ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা নাটকীয়ভাবে এর মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ট্রাম্প তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।


ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে আমরা হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছি।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নেতৃত্ব, বিশেষ করে আসিম মুনিরের প্রতি এটা ট্রাম্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক স্বীকৃতি। ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পেছনে আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা নিরসনের পথ তৈরি করেন।


ইসলামাবাদে ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠক করেন। কিন্তু কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। এরপর দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য জোর তৎপরতা শুরু করে পাকিস্তান। তারই অংশ হিসেবে সরাসরি তেহরান সফরে যান আসিম মুনির। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর কোনো আঞ্চলিক সামরিক নেতার এটাই ছিল প্রথম ইরান সফর।


এক বছরে বদলে যাওয়া দৃশ্যপট


আসিম মুনিরকে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক শান্তির দূত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে বিশ্বমঞ্চে তাঁর অভাবনীয় উত্থান জানতে হলে যেতে হবে এক বছর পেছনে। তখনকার কিছু ঘটনা তাঁর আজকের ভাবমূর্তির ভিত্তি তৈরি করে।


২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর এক সশস্ত্র হামলা হয়। এর জেরে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ায়। তা আনুষ্ঠানিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।


চার দিনের সেই সংঘর্ষে আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ও পাকিস্তানের সামগ্রিক সামরিক-রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তিনি চার তারকা জেনারেল থেকে ফিল্ড মার্শাল এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।


সবকিছু পাল্টে দেওয়া এক যুদ্ধ


পেহেলগাম হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত ২০২৫ সালের ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নাম দিয়ে পাকিস্তানে হামলা করে বসে। সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি পাকিস্তানের গভীরে হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয় এবং একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। ১০ মে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগপর্যন্ত দুই দেশ পাল্টাপাল্টি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করে। ট্রাম্প বারবার এই যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন। পাকিস্তান তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে।


ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমরান খান, ইউএসআইপির সাবেক প্রধান


পাকিস্তানের মন্ত্রিসভা ২০ মে সর্বসম্মতিক্রমে আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করে। আইয়ুব খানের পর তিনি পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি এই পদমর্যাদা পেলেন। ফিল্ড মার্শাল হওয়ার পর আইয়ুব খান সেনাপ্রধানের পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আসিম মুনির সেনাপ্রধানের পদটিও নিজের হাতে রাখেন।


যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব পিসের (ইউএসআইপি) সাবেক প্রধান ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমরান খানের মতে, ভারতের সঙ্গে এই সীমিত সংঘাত আসিম মুনিরকে বিশ্বদরবারে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ট্রাম্পের মতো নেতারা ‘শক্তির ভাষা’ পছন্দ করেন। মুনির সেই শক্তিরই প্রতীক হয়ে উঠেছেন।


ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন সমীকরণ


ট্রাম্প ২০২৫ সালের ১৮ জুন হোয়াইট হাউসে আসিম মুনিরকে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করেন। কোনো বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া কোনো পাকিস্তানি সামরিক প্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই ছিল প্রথম একান্ত বৈঠক। বৈঠক শেষে মুনিরকে ‘একজন মহান যোদ্ধা’ এবং ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।


আসলে আরও আগে ট্রাম্প ও মুনিরের এই সুসম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করে ‘অ্যাবে গেট’ বোমা হামলায় জড়িত একজন সন্দেহভাজনকে ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দেয় ইসলামাবাদ। এটা ট্রাম্পকে মুগ্ধ করেছে।


প্রসঙ্গত প্রায় ২০ বছর অবস্থান শেষে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট আফগানিস্তান ত্যাগের সময় কাবুলে মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল। এটা অ্যাবে গেট বোমা হামলা নামে পরিচিত।


এ ছাড়া বিরল খনিজ পদার্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সহযোগিতার প্রস্তাবের মাধ্যমে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল, তারা এমন একটি ‘সুইং স্টেট’, যারা ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার ক্ষমতা রাখে।


ক্ষমতার সাংবিধানিক ভিত্তি


পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ২৭তম সংবিধান সংশোধনী পাস হয়। এটা আসিম মুনিরের ক্ষমতাকে আইনগতভাবে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস বা সিডিএফ পদটি তৈরি করা হয়।


সিডিএফের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগকে একটি একক ও একীভূত কমান্ডের অধীনে আনা হয়। আসিম মুনির বর্তমানে পাঁচ বছরের জন্য সিডিএফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাঁর ক্ষমতা নিশ্চিত করেছে।


সংশোধনী অনুযায়ী, ফিল্ড মার্শাল পদমর্যাদা যে কর্মকর্তা পাবেন, তা তিনি আজীবন ব্যবহার করতে পারবেন। তা ছাড়া পাঁচ তারকা পদধারী কোনো কর্মকর্তাকে বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে আজীবনের জন্য দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।


বিরোধীদের প্রবল প্রতিবাদ সত্ত্বেও মাত্র ১৬ মিনিটে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে বিলটি পাস হয়।


ইসলামাবাদভিত্তিক সনোবর ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চিমা বলেন, এটি কেবল ক্ষমতা কুক্ষিগত করা নয়, বরং আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামরিক শক্তিকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসার প্রয়াস।


তবে অনেক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মনে করেন, এই অতি-কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও ইরান মধ্যস্থতা


কাতারের রাজধানী দোহার একটি ভবনে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর হামলা চালায় ইসরায়েল। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর আট দিন পর পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এখানেও মুখ্য ভূমিকা রাখেন আসিম মুনির। এই চুক্তির আওতায় এক দেশের ওপর হামলা হলে অন্য দেশ তা নিজের ওপর হামলা বলে ধরে নিয়ে ব্যবস্থা নেবে।


তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করলে পাকিস্তান এক কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়ে। কারণ, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।


কামার চিমা, নির্বাহী পরিচালক, সনোবর ইনস্টিটিউট, ইসলামাবাদ


একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে নবজাতক প্রতিরক্ষা চুক্তি, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা পাকিস্তানের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু এই যুদ্ধ একই সঙ্গে আসিম মুনিরের কপাল খুলে দেয়। যুদ্ধের একপর্যায়ে আসিম মুনির সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তেহরানের কাছে ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন।


মূলত আসিম মুনিরের মধ্যস্থতার কারণে ৮ এপ্রিলের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।


পাকিস্তানের গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, একটি দুর্বল বা অস্থিতিশীল ইরান পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে ভারতের প্রভাব বাড়িয়ে দেবে। এই আশঙ্কা থেকে মুনির ইরানকে রক্ষার কূটনৈতিক লড়াইয়ে নামেন।


অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আগামীর চ্যালেঞ্জ


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আসিম মুনিরের ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ ভাবমূর্তি থাকলেও পাকিস্তানের ভেতরে তা ঠিক উল্টো। ২০২৫ সালে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সশস্ত্র সহিংসতা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখনো কারাবন্দী। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। দেশটির নাগরিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিয়মিত উদ্বেগ প্রকাশ করছে।


বিশ্লেষকদের মতে, আসিম মুনিরের এই বাহ্যিক বৈধতা ও আন্তর্জাতিক স্তরে ট্রাম্পের মতো নেতাদের সমর্থন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতাকে আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানে আসিম মুনিরের মেয়াদ বা ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো আইনি বা রাজনৈতিক শক্তি অবশিষ্ট নেই বললেই চলে।


আসিম মুনিরের উত্থান কেবল এক সামরিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। বরং এটি পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় পাকিস্তানের নতুন অবস্থানের প্রতিফলন।


একদিকে ভারতের সঙ্গে সীমিত যুদ্ধ। অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা, এই দুই মেরুর রাজনীতি আসিম মুনিরকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে তিনি ট্রাম্পের কাছে ‘পছন্দের ফিল্ড মার্শালে’ পরিণত হয়েছেন।


তবে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা আর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে আসিম মুনিরের এই ক্ষমতা কত দিন টেকসই হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত আসিম মুনির এমন একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যাঁর সিদ্ধান্ত কেবল ইসলামাবাদ নয়, বরং ওয়াশিংটন থেকে তেহরান পর্যন্ত ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।




চীনে বিদেশি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ এএম

চীনের পূর্বাঞ্চলের শিংদাও বন্দরে মেরামতকাজ চলার সময় বিদেশি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। জাহাজটিতে মোট ৪২ জন ছিলেন।


চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে শিংদাওয়ের একটি শিপইয়ার্ডে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ওশান মেলোডি’ জাহাজটিতে আগুন লাগে।


আগুন লাগার পর জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।


মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০ মিটার বা ৬২৩ ফুট দীর্ঘ জাহাজটি গত ৩১ আগস্ট শিংদাও বন্দরে পৌঁছেছিল। শিংদাও চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরগুলোর একটি।


অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি।


মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিতীয় দফা ঝুঁকি বা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।


অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে।


১৩২ বছরের রেকর্ড খরা যুক্তরাষ্ট্রে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

এবার তীব্র গরমের মধ্যে পুরো গ্রীষ্মকাল কাটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল তাপপ্রবাহ। এতে দেখা দিয়েছে খরা।


যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) গতকাল বুধবার জানিয়েছে, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এ তাপমাত্রা পুরো ২০ শতকের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি। 


এর আগে ১৯৩৬ ও ২০২১ সালের গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এবারের গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা সেই রেকর্ডের চেয়েও শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি।


আগস্ট ছিল পশ্চিম ইউরোপেরও সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মের একটি মাস। এবারের গরম সেখানে ২০০৩ সালের প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহকেও ছাড়িয়ে গেছে।


এনওএএ গত ১৩২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যে কোনো গ্রীষ্মকালে এবারের মতো এত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গত আগস্ট ছিল সবচেয়ে উষ্ণ মাস। ওই মাসজুড়ে দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।


সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড তাপমাত্রা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পাঁচটি উষ্ণতম গ্রীষ্মের চারটিই ছিল গত পাঁচ বছরে। 


বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধিও সেই বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।


১৯৩৬ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার সময়ে গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে তীব্র গরম ও খরার সঙ্গে ক্ষতিকর কৃষিপদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল। 


অন্যদিকে, এবারের গ্রীষ্মকালজুড়ে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়া ক্রমেই তীব্রতর হয়েছে।


গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকা খরার কবলে ছিল। এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে খরাকবলিত এলাকার পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গ্রেট প্লেইনস, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।


টেক্সাস ও ওকলাহোমায় গত আগস্টে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে সব জায়গায় পরিস্থিতি একই রকমের শুষ্ক ছিল না। ইন্ডিয়ানা ও ওহাইওর মতো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গত আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের প্রায় দ্বিগুণ।


যুক্তরাষ্ট্রে তাপপ্রবাহের তীব্রতা এখনই কমছে না। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি আরও সক্রিয় আর শক্তিশালী হচ্ছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর প্রভাব ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত থাকতে পারে।


ডব্লিউএমওর প্রধান সেলেস্তে সাওলো গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনকার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, এটি আমাদের পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। অর্থাৎ চার দশক ধরে আমরা যে মাত্রা দিয়ে এটি পরিমাপ করে আসছি, এবার আক্ষরিক অর্থেই সেই মাত্রার বাইরে চলে যেতে পারে।’


এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বেশি বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ডব্লিউএমও সতর্ক করে বলেছে, এখনকার এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যা দেখা দিতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে এনওএএ। সংস্থাটি আরও জানায়, দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে খরা অব্যাহত থাকতে পারে কিংবা আরও তীব্র হতে পারে।


এনওএএ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশকিছু অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

আগামী নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠাতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ‘অবিলম্বে’ ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে আগ্রহী না হলেও আলোচনা ‘হতে পারে’।


সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা কেবল একটি পারমাণবিক অস্ত্র চায়, আর যদি তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকে, তবে পুরো বিশ্ব বিপদে পড়বে। আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে যাচ্ছি... আরও অনেক বিষয় এখন আলোচনার টেবিলে চলে আসবে, যা তিন মাস আগেও টেবিলে থাকত না।


তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সত্যি বলতে, আমরা এমন কিছু চাইছি না।


তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি; তাদের দেশ বলে এখন খুব সামান্যই বাকি আছে।


হ্যাঁ, একটি আলোচনা হয়ত হতে পারে। আমাদের নির্বাচনের ঠিক পরপরই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।


ইসরায়েলের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিগুলোর ওপর সম্প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।


সূত্র: আল জাজিরা



ভারতের মাটিতে রাশিয়ার সামরিক বিমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৩ পিএম

ভারতের  নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো তিনটি রুশ সামরিক যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। 


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিমানগুলো বিমানবন্দরে পৌঁছায়, যার মধ্যে একটি আইএল-৭৬ সামরিক পরিবহন বিমান ছিল।


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে রুশ সামরিক কর্মকর্তা ও একটি অগ্রবর্তী দলকে নিয়ে বিমানগুলো ভারতে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত বিমান তিনটি নয়ডা বিমানবন্দরেই অবস্থান করছিল এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সার্বিক ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছে।


নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটিই প্রথম কোনো বিদেশি সামরিক বিমানের অবতরণ। এর আগে ভারতে আগত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক বিমানের ক্ষেত্রে মূলত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহৃত হতো। ফলে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিমানও নয়ডায় নামতে পারে বলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।


আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নয়ডা বিমানবন্দরে ভিভিআইপিদের যাতায়াত ঘিরে প্রস্তুতি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।


সূত্র: টাইমস নাউ


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৮ পিএম

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদ বুধবার ভোট দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ‘অমান্যতা’র কারণে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ।


ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের যোগদানে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের একটি সংঘাত শুরু করার পর থেকে আইএইএ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার পায়নি। ওই সংঘাতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলাও চালানো হয়েছিল। সবশেষ যুদ্ধেও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং আইএইএ বারবার সেখানে প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।


প্রস্তাবটির পক্ষে পড়ে ২৩ ভোট আর বিপক্ষে ৩ ভোট। ভোটদানে বিরত থাকে ৮টি দেশ। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এর বিপক্ষে ভোট দেয়।


এতে আইএইএ’র মহাপরিচালককে ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘প্রতিবেদন করার’ অনুরোধ জানানো হয়েছে।


ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ইরানের পারমাণবিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার কারণে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর ঘটনা।


এই পদক্ষেপকে মূলত প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইরানের মিত্র চীন ও রাশিয়ার তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের নিন্দা করেছে এবং বলেছে, এটি কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না।


আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের অধীনে পাস হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এএফপিকেও বলেন যে প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বিপরীত ফল বয়ে আনবে।’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১১ পিএম

আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী সম্মেলনে তিনি এই প্রস্তাব দেন। তবে এই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া বা এর আইনি ভিত্তি কী হবে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক থাকায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট স্থায়ী প্রাইমটাইম ভাষণে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের মেয়াদের ‘ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ দুই বছর’ শেষ করার দাবি করেন। তিনি নিজের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মধ্যেও নিজেকে নির্বাচনের কেন্দ্রে স্থাপন করেন।


জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকর্ষণে তার এই প্রচারণামূলক বক্তব্য কতটুকু প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটদের হাতে আমেরিকার ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেওয়া হলে দেশকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পরবর্তী এক দশক সময় লেগে যাবে।


সূত্র: মিডল ইস্ট আই