ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গু মোকাবেলায় ভারত শিগগিরই নতুন একটি টিকা পেতে যাচ্ছে। ভারতের ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ ও তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল এ বিষয়ে একটি চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় ভারতে কিউডেঙ্গা টিকার প্রচার ও বিতরণ করা হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ভারতে কিউডেঙ্গা টিকা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতে ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। ভারতে বিশেষ করে বর্ষাকাল ও বর্ষার পর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। ভারতে ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এডিস মশার মাধ্যমে মূলত ডেঙ্গু ছড়ায়। জমে থাকা পানিতে এই মশা বংশবিস্তার করে।
বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
কিউডেঙ্গা কী?
কিউডেঙ্গা হলো জাপানের ওষুধ কম্পানি তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালের তৈরি একটি ডেঙ্গু টিকা। এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি। টিকাটি ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
কিউডেঙ্গা টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয়। প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিলিটার। প্রথম ডোজ দেওয়ার তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। এই টিকার একটি বিশেষ দিক হলো, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও বা ডেঙ্গু ভাইরাসের সংস্পর্শে না এলেও টিকা দেওয়া যায়। তাই টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না।
ভারতে কবে পাওয়া যাবে কিউডেঙ্গা টিকা?
ভারতে কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু টিকা ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিউডেঙ্গা টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে। এদিকে ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ ও তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালের চুক্তির ফলে ভারতে কিউডেঙ্গা টিকার প্রচার ও বিতরণ করা হবে।
টিকাটি কতটা কার্যকর?
টিকাটি নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে। সূত্রটিতে বলা হয়েছে, একটি শেষ পর্যায়ের পরীক্ষায় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার এক বছর পর কিউডেঙ্গা নিশ্চিত ডেঙ্গু রোগীদের বিরুদ্ধে ৮০.২ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে।
টিকাটি ১৮ মাস পর ডেঙ্গু-জনিত হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেও ৯০.৪ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে, যা গবেষণাটির একটি গৌণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো সূত্রে উল্লিখিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো গবেষণায় অংশগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর ওপর টিকার কার্যকারিতা বর্ণনা করে।
তবে এই ফলাফল নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাওয়া গেছে। তাই সবার ক্ষেত্রে টিকাটি একই মাত্রায় কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই তথ্য থেকে দেওয়া যায় না।
ভারতের ডেঙ্গু টিকা কেন প্রয়োজন?
ভারতসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ডেঙ্গু এখনও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণত বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এ সময় জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বোর্ন ডিজিজেস কন্ট্রোলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৯৫ জন মারা যান।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ভারতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনও একটি বড় সমস্যা। তাই মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার মতো কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই মশা নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের পাশাপাশি ডেঙ্গুর টিকা রোগ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে। তবে শুধু টিকা নিলেই হবে না। জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং মশার বংশবিস্তার কমানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও চালিয়ে যেতে হবে।
কিউডেঙ্গা টিকার ভারতে আসা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি দুই ডোজে দেওয়া হয় এবং দুই ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান থাকে।
তাকেদা জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা বিশ্বব্যাপী বছরে ১০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। কম্পানিটি আরো জানিয়েছে, গত ২০ বছরে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার মতো পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ সালে কিউডেঙ্গা ভারতের বাজারে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হতে পারে। তবে টিকা বাজারে আসার আগ পর্যন্ত মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায়।
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার গঠনের চেষ্টা চালালেও তাকে পাশ কাটিয়ে আইজেনকটকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এল।
প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় আইজেনকটকে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেবেন প্রেসিডেন্ট।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। নির্বাচনে আইজেনকটের চারদলীয় জোট ৪৮টি এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন।
নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এদিকে নেতানিয়াহুও সরকার গঠনের জন্য জোটের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।বর্তমানে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটের পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকটের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার অবস্থানে পৌঁছেছে। যদিও এসব দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে নীতিগত অবস্থান, মন্ত্রিত্ব বণ্টন ও জোটের শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে হবে তাঁকে। পাশাপাশি সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
তবে আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নেসেটের অন্য কোনো সদস্যকে একই দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ওই প্রার্থীও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। তাঁকে সরকার গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে।
তৃতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং দেশটিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, এ নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। এর আগপর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ পরিচালনা করবে। সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।ইসরায়েলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রায় ১৯ বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত তিন দশকে একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এই নেতা। এবারের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটের হাতে যাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন।হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসবাহি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলাসবাহি জানান, সানার পূর্বাঞ্চলে বানি হাশিশ জেলার আল শারিয়াহ গ্রামে কয়েক দফা বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
তার দাবি, হামলায় গ্রামের একাধিক বাড়িঘর ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্সকর্মী এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।আলাসবাহি আরও জানান, হামলার পর উদ্ধার তৎপরতা ও হতাহতের তথ্য হালনাগাদ করা হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়ায়। আহত অবস্থায় অন্তত ৩৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক তৎপরতার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এসব এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শোনা বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সম্পর্ক নেই।এদিকে রোববার ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজ দুটি ‘অনুমোদনহীন পথে’ চলাচলের চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
তবে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের সঙ্গে তেলবাহী জাহাজ দুটির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কয়েক দিন আগেই দ্বীপটিতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই হামলা ছিল সীমিত পরিসরের। এর মাধ্যমে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএমডব্লিউর পাশে সামসুদ্দিন মিদ্যার ও তার ছেলে তালহা। ছবি: সংগৃহীত
প্রতীকী ছবি
সৌদি আরবে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। জেদ্দা থেকে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাতজন বাংলাদেশের একাধিক পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। শনিবার ভোরে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে বাংলাদেশিদের বহনকারী একটি বাসকে পেছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এতে ঘটনাস্থলেই নারী, শিশুসহ সাতজন প্রাণ হারান। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের সবাই আল আবির কোল্ড স্টোরস ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে কর্মসূত্রে সম্পৃক্ত পরিবারের সদস্য।
প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
এ ছাড়াও ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী ও মক্কায় কর্মরত স্টোরকিপার আলমশাহ ও তার এক মাস বয়সী কন্যা সন্তানও রয়েছেন। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান, কারণ ও নিহতদের গ্রামের বাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগের কথা ভাবছেন। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করতে ইরান যুদ্ধসহ প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন তিনি। সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচজন মন্ত্রী পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আলোচনা চলছে। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র।
৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সবশেষ যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ২৫৩টি। আর রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ১৬০টি। উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা পেয়েছেন যথাক্রমে ৫৪ ও ৪৪ আসন।
রুবিওর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার একটি গুঞ্জন উঠেছিল। কারণ, ইরান যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এ যুদ্ধই যে রিপাবলিকানদের থেকে ভোটারদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, এমনকি তা ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন। যদিও হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
রুবিওর পদত্যাগের বিষয়ে সূত্র বলেছে, ২০২৮ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হওয়ার দৌড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এমন পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ থেকে দূরত্ব রাখা এবং এর দায় ট্রাম্পের ওপর চাপানো রুবিওর জন্য এখন খুবই দরকার। সেদিক দিয়ে তাঁর পদত্যাগ পুরোপুরি যৌক্তিক।
‘কেউই সরকারে থাকতে চান না’
সূত্রগুলো বলছে, শুধু রুবিওই নন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির এই হতাশাজনক ফলের পর ট্রাম্পের বর্তমান মন্ত্রিসভার মোট চার-পাঁচজন সদস্য পদত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই শীর্ষ কূটনীতিক পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন কি না, এমন তথ্য জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইনজেল বেশ আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন। তিনি ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে নিয়ে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন দ্য ইনডিপেনডেন্ট–এর বিরুদ্ধে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ পুরোপুরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র। সূত্রের ভাষ্য, মানচিত্রে ইরান কোথায়, মার্কিনরা তা–ও বলতে পারে না। তাঁরা এই যুদ্ধটাও বোঝেন না। জ্বালানি তেলের দাম মানুষকে সত্যিই খুব খেপিয়ে তুলেছে। সূত্রের মতে, ‘ডেমোক্র্যাটরা একবার হাউস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিলে আমরা শুধুই অভিশংসনের উদ্যোগই দেখতে পাব। এ অবস্থায় আর কেউই সরকারে থাকতে চান না।’
যুক্তরাজ্য সরকারের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র বলেছে, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর মার্কো রুবিও কী করেন, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তিনি যে পদে বহাল থাকবেন, তা অসম্ভব মনে হচ্ছে।’ অন্য এক রিপাবলিকান সূত্র বলেছে, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই হারের পর রুবিও আর থাকছেন না। তাঁদের মধ্যে প্রায় চার বা পাঁচজন ইস্তফা দিয়ে সরে পড়বেন।’