জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় নর্থ রাইন–ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের গেলসেনকিয়রখন শহরের একটি ব্যাংকের ভল্টে ঢুকে নগদ অর্থ, সোনা ও গয়না মিলিয়ে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা) লুট করেছে একটি ডাকাত দল।
মঙ্গলবার জার্মান পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে জড়িতরা পেশাদার ডাকাত এবং বড়দিনে দীর্ঘ ছুটিকে কাজে লাগিয়ে ও বহুদিন ধরে পরিকল্পনা করে ব্যাংকে ভেতরের খুঁটিনাটি জেনেই এই ডাকাতি করেছে। গত সপ্তাহে বড় উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ থাকায় ডাকাতরা কয়েক দিন ধরে ভেতরে অবস্থান করে লুটপাট চালিয়ে থাকতে পারে। সোমবার ভোরে একটি অগ্নি–সতর্কতা সংকেতের পর ঘটনাটি ধরা পড়ে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে একটি বিশাল ড্রিল মেশিন দিয়ে ব্যাংকের পার্কিং গ্যারাজ থেকে ভল্ট পর্যন্ত গর্ত খুঁড়ে টানেল তৈরি করে ব্যাংকে ঢুকেছিল ডাকাতরা। ডাকাতি করে সেই পথেই আবার বেরিয়ে গেছে তারা। প্রায় তিন হাজার সেফ ডিপোসিটের বাক্স খুলে তার মধ্যে থেকে অর্থ, গয়না এবং সোনা নিয়ে পালিয়েছে তারা। প্রতিটি বাক্সের গড় বিমা দশ হাজার ইউরো হিসেব করে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরোর ডাকাতি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পর ব্যাংকের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ভিড় জমে। নিরাপত্তাজনিত কারণে শাখাটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হটলাইন চালু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খান
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। দলটির কেন্দ্রীয় পাঞ্জাব শাখা দাবি করেছে, পুলিশ তাকে আটক করে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক দলীয় কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পিটিআই।
পিটিআই কেন্দ্রীয় পাঞ্জাবের মুখপাত্র অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার মুশতাক আলিমা খানের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলের ওপর চলমান দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে।
মুশতাকের দাবি, আলিমা খানকে গ্রেপ্তারের পর অজ্ঞাত কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সরকার গণ-অভ্যুত্থানের আশঙ্কা করছে।
পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পিটিআই-সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যক্তিগত কাজে ক্যানাল রোডের বাসা থেকে জিমখানা ক্লাবের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ আলিমা খানের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে তাঁকে, তাঁর চালক ও গাড়িটিকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোহরের নামাজের পর দুপুর ১টা ১৫ থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে আলিমা খান বাসা থেকে বের হন। পরে তাঁকে লিটন রোডের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর তাঁকে এমপিও (এমপিও) আইনের আওতায় কোট লাখপত কারাগারে স্থানান্তরের কথা ছিল বলেও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। তবে আলিমা খানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের ঘোষিত ‘লং মার্চ’ সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
পিটিআই জানিয়েছে, খাইবার-পাখতুনখোয়া (কে-পি) থেকে একটি কেন্দ্রীয় কাফেলা নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও দলীয় কাফেলা এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
পরিকল্পিত কর্মসূচি নিয়ে এরই মধ্যে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তিনি বলেছেন, এ ধরনের কোনো পদযাত্রাকে ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
আলিমা খানের গ্রেপ্তারের অভিযোগের বিষয়ে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী খানও নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
গোহর আলী খান দাবি করেন, পিটিআইয়ের পদযাত্রা শান্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিক হবে এবং দল কোনো সংঘাত বা সহিংসতা চায় না। সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াই দলের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আলিমা খানকে গ্রেপ্তার বা এমপিও আইনের আওতায় আটক রাখা হলে তা উত্তেজনা বাড়াবে। দ্রুত তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোহর বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দল শিগগিরই পরবর্তী কর্মপন্থা ঘোষণা করবে।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সম্প্রতি সানায় সৌদি জোটের বিমান হামলা এবং ইয়েমেনজুড়ে ৩০০টিরও বেশি হামলার জবাবেই তারা বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে এই সমন্বিত আক্রমণ চালিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে ধ্বংস করেছে। তবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের একটি জ্বালানি ট্যাংকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়, যা কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। এর পাশাপাশি বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে চালানো আরও বেশ কিছু হামলা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
হামলা ও পাল্টাহামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বেসামরিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে হুতিদের হামলা দ্রুত সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে তুলতে পারে উল্লেখ করে মার্কিন নাগরিকদের ওই অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের লোগো।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদে প্রথমবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ওয়াশিংটন এমন সতর্কবার্তা দিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেরিল্যান্ডে অবকাশযাপন সংক্ষিপ্ত করে হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন। যদিও এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর পর অবকাশ সংক্ষিপ্ত করার ঘটনা ঘটলো। শনিবার সৌদির রাজধানীতে দুই দফায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এএফপির সাংবাদিকেরা বিমানবন্দরের কাছে তেল কোম্পানি আরামকোর লোগোযুক্ত একটি ট্যাংকে আগুন জ্বলতে দেখেছেন।
এ ঘটনার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ‘সংঘাত দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করার সম্ভাবনা আছে।’ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদেরকে এই অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়টিও পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানগুলোর মাধ্যমে ইরান সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে। সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে কয়েক’শ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে শিশুখাদ্য পণ্য ন্যান এক্সেলা প্রো স্টেজ-১ ও ল্যাকটোজেন প্রো-১–এ পরীক্ষায় বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়ার পর নেসলে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।
ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানায়, খাদ্য নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন বিধি না মানার অভিযোগে নেসলে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও পোস্টে সতর্ক করা হয়েছে।
মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বলছে, পণ্য দুটির প্রচারে এমন কিছু দাবি করা হয়েছে, যা ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিজ্ঞাপনে বায়োটিনের যে পরিমাণ বলা হয়েছে, বাস্তবে তা মেলেনি।
তবে নেসলে ইন্ডিয়া বলেছে, তাদের পণ্যগুলো প্রযোজ্য সব বিধিবিধান মেনে তৈরি ও বাজারজাত করা হয়।
এক বিবৃতিতে এ কোম্পানি বলেছে, ন্যান এক্সেলা প্রো ও ল্যাকটোজেন প্রো এবং এসব পণ্যের মোড়কের তথ্য খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদিত। কর্তৃপক্ষের নোটিসের জবাবে মোড়কে থাকা বক্তব্যগুলো নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। এসব বক্তব্য তথ্যভিত্তিক এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে সমর্থিত বলে দাবি করেছে নেসলে।
এ কোম্পানি আরও বলেছে, প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সব বিধিবিধান ও মোড়কের তথ্যসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে। ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়াতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথাও বলেছে তারা।
শিশুখাদ্যের বিজ্ঞাপনের দাবি নিয়ে আপত্তি
খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলছে, ন্যান এক্সেলা প্রো স্টেজ-১ ও ল্যাকটোজেন প্রো-১–এর পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন তারা পরীক্ষা করে দেখেছে। ন্যান এক্সেলা প্রো স্টেজ-১-এর ক্ষেত্রে ‘৫ ধরনের মানবদুগ্ধ-শর্করা’ এবং ‘ছানার দুধের আমিষ’–সংক্রান্ত দাবি খতিয়ে দেখা হয়। আর ল্যাকটোজেন প্রো-১-এর ক্ষেত্রে ‘ছানার দুধের আমিষ সহজে হজম হয়’—এমন দাবির বিষয়ে পরীক্ষা চালানো হয়।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এসব দাবি ২০২০ সালের শিশুপুষ্টিবিষয়ক খাদ্যসংক্রান্ত খাদ্য নিরাপত্তা ও মান বিধিমালার একটি নির্দিষ্ট বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই বিধিতে শিশুখাদ্যের বিক্রি বাড়াতে পারে এমন প্রচারমূলক দাবি বা উপকরণের ব্যবহার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৯৯২ সালের শিশুর দুধের বিকল্প, বোতল ও শিশুখাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি ধারার কথাও বলেছে কর্তৃপক্ষ। ওই আইনে শিশুখাদ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচাররে ‘মায়ের দুধের বিকল্প’ হিসেবে দেখানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে নেসলে ইন্ডিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার কথাও বলেছে মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। অনিয়মের অভিযোগে নেসলের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
বি-৭-এর পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন
নেসলে ইন্ডিয়ার তৈরি একটি দুধের গুঁড়ার নমুনা পরীক্ষা করে খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে জীবনীসত্তা বায়োটিন বা বি-৭-এর পরিমাণ নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পরে নমুনাটি পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। পুনঃপরীক্ষার জন্য নির্ধারিত পরীক্ষাগারেও দেখা যায়, নমুনাটিতে ২০২০ সালের শিশুপুষ্টিবিষয়ক খাদ্যসংক্রান্ত খাদ্য নিরাপত্তা ও মান বিধিমালায় নির্ধারিত বি-৭-এর মাত্রা পূরণ হয়নি।
খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন ও মোড়কের তথ্য নিয়ে ভারতে বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে বড় পরিসরে নজরদারির মধ্যে নেসলের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হল।
খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ অগাস্টে জানিয়েছিল, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, মিথ্যা দাবি এবং মোড়কের তথ্যে বিধি না মানার অভিযোগে গত কয়েক মাসে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে দেড় শতাধিক নোটিস দেওয়া হয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে নেসলে ইন্ডিয়া, পেপসিকো ও কোকা-কোলা ইন্ডিয়াও ছিল।
জুনে ম্যাগি নিয়েও নোটিস পেয়েছিল নেসলে
সাম্প্রতিক পদক্ষেপের আগে জুনে ম্যাগি নুডলসের একটি প্যাকেটে পোকামাকড়ের লার্ভা থাকার অভিযোগে নেসলে ইন্ডিয়াকে নোটিস দিয়েছিল খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।
ম্যাগিতে লার্ভা থাকার অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরুর পর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে নোটিসটি দেয়। নেসলে অবশ্য অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছিল। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে দেওয়া জবাবে তারা বলেছিল, অভিযোগটি একটি ‘যাচাই না করা অ্যাকাউন্ট’-এর ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার কাছ থেকে কোনো নমুনাও পাওয়া যায়নি।
নেসলে জানিয়েছিল, একই উৎপাদন-ব্যাচের একটি সংরক্ষিত নমুনা খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত এবং জাতীয় পরীক্ষাগার স্বীকৃতি সংস্থার স্বীকৃত একটি স্বাধীন পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। ওই পরীক্ষায় নমুনায় কোনো পোকামাকড়ের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও একেকটি ২০০০ পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের মোট ৬০ হাজার বোমা বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে কয়েক শ কোটি ডলারের একটি চুক্তি সই করছে দুই দেশ। আর মার্কিন করদাতাদের অর্থে বিশাল অঙ্কের এ চুক্তির ব্যয় মেটানো হবে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে মারাত্মক ও বিধ্বংসী এ যুদ্ধাস্ত্র ইসরায়েলের কাছে বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসকেও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কখনো একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক বোমা ইসরায়েলে পাঠায়নি। গাজায় প্রায় তিন বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অনবরত সহিংসতা ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের মধ্যেই এ বিশাল অঙ্কের অস্ত্র চুক্তির বিষয়টি সামনে এল। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ বাসিন্দা।
যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময় ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ এসব বোমা সরবরাহ করতে যাচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের নিজেরই অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের কারণে এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন প্রশাসন আসলে ইসরায়েলকে কোন ধরনের বোমা দিচ্ছে? মারণাস্ত্রগুলো দিয়ে ইসরায়েল নতুন করে কী ধরনের আগ্রাসন চালাতে পারে?
কোন ধরনের অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, সব সময়ই একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিদেশে অস্ত্র বিক্রি করা হয়। তবে প্রক্রিয়াধীন কোনো চুক্তির বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক নীতি অনুযায়ী কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার আগে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয় নিশ্চিত করে না বা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করে না।
তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর, ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা সরবরাহের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। সম্ভাব্য চুক্তির অধীন ২০ হাজার এমকে-৮৪ বোমা, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা ও বাংকার ধ্বংস করতে সক্ষম ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর বোমা ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশাল এ অস্ত্র চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮০ কোটি ডলার। এ ব্যয়ের সিংহভাগই মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ নামের বিশেষ কর্মসূচির আওতায়। এই ব্যবস্থায় ওয়াশিংটন মূলত তার নিজস্ব করদাতাদের তহবিল থেকে ইসরায়েলকে অর্থ দেয়, যাতে দেশটি সেই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে তিন ধরনের বোমা সরবরাহ করবে, তা আগেই বলা হয়েছে। বোমাগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক—
এমকে-৮৪
এটি মূলত মার্ক ৮০ সিরিজের বোমার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী। প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বা ৯০৭ কেজি ওজনের বোমাটি মূলত বড় বড় ভবন ও মাঝারি ধরনের সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে সর্বোচ্চ মাত্রার বিস্ফোরণ ঘটাতে তৈরি করা হয়েছে। এমকে-৮৪ যেখানে আঘাত হানে, সেখান থেকে শত শত মিটার দূর পর্যন্ত ভবন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারে। তবে বোমাটি সব সময় নিশানায় নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম নয়।
বিএলইউ-১১৭
এটিও প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা। দেখতে হুবহু এমকে-৮৪ বোমার মতো হলেও এর ভেতরে ভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়। এ বোমায় নিখুঁতভাবে নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তি যুক্ত করা যায়। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নিরাপদে রাখার জন্য এই বোমার গায়ে বিশেষ এক ধরনের তাপ প্রতিরোধী প্রলেপ দেওয়া থাকে।
আই-২০০০ পেনিট্রেটর
এ বোমা সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ নামে পরিচিত। প্রায় ২ হাজার পাউন্ডের এ শক্তিশালী মারণাস্ত্র মাটির নিচে বা কংক্রিটের অত্যন্ত শক্ত কোনো কাঠামো ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ বিশেষ সক্ষমতার কারণে এর বাইরের ধাতব আবরণ এমকে-৮৪ বোমার চেয়ে অনেক বেশি পুরু ও শক্ত হয়ে থাকে।
এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার কিছু সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। বিভিন্ন হামলায় অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে সে সময় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে সেই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি তুলে দেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি কংগ্রেসের পর্যালোচনা ছাড়াই ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন। এই মারণাস্ত্রের মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি শক্তিশালী বোমা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছে আরও ৬৬৭ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়।
ইসরায়েল আগে কখন এত ওজনের বোমা ব্যবহার করেছে
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং লেবাননে প্রায় চার দশক ধরে ২ হাজার পাউন্ডের এসব শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করে আসছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গাজায় পুরোদমে যুদ্ধ শুরু করার বহু আগে থেকেই এ ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্র ব্যবহার করছে দেশটি।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৮১ সালে ইরাকের বাগদাদের কাছে একটি পারমাণবিক চুল্লি ধ্বংস করতে ‘অপারেশন অপেরা’ নামে এক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল। সেই অভিযানে এসব বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ঠিক পরের বছর লেবানন ও সিরিয়াতেও এ ধরনের বোমাবর্ষণ করে তারা। এতে সে সময় বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছিলেন।
প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক গবেষণা ও বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট অন ডিফেন্স অলটারনেটিভসের (পিডিএ) তথ্য অনুযায়ী, একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বিস্ফোরণের স্থান থেকে ৩৫ মিটার বা ১১৫ ফুটের ভেতরের সবকিছু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, জখম কিংবা সম্পূর্ণ ঝাঁঝরা করে দিতে পারে। মাটির ধরনভেদে এ বোমা বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ৫০ ফুট (১৫ মিটার) চওড়া ও ১৬ ফুট (৫ মিটার) গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়।
গাজায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ইসরায়েল এসব বিধ্বংসী বোমা আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন ব্যবহার করছে।
২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর গাজা নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা ফেলেছিল ইসরায়েল। বোমায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোর মধ্যে এক বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়। ডজন ডজন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সে সময় জানিয়েছিল, ইসরায়েলের এ বোমা হামলা যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হতে পারে।
২০২৪ সালের নভেম্বরের দিকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ওয়াশিংটন এ আদালতের এখতিয়ার ও আইনি কর্তৃত্ব উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছে।
বোমাগুলো কতটা প্রাণঘাতী
আল-জাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় এমন অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির খোঁজ পেয়েছে উদ্ধারকারী দল, যাঁরা বোমার আঘাতে একপ্রকার হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন। হামলার পর ঘটনাস্থলে তাঁদের রক্তের দাগ বা মাংসের ছোট ছোট টুকরা ছাড়া মরদেহের আর কোনো অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্রের (যা সাধারণত ভ্যাকুয়াম বা অ্যারোসল বোমা নামে পরিচিত) ব্যবহারকে দায়ী করেছেন। ইসরায়েলের ব্যবহার করা শক্তিশালী এসব বোমা বিস্ফোরণের মুহূর্তে ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা তৈরি করতে সক্ষম।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ইসরায়েলি গোলাবারুদের বিশেষ রাসায়নিক মিশ্রণ মাত্র কয়েক সেকেন্ডে মানুষের শরীর পুড়িয়ে ছাইয়ে পরিণত করে। গাজায় মানুষের এভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সুনির্দিষ্ট কিছু মারণাস্ত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে এমকে-৮৪ এবং বিএলইউ সিরিজের বাংকারবিধ্বংসী বোমাগুলো অন্যতম।
রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি ফাতিগারভ বলেন, এ আধুনিক অস্ত্রগুলো শুধু মানুষকে মেরেই ফেলে না, বরং যেকোনো বস্তু পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এই বোমার আগুনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাসায়নিক মিশ্রণের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের গুঁড়া যোগ করা হয়। ফলে বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়, যা মানব শরীরকে মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যথেষ্ট।
৬০ হাজার বোমা সরবরাহ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ
এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হিসাব করলে, ২ হাজার পাউন্ডের ৬০ হাজার বোমার ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন। বিশাল ওজনের এত বোমা কতটা প্রলয়ংকরী হতে পারে, তা কিছু তুলনামূলক উদাহরণ দিলে সহজে বোঝা যাবে। এ ওজন নিউইয়র্কের বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের পুরো ইস্পাতের কাঠামোর ওজনের প্রায় সমান অথবা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মূল লোহার কাঠামোর চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি ভারী।
১৯৪৫ সালের মার্চে জাপানের টোকিওতে চালানো ভয়াবহ বোমা হামলায় এক রাতেই ৮০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেই রক্তক্ষয়ী হামলায় মোট ১ হাজার ৬০০ টনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। সে তুলনায় ইসরায়েলে প্রায় ৩৫ গুণ বেশি ওজনের বোমা পাঠানো হবে।
আরও বড় পরিসরে তুলনা করলে, এই ৫৪ হাজার ৪০০ টন বোমার ওজন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে জার্মানির বার্লিন শহরের ওপর ফেলা সব বোমার মোট ওজনের প্রায় সমান। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের মূল ভূখণ্ডে ফেলা মোট বোমার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ওজনের সমান যুদ্ধাস্ত্র এবার এককভাবে ইসরায়েলকে দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্র কি নিজেই গোলাবারুদ সংকটে
হ্যাঁ, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) একটি বিশেষ নজরদারি প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত সোমবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটনের গোলাবারুদের ভান্ডার, বিশেষ করে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে দেশটির সামরিক খাতের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংকট কমাতে তারা বর্তমানে অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি উৎপাদনের সময়সীমা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ উপাদান, যন্ত্রাংশ ও সুনির্দিষ্ট কিছু গোলাবারুদ নতুন করে মজুত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে চমৎকার ও উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করছে। এ আধুনিক অস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে থাকা আমাদের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে।’
বোমা বিক্রি নিয়ে প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক বোমা বিক্রিসংক্রান্ত খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির রাজনৈতিক মহলে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গাজায় নেতানিয়াহু সরকার যা করেছে, তা মূলত গণহত্যা। নতুন করে ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো হাজার হাজার বোমা লেবানন এবং সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতেও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে ব্যবহার করা হবে।
অন্যদিকে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এ অস্ত্র বিক্রি আটকে দিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ তুলেছেন, মার্কিন করদাতাদের টাকায় কেনা বোমাগুলো এমন একটি সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে, যার প্রধান (নেতানিয়াহু) একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনও এক পোস্টে লিখেছেন, মার্কিন নাগরিকেরা এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেননি এবং যুক্তরাষ্ট্র এটি সমর্থন করে না। তাঁদের করের টাকা ও মারণাস্ত্র হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে ব্যবহার করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান তিনটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প এ-সংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় পড়া তিনটি সংবাদমাধ্যম হলো-সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও।
হোয়াইট হাউসের এ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের আঘাতের সর্বশেষ নজির বলে মনে করছেন অনেকেই।
এ তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লেখা বা প্রতিবেদন করার সময় তাদের ক্রমাগত মিথ্যা ও মনগড়া লেখার সুযোগ থাকা উচিত নয়।’
ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তালিকাও আসছে।’
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প জানান, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়; বরং গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলোর কারণে তিনি তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘জনগণের বাড়িতে তাদের (ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে) ঢুকতে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’
এ সময় ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যম কোনগুলো। তখন ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্ট আর নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, সেটা প্রায় নিশ্চিত।
কেননা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ওই সংশোধনী নাগরিকদের মতপ্রকাশের এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অধিকার নিশ্চিত করেছে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অসাংবিধানিক। কেননা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীন হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল একটি ‘পাবলিক ফোরাম’ হিসেবে বিবেচিত। তাই কোনো সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে সেখান থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।
ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও গতকাল বিকেলে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস থেকে দায়িত্ব পালন করে যেতে দেখা গেছে। এক বিবৃতিতে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে তারা।
সংবাদমাধ্যটি বিবৃতিতে আরও জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের অধিকার আমাদের আছে। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন, তা কার্যকর করা হলে সেটি হবে এ মৌলিক ও সংবিধানে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে পলিটিকো বলেছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতাধীন অধিকার জোরালোভাবে রক্ষায় লড়াই করবে।
সংবাদমাধ্যমটি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এবং ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসনের বিষয়ে এখনকার মতো নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।