আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা

  • প্রকাশ : সোমবার ২২ জুন, ২০২৬, সময় : ৬:৫৪ এএম

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, এসপ্রিয়েলা খুবই সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।গত ৩১ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের এ ফলাফল কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত মোকাবিলায় সরকারের কর্মপন্থায় এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।


এবারের নির্বাচনে ডানপন্থী এসপ্রিয়েলাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে এসপ্রিয়েলা অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠী, মাদক পাচার ও অপরাধের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


এসপ্রিয়েলা বামপন্থী ইভান সেপেদাকে হারিয়েছেন। কলম্বিয়ার বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সেপেদা। পেত্রোর রাজনৈতিক দল থেকে সেপেদা প্রার্থী হয়েছিলেন।


প্রাথমিকভাবে ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এসপ্রিয়েলা প্রায় ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। সেপেদা পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়ে ওঠা এসপ্রিয়েলা এবারের নির্বাচনে ব্যাপক আঞ্চলিক সমর্থন পেয়েছেন।


প্রাথমিক ফলাফল জানার পর উপকূলীয় শহর বারানকিলায় উদ্‌যাপনে মাতেন এসপ্রিয়েলার হাজারো সমর্থক। সেখানে সমর্থকদের উদ্দেশে কলম্বিয়ার হবু প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আজ আমাদের দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এটা এমন একটি অধ্যায়, যা লাখ লাখ নাগরিকের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইচ্ছার ওপর নির্মিত।’


যদিও সেপেদা এখনো পরাজয় স্বীকার করে নেননি। তিনি বলেছেন, সবে প্রাথমিক গণনা হয়েছে। এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা বাকি।


৪৭ বছর বয়সী এসপ্রিয়েলা নিজেকে ‘দ্য টাইগার’ নামে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমি কলম্বিয়ার সব মানুষের শাসক হব। যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যাঁরা অন্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের সবারই।’


১৯৯১ সালে প্রণীত কলম্বিয়ার সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের কথা জানিয়ে এসপ্রিয়েলা বলেন, তিনি সংবিধানের সুরক্ষায় কাজ করবেন।


প্রাথমিক ফলাফলে এসপ্রিয়েলা স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘তিনি জিতেছেন, এটা বড় ঘটনা!’


এসপ্রিয়েলাকে আরও অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।


এসপ্রিয়েলার একজন সমর্থক প্যাট্রিসিয়া বলেন, ‘এ দেশে আমরা খুন দেখতে দেখতে ক্লান্ত। এ সরকারের আমলাতন্ত্রের প্রতিও বিরক্ত। এখন আমরা উপকূলীয় এলাকা থেকে একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছি।’


আরেকজন সমর্থক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা টাইগারকে নিয়ে গর্বিত। আশা করি, সবকিছু বদলে দেবেন তিনি। নতুন ব্যবস্থায় সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার পাবে চাকরি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো।’


আইনজীবী থেকে রাজনীতিতে


আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা পেশায় আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।


আইনজীবী হিসেবে এসপ্রিয়েলার মক্কেলদের মধ্যে ছিলেন ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনেছে।


হবু প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার অন্যতম কুখ্যাত প্রতারক ডেভিড মার্সিয়া গুজম্যানের হয়েও আইনি লড়াই করেছেন।


ভোটের প্রচারের নানা সমাবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এসপ্রিয়েলা ও তাঁর সমর্থকদের কলম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরে থাকতে দেখা গেছে।


সমালোচকেরা বলেন, এসপ্রিয়েলা ফুটবলে রাজনীতিকরণ করেছেন। সামরিক কায়দায় অভিবাদনের জন্যও সমালোচিত হয়েছেন তিনি। প্রচারে প্রায়শই বুলেটপ্রুফ কাচে ঘেরা জায়গা থেকে এসপ্রিয়েলাকে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে দেখা গেছে।


সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে


দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে কলম্বিয়ার। দেশটিতে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়।


হবু প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি কখনোই অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবেন না। শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযান চালাবেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন তিনি।


এ ছাড়া কলম্বিয়ার জঙ্গলে মেগা-কারাগার নির্মাণ, বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আনা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কারের অঙ্গীকারও করেছেন এসপ্রিয়েলা।


ট্রাম্পের সমর্থন


এসপ্রিয়েলা ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এর আগে তিনি অনেক বছর যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে বসবাস করেছেন, কাজ করেছেন।


নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন এসপ্রিয়েলা। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ, অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পুনরূদ্ধারের কথা বলেছেন এসপ্রিয়েলা।


ট্রাম্প সরাসরি বলেছিলেন, কলম্বিয়ার এবারের নির্বাচনে এসপ্রিয়েলার পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র।


ট্রাম্প-পেত্রোর বিরোধ


কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট পেত্রোর মধ্যে প্রায়শই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কারণে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়।


যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, শুল্ক এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বামপন্থী পেত্রোর মতবিরোধ দেখা দেয়। এখন নির্বাচনে এসপ্রিয়েলার জয়ের মধ্য দিয়ে কলম্বিয়া ডানপন্থায় ঝুঁকে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কলম্বিয়ায় বাড়বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ প্রভাব।




পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 


দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।


আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।


দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।


ধর্মেন্দ্র প্রধান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।


এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।


ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে। 


গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।


মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।


রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।


এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।


এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।


অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।  


সূত্র: দ্য রিপাবলিক



রাভনীত সিং বিট্টু

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’


পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।


ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’


ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘


কড়া আইন আনার ঘোষণা


এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়


অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।


প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি


এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’


তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া