হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলায় ব্যাঙ্ককের একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়।
ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ৩৫তম ধাপ শুরু করেছে ইরান। বুধবার ইসরাইল, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরবের একাধিক স্থাপনায় হামলা করে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী।
মঙ্গলবার রাতে ইরানের একাধিক স্থাপনায় আক্রমণ করে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র। এক হামলায় দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হন। তবে ইরানের এই নেতা সুস্থ রয়েছেন বলে দেশটির একাধিক গণমাধ্যমের খবরে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে ইরানে হামলার নিশানা বানানোর মতো বাস্তবিক অর্থেই আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এবং সেখানকার যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান তিনি।
টেলিফোনে প্রায় পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে-ওখানে সামান্য কিছু লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট থাকতে পারে। তবে আমি যখনই চাইব, এটি শেষ হবে, তখনই এটি শেষ হয়ে যাবে।
যুদ্ধ কি খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে গত কয়েক দিনে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, প্রাথমিক অভিযানের পরিকল্পনাটি ছিল ছয় সপ্তাহের এক লড়াই।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। এমনকি মূল ছয় সপ্তাহের পরিকল্পনায় যতটুকু সম্ভব ভেবেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি আমরা করতে পেরেছি।’
ট্রাম্প বলেন, ইরান শুধু ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রকেই হুমকি দিচ্ছিল না, বরং তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় ছিল। তিনি বলেন, ৪৭ বছর ধরে তারা যে মৃত্যু ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, এখন তারই মাশুল দিচ্ছে। এটি ছিল তাদের কর্মের ফল। তারা এত সহজে পার পাবে না। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও সিএনএন অনলাইনের।
ইরানে মঙ্গলবারের হামলা নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ও ইরানের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এটি ছিল চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে তীব্র হামলা।
ইরানের বিপ্লবী বাহিনী-আইআরজিসি বলেছে, তারা বুধবার কাতারে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দিস্তানে আল-হারির ঘাঁটিতে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের নৌঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার ভোরে
বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আরও একটি হামলা হয়েছে। এ ছাড়া ভোরে ইরান থেকে ইসরাইলের কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান।
এদিকে বুধবার তেহরান সাফ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘এক লিটার তেলও’ পার হতে পারবে না।
তেলের দাম ২৪ হাজার টাকা হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন : তেহরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার নীতি ‘শেষ হয়েছে’ বলে এক বিবৃতিতে জানায় তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দফতরের একজন মুখপাত্র। মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, তেহরানের বর্তমান নীতি হবে ‘আঘাতের বদলে আঘাত। জোলফাকারি আরও বলেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের অংশীদারদের কাছে ‘এক লিটার তেলও’ পৌঁছুতে দেবে না।
তাদের অনুগত যে কোনো জাহাজ বা ট্যাঙ্কার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘ব্যারেল প্রতি তেল ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন, কারণ তেলের দাম এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল যা আপনারা নষ্ট করেছেন।’ বুধবার হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ছিল থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ।
কুয়েতের আদিরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে দুটি শক্তিশালী ও যুগপৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে, এতে আহত একশ’ জন ব্যক্তিকে দেশটির আল জাবের এবং আল মুবারাক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বিউরিং ঘাঁটি আগে আদিরি নামে পরিচিত ছিল এবং এটি কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। বিবৃতিতে আইআরজিসি আরো জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের ‘মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটিতে’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়াও বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের দুটি নৌঘাঁটি ‘মোহাম্মদ আল আহমদ’ ও ‘আলী আল সালেম’ এ অবস্থিত ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট এবং মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাদের আবাসন ও সরঞ্জাম রাখার গুদামগুলোতেও ভয়াবহভাবে হামলা।
আমরা কেবল শত্রুর সম্পূর্ণ পরাজয় শিকারের কথা ভাবছি। আমরা তখনই এই লড়াই শেষ করব যখন দেশ থেকে যুদ্ধের ছায়া অপসারিত হবেÑ এমন ঘোষণা দিয়ে বিবৃতিটি শেষ করেছে আইআরজিসি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন-এমন খবরে তিনি ‘নিরাপদ’ আছেন বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান।
বুধবার টেলিগ্রামে তিনি লিখেছেন, তিনি ‘শুনেছেন’ সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেছি, যাদের সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। তারা বলেছেন, আল্লাহর কৃপায় তিনি নিরাপদ আছেনএবং কোনো সমস্যা নেই।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগের পর থেকে মোজতবা খামেনি কোনো বিবৃতি দেননি বা প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতাবহির্ভূত ক্রমবর্ধমান ও বিপজ্জনক হস্তক্ষেপের অংশ বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার ইতালির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন মেলোনি। তার ডানপন্থি সরকার মিত্রদের প্রতি অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করছে বলে দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের মাঝে ওই সমালোচনা করেন তিনি।
স্পেন ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশ সাধারণত মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে চলেছে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে এক্ষেত্রে মেলোনি সবাইকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি সমালোচনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মেলোনি বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। কারণ এটি আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কাঠামোকে ভেঙে ফেলবে; যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নাটকীয় পরিণতি হতে পারে। ইতালি ও ইউরোপ তেহরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার এই কাঠামোগত সংকটের প্রেক্ষাপটে আমাদের ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমেরিকান ও ইসরাইলি হস্তক্ষেপকে মূল্যায়ন করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় হুমকিগুলো ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাবহির্ভূত একতরফা হস্তক্ষেপ বাড়ছে। মেলোনি বলেন, তেহরানের হামলার শিকার উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করছে রোম। তিনি বলেন, এটি শুধু এই কারণে নয় যে তারা ইতালির বন্ধুরাষ্ট্র ও কৌশলগত অংশীদার, বরং ওই অঞ্চলে আমাদের হাজার হাজার ইতালীয় নাগরিক রয়েছেন; যাদের আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির প্রায় ২ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
ইসরাইল থেকে রাষ্ট্রদূত স্থায়ী প্রত্যাহার করল স্পেন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার বিরোধিতা করায় দেশ দুটির সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ব্যাপক জটিল আকার ধারণ করেছে। এর জেরে ইসরাইল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন।
প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। মঙ্গলবার পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আহতদের অধিকাংশই সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং ১০৮ জন সেনা ইতোমধ্যে কাজে ফিরে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আটজন সেনা গুরুতর আহত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছেন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।’
এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি হামলায় সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন কুয়েতে এবং একজন সৌদি আরবে নিহন হন।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে দূতাবাসে, মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছেন এবং সামরিক ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস অন্তত ১৭টি ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার হামলা হয়েছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যাচাই করা ভিডিও এবং মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ সবকিছু বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পুরো অঞ্চল পোড়ার আগেই ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে
পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হওয়ার আগেই ইরানের যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে যে কোনো সংকটে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত সপ্তাহে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার পর পশ্চিমা ওই সামরিক জোট সেখানে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেছেন, ‘আরও ছড়িয়ে পড়া এবং সামগ্রিকভাবে পুরো অঞ্চল আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যদি কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে এটি অর্জন করা একেবারে সম্ভব।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরপর আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। সোমবার দুপুর ১২টায় এর অবস্থান ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এ সময় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
পরে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আগামী বুধবার ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
নেত্রী মাচাদো। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশে ফিরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমি এখানে, আপনাদের সঙ্গে।’ এর আগে, একাধিকবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। এবার তার প্রত্যাবর্তন ঘটল ভেনেজুয়েলার জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে। গত জানুয়ারিতে, নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে যাওয়ার জন্য অন্ধকারের সুযোগে দ্রুতগতির নৌকায় ভেনেজুয়েলা ছাড়েন মাচাদো।
এর এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যায়। এরপর মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন রদ্রিগেজ। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি তেল চুক্তিও সই করেন, যেখানে ওয়াশিংটনকে বেশ অনুকূল শর্ত দেওয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভেনেজুয়েলার লারা রাজ্যের একটি গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নিতে দেখা যায় মাচাদোকে। এ সময় তার চারপাশে ভিড় করেন সমর্থকেরা। তারা তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং হাত ধরে স্বাগত জানান।
এরপর উল্লাসরত সমর্থকদের গাড়িবহর নিয়ে রাজধানী কারাকাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি। রাজধানীতে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন। রোববার গভীর রাতে কারাকাসে প্রবেশের সময় গাড়ির সানরুফ দিয়ে বেরিয়ে হাসিমুখে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে দেখা যায় তাকে। এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে মাচাদো লেখেন, ‘আমাদের কারাকাসে পুনর্মিলনের রাত। প্রতিটি পরিবারের পুনর্মিলনের জন্য, প্রতিটি রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির জন্য, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য।’
মাচাদোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এডমুন্দো গনসালেস উরুতিয়াও তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোববার হামলায় নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনকে গির্জার পাশেই সমাহিত করা হয়। শেষকৃত্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে দেখা যায়, ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পতাকায় মোড়ানো কফিনগুলো জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়ে বহন করা হচ্ছে।
সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্প
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে দুই দেশের একাধিক অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.২।
শুরুতে এর মাত্রা ৫.৮ বলে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫.২ নির্ধারণ করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের ১১০ কিলোমিটার গভীরে।
আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কাবুল, নানগারহারসহ আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে কম্পন অনুভূত হয়। তবে আফগানিস্তানে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা এবং উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।
দুই দেশেই পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ।
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নির্বাচনে নাটকীয় জয় পেয়েছেন। কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে তিনি ঐতিহাসিকভাবে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসছেন। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তাঁর ৪৫ বছর বয়সী প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট।
অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচনের প্রথম ধাপে বলসোনারোর কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন লুলা। এতে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। আর প্রগতিশীল ব্রাজিলীয়রা তিন সপ্তাহের জন্য হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন। আশির দশকে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এমনটা আর কখনোই হয়নি। প্রথম ধাপে দ্বিতীয় হওয়া কোনো প্রার্থী এর আগে দ্বিতীয় ধাপে জিততে পারেননি।
কিন্তু গতকাল রোববার লুলা ঠিক সেই অসম্ভব কাজটাই করে দেখিয়েছেন। এতে সাও পাওলোর রাস্তায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সেখানকার একটি হোটেলে বসেই তিনি ভোট গণনা দেখছিলেন।
ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর লুলার অন্যতম প্রধান মিত্র রেজিনাল্ডো লোপেস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে...এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকে জানিয়ে দিল যে কট্টর ডানপন্থীরা হলো ফ্যাসিবাদী। তারা কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে, গরিবদের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং সমকামীদের বিরুদ্ধে...। আমরা এই দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে নতুন করে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছি।’
তিন সপ্তাহ আগে ব্রাজিলের এই প্রেসিডেন্ট ২২ লাখ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু এবার তিনি ৪৩ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
৮১ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা তাঁর সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার মধ্য দিয়েই এই বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলেছেন। তাঁর মিত্ররা এটিকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন।
প্রথম ধাপে ভোট না দেওয়ার হার ছিল রেকর্ড ২১.০৮। এ কারণে লুলার ভোটাররাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। কারণ, তাঁরা ভোটকেন্দ্র থেকে বেশ দূরে থাকেন। তবে দ্বিতীয় ধাপে ভোট না দেওয়ার এই হার কমে ১৯.২১–এ নেমে আসে।
আগামীকাল মঙ্গলবার লুলার বয়স ৮১ বছর পূর্ণ হবে। এই জয় তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের চূড়ান্ত অধ্যায়। সত্তরের দশকের শেষের দিকে সাও পাওলোর শিল্প শহরতলিতে একজন শ্রমিকনেতা হিসেবে তাঁর এই জীবন শুরু হয়েছিল।
গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন লুলা। রাজনীতিতে আসার পর ১৯৮৯, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে টানা তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ২০০২ সালে তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনিই শ্রমিক শ্রেণি থেকে উঠে আসা প্রথম প্রেসিডেন্ট।
সংবিধান অনুযায়ী, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর লুলা পদত্যাগ করেছিলেন। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে বলসোনারোর বাবা এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে হারিয়ে তিনি আবারও ক্ষমতায় ফেরেন। পরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করার অপরাধে জইর বলসোনারোকে কারাগারে পাঠানো হয়।
লুলার এই জয় বলসোনারোর জন্য একটি দুঃসংবাদ। তিনি এখন ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি আশা করেছিলেন যে ছেলে জিতলে তিনি হয়তো মুক্তি পাবেন এবং সরকারে কোনো পদ পাবেন।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। তিনি বলসোনারো পরিবারের মিত্র।
ট্রাম্প আশা করেছিলেন, লাতিন আমেরিকায় তাঁর সমর্থক নেতাদের তালিকায় বলসোনারোও যুক্ত হবেন।
লুলার জয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ব্রাসিলিয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেই বলসোনারো গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন এবং তাঁর ছেলে সেখান থেকেই ভোট গণনা দেখছিলেন।
গত শনিবার লুলার সমর্থকেরা দুটি বিশাল শোডাউন করেন। রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে ১০ লাখের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। এর চেয়েও বেশি মানুষ সাও পাওলোর প্রাণকেন্দ্র পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে মিছিল করেন।
রিও ডি জেনিরোর সমাবেশে ট্রাকচালক জোসিয়াস সিলভা কথা বলেন। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বলসোনারোবিরোধী বিক্ষোভের পর লুলার ফিরে আসার বিষয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
সিলভা দাবি করেন, ‘জনগণ জেগে উঠেছে... এর আগে কখনো এমন বিক্ষোভ হয়নি। এটি ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।’
গতকাল সন্ধ্যায় লুলার শত শত সমর্থক ভোট গণনা দেখতে আবারও পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে ফিরে আসেন। তখন তাঁরা লুলার ছবিযুক্ত লাল পতাকা ওড়াচ্ছিলেন।
শুরুতে লুলার এগিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ৩৫ বছর বয়সী কামিলো বুয়ার্কে বলেন, ‘এখানে থাকতে পেরে এবং লুলার জন্য লড়াই করতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমার চারপাশের এই মানুষের শক্তি, আনন্দ আর ভালোবাসা থেকেই আমার আত্মবিশ্বাস এসেছে। এটাই হলো গণতন্ত্র।’
ইসরায়েলি হামলার পরে গাজার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রোববার (২৫ অক্টোবর) উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
সূত্র জানায়, গাজা নগরীর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর কিছুক্ষণ আগে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার পর গাজা নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্রম-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানে বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত অনেক ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
উত্তর গাজায় উপত্যকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন আহত হন। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ ছাড়া জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের পশ্চিমে আল-ফালুজা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে পায়ে আঘাত পাওয়া এক ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র। খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক নারীও মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে জানান, খান ইউনিস শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলের দিকে গুলি ও গোলা ছুড়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ।
মধ্য গাজায় দেইর আল বালাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় ৩৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলীয় আল তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে দুটি দফায় বাড়িঘর ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপত্যকাটির বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।