পানিতে ডুবে গেছে ব্যাংকক

৫০ জেলা দুর্যোগকবলিত ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪১ পিএম

টানা ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা, যানজটে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটার পর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ৫০টি জেলাকেই দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।


গতকাল শনিবার ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ত জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার সব স্কুল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের বাড়িতে থাকার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে জলাবদ্ধ সড়কে যান চলাচল কমানো যায়। দুর্যোগ ঘোষণা দেওয়ার ফলে ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিএমএ), অন্যান্য সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ও সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে।


শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও যানজট অব্যাহত ছিল। পূর্ব ব্যাংককের এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে পাথুম থানি প্রদেশের রাংসিত পৌর এলাকাকেও জরুরি দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।


আজ সকাল ৯টার কিছু পর ব্যাংককের বাসিন্দাদের কাছে সেল ব্রডকাস্টের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে জানানো হয়, শহরের খালগুলোর পানির স্তর ইতোমধ্যে সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তা আরও বাড়তে পারে।


থাইল্যান্ডের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্ন মধ্যাঞ্চলীয় সমভূমি, ব্যাংকক ও আশপাশের প্রদেশজুড়ে অবস্থান করা একটি শক্তিশালী নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়া অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আন্দামান সাগর, দক্ষিণাঞ্চল ও থাইল্যান্ড উপসাগরের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুও শক্তিশালী হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।


স্বাভাবিকের তুলনায় ২১৮ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টি


ব্যাংককের বর্ষাকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের সময় সেপ্টেম্বর। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। বিএমএর ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত একই সময়ে গড় বৃষ্টিপাত ছিল ২৬৯ মিলিমিটার।


শহরের পানি নিষ্কাশন কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকায় শনিবার দুপুরের দিকে পানির স্তর স্থিতিশীল হতে শুরু করে। এসব কেন্দ্র সম্মিলিতভাবে প্রতি সেকেন্ডে ১ হাজার ২০০ ঘনমিটার পানি সরিয়ে নিচ্ছে।


বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আপডেটে গভর্নর চাদচার্ত বলেন, বৃষ্টি থেমে গেলে জলাবদ্ধতার পানি পুরোপুরি নিষ্কাশনে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না এবং আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।


তবে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কায় রাজধানীর কিছু বাসিন্দা প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে শুরু করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাম ইনথ্রার একটি ম্যাক্রো স্টোরে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। 


পার্কিং এলাকা পূর্ণ হয়ে গাড়ি সড়ক পর্যন্ত চলে আসে। ক্রেতাদের শপিং কার্টে ইনস্ট্যান্ট নুডলস, পানীয় জল ও টিনজাত মাছসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য দেখা যায়।


চাও ফ্রায়া নদীতে বাড়ছে পানি


ব্যাংককের উজানে চিয়াং নাত প্রদেশের চাও ফ্রায়া বাঁধ থেকে পানির নিঃসরণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। রয়্যাল ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্রতি সেকেন্ডে ১ হাজার ৮৫০ ঘনমিটার থেকে পানির নিঃসরণ বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৫০ ঘনমিটার করা হয়েছে।


বাঁধের ভাটিতে চাও ফ্রায়া নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি নই নদীর তীরের বাসিন্দাদেরও পানির স্তর ও সরকারি ঘোষণাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।


এদিকে থাইল্যান্ডের আরও ২০টি প্রদেশে বিভিন্ন মাত্রায় বন্যার খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশগুলো হলো-নাখন রাতচাসিমা, চানথাবুরি, ফেচাবুন, চন বুরি, চাচোয়েংসাও, বুরি রাম, সুরিন, সিং বুরি, সামুত প্রাকান, নাখন সাওয়ান, ফিচিত, রায়ং, আং থং, চিয়াং নাত, উথাই থানি, প্রাচিন বুরি, আয়ুথায়া, সা কেও, ফিৎসানুলোক, সুপান বুরি এবং নাখন ফানম।




পাকিস্তানের সাবেক মার্কিন দূত হুসেইন হাক্কানি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৯ পিএম

সন্ত্রাসবাদের প্রভাবের দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স-২০২৬ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে দেশটির সাবেক মার্কিন দূত হুসেইন হাক্কানি বলেছেন, উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি পাকিস্তানের অতীত নীতির ফল এখন দেশটিকেই ভোগ করতে হচ্ছে।


সূচকে পাকিস্তানের শীর্ষে থাকার একটি গ্রাফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করে হাক্কানি লেখেন, ‘বাড়ির পেছনে সাপ পুষলে একদিন সেই সাপের ছোবল বাড়ির মানুষকেও খেতে হয়।’


তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান পাঁচ দশক আগে উগ্রপন্থি জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়া শুরু করেছিল। এখন সন্ত্রাসী হামলার শিকার দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তান শীর্ষে। 


এক বছরে ১,১৩৯ মৃত্যু


ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে ১ হাজার ১৩৯ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহত হন এবং ১ হাজার ৪৫টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। দেশটিতে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


৮ দশমিক ৫৭৪ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান সূচকে প্রথম হয়েছে। এর আগে দেশটি প্রতিটি সংস্করণেই সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত ১০টি দেশের মধ্যে ছিল। তবে ২০২৫ সালেই প্রথমবারের মতো পাকিস্তান তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।


আইইপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যু আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বছরের মতো সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তবে হামলার সংখ্যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৯৮ থেকে কমে ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৫টিতে দাঁড়িয়েছে।


এ সময়ে জিম্মি করার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে এমন ঘটনা ছিল ১০১টি, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫৫টিতে। 


৭৪ শতাংশ হামলা বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায়


আইইপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতেই সন্ত্রাসী তৎপরতার বড় অংশ কেন্দ্রীভূত। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ২০২৫ সালের মোট সন্ত্রাসী হামলার ৭৪ শতাংশের বেশি এবং সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ ঘটেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের টানাপোড়েন এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সহিংসতা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।


সন্ত্রাসী মৃত্যুর ৫৬ শতাংশের জন্য টিটিপি দায়ী


আইইপির হিসাবে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে টিটিপি। টানা পঞ্চম বছরের মতো সংগঠনটি পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে উঠে এসেছে।


২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর ৫৬ শতাংশের জন্য টিটিপিকে দায়ী করা হয়েছে। সংগঠনটি ওই বছর ৫৯৫টি হামলা চালিয়েছে, যাতে ৬৩৭ জন নিহত হন। আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ১৩ শতাংশ।


প্রতিবেদনে টিটিপিকে ২০২৫ সালের বিশ্বের তৃতীয় প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী চারটি গোষ্ঠীর মধ্যে একমাত্র টিটিপির হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।


পাকিস্তানে ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলার কথা উল্লেখ করেছে আইইপি।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোয়েটা রেলস্টেশনের কাছে রেললাইন বিস্ফোরণের পর বিএলএর সদস্যরা একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৪৪২ জনকে জিম্মি করে। ওই ঘটনায় ২১ জন জিম্মি, চারজন সামরিক সদস্য এবং ৩৩ জন হামলাকারী নিহত হন।


বিএলএর হামলায় চীনা নাগরিক ও চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোও ক্রমবর্ধমানভাবে লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিশ্বে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যু কমেছে


পাকিস্তানের পরিস্থিতির বিপরীতে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৫ সালে ২৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যাও প্রায় ২২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯৪৪টিতে নেমেছে।


আইইপি জানিয়েছে, বিশ্বের ৮১টি দেশে সন্ত্রাসবাদের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, বিপরীতে অবনতি হয়েছে ১৯টি দেশে।


তবে বিশ্বে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটেছে মাত্র পাঁচটি দেশে- পাকিস্তান, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া, নাইজার ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদে মোট মৃত্যুর প্রায় ২০ শতাংশই পাকিস্তানে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী 'নরইস্টার' ঝড়ের তাণ্ডবে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগের কারণে প্রবল বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং ভয়াবহ উপকূলীয় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে দুই রাজ্যের জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, শনিবার নিউইয়র্ক সিটি ও বোস্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপজ্জনক উপকূলীয় বন্যা, প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।


ঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক লাখের বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা পাওয়ারআউটেজ-এর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা।


এদিকে ঝড়ের কারণে বিমান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৯৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


এনডব্লিউএস নিচু এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপকূলের কাছাকাছি নিচু এলাকায় রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


এদিকে, ঝড়ের কারণে বেশ কয়েকটি বড় আয়োজনও বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। বোস্টনে ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরানের বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্ট নিরাপত্তার কারণে বাতিল করা হয়েছে।


এছাড়া নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভ্যাল’ও বাতিল হয়েছে। এতে লরিন হিল, ওয়াইক্লেফ জিন ও জন লেজেন্ডের মতো শিল্পীদের পারফর্ম করার কথা ছিল।


নিউইয়র্ক রেড বুল ও সেন্ট লুইস সিটি এসসির একটি পেশাদার ফুটবল ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে বোস্টন রেড সক্স ও শিকাগো কাবসের ম্যাচটি রোববার ফ্লোরিডায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে নিউইয়র্কে সপ্তাহজুড়ে ঘণ্টায় ৫৫ মাইল বা প্রায় ৮৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে গাছ ও বিদ্যুতের লাইন উপড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


পাকিস্তানের পতাকা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। ডেরা ইসমাইল খান জেলার দারাজিন্দার কাছে আমান মেলা এলাকায় একটি পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে আজ শনিবার এ হামলা চালানো হয়েছে। 


আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে।


নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, শুল্ক বিভাগের কর্মী এবং দুজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। 


উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলছে। বেশ কয়েকজন হতাহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, মোগল কোট ও দারাজিন্দার কাছে ডেরা ইসমাইল খান-কোয়েটা সড়কের আমান মেলা চেকপোস্টে এই হামলা চালানো হয়েছে। এলাকাটি খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তের কাছে।


বিস্ফোরণের ধরন খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যদের পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


রেসকিউ ১১২২ জানিয়েছে, আহত ২০ জনকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন-দুই পরাশক্তি। গত মে মাসে দুই দেশের প্রেসিডেন্টরা বৈঠকে বসেছিলেন। তখন চীন সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। 


দুই নেতার ওই শীর্ষ বৈঠককে যদি ‘অচলাবস্থায় পর্যবসিত বৈঠক’ বলা হয়; তাহলে এ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে তাঁদের শীর্ষ বৈঠকে বড় কোনো অগ্রগতির আশা যেন পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।


সি চিন পিং এবার সস্ত্রীক ওয়াশিংটন সফর করেছেন। হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে। দুই প্রেসিডেন্টের এ বৈঠককে কূটনীতির চেয়ে বরং ‘ডিপ্লোটেইনমেন্ট’ বলছেন অনেকেই। 


অর্থাৎ, কূটনীতি ও বিনোদন উদ্‌যাপনের মিশেল ছিল বৈঠকটি। এখানে বিরোধ দূর করা ও অগ্রগতির অর্জনের চেয়ে জাঁকজমক ও লোকদেখানো বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।




ট্রাম্প-সির এবারের বৈঠকে মোটাদাগে ফলাফল হলো- শিগগিরই চীন থেকে দুটি জায়ান্ট পান্ডা আটলান্টার চিড়িয়াখানায় পাঠানো হবে।


চীনের প্রেসিডেন্ট গত বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছান। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে সি’কে বরণ করে নিতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ উড়োজাহাজের দোরগোড়ায় হাজির হন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। দেওয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্পের নতুন হেলিপ্যাড ও মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার ঘুরে দেখেন সি। এরপর তাঁরা ৯০ মিনিট বৈঠক করেন।


ট্রাম্প বলেছেন, সির সঙ্গে তাঁর ‘দারুণ বৈঠক’ হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও ইরান যুদ্ধ নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন দুই নেতা। ট্রাম্প বলেন, সি ‘গ্রানাইটের প্রতি বেশ আগ্রহী’, এটা তিনি বৈঠকে জানতে পেরেছেন।


দুই বিশ্বনেতার এ বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সি চিন পিংয়ের প্রতি অতিমাত্রায় সম্মান দেখাচ্ছেন ট্রাম্প- মন্তব্য করেন জুলিয়ান গেউয়ার্টজ। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে চীন-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।


কিন্তু বৈঠক থেকে বাস্তবিক কোনো অগ্রগতি কি হয়েছে? যদিও আগে থেকেই এ বৈঠক নিয়ে প্রত্যাশা বেশ কম ছিল। তবে প্রত্যাশার পারদ সেই পর্যায়েও উঠতে পারেনি।


যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অন্যতম বড় একটি বিষয়- বাণিজ্য। গত বছর ট্রাম্প চীনা পণ্যে একের পর এক শুল্ক আরোপ করেন। তখন হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চীনের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ তোলা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৭ লাখ কর্মসংস্থান কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি।


চীন থেকে পণ্য আমদানি কমানো এবং চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই ছিল ট্রাম্পের শুল্কারোপের উদ্দেশ্য। কিছু ক্ষেত্রে সেটা কাজেও দিয়েছে। ২০২৪ সালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে তা ২০ হাজার কোটি (২০০ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে।


বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ বাণিজ্য ঘাটতির কিছু অংশ পূরণ হচ্ছে তৃতীয় দেশ হয়ে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর মাধ্যমে। চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছর রেকর্ড ১ লাখ কোটি (১ ট্রিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪৩ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র আর চীন থেকে। কাজেই দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দেশ দুটি যখন বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরে আসার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়, তখন শুধু চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা স্বস্তি পাননি, বিশ্ব অর্থনীতিতেও স্বস্তি এসেছিল।


আসছে নভেম্বরে এ সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চীনা অর্থনীতি মূলত রপ্তানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই বেইজিং সমঝোতার মেয়াদ ট্রাম্পের শাসনামল শেষ হওয়া পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা করছিল বলে খবর পাওয়া যায়। ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করবেন।


গত বৃহস্পতিবার জানা গেছে, চীনের প্রেসিডেন্টের তুমুল আলোচিত ওয়াশিংটন সফর থেকে উভয় দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরে আসার সমঝোতার মেয়াদ মাত্র দুই মাস বেড়েছে। এ বিষয়ে চিন্তক প্রতিষ্ঠান এশিয়া সোসাইটির জ্যেষ্ঠ ফেলো নিল টমাস বলেন, ‘বৈঠকটি জাঁকজমক ও আনুষ্ঠানিকতায় পূর্ণ ছিল। তবে এর বাইরে এটা বৈঠকের প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টিই তুলে ধরে।’


ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, এটা একেবারে স্পষ্ট, বৈঠকে মূল বিষয়বস্তুর চেয়ে প্রতীকী বিষয় ও আনুষ্ঠানিকতা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই মাসের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে, বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে।


ট্রাম্প যখন চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করেছিলেন, তখন বেইজিংও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। ওই সময় বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় চীন। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প উৎপাদন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এসব খনিজ খুবই দরকারি। কাজেই বেইজিংয়ের রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত চীনের ওপর ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতাকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছিল।


জুলিয়ান গেউয়ার্টজ বলেন, বেইজিংয়ের পাল্টা পদক্ষেপ ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। চীনের বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ কমিয়েছে।


বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে সামান্য অগ্রগতি ছাড়া দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকে আর কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি- চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে কোনো বিষয়েই উল্লেখযোগ্য অর্জন কার্যত নেই।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে তাইওয়ান ইস্যুকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখে চীন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে বেইজিং। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সরাসরি সহায়তা দেয়। এ সহায়তা কমিয়ে আনতে ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন সি।


বৈঠকের পর চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, সি ট্রাম্পকে বলেছেন, তিনি আশা করছেন, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সঠিক অবস্থান বজায় রাখবে’।


এখন ট্রাম্প যদি বলেন, ‘আমরা তাইওয়ানে স্বাধীনতা সমর্থন করছি না’, বেইজিং অবশ্যই স্বাগত জানাবে। কিন্তু সেটা হবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরোনো অবস্থান থেকে স্পষ্টত সরে আসা। সি’র এমন চাওয়ায় ট্রাম্প রাজি হয়েছেন কিনা, সেটা অবশ্য তিনি বলেননি।


তবে মনে হচ্ছে, তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি (১৪ বিলিয়ন) ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়টি ট্রাম্প এখনো এগিয়ে নেননি। চীন চায়, এ প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাক।


বৈঠক থেকে বড় কোনো অর্জনের খবর না আসাটা বরং চীনের জন্য একটি সাফল্য, বলেন নিল টমাস। তিনি আরও বলেন, চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বৈঠকটি দারুণ হয়েছে।


নিল টমাস বলেন, সি চিন পিং রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে বিপুল সম্মান পেয়েছেন। চীনের মানুষের কাছেও দারুণ কিছু ছবি পৌঁছেছে। এসব ছবিতে ট্রাম্প ও সিকে বিশ্বমঞ্চে সমমর্যাদার নেতা হিসেবে দেখা গেছে। অথচ এ জন্য চীনকে কোনো ছাড় দিতে কিংবা সমঝোতা করতে হয়নি।


আগামীকালের লংমার্চ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০৮ পিএম

ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের আগামীকালের লংমার্চ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার খাইবার পাখতুনখওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি লংমার্চের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর।


এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘ইসলামাবাদ অভিমুখে আমাদের লংমার্চ ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে যাত্রা শুরু করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই সংগ্রাম শুধু সংবিধানের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব বা প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ইমরান খান যে “হাকিকি আজাদি”র (প্রাপ্য স্বাধীনতা) কথা বলেছেন, তা অর্জনের জন্য।’


দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন পিটিআই নেতা-কর্মীরা। এর অংশ হিসেবে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, ২৭ সেপ্টেম্বর এটি হওয়ার কথা ছিল। ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।


এদিকে পিটিআইয়ের লংমার্চ ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে, মহাসড়কগুলোয় ব্যারিকেড দিয়েছে ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। 


জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিটিআইয়ের লংমার্চ সামনে রেখে ইসলামাবাদ অভিমুখী প্রধান মহাসড়ক ও মোটরওয়েগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা চলাচল সীমিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার ইসলামাবাদসহ পাঞ্জাবের একাধিক জেলায় রেঞ্জার্স মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।


লংমার্চ নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে খাইবার পাখতুনখওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেন, ‘পিটিআইয়ের লোকজন এখন নিজেরাই গ্রেপ্তার হতে চাইছেন।’ 


তাঁর দাবি, দলের সদস্যরা এখন ‘(দল থেকে) বের হওয়ার পথ খুঁজছেন’।


হরমুজ প্রণালি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৯ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় বার্তার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগামী সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা দিয়েছে।


জাতিসংঘ অধিবেশনের এক ফাঁকে বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটন তাদের এই প্রস্তাব গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে সাত দিনের এই সময়সীমা গণনা শুরু হতে পারে। তবে শর্ত হল, ওয়াশিংটনকে তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং আরও কিছু নির্দিষ্ট দাবি পূরণ করতে হবে।


ইরানের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দেয়। মাঝে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খোলা হলেও যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় আবার তা বন্ধ হয়ে যায়।


বর্তমানে উচ্চ যুদ্ধঝুঁকির বীমা খরচ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রণালিটি বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ আছে। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে নতুন করে ইরানের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার খবরে আবার এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। 


ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের মাঝের এই জলপথ আবার উন্মুক্ত করতে বৃহস্পতিবার তেহরানের সাতদিনের পরিকল্পনায় কি আছে তা বিস্তারিত ব্যাখা করেছে আল জাজিরা।


গতকাল শুক্রবার আল জাজিরা এক্সপ্লেইনারে বলা হয়, নিউ ইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই পরোক্ষ যোগাযোগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে। কিন্তু যুদ্ধ সাত মাসে পা দিলেও তা বন্ধে দুই দেশের মধ্যে কোনো বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।


বিশ্লেষকরা আল জাজিরাকে বলেছেন, অবিলম্বে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ইরান এখনও গত জুনে হওয়া একটি চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী এগোতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরনো ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় ইরান এবং ওমানকে প্রধান ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।


যদিও দুই দেশের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ খুলতে ওই সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে যায়। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ আছে দাবি করা যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করাকে যে কোনো আলোচনার মূল বিষয়বস্তু বানাতে চায়।


যদিও ইরান আগেই স্পষ্ট করেছিল, হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং মার্কিন হামলার সমাপ্তির নিশ্চয়তাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা পারমাণবিক কর্মসূচির মত বৃহত্তর কোনো শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না।


কি আছে ইরানের প্রস্তাবে


আব্বাস আরাঘচি নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। যদি কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা হয়, তাহলে সপ্তমদিনের শেষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং শান্তি আলোচনা ফের শুরু হবে।


তাদের পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ না দিলেও আরাঘচি বলছেন, এই প্রস্তাবের পরিকল্পনার সঙ্গে গত ১৭ জুন হওয়া সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে মিল আছে। তারা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করার পরদিন থেকেই এই সময়সূচি শুরু হতে পারে, এবং সাত দিন পর প্রণালীটি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।


ফলে গত জুনে হওয়া সমঝোতা চুক্তিতে থাকা পরিকল্পনাগুলো আবার আলোচনায় এসেছে। ওই চুক্তিতে ছিল, ইরান পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য কোনো টোল বা মাশুল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে; যা ছিল মূলত শান্তি আলোচনার জন্য বরাদ্দ করা সময়। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী হবে, তা ওই চুক্তিতে অস্পষ্ট রাখা হয়েছিল।


আরাঘচি স্পষ্ট করেননি যে নতুন প্রস্তাবেও একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না। এমনকি সাত দিনের সময়সূচি শুরু হওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, উভয় পক্ষ কীভাবে সেই পদক্ষেপগুলো যাচাই করবে, কিংবা হরমুজ প্রণালি খোলার পর জাহাজ চলাচলের জন্য কী ধরনের নিয়ম কার্যকর হবে, সে সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দেননি।


তবে বিশ্লেষকদের মতে, যে পরিকল্পনাই দেওয়া হোক, ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক আরবান কানিংহাম বলেন, “ইরান আগে যে ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তারা হরমুজ প্রণালিকেই তাদের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।


“হরমুজ প্রণালি হল ইরানের চূড়ান্ত রেড লাইন বা অতিক্রমণীয় সীমানা। ইরানিরা যুদ্ধের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না, তাই প্রণালির নিয়ন্ত্রণই তাদের অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র উপায়। আমি মনে করি না তারা এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসবে।”


জুন মাসের চুক্তিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?


গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। কারণ ইসরায়েল হামলা চালিয়ে লেবাননের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে। পাশাপাশি একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। এতে ইরানি তেল রপ্তানির ওপর মার্কিন ছাড় এবং হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যোগাযোগ আবার শুরুর বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।


তবে চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুতসহ অন্যান্য জটিল বিষয়গুলোকে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। 


আরবান কানিংহাম বলেন, “ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি তাদের আগের মডেলটিকেই অনুসরণ করছে। এর মাঝে সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু করা অগ্রাধিকার পাচ্ছে।


“তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব ইস্যুকে আলাদা আলাদাভাবে না দেখে, সবকিছুকে একটি একক প্যাকেজ হিসেবে ধরে আলোচনা করতে চায়।”


ইরানের নতুন প্রস্তাব কি যুক্তরাস্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে


মার্কিন নাগরিকরা যখন জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে, তখন জাতিসংঘের মত বৈশ্বিক মঞ্চে ইরানের এই প্রস্তাব দেওয়াকে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক চাল’ মনে করছেন কানিংহাম। 


তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ বন্ধে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটিই হয়ত শেষ সুযোগ বলে বর্ণনা করছে তেহরান। এভাবে ইরান মূলত তেল ও গ্যাসের দাম এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির একটি পদ্ধতি।


কানিংহাম বলছেন, ইরান ও ওমানের মধ্য দিয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালিটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম এই অঞ্চলের বাইরেও বহুগুণ বেড়েছে, যা দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক তাগিদ দিচ্ছে।


এক্সপ্লেইনারে বলা হয়, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আবার খোলার চুক্তি ট্রাম্পকে ভোটারদের কাছে যাওয়ার আগে জ্বালানির দাম কমানোর একটি সুযোগ দিতে পারে; যা নির্বাচনের আগে তার দল রিপাবলিকান পার্টিকে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে।


যদিও ট্রাম্প এই নির্বাচনি হিসাবটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান মূলত নভেম্বরে তার রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে কেমন ফল করে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। 


ট্রাম্প ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ভোটের পরেই চুক্তি হবে। না হলে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। ফলে এই প্রশ্নটি থেকেই যায় যে, কম জ্বালানি মূল্যের সম্ভাবনা কি ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের প্রস্তাবিত আলোচনার শর্তাবলী মেনে নিতে রাজি করানোর জন্য যথেষ্ট কিনা?


কানিংহাম সন্দেহ প্রকাশ করেন, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি এভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে মূল সমস্যাটি আগের মতোই রয়ে গেছে, কারণ ইরানের প্রস্তাবটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেয় না।