড্রোন দিয়ে বিমানের ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি উন্মোচনে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশ ও উদ্ধার তৎপরতার কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি