বেঙ্গালুরুর বিক্ষোভে সিজেপির নেতাদের সঙ্গে ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজ
ভারতের নয়াদিল্লিতে আজ শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রেশার গ্রুপখ্যাত তরুণদের দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দেশের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার সিজেপি সমর্থক আটক হয়েছে। তারপরও বিক্ষোভে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছেন যুব আন্দোলনটির নেতারা। বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দিল্লির পুলিশ ও প্রশাসন। একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৫০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছে দিল্লি পুলিশ। এছাড়া, সারাদেশ থেকে দিল্লিগামী একাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ককরোচ নেতৃস্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হলেও বিক্ষোভ পূর্বানির্ধারিত সময়েই হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, ভোটার তালিকার বিতর্কিত সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। দেশজুড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় নির্বাচন কর্মকর্তা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে যুব আন্দোলনটি, বিরোধী দলগুলো এবং তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে গতকাল শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন, আমি শনিবার দিল্লিতে পৌঁছাব এবং যন্তরমন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাব।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের তরুণরা এখন আর আপনাকে ভয় পায় না।’
আন্দোলনের সঙ্গে ইতোমধ্যে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠী, অভিনেতা প্রকাশ রাজের মতো পরিচিত মুখ যোগ দিয়েছে। এতে আন্দোলন ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক বার্তায় রাঠী নিশ্চিত করেছেন, আজ দিল্লির বিক্ষোভে তিনি উপস্থিত থাকবেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে হওয়া বিক্ষোভেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবর বলছে, ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন জেন-জিদের মধ্যে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
২০২৪ সালে ভারতে ভোটার ছিল অন্তত ৯৬ কোটি মানুষ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রখ্যাত এই দেশটিতে গত বছর থেকে ভোটার সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের নির্বাচনের আগে ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হয়। পরে তা অন্যান্য রাজ্যে সম্প্রসারিত হয়। বহু মানুষ এর আওতায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। পরে জানা যায়, সংশোধনের অনেক সিদ্ধান্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার একাই নিতেন। এ বিষয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের কথা আমলে নিতেন না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্যটি উঠে আসার পরপরই তোলপাড় শুরু হয় ভারতে। বিরোধী দলসহ সিজেপি নেমে আসে রাস্তায়।
বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, প্রায় দুই দশক পর ভোটার তালিকার এই সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যাতে বিজেপি সুবিধা পায়।
বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি: পুলিশ
এদিকে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুলিশ জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সিজেপি অনুমতি নেয়নি। বিক্ষোভকারীরা নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রয়টার্সের হাতে আসা একটি সরকারি নথি অনুযায়ী, রাজধানীতে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমনকি ভারত-শাসিত কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকেও পুলিশ সদস্যদের দিল্লিতে আনা হচ্ছে।
সিজেপি জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিভিন্ন রাজ্যে তাদের হাজার হাজার সমর্থককে আটক করছে পুলিশ। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবি কিংবা এক্সে প্রকাশিত ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিবিরোধী এক ডজনেরও বেশি দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল কংগ্রেস। বিরোধী জোট শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।
ট্রেন বাতিল, মেট্রোর কিছু প্রবেশপথ বন্ধ
আজ শনিবার নয়াদিল্লিগামী কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য ‘বিশৃঙ্খল জনতা’র আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশ মেট্রো ট্রেনের সংখ্যাও কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে। কিছু মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও বন্ধ রাখা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ গতকাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, শনিবার ভোর থেকে নয়াদিল্লিতে যেসব মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের পৌঁছানোর কথা ছিল, সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। এর মধ্যে শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসও রয়েছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুক্রবার শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে প্রচেষ্টার জন্য সাবেক আইসিসি বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এই ঘোষণা আসে। ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটিকে একটি ‘বিপথগামী’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে ‘ধ্বংস’ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আইসিসির সাথে মার্কিন সংস্থাগুলোর লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে মার্কিন সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।’
প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি বলেছে, এই পদক্ষেপগুলো হলো আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি শৃঙ্খলার ভিত্তির ওপর একটি আক্রমণ। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আইসিসির ১৭ জন বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবে এই পদক্ষেপটি খোদ আদালতকেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে এবং আর্থিকভাবে এর কাজ করার সক্ষমতা ধসিয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ কার্যকর হওয়ার আগে ছয় মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড (ছাড়ের সময়) দিয়েছে, যার মানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এর কার্যক্রমের জন্য অর্থ প্রদান চালিয়ে যেতে পারবে। ওয়াশিংটন বলছে, মার্কিন উদ্বেগ মোকাবিলার সমাধান নিয়ে আলোচনা করার জন্য দেশগুলোকে সময় দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি বিচারের প্রতি আমাদের সম্মিলিত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক মারাত্মক আঘাত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের কাজে আমাদের মূল স্তম্ভ হলো আইসিসি। যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান এবং নেদারল্যান্ডস আইসিসির প্রতি তাদের ‘অব্যাহত এবং অটল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করার জন্য ২০০২ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এর সদস্য দেশের সংখ্যা ১২৫টি।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, আইসিসি এমন ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যারা গ্লোবালিস্ট (বিশ্বায়নবাদী)। এরা মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্যদের কর্মকাণ্ড নিয়ে অতীতের একটি তদন্তের কারণে তারা ক্ষুব্ধ, যা আদালত ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণেও তারা ক্ষুব্ধ। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলোতে এমন কথা বলা হয়নি, এই পদক্ষেপগুলো তুলে নেওয়ার আগে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।
রুবিও বলেছেন, ট্রাম্প আইসিসিকে আমেরিকানদের বিচার করতে দেবেন না। তিনি আরও যোগ করেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে ধ্বংস করে দেব।’ মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আইসিসিকে ব্যাংকিং বা সফটওয়্যারের মতো পণ্য বা পরিষেবা প্রদানে বাধা দেবে।
রুবিও বলেন, আইসিসি এবং এর সদস্য দেশগুলো মার্কিন উদ্বেগের সমাধান করবে এমন আশায় ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেরি করেছিল। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশগুলোকে একটি সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দিতেই এই পদক্ষেপগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসান
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। ওই কর্মকর্তা জানান, ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি মানুষকে বোঝাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি জনসমক্ষে দেখানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল মালিক হাসান দাবি করেছিলেন, মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে কার্যকরের পরিকল্পনার কথা বলছেন।
হেগসেথ জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হামলাটি যে দিন, সময়ে ও স্থানে ঘটেছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন, আনুমানিক সময় ও স্থানও তার সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘খুবই সহজ সিদ্ধান্ত’।
হেগসেথ আরও বলেন, ‘মানুষ যেন এটি দেখতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমটি জনসমক্ষে হয়, তা আমরা নিশ্চিত করব। কারণ মানুষকে বুঝতে হবে, এ ধরনের কাজের জন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’
এর আগে গত সোমবার পেন্টাগন জানায়, মেজর নিদাল মালিক হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কখন ও কোথায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর সচিবকে দেওয়া হয়েছে।
নিদাল মালিক হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার একজন মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গুলি চালান। এতে ১৩ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।
হামলার পর হাসান দাবি করেন, মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। একই সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা হবে এটি।
নাভি পিল্লাই
শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি জানিয়েছে, সর্বজনীন আইনি নীতির প্রতি অঙ্গীকার ও দৃঢ় নৈতিক অবস্থান পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেলে নরওয়ের অসলোতে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের শুরু হয়। পরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
নাভি পিল্লাই বিভিন্ন রাষ্ট্র ও জাতীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বারবার আইনের শাসন মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
কানাডার পতাকা
কানাডায় শরণার্থী বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার অনলাইন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে দেশটির সরকার। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (আইআরসিসি) পোর্টালে নতুন আবেদনপ্রক্রিয়া চালু হবে। এতে অসম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগে দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।
কানাডার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার আগে বর্তমান পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে চাইলে ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে (কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় সময়) আবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া হলে নতুন পদ্ধতির কারণে অতিরিক্ত তথ্য দিতে হবে না, যদি না আইআরসিসি আলাদাভাবে তা চায়।
যারা আইআরসিসির অনলাইন পোর্টালে শরণার্থী আবেদনের কাজ শুরু করেছেন, কিন্তু ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে তা জমা দিতে পারবেন না, তাঁদের নতুন পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে আবেদনকারীদের নতুন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগের দেওয়া তথ্যগুলো পর্যালোচনা করতে হবে।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা আবেদন জমা দেবেন, তাদের শুধু নতুন পদ্ধতি চালুর কারণে আবার আবেদন করতে হবে না। তবে প্রয়োজন হলে ইমিগ্রেশন বিভাগ অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারবে।
কানাডার সীমান্তে দেশটির বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) মাধ্যমে আবেদন শুরু করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন নিয়ম রয়েছে। তারা আবেদনটি আইআরসিসির পোর্টাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দিলে নতুন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।
আর যাদের সীমান্তে আবেদন শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোর্টাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আবেদন যুক্ত করা হয়নি, তাদের আগে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষিত না-ও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিজের ও পরিবারের তথ্য আবার দিতে হবে।
কানাডার শরণার্থী ও অভিবাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গত ২৬ মার্চ বিল সি-১২ রাজকীয় সম্মতি পাওয়ার পর আইনে পরিণত হয়। আইনটির লক্ষ্য শরণার্থী আবেদনপ্রক্রিয়া আধুনিক করা, যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়ম পরিবর্তন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা।
নতুন অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কানাডার অভিবাসন বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন পদ্ধতি চালুর ফলে অসম্পূর্ণ আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হলেও আগে থেকে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে-যদি আবেদনটি আইআরসিসির পোর্টালে শুরু করা হয়ে থাকে।
সূত্র: ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)।
ছবি : সংগৃহীত
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পেতে রাখা সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে এবং এরই জেরে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের সতর্কতার মধ্যেই বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটল।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পেতে রাখা সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে। আর এর জেরেই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি অজ্ঞাতনামা সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটির দক্ষিণ অংশে এসব বিস্ফোরণ ঘটে।
তবে বিস্ফোরণের সংখ্যা, কোন কোন ট্যাংকার এতে জড়িত, হতাহতের সম্ভাব্য সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আল জাজিরা বলছে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এই বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। ইরান এরই মধ্যে তেহরানের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে জাহাজ চলাচল না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশ ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো সময়ই হামলা চালানো হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।
কংগ্রেসে নিজেদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই এখন দলটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তুষ্ট। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় চারজনের একজন ট্রাম্পের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়ই মার্কিন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো নতুন সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, আমরা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করছি।
ট্রাম্প জানান, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে।
পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যেকোনো সময়েই আমরা ইরানে কোনো হামলা চালাব না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানান, সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রস্তাবের শর্তগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেহরান তাদের সুনির্দিষ্ট জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে।