ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা নাটকীয়ভাবে এর মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ট্রাম্প তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।


ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে আমরা হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছি।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নেতৃত্ব, বিশেষ করে আসিম মুনিরের প্রতি এটা ট্রাম্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক স্বীকৃতি। ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পেছনে আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা নিরসনের পথ তৈরি করেন।


ইসলামাবাদে ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠক করেন। কিন্তু কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। এরপর দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য জোর তৎপরতা শুরু করে পাকিস্তান। তারই অংশ হিসেবে সরাসরি তেহরান সফরে যান আসিম মুনির। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর কোনো আঞ্চলিক সামরিক নেতার এটাই ছিল প্রথম ইরান সফর।


এক বছরে বদলে যাওয়া দৃশ্যপট


আসিম মুনিরকে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক শান্তির দূত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে বিশ্বমঞ্চে তাঁর অভাবনীয় উত্থান জানতে হলে যেতে হবে এক বছর পেছনে। তখনকার কিছু ঘটনা তাঁর আজকের ভাবমূর্তির ভিত্তি তৈরি করে।


২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর এক সশস্ত্র হামলা হয়। এর জেরে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ায়। তা আনুষ্ঠানিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।


চার দিনের সেই সংঘর্ষে আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ও পাকিস্তানের সামগ্রিক সামরিক-রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তিনি চার তারকা জেনারেল থেকে ফিল্ড মার্শাল এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।


সবকিছু পাল্টে দেওয়া এক যুদ্ধ


পেহেলগাম হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত ২০২৫ সালের ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নাম দিয়ে পাকিস্তানে হামলা করে বসে। সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি পাকিস্তানের গভীরে হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয় এবং একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। ১০ মে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগপর্যন্ত দুই দেশ পাল্টাপাল্টি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করে। ট্রাম্প বারবার এই যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন। পাকিস্তান তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে।


ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমরান খান, ইউএসআইপির সাবেক প্রধান


পাকিস্তানের মন্ত্রিসভা ২০ মে সর্বসম্মতিক্রমে আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করে। আইয়ুব খানের পর তিনি পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি এই পদমর্যাদা পেলেন। ফিল্ড মার্শাল হওয়ার পর আইয়ুব খান সেনাপ্রধানের পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আসিম মুনির সেনাপ্রধানের পদটিও নিজের হাতে রাখেন।


যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব পিসের (ইউএসআইপি) সাবেক প্রধান ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমরান খানের মতে, ভারতের সঙ্গে এই সীমিত সংঘাত আসিম মুনিরকে বিশ্বদরবারে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ট্রাম্পের মতো নেতারা ‘শক্তির ভাষা’ পছন্দ করেন। মুনির সেই শক্তিরই প্রতীক হয়ে উঠেছেন।


ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন সমীকরণ


ট্রাম্প ২০২৫ সালের ১৮ জুন হোয়াইট হাউসে আসিম মুনিরকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করেন। কোনো বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া কোনো পাকিস্তানি সামরিক প্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই ছিল প্রথম একান্ত বৈঠক। বৈঠক শেষে মুনিরকে ‘একজন মহান যোদ্ধা’ এবং ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।


আসলে আরও আগে ট্রাম্প ও মুনিরের এই সুসম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করে ‘অ্যাবে গেট’ বোমা হামলায় জড়িত একজন সন্দেহভাজনকে ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দেয় ইসলামাবাদ। এটা ট্রাম্পকে মুগ্ধ করেছে।


প্রসঙ্গত প্রায় ২০ বছর অবস্থান শেষে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট আফগানিস্তান ত্যাগের সময় কাবুলে মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল। এটা অ্যাবে গেট বোমা হামলা নামে পরিচিত।


এ ছাড়া বিরল খনিজ পদার্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সহযোগিতার প্রস্তাবের মাধ্যমে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল, তারা এমন একটি ‘সুইং স্টেট’, যারা ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার ক্ষমতা রাখে।


ক্ষমতার সাংবিধানিক ভিত্তি


পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ২৭তম সংবিধান সংশোধনী পাস হয়। এটা আসিম মুনিরের ক্ষমতাকে আইনগতভাবে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস বা সিডিএফ পদটি তৈরি করা হয়।


সিডিএফের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগকে একটি একক ও একীভূত কমান্ডের অধীনে আনা হয়। আসিম মুনির বর্তমানে পাঁচ বছরের জন্য সিডিএফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাঁর ক্ষমতা নিশ্চিত করেছে।


সংশোধনী অনুযায়ী, ফিল্ড মার্শাল পদমর্যাদা যে কর্মকর্তা পাবেন, তা তিনি আজীবন ব্যবহার করতে পারবেন। তা ছাড়া পাঁচ তারকা পদধারী কোনো কর্মকর্তাকে বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে আজীবনের জন্য দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।


বিরোধীদের প্রবল প্রতিবাদ সত্ত্বেও মাত্র ১৬ মিনিটে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে বিলটি পাস হয়।


ইসলামাবাদভিত্তিক সনোবর ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চিমা বলেন, এটি কেবল ক্ষমতা কুক্ষিগত করা নয়, বরং আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামরিক শক্তিকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসার প্রয়াস।


তবে অনেক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মনে করেন, এই অতি-কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও ইরান মধ্যস্থতা


কাতারের রাজধানী দোহার একটি ভবনে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর হামলা চালায় ইসরায়েল। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর আট দিন পর পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এখানেও মুখ্য ভূমিকা রাখেন আসিম মুনির। এই চুক্তির আওতায় এক দেশের ওপর হামলা হলে অন্য দেশ তা নিজের ওপর হামলা বলে ধরে নিয়ে ব্যবস্থা নেবে।


তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করলে পাকিস্তান এক কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়ে। কারণ, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।


কামার চিমা, নির্বাহী পরিচালক, সনোবর ইনস্টিটিউট, ইসলামাবাদ


একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে নবজাতক প্রতিরক্ষা চুক্তি, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা পাকিস্তানের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু এই যুদ্ধ একই সঙ্গে আসিম মুনিরের কপাল খুলে দেয়। যুদ্ধের একপর্যায়ে আসিম মুনির সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তেহরানের কাছে ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন।


মূলত আসিম মুনিরের মধ্যস্থতার কারণে ৮ এপ্রিলের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।


পাকিস্তানের গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, একটি দুর্বল বা অস্থিতিশীল ইরান পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে ভারতের প্রভাব বাড়িয়ে দেবে। এই আশঙ্কা থেকে মুনির ইরানকে রক্ষার কূটনৈতিক লড়াইয়ে নামেন।


অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আগামীর চ্যালেঞ্জ


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আসিম মুনিরের ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ ভাবমূর্তি থাকলেও পাকিস্তানের ভেতরে তা ঠিক উল্টো। ২০২৫ সালে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সশস্ত্র সহিংসতা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখনো কারাবন্দী। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। দেশটির নাগরিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিয়মিত উদ্বেগ প্রকাশ করছে।


বিশ্লেষকদের মতে, আসিম মুনিরের এই বাহ্যিক বৈধতা ও আন্তর্জাতিক স্তরে ট্রাম্পের মতো নেতাদের সমর্থন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতাকে আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানে আসিম মুনিরের মেয়াদ বা ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো আইনি বা রাজনৈতিক শক্তি অবশিষ্ট নেই বললেই চলে।


আসিম মুনিরের উত্থান কেবল এক সামরিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। বরং এটি পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় পাকিস্তানের নতুন অবস্থানের প্রতিফলন।


একদিকে ভারতের সঙ্গে সীমিত যুদ্ধ। অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা, এই দুই মেরুর রাজনীতি আসিম মুনিরকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে তিনি ট্রাম্পের কাছে ‘পছন্দের ফিল্ড মার্শালে’ পরিণত হয়েছেন।


তবে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা আর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে আসিম মুনিরের এই ক্ষমতা কত দিন টেকসই হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত আসিম মুনির এমন একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যাঁর সিদ্ধান্ত কেবল ইসলামাবাদ নয়, বরং ওয়াশিংটন থেকে তেহরান পর্যন্ত ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।



সর্বশেষ সব খবর

ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৪ এএম

একসময় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রায় তিন দশক পর সেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুকেই ঘিরে সৃষ্ট আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে তাকে।




ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস-শাসিত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকী বল্লভ পট্টনায়েক। সে সময় একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভুবনেশ্বরে রাজ্য সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। সেই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।




ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ছাত্রসংগঠন এবিভিপির সক্রিয় সংগঠক হিসেবে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করা ধর্মেন্দ্র ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুই দফা এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।






ওই সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখেও পড়তে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে।




বর্তমানে ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের সাবেক জুনিয়র প্রশান্ত রাউত সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সচিবালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের কয়েকটি হাড়ও ভেঙে যায়।




প্রশান্ত রাউত আরও দাবি করেন, ছাত্ররাজনীতির সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলারও শিকার হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক পর্যায়ে তার প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।




ছাত্রজীবনের সেই আন্দোলনই পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে তার রাজনৈতিক উত্থানের ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।




রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওড়িশায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি এবং দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের শাসনের অবসান ঘটে।




তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।



আন্দোলন দমনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং বিরোধী দলগুলোও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জোরালো করে।




ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফলে যে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, প্রায় তিন দশক পর সেই একই ইস্যুই তার মন্ত্রিত্বের ইতি টানল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২৬ এএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি রিল ভিডিও বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। পোস্ট করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটি ৩০ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করে ইনস্টাগ্রামের একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের আগের রেকর্ড ভেঙেছে।



সম্প্রতি দেশজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে তরুণদের লক্ষ্য করে মোদী পরপর দুটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে ধারণ করা ভিডিও দুটিতে তিনি তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে কথা বলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।



এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলে সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডের দখলে। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সেই রেকর্ড গড়েছিল।




ভারতে চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয় নিট মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১২ মে তা বাতিল করা হয়। পরে আন্দোলনের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), যা অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করে।



ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


১০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির এমন সেলফি-ধাঁচের রিল ভিডিও প্রকাশের ঘটনা খুবই বিরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছেন। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার্থী আন্দোলনের চাপ সামলাতেই এই নতুন প্রচার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ভিডিওটির রেকর্ডসংখ্যক ভিউ ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব এবং রাজনৈতিক যোগাযোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২২ এএম

ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে এক মুসলিম দম্পতিকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


অভিযোগ, ওই চিকিৎসক দম্পতিকে ভারত থেকে একবার বিতাড়িত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন। তবে দম্পতির জাতীয়তা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য এখনো যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নগেন্দ্রাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়।



পুলিশ জানায়, বেঙ্গালুরুতে নিজস্ব ক্লিনিক পরিচালনা করেন ডা. নগেন্দ্রাপ্পা। বুধবার সকালে তিনি ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের পথরোধ করেন।



নাসরিনার অভিযোগ, প্রথমে তাদের জাতীয়তা নিয়ে হিন্দি ভাষায় গালিগালাজ করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর তার স্বামী বিলালের ওপরও হামলা চালানো হয়। বিলালের মাথা ও পিঠে একাধিকবার আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়। এছাড়া ঘটনাটি পুলিশকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।



এ ঘটনায় বেঙ্গালুরুর বেলান্দুর থানায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে পথরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


গ্রেপ্তারের আগে ডা. নগেন্দ্রাপ্পা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে ওই দম্পতিকে ‘বাংলাদেশি’ বলে উল্লেখ করতে এবং তারা একবার ভারত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আবার ফিরে এসেছে বলে দাবি করতে শোনা যায়।


অন্যদিকে, ভিডিওতে মোহাম্মদ বিলালকে কন্নড় ভাষায় বলতে শোনা যায়, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছেন। একই ভিডিওতে চিকিৎসককে বিলালের গায়ে হাত তুলতেও দেখা যায়।


সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত ডা. নগেন্দ্রাপ্পা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:১৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলিদের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সহযোগীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। যারাই যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে তারাই ইরানের বৈধ ও নিশ্চিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। 


এই সতর্কবার্তায় সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাজ্য এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশের ওপর বিশেষ নজর রাখছে ইরান- এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 


ইরানের ইসলামী রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে  জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে যদি কোনো দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য বা সমর্থন করে, তবে সেই দেশকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে।


মোহেব্বি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি মার্কিন B-1 বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে। এই ধরনের সহযোগিতা বজায় থাকলে তারা ইরানের 'নিশ্চিত এবং বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন।


আইআরজিসি দাবি করেছে যে, যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বা উত্তেজনা মোকাবিলা করার জন্য তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি তৈরি করে রেখেছে। 


এই বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অঞ্চলটিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা তীব্র এবং ইরান মূলত এই অঞ্চলে পশ্চিমা ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে এই প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিয়েছে।


হোসেইন মোহেব্বি আরও বলেন, ‘প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।’


তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, ‘এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে।’ 


দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথে একটি বড় পদক্ষেপ।’ একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।



তিনি আরও লিখেছেন, ‘এখনও দুটি দাবি রয়েছে, যা পূরণ হয়নি। আর তা হলো- শিক্ষার্থী এবং ভারতের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।



তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমাজের অন্যান্য অংশ, যাদের এই সরকার দমন ও নিষ্পেষণ করেছে (কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র) তাদের এখন সংবিধানসম্মত উপায়ে সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সময়। এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না!’


পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের ঐক্য অটুট রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


এর আগে শুক্রবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংগঠনটি জানায়, সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চেয়েছে।


অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর-মন্তরের সমাবেশে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে ধন্যবাদ জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের ‘তেলাপোকা’ না বললে এই আন্দোলনের জন্মই হতো না।’


গত মে মাসে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে করা হয়েছিল। তবে ততদিনে মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং তা আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের পর এবার পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বখ্যাত ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।


রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা জানান। সেখানে মোদি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। যারা পরীক্ষায় অনিয়ম করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।


আমরা ইতোমধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে কঠোর আইনি বিধান সংযোজন করে নতুন আইন প্রণয়নের দিকেও এগোচ্ছি।


তবে ভবিষ্যতের দিকেও নজর দিতে হবে। আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।


প্রধানমন্ত্রী জানান, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সুপারিশ করবে এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলোর স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।


এদিকে ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।


সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্র সরকার তাদের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছে।


নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে বাকি দাবিগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর সরকার নিট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যাকারীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে।


সিজেপি জানিয়েছে, তারা শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ দফা প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। চার সপ্তাহ পর এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক হবে।


সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, তাদের মূল দাবিগুলো নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তাই আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর