হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলায় ব্যাঙ্ককের একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়।
ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ৩৫তম ধাপ শুরু করেছে ইরান। বুধবার ইসরাইল, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরবের একাধিক স্থাপনায় হামলা করে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী।
মঙ্গলবার রাতে ইরানের একাধিক স্থাপনায় আক্রমণ করে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র। এক হামলায় দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হন। তবে ইরানের এই নেতা সুস্থ রয়েছেন বলে দেশটির একাধিক গণমাধ্যমের খবরে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে ইরানে হামলার নিশানা বানানোর মতো বাস্তবিক অর্থেই আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এবং সেখানকার যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান তিনি।
টেলিফোনে প্রায় পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে-ওখানে সামান্য কিছু লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট থাকতে পারে। তবে আমি যখনই চাইব, এটি শেষ হবে, তখনই এটি শেষ হয়ে যাবে।
যুদ্ধ কি খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে গত কয়েক দিনে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, প্রাথমিক অভিযানের পরিকল্পনাটি ছিল ছয় সপ্তাহের এক লড়াই।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। এমনকি মূল ছয় সপ্তাহের পরিকল্পনায় যতটুকু সম্ভব ভেবেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি আমরা করতে পেরেছি।’
ট্রাম্প বলেন, ইরান শুধু ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রকেই হুমকি দিচ্ছিল না, বরং তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় ছিল। তিনি বলেন, ৪৭ বছর ধরে তারা যে মৃত্যু ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, এখন তারই মাশুল দিচ্ছে। এটি ছিল তাদের কর্মের ফল। তারা এত সহজে পার পাবে না। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও সিএনএন অনলাইনের।
ইরানে মঙ্গলবারের হামলা নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ও ইরানের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এটি ছিল চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে তীব্র হামলা।
ইরানের বিপ্লবী বাহিনী-আইআরজিসি বলেছে, তারা বুধবার কাতারে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দিস্তানে আল-হারির ঘাঁটিতে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের নৌঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার ভোরে
বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আরও একটি হামলা হয়েছে। এ ছাড়া ভোরে ইরান থেকে ইসরাইলের কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান।
এদিকে বুধবার তেহরান সাফ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘এক লিটার তেলও’ পার হতে পারবে না।
তেলের দাম ২৪ হাজার টাকা হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন : তেহরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার নীতি ‘শেষ হয়েছে’ বলে এক বিবৃতিতে জানায় তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দফতরের একজন মুখপাত্র। মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, তেহরানের বর্তমান নীতি হবে ‘আঘাতের বদলে আঘাত। জোলফাকারি আরও বলেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের অংশীদারদের কাছে ‘এক লিটার তেলও’ পৌঁছুতে দেবে না।
তাদের অনুগত যে কোনো জাহাজ বা ট্যাঙ্কার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘ব্যারেল প্রতি তেল ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন, কারণ তেলের দাম এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল যা আপনারা নষ্ট করেছেন।’ বুধবার হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ছিল থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ।
কুয়েতের আদিরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে দুটি শক্তিশালী ও যুগপৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে, এতে আহত একশ’ জন ব্যক্তিকে দেশটির আল জাবের এবং আল মুবারাক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বিউরিং ঘাঁটি আগে আদিরি নামে পরিচিত ছিল এবং এটি কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। বিবৃতিতে আইআরজিসি আরো জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের ‘মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটিতে’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়াও বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের দুটি নৌঘাঁটি ‘মোহাম্মদ আল আহমদ’ ও ‘আলী আল সালেম’ এ অবস্থিত ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট এবং মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাদের আবাসন ও সরঞ্জাম রাখার গুদামগুলোতেও ভয়াবহভাবে হামলা।
আমরা কেবল শত্রুর সম্পূর্ণ পরাজয় শিকারের কথা ভাবছি। আমরা তখনই এই লড়াই শেষ করব যখন দেশ থেকে যুদ্ধের ছায়া অপসারিত হবেÑ এমন ঘোষণা দিয়ে বিবৃতিটি শেষ করেছে আইআরজিসি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন-এমন খবরে তিনি ‘নিরাপদ’ আছেন বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান।
বুধবার টেলিগ্রামে তিনি লিখেছেন, তিনি ‘শুনেছেন’ সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেছি, যাদের সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। তারা বলেছেন, আল্লাহর কৃপায় তিনি নিরাপদ আছেনএবং কোনো সমস্যা নেই।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগের পর থেকে মোজতবা খামেনি কোনো বিবৃতি দেননি বা প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতাবহির্ভূত ক্রমবর্ধমান ও বিপজ্জনক হস্তক্ষেপের অংশ বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার ইতালির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন মেলোনি। তার ডানপন্থি সরকার মিত্রদের প্রতি অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করছে বলে দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের মাঝে ওই সমালোচনা করেন তিনি।
স্পেন ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশ সাধারণত মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে চলেছে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে এক্ষেত্রে মেলোনি সবাইকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি সমালোচনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মেলোনি বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। কারণ এটি আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কাঠামোকে ভেঙে ফেলবে; যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নাটকীয় পরিণতি হতে পারে। ইতালি ও ইউরোপ তেহরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার এই কাঠামোগত সংকটের প্রেক্ষাপটে আমাদের ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমেরিকান ও ইসরাইলি হস্তক্ষেপকে মূল্যায়ন করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় হুমকিগুলো ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাবহির্ভূত একতরফা হস্তক্ষেপ বাড়ছে। মেলোনি বলেন, তেহরানের হামলার শিকার উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করছে রোম। তিনি বলেন, এটি শুধু এই কারণে নয় যে তারা ইতালির বন্ধুরাষ্ট্র ও কৌশলগত অংশীদার, বরং ওই অঞ্চলে আমাদের হাজার হাজার ইতালীয় নাগরিক রয়েছেন; যাদের আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির প্রায় ২ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
ইসরাইল থেকে রাষ্ট্রদূত স্থায়ী প্রত্যাহার করল স্পেন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার বিরোধিতা করায় দেশ দুটির সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ব্যাপক জটিল আকার ধারণ করেছে। এর জেরে ইসরাইল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন।
প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। মঙ্গলবার পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আহতদের অধিকাংশই সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং ১০৮ জন সেনা ইতোমধ্যে কাজে ফিরে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আটজন সেনা গুরুতর আহত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছেন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।’
এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি হামলায় সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন কুয়েতে এবং একজন সৌদি আরবে নিহন হন।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে দূতাবাসে, মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছেন এবং সামরিক ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস অন্তত ১৭টি ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার হামলা হয়েছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যাচাই করা ভিডিও এবং মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ সবকিছু বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পুরো অঞ্চল পোড়ার আগেই ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে
পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হওয়ার আগেই ইরানের যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে যে কোনো সংকটে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত সপ্তাহে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার পর পশ্চিমা ওই সামরিক জোট সেখানে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেছেন, ‘আরও ছড়িয়ে পড়া এবং সামগ্রিকভাবে পুরো অঞ্চল আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যদি কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে এটি অর্জন করা একেবারে সম্ভব।
ছবি : সংগৃহীত
আরেকটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসের মধ্যেই মঙ্গলবার ফ্রান্স ও স্পেনের দমকলকর্মীরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, দেশ দুটিতে এবারের দাবানলটি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের পাশাপাশি পুড়ে গেছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কয়েক লাখ বাসিন্দা।
ফ্রান্সে ওয়াইন উৎপাদনের রাজধানী হিসেবে পরিচিত বোর্দো শহরের কাছে জ্বলতে থাকা বড় দাবানল থেকে পাইরোকিউমুলোনিম্বাস বা অগ্নি মেঘ তৈরি হয়েছে। বিরল এই মেঘের কারণে ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পশ্চিম ইউরোপে নতুন তাপপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। যা মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সে ও বুধবার থেকে স্পেনে অনুভূত হবে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, মাদ্রিদের পশ্চিমে জ্বলতে থাকা দাবানল নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্সের বোর্দোতে কাজ করা দমকলকর্মীরা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগের রাতে কয়েকটি স্থানে নতুন করে দাবানল তৈরি হয়। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় সেটি আশপাশে ছড়াতে পারেনি। সোমবার বোর্দোর একটি এলাকা পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলো বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। আমাদের টিকে থাকার লড়াই করতে হবে।’
গত ছয়দিনে বোর্দোর আশপাশের দাবানলে ৪২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা। সেখানে অন্তত ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যরাতের বৈঠকের পর আপাতত নতুন কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে দলটি।
সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার বৈঠকে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সরকার আগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সৌরভ দাসের ভাষ্য, বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা নির্দেশনার কপি তাদের দেখানো হয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং অন্য বিজেপি বা এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলো থেকেও একই ধরনের নির্দেশনা দ্রুত জারি করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস জানান, সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে বৈঠকে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, জবাবে সরকারি প্রতিনিধিরা বিহারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তি দেখিয়েছেন, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
সৌরভ দাস বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সে জন্য সব রাজ্য সরকারের কাছ থেকে একই ধরনের সুরক্ষামূলক নির্দেশনা জারির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার আশ্বাস দিয়েছে, আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধান করে বিভিন্ন রাজ্যের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এতে আন্দোলনকারীরা নিরাপদ থাকবেন এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’
সিজেপির দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।
ছবি : সংগৃহীত
মানুষের শারীরিক ও আসল বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একই বছরে জন্ম নিয়েও দুই ব্যক্তির শরীরে বয়সের ছাপ একই গতিতে নাও আসতে পারে।
কারও কারও ক্ষেত্রে আবার আসল বয়সের চেয়ে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে, যা ইঙ্গিত দেয় অসুস্থতার ঝুঁকির। এই শারীরিক বয়সের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় রক্তচাপ, ফুসফুসের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে।
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা জাদুঘরে ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো শারীরিক বয়স প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, এটি বয়স্কদের মধ্যে কমিয়ে দিতে পারে বয়সের ছাপ পড়ার গতি। যুক্তরাজ্যে হওয়া এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সেও যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে ও জাদুঘরে ঘুরতে যান, আর যারা যান না– এই দুইয়ের শারীরিক বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
‘মেজারিং কালচারাল হ্যাবিটস এগেইনস্ট বায়োলজিক্যাল এজ’ শীর্ষক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের শরীরের বয়স কম রাখতে সহায়তা করতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ পুরুষ। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার হাজার দুইশ সাতটি জরিপ করা হয় এ গবেষণার স্বার্থে।
স্টাডি ফাইন্ডসের প্রতিবেদন বলছে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিমাপ করতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত দিন পরপর সিনেমা দেখতে যান, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারিতে যান, অথবা মঞ্চনাটক দেখেন। উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘কখনও না’, কেউ বলেছেন, ‘মাসে দুইবার’। কেউ আবার জানিয়েছেন, মাসে দুইবারের চেয়েও বেশি।
সেসব উত্তরের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের শূন্য থেকে ১৫ পর্যন্ত নম্বর দেন। গড়ে অংশগ্রহণকারীরা ৪ দশমিক ৩ নম্বর করে পান। যারা কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের নম্বর আসে গড়ে ৭ দশমিক ৩। অন্যদিকে যারা বছরে একবার বা তার চেয়েও কম জাদুঘরে বা সিনেমা দেখতে গেছেন, তারা পান গড়ে ২ দশমিক ৩ নম্বর। সবাইকে শারীরিক বয়সের ভিত্তিতেও বিচার করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার আসল গড় বয়স ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, শারীরিক বয়সের গড় ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে বা জাদুঘরে ঘুরতে যান, তাদের গড় শারীরিক বয়স তিন বছর কম এসেছে অন্যদের তুলনায়।
বিষয়টি কাকতালীয় কিনা, তা নির্ণয় করতে গবেষকরা পৃথক একটি বিশ্লেষণ করেন এক হাজার ৬৫২ জনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। তাদের ঘুরতে যাওয়া ও শারীরিক বয়সের তথ্য চার বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়। পরে দেখা যায়, যারা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছিলেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় ০ দশমিক ০৮৯ বছর কম এসেছে।
তবে এই গবেষণাটি শুধু যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকরা জানান, ভিন্ন দেশ বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে এর ফলাফলে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া গবেষণাটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, এতে শুধু সিনেমা, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারির মতো ভেন্যুতে যাওয়ার বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে, অন্য ধরনগুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। তবে খাওয়া ও ব্যায়ামের পাশপাশি ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টিও যে বয়স্কদের ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরেছে গবেষণাটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া নতুন আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের কঠোর হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৭ জুলাই) মিশিগানে যাওয়ার পথে এই হুমকি দেন তিনি।
এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানের সঙ্গে ভালো ও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু ইরান পাল্টা দাবি করেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর জুনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা হলেও, হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকার হামলা ও সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে গত জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং ১৩ জুলাই থেকে মার্কিন বাহিনী আবারও নতুন করে বিমান হামলা ও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করে।
টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান স্থগিত করে। টানা চার দিনের মতো সোমবারও (২৭ জুলাই) মার্কিন হামলা স্থগিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিত করেছেন।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৭ সোমবার) হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুত ও অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেন। এ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিতি ছিলেন। তারা দুজনই নতুন হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর ইরানে হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ হওয়ায় ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে। তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়েছে। ওমানের সঙ্গে মিলে নৌযান চলাচলের নতুন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।
সূত্র: রয়টার্স
ভারতের জেন-জি। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে রূপ নিতে চলেছে জেন জি বা জেনারেশন জেডের তরুণ-তরুণীরা। ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব উপেক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাটি এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে যে দেশের তরুণ সমাজকে সরকার এখন আর এড়িয়ে চলতে পারে না। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনটি দ্রুত শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এক বৃহত্তর জাতীয় আলোচনায় রূপ নেয়, যা প্রমাণ করে যে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত ভারতীয় যুবসমাজ কত দ্রুত জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
জনসংখ্যার পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সি জেন জি প্রজন্মের জনসংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটিতে পৌঁছাবে (প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ২০ লাখ নারী)। এর মাধ্যমে তারা মিলেনিয়াল প্রজন্মকে পেছনে ফেলে ভারতের বৃহত্তম প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে পরিণত হবে। এই জনমিতিক পরিবর্তনের প্রভাব কেবল সংখ্যার পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়; জেন জি প্রজন্ম দেশের বৃহত্তম ছাত্র সমাজ, প্রথমবার ভোটদাতা ভোটার এবং কর্মজীবনের শুরুতে থাকা পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব করবে। ফলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন ও সুশাসনের মতো ইস্যুগুলো রাজনৈতিক ময়দানে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
ভারতের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে সামগ্রিক ভোটারদের মধ্যে তরুণদের অনুপাত কিছুটা কমলেও, জেন জি তাদের বিশাল সংখ্যা, অভূতপূর্ব ডিজিটাল সংযোগ এবং দ্রুত সংঘবদ্ধ হওয়ার ক্ষমতার কারণে অত্যন্ত প্রভাবশালী এক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। সামগ্রিক জনসংখ্যার রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিশুদের অনুপাত হ্রাসের পাশাপাশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারত বয়সসীমার দিক থেকে প্রবীণ হওয়ার সাথে সাথে ঐতিহ্যগত জনমিতিক লভ্যাংশ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসায় বর্তমান সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জেন জি এমন একসময়ে প্রাপ্তবয়স্ক শ্রেণীতে পা রাখছে যখন তারা দেশের বৃহত্তম ও রাজনৈতিকভাবে অন্যতম সচেতন প্রজন্মে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে একটি সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনবে।
সূত্র: এনডিটিভি।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ছবি: সংগৃহীত
সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি লঙ্ঘন করে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ এনে কেন্দ্র সরকারকে ফের কঠোর আন্দোলনের আলটিমেটাম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
সোমবার (২৭ জুলাই) আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা ও সৌরভ দাস এবং স্বতন্ত্র রাজ্যসভা সাংসদ ও সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিবল উপস্থিত থেকে এই উদ্বেগের কথা জানান।
একই সঙ্গে আন্দোলনের সময়কার ডিজিটাল প্রমাণ সুরক্ষিত রাখতে এবং আইনি সহায়তা দিতে ‘সাক্ষী’ নামের একটি নতুন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ উন্মোচন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ দাস জানান, ৩৬ দিনব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও ভবিষ্যতে সরকার আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা শুরু থেকেই আইনজীবী কপিল সিবলের আইনি পরামর্শ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অতীতে বড় ধরনের অন্যান্য আন্দোলনেও দেখা গেছে যে আন্দোলনের গতি স্তিমিত হয়ে যাওয়ার পর এককভাবে ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়।
সিজেপির নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘সাক্ষী’র মাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও ক্রিপ্টোগ্রাফিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সাহায্যে টেম্পার-প্রুফ বা পরিবর্তন-রহিত প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে, যাতে ফোন বাজেয়াপ্ত বা চ্যাট ডিলিট হওয়ার কারণে কোনো প্রমাণ হারিয়ে না যায়।
এদিকে আশুতোষ রঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উদ্দেশে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো দণ্ডমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার যে সরকারি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পুরোপুরি লঙ্ঘিত হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং কেবল বিহার ও পশ্চিমবঙ্গেই শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রঙ্কা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এফআইআরগুলো প্রত্যাহার করা না হলে এবং আটককৃতদের মুক্তি না দিলে সিজেপি পুনরায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। একই সাথে তিনি আগামীকালের মধ্যে আইনি মামলা সংক্রান্ত লিখিত চুক্তি এবং সরকারের সাথে নির্ধারিত টাইমলাইনগুলো প্রকাশ করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়ম ও সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সিজেপি। কেন্দ্রের সাথে আলোচনার পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার এবং পরীক্ষা সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে গত ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
তবে চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ধরপাকড় অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাটনার এসএসপি কার্তিকেয় কে শর্মা জানিয়েছেন, গত ২৫ জুলাই সহিংসতার ঘটনায় ৮৬ জন বিক্ষোভকারীকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ৬০ জনকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সিজেপির আইনি দল আটককৃতদের মুক্ত করতে এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আইনজীবীদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।