হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলায় ব্যাঙ্ককের একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়।

  • প্রকাশ : বুধবার ১১ মার্চ, ২০২৬, সময় : ২:৪৭ পিএম

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ৩৫তম ধাপ শুরু করেছে ইরান। বুধবার ইসরাইল, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরবের একাধিক স্থাপনায় হামলা করে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী।


মঙ্গলবার রাতে ইরানের একাধিক স্থাপনায় আক্রমণ করে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র। এক হামলায় দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হন। তবে ইরানের এই নেতা সুস্থ রয়েছেন বলে দেশটির একাধিক গণমাধ্যমের খবরে নিশ্চিত করা হয়েছে। 


এদিকে ইরানে হামলার নিশানা বানানোর মতো বাস্তবিক অর্থেই আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এবং সেখানকার যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান তিনি।


টেলিফোনে প্রায় পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে-ওখানে সামান্য কিছু লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট থাকতে পারে। তবে আমি যখনই চাইব, এটি শেষ হবে, তখনই এটি শেষ হয়ে যাবে।


যুদ্ধ কি খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে গত কয়েক দিনে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, প্রাথমিক অভিযানের পরিকল্পনাটি ছিল ছয় সপ্তাহের এক লড়াই।


তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। এমনকি মূল ছয় সপ্তাহের পরিকল্পনায় যতটুকু সম্ভব ভেবেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি আমরা করতে পেরেছি।’


ট্রাম্প বলেন, ইরান শুধু ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রকেই হুমকি দিচ্ছিল না, বরং তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় ছিল। তিনি বলেন, ৪৭ বছর ধরে তারা যে মৃত্যু ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, এখন তারই মাশুল দিচ্ছে। এটি ছিল তাদের কর্মের ফল। তারা এত সহজে পার পাবে না। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও সিএনএন অনলাইনের। 


ইরানে মঙ্গলবারের হামলা নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ও ইরানের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এটি ছিল চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে তীব্র হামলা। 


ইরানের বিপ্লবী বাহিনী-আইআরজিসি বলেছে, তারা বুধবার কাতারে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দিস্তানে আল-হারির ঘাঁটিতে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের নৌঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার ভোরে 


বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আরও একটি হামলা হয়েছে।  এ ছাড়া ভোরে ইরান থেকে ইসরাইলের কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। 


এদিকে বুধবার তেহরান সাফ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘এক লিটার তেলও’ পার হতে পারবে না। 


  তেলের দাম ২৪ হাজার টাকা হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন : তেহরানের হুঁশিয়ারি


ইরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার নীতি  ‘শেষ হয়েছে’ বলে এক বিবৃতিতে জানায় তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দফতরের একজন মুখপাত্র। মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, তেহরানের বর্তমান নীতি হবে ‘আঘাতের বদলে আঘাত। জোলফাকারি আরও বলেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের অংশীদারদের কাছে ‘এক লিটার তেলও’ পৌঁছুতে দেবে না।


তাদের অনুগত যে কোনো জাহাজ বা ট্যাঙ্কার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে। 


তিনি আরো বলেন, ‘ব্যারেল প্রতি তেল ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন, কারণ তেলের দাম এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল যা আপনারা নষ্ট করেছেন।’ বুধবার হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ছিল থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ।  


কুয়েতের আদিরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে দুটি শক্তিশালী ও যুগপৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে, এতে আহত একশ’ জন ব্যক্তিকে দেশটির আল জাবের এবং আল মুবারাক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। 


বিউরিং ঘাঁটি আগে আদিরি নামে পরিচিত ছিল এবং এটি কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। বিবৃতিতে আইআরজিসি আরো জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের ‘মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটিতে’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।


এ ছাড়াও বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের দুটি নৌঘাঁটি ‘মোহাম্মদ আল আহমদ’ ও ‘আলী আল সালেম’ এ অবস্থিত ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট এবং মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাদের আবাসন ও সরঞ্জাম রাখার গুদামগুলোতেও ভয়াবহভাবে হামলা। 


আমরা কেবল শত্রুর সম্পূর্ণ পরাজয় শিকারের কথা ভাবছি। আমরা তখনই এই লড়াই শেষ করব যখন দেশ থেকে যুদ্ধের ছায়া অপসারিত হবেÑ এমন ঘোষণা দিয়ে বিবৃতিটি শেষ করেছে আইআরজিসি।


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন-এমন খবরে তিনি ‘নিরাপদ’ আছেন বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান।


বুধবার টেলিগ্রামে তিনি লিখেছেন, তিনি ‘শুনেছেন’ সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেছি, যাদের সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। তারা বলেছেন, আল্লাহর কৃপায় তিনি নিরাপদ আছেনএবং কোনো সমস্যা নেই। 


সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগের পর থেকে মোজতবা খামেনি কোনো বিবৃতি দেননি বা প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি।


ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতাবহির্ভূত ক্রমবর্ধমান ও বিপজ্জনক হস্তক্ষেপের অংশ বলে অভিহিত করেছেন।


বুধবার ইতালির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন মেলোনি। তার ডানপন্থি সরকার মিত্রদের প্রতি অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করছে বলে দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের মাঝে ওই সমালোচনা করেন তিনি।


স্পেন ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশ সাধারণত মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে চলেছে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে এক্ষেত্রে মেলোনি সবাইকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি সমালোচনা করেছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মেলোনি বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। কারণ এটি আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কাঠামোকে ভেঙে ফেলবে; যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নাটকীয় পরিণতি হতে পারে। ইতালি ও ইউরোপ তেহরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির মুখে পড়তে পারে।


তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার এই কাঠামোগত সংকটের প্রেক্ষাপটে আমাদের ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমেরিকান ও ইসরাইলি হস্তক্ষেপকে মূল্যায়ন করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় হুমকিগুলো ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাবহির্ভূত একতরফা হস্তক্ষেপ বাড়ছে। মেলোনি বলেন, তেহরানের হামলার শিকার উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করছে রোম। তিনি বলেন, এটি শুধু এই কারণে নয় যে তারা ইতালির বন্ধুরাষ্ট্র ও কৌশলগত অংশীদার, বরং ওই অঞ্চলে আমাদের হাজার হাজার ইতালীয় নাগরিক রয়েছেন; যাদের আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির প্রায় ২ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।



ইসরাইল থেকে রাষ্ট্রদূত স্থায়ী প্রত্যাহার করল স্পেন 

 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার বিরোধিতা করায় দেশ দুটির সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ব্যাপক জটিল আকার ধারণ করেছে। এর জেরে ইসরাইল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন। 


প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত 


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। মঙ্গলবার পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আহতদের অধিকাংশই সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং ১০৮ জন সেনা ইতোমধ্যে কাজে ফিরে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আটজন সেনা গুরুতর আহত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছেন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।’ 

এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি হামলায় সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন কুয়েতে এবং একজন সৌদি আরবে নিহন হন।


যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত 


ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে দূতাবাসে, মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছেন এবং সামরিক ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস অন্তত ১৭টি ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার হামলা হয়েছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যাচাই করা ভিডিও এবং মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ সবকিছু বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


পুরো অঞ্চল পোড়ার আগেই ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে 


পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হওয়ার আগেই ইরানের যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে যে কোনো সংকটে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত সপ্তাহে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার পর পশ্চিমা ওই সামরিক জোট সেখানে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেছেন, ‘আরও ছড়িয়ে পড়া এবং সামগ্রিকভাবে পুরো অঞ্চল আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যদি কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে এটি অর্জন করা একেবারে সম্ভব।





ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৫ পিএম

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা শুক্রবার লোহিত সাগরের একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই দ্বীপটি জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত। এটি দখলের মধ্য দিয়ে তারা প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পন্ন করেছে। ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দ্বীপটি মায়ুন ও পারিম নামে পরিচিত। এটি প্রণালিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী দ্বীপটি থেকে সরে যায়। এরপর হুতি যোদ্ধেদের বহনকারী নৌকা মায়ুনে পৌঁছায়।  


এএফপিকে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘হুথিরা বাব এল-মান্দেব এলাকা ও প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।’ ধারণা করা হচ্ছে এই দ্বীপের পাহাড় থেকে হুতিরা প্রণালির ওপর নজর রাখবে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বন্দুকধারীরা বাব এল-মান্দেবের উপকূলজুড়েও অবস্থান নিয়েছে। সামরিক যানবাহনে করে ঘোরাফেরা করছে।


তেল রপ্তানির জন্য সৌদি আরবের কাছে এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রণালির আশপাশে থাকা রিয়াদ সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে অভিযান শুরু করে হুতিরা। এ সময়ে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। 


জলপথটিতে চারটি কৌশলগত দ্বীপ আছে। এগুলো হলো জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ। মায়ুনের আগে হুতিরা বৃহস্পতিবার জুকারের দখল নেয়। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হুথিরা হানিশ দ্বীপপুঞ্জে সরকারি বাহিনীর সেনাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে।


সূত্র আরও জানায়, হানিশে থাকা ২ হাজারের বেশি সেনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। সম্ভবত তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে হুতিরা। একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, অবরুদ্ধ সেনারা কর্তৃপক্ষের কাছে খাবার, পানি ও উদ্ধার সহায়তা চেয়েছে। কিন্তু অবরোধ দশা থেকে মুক্তির জন্য সেখানে বিমান পাঠানো প্রয়োজন।


বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশের পর সুয়েজ খালের দিকে যায়। সরু জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হুতিদের পলিটব্যুরোর সদস্য হাজেম এল-আসাদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে যে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটি কমানোর চেষ্টা চলছে।


আল-আরাবি আল-জাদিদ নামের একটি গণমাধ্যমে হাজেম বলেন, ‘লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় আছে। আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’


সৌদির অনুরোধে ট্রাম্পের ‘না’


দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তখন তিনি পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কথা জানান। কয়েক ঘণ্টা পর আবার কল করে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে রাজি হননি।


অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত তথ্য দেবে। ইতোমধ্যে সৌদিতে অবস্থান করা ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা সদস্য রিয়াদকে ‘নন-কাইনেটিক সহায়তা’ দিচ্ছেন।


বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের প্রথম দফার ফোনালাপের সময় হুতিরা বাব এল-মান্দেবের কাছের উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। শুক্রবার প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর জানা গেল।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৫ পিএম

সম্পর্ক থাকাকালে প্রেমিকার পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী। দামি উপহার, বিদেশ ভ্রমণ, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক ও জীবনবিমার প্রিমিয়াম- সব মিলিয়ে খরচ করেছিলেন ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৭ টাকা (১ সিঙ্গাপুর ডলার ৯৭.৪৪ টাকা)। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেই অর্থ ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তবে তার সেই চেষ্টা সফল হয়নি। 


সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় ওই অর্থ খরচ করেছিলেন এবং এগুলোকে ঋণ হিসেবে দেখানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।


প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী চন্দর আগরওয়াল একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ফেলিসিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।


সম্পর্কের সময় আগরওয়াল লিকে নিয়মিত দামি উপহার দিতেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, লি তার কাছে বিভিন্ন সময় সুদমুক্ত ঋণ চেয়েছিলেন। এসব অর্থের মধ্যে ছিল ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, তার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ২০ হাজার ডলার।


তবে লি আদালতে বলেন, এসব অর্থ তিনি ঋণ হিসেবে নেননি। এগুলো ছিল ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে দেওয়া উপহার।


২০২৪ সালের মার্চে আগরওয়াল মামলাটি করেন। তার দাবি ছিল, সম্পর্ক চলাকালে দেওয়া অর্থ তাকে ফেরত দিতে হবে।


সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক লি সিউ কিন আগরওয়ালের দাবি নাকচ করে দেন। বিচারক বলেন, কথিত ঋণের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা প্রমাণ আগরওয়াল উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি লি যে তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তার স্বীকৃতিও তিনি দেখাতে পারেননি।


বিচারকের পর্যবেক্ষণ, সম্পর্কের সময় আগরওয়াল লিকে দামি উপহার দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রবণতা দেখিয়েছেন। এমনকি তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরুর আগেও তিনি তাকে উপহার দিতেন এবং এসব অর্থ ফেরত চান না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।


বিচারক বলেন, প্রমাণে স্পষ্ট যে- আগরওয়াল লির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সম্পর্কের সময় তাকে দামি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু সম্পর্কটি তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তার কাছ থেকে এর মূল্য আদায় করতে চেয়েছিলেন।


রায়ে আরও বলা হয়, আগরওয়াল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং তার জীবনযাপনে ব্যয়ের প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে লি তার মতো আর্থিক সামর্থ্যের অবস্থানে ছিলেন না।


আদালত আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন খুদে বার্তায় লি আগরওয়ালের দামি উপহারের প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কখনো কখনো তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব উপহার নিতে অনীহাও দেখিয়েছিলেন।


রায়ের শেষাংশে বিচারক ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রিভের একটি বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন। ‘প্রেম ঘৃণায় পরিণত হলে স্বর্গেও তার মতো তীব্র কোনো রোষ নেই; আর অবহেলিত নারীর ক্ষোভের মতো ভয়ংকর কোনো ক্রোধ নরকেও নেই।’-ওই পঙ্‌ক্তির পর বিচারক মন্তব্য করেন, এমন আবেগ শুধু কোনো একটি লিঙ্গের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।


সিঙ্গাপুরে প্রেম ও প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে আদালতে এমন মামলা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আরেক সিঙ্গাপুরের নাগরিক এক নারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন। তার দাবির পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি। ওই নারী তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।


কে কাওশিগান নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, ওই নারীর প্রত্যাখ্যানের কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরের আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন। পরে ওই নারীও কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। নিজেকে কথিত হয়রানি থেকে রক্ষায় আইনি লড়াই চালাতে যে অর্থ খরচ হয়েছে, তা ফেরত চেয়েছিলেন তিনি। 


সূত্র: বিবিসি


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

ব্রিক্‌স সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আজ শুক্রবার ভোরে দিল্লির পালাম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে অবতরণ করে পুতিনের বিমান। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর সঙ্গে আসা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ।


নয়াদিল্লির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিন। তিনি বার্ষিক ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। এদিকে আগামীকাল শনিবার সম্মেলন শুরুর আগে আজ শুক্রবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন। দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।


এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভারতের সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন প্রকল্পসহ কৌশলগতভাবে নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। 


এর আগে ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ২৬তম ‘শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ (এসসিও)-এর শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল মোদির। সেই বৈঠকে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্রিক্‌সের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। 


বৈঠকের পর মোদি জানিয়েছিলেন, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিক্‌স শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে ভারত।


অন্যদিকে আজ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদির।


নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৮তম ব্রিক্‌স সম্মেলন। চলবে রোববার পর্যন্ত। পুতিন ছাড়াও এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজশকিয়ানসহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। 


সম্মেলন শুরুর আগে আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রিক্‌স নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আগামী কয়েকদিন বিশ্বের নানা প্রান্তের রাষ্ট্রপ্রধানেরা ব্রিক্‌স সম্মেলনের জন্য সমবেত হবেন। আমি আশাবাদী, এই সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিবাচক এবং অর্থপূর্ণ আলোচনা হবে। বিশ্বের কল্যাণের বিষয়টিও এখানে স্থান পাবে।’ 


খবর-এনডিটিভি 


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

সাত বছর পর বিক্রস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 


ধারণা করা হচ্ছে- এতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি আসতে পারে।


১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর মোদির চীন সফরের পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে গতি আসে। চলতি মাসে কিরগিজস্তানে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শি জিনপিংয়ের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎও হয়েছে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই নেতা মনে করেন- ভারত ও চীন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’। পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ তৈরি করে বলে মনে করেন তারা।


ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামীও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ উদীয়মান অর্থনীতি ভারত ও চীনের স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। এ সম্পর্ক এশিয়া ও বৃহত্তর বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।


সীমান্ত নিয়ে আলোচনা


মোদি-শি বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ছাড়া ভারত-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।


২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চীনের সেনাদের সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরে কাজানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আবার শুরু করার বিষয়ে সমঝোতা হয়। 


পূর্ব লাদাখে সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে বিরোধের কিছু বিষয় সমাধানের পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোয়।


সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার বিষয়েও তাদের কাজ করার কথা রয়েছে।


গত মাসে বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকেও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বৈঠকের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে আলোচনা হয়।


বাণিজ্য ঘাটতিও আলোচনায়


চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়লেও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। শি জিনপিংয়ের সফরে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রেকর্ড ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে রেকর্ড ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর এই ঘাটতি ছিল ৯৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।


ভারত চীনের বাজারে নিজেদের পণ্যের জন্য আরও বেশি সুযোগ চায়। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও জোর দিতে পারে নয়াদিল্লি।


চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের সাংবাদিক হুয়াং ইউ বলেন, শির সফর দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তার ভাষ্য, বড় একটি চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শির সঙ্গে নয়াদিল্লিতে আসছে। চীনা কোম্পানিগুলো ব্রিকসের দেশগুলোতে ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে।


সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল আবার শুরু করেছে। চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করেছে ভারত।


ছয় বছর বন্ধ থাকার পর এ বছর ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্যও আবার শুরু হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে এই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।


সিকিমের নাথুলা পাস দিয়েও ছয় বছর পর সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথ পুনরায় চালু হওয়াকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আরেকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সূত্র: এনডিটিভি


যুক্তরাষ্ট্রে গৃহবন্দিত্ব চাইলেন মাদুরোর স্ত্রী ফ্লোরেস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০২ পিএম

হৃদরোগের অবনতির কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফেডারেল হেফাজত থেকে মুক্তি চেয়েছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো। 


বিচার শুরুর আগ পর্যন্ত তাকে ম্যানহাটনের একটি বাসায় গৃহবন্দি রাখার অনুমতি দিতে বিচারকের কাছে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এর আগে বুধবার আদালতে দেওয়া আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলা থেকে তাকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। একই অভিযানে তার স্বামী ও ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকেও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়।


আইনি আবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে আটক হওয়ার আগে ফ্লোরেস শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করতেন না। শুধু হৃদযন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যা, মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপস নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার একটি ইনজেকশন নিতেন তিনি।


তবে বর্তমানে তার চার ধরনের ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সম্ভাব্য হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তিনি সবসময় নাইট্রোগ্লিসারিন সঙ্গে রাখছেন। চিকিৎসকেরা তার হৃদ্‌যন্ত্র পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকার সময় গত ২৯ জুলাই ফ্লোরেসের ছোট ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে বাইরের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর তারা এমন আশঙ্কা করছেন। তার মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপসের জন্য যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।


ফ্লোরেসের আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়ার পর থেকে তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় মাসিক ইনজেকশনটি পাননি। এর পরিবর্তে তাকে বেবি অ্যাসপিরিন, স্ট্যাটিন, ডিলটিয়াজেম এবং বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।


ভবিষ্যতে তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। আইনজীবীরা বলেছেন, এমন চিকিৎসা হলে সুস্থ হওয়ার জন্য ফ্লোরেসের পর্যাপ্ত সময় এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন হবে। তবে আবেদনে ফ্লোরেসের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে চিকিৎসকরা তাকে ‘চমৎকার চিকিৎসা’ দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, একটি আটককেন্দ্রে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ পাওয়া কঠিন।


আইনজীবীরা ফ্লোরেসকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার থেকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের আওতাধীন একটি বাসায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন। আগামী জুনে ওই আদালত জেলাতেই ফ্লোরেস ও মাদুরোর বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


গৃহবন্দিত্বের আওতায় ফ্লোরেসকে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র নজরদারিতে রাখা হবে। আদালত ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। 


তার বাসায় ভিডিও নজরদারি এবং ফোনকল রেকর্ড করার ব্যবস্থাও থাকবে বলে আবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ফ্লোরেসের আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বিচারক অ্যালভিন কে. হেলারস্টেইন।


৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস এবং ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোকে গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে তাদের বাড়ি থেকে অপহরণ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে করা মামলায় দুজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। 


ফ্লোরেস ২০১৩ সালে মাদুরো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করেন। 


এর আগে তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএসইউভি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং চার বছরের বেশি সময় জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।


মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারকারীদের পাঠানোর অভিযোগ করেছিলেন। মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা


সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাভলোহরাদ শহরে একটি শপিং মলে রুশ ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৭ জন। আহতদের মধ্যে আটজন শিশু। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় এ হামলা হয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। 


দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি বলেন, রাস্তায় যখন মানুষের ভিড় ছিল, তখন শপিং মলটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে দোকানপাট ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকসান্দর হানঝা জানান, হামলায় ৬৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন শিশু। হামলার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। 


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শপিং মলের আশপাশে অবস্থান করা মানুষকে লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করেছে।


ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা এই হামলাকে রাশিয়ার ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার অভিযোগ, বেসামরিক মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের জনগণকে ক্লান্ত করে যুদ্ধ বন্ধে ছাড় দিতে বাধ্য করতে চায় রাশিয়া।


পাভলোহরাদ দনিপ্রো শহরের কাছের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও সরবরাহকেন্দ্র। 


এর আগেও শহরটিতে রুশ হামলা হয়েছে। গত মাসে শহরের কয়েকটি গুদামে হামলায় দুজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।


সম্প্রতি ইউক্রেনের আরও কয়েকটি শপিং মল রুশ হামলার লক্ষ্য হয়েছে। বুধবার সুমি শহরের একটি শপিং মলে রুশ হামলায় দুজন নিহত ও ২০ জন আহত হন বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সুমিতে রুশ বিমান হামলায় আরও আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু।


সোমবার জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি শপিং মলও রুশ হামলায় প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে এর মালিকপক্ষ জানিয়েছে। তবে হামলার সময় সেটি বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনের হামলায় হতাহতের কথা জানিয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবার রাতে সোচি শহরের উপকূলে ইউক্রেনের সমুদ্রপথে চালানো ড্রোন হামলায় ২৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশু। 


সূত্র: বিবিসি